বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

আগাম অবাঞ্ছিত ভাবনা

নির্বাচনে লড়তে রাজনৈতিক দলগুলিকে বিপুল অর্থ খরচ করতে হয়। কিন্তু তারা টাকা পাবে কোত্থেকে? ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা রোজগেরে ব্যক্তির মতো তো তার কোনও আয়ের উৎস নেই। তাই পুরোপুরি চাঁদার উপর নির্ভর করতে হয় তাদের। কোনও কোনও পার্টির সদস্যরাই তাঁদের ব্যক্তিগত আয়ের একটি অংশ নিয়মিত চাঁদা হিসেবে পার্টি ফান্ডে দেন। এর বাইরে বিল কেটে বা কৌটো নেড়েও চাঁদা সংগ্রহের রেওয়াজ এদেশে সুপরিচিত। কিন্তু সদস্যদের চাঁদা দানের হার এবং মানুষের কাছে হাতপাতার রেওয়াজ দুটিই কমে গিয়েছে। মূলত দুটি কারণে—(এক) পার্টিকর্মীদের আর এসব পোষায় না। (দুই) সাধারণ মানুষও পার্টি ফান্ডে চাঁদা দেওয়ার উৎসাহ হারিয়েছেন। তার জন্য রাজনৈতিক দলগুলির দায় সবচেয়ে বেশি। বিশেষত দুর্নীতি এবং অত্যাচারের প্রশ্নে ঠগ বাছতে গাঁ উড়াজ হওয়ার দশা! ফলে বেশিরভাগ মানুষের মনোভাব এই যে, পার্টিকে চাঁদা দেওয়ার অর্থ দুর্নীতিবাজ, অত্যাচারীদের সরাসরি মদতদান। এর বিরূপ প্রভাবও অবশ্য পড়েছে সমাজে। প্রভাবশালী দলগুলি, তারা ক্ষমতাসীন হলে তো কথাই নেই—মোটা টাকা চাঁদার জন্য ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর উপর জুলুম বাড়িয়ে দেয়। তারা মুখে কিংবা ফোনেই ফরমান জারি করে, কোন ব্যবসায়ী বা ঠিকাদারকে কবের মধ্যে কত টাকা দিতে হবে। এসব সারা বছরই চলতে থাকে। এরপর স্থানীয় সরকার (পঞ্চায়েত ও পুরসভা) তৈরি থেকে বিধানসভা ও লোকসভার নির্বাচন এলে তো সোনায় সোহাগা! 
কেউ ভেবে পায় না, ভোট‍ের প্রচার এবং জনসভা করতে কি এত টাকা লাগে? ভোট ক্রয় এবং ভোট লুটেরাদের পুষতে ও গরমাগরম সরঞ্জাম কিনতেই  বেশিরভাগ টাকা বেরিয়ে যায় না কি? সোজা কথায়, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ও অর্থায়ন নিয়েই মানুষ তিতিবিরক্ত। রাজনীতি বিমুখ হয়ে পড়েছে ভদ্র শিক্ষিত যুব সমাজ। এই দুর্ভাগ্যজনক পরিস্থিতির কথা কোনও পার্টির এবং নেতার অজানা নয়। তাই রাজনৈতিক দলের ভাঁড়ার কানায় কানায় পূর্ণ করে তুলতেই মোদির প্রথম অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি চালু করেছিলেন ইলেক্টোরাল বন্ড। ‘সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার’ দাবি করেছিলেন তিনি। কিন্তু জনগণের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের এমন একটি ব্যবস্থায় জবাবদিহিতার কোনও জায়গাই তিনি রাখেননি। কোন ব্যক্তি বা কোম্পানি কোন দলকে কত টাকা দিচ্ছে, তা পুরোপুরি গোপন থাকবে—ভাবা যায়! সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এই আজগুবি ‘স্বচ্ছতার’ গপ্পো মেনে নেয় কী করে? তাই নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শুরুতেই সরব হয় নাগরিক সমাজ। তারা পরিষ্কার বুঝে যায়, এই কাণ্ডের আড়ালে কী ঘটে চলেছে। 
বিষয়টি আদালতের গোচরে আনার পর সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য কঠোর হতে দেরি করেনি। ইলেক্টোরাল বন্ড ব্যবস্থা ‘অসাংবিধানিক’ জানিয়ে অবিলম্বে তা বন্ধ করারই নির্দেশ তারা দিয়েছে। শীর্ষ আদালতের নির্দেশে বন্ড বিক্রেতা ব্যাঙ্ক এসবিআই এ-পর্যন্ত যেসব তথ্য প্রকাশ করেছে, তাতেই ফাঁস হয়ে গিয়েছে—মোদি সরকারের এই কেরামতিতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে বিজেপি। এমনকী, কিছু সংস্থার রাজনৈতিক দল-প্রীতি দেখে তাজ্জব বনে যাওয়ার অবস্থা। প্রতিষ্ঠার তিন বছরের মধ্যে একটি কোম্পানি কোনও রাজনৈতিক দলকে আর্থিক অনুদান বা চাঁদা দিতে পারবে না। বহাল এই আইন তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একাধিক সদ্যোজাত কোম্পানিও কিনেছে বিপুল অর্থের নির্বাচনী বন্ড। কারও কারও ক্ষেত্রে বন্ড ক্রয়ের মাধ্যমে পুজো চড়ানোর আর্থিক মূল্য তার মোট পুঁজিরই বহু বহুগুণ! এই ধারাবাহিক তথ্য ফাঁসের নবতম সংযোজনের নাম শেল কোম্পানি। অস্তিত্বহীন কোম্পানিগুলির জন্ম  আর আজগুবি স্বচ্ছতার রহস্য একাকার হয়ে গিয়েছে। অর্থমন্ত্রীর স্বামী পরকলা প্রভাকর যথার্থই তোপ দেগেছেন, ‘নির্বাচনী বন্ড ব্যবস্থাই হল বিশ্বের বৃহত্তম দুর্নীতি।’ ‘না খায়ুঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’র কাঁধ ঝাঁকুনি কি চুরমার হয়নি এই কেলঙ্কারিতে? যখন মুখ লুকনোই ছিল ভদ্রসমাজোচিত শিষ্টাচার, ঠিক তখনই বন্ড ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্টকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করলেন স্বয়ং কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। শনিবার এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, ‘বিজেপি ক্ষমতায় ফিরলে নির্বাচনী বন্ড প্রকল্পও ফিরিয়ে আনা হবে!’ এজন্য নির্মলাকে তীব্র আক্রমণ করেছে রাহুল গান্ধীর দল। তারা বলেছে, নির্বাচনী বন্ডকে সুপ্রিম কোর্ট ‘অসাংবিধানিক’ ও ‘বেআইনি’ ঘোষণাসহ ‘বাতিল’ করার পরও অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য দুর্ভাগ্যজনক। দেশের প্রধান বিরোধী দলের অভিযোগ, বিজেপি এই ‘পে পিএম’ কেলেঙ্কারির মাধ্যমে জনগণের চার লক্ষ কোটি টাকা লুট করেছে। সেই লুটের কারবারই বজায় রাখতে চাইছে তারা। ভোট গ্রহণের বাকি এখনও ছয় দফা। তাই বন্ড ব্যবস্থা ফেরানোর ব্যাপারে এত আগাম চিন্তা না করলেই পারেন নির্মলা। গেরুয়া শিবির বরং এটাই ভাবতে থাকুক, মানুষ সেই সুযোগ তাদের আদৌ আর দেবে কি না।

22nd     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ