বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

শুরুর মুহূর্তেই অশুভ ইঙ্গিত

সাধারণ নির্বাচনের জন্য দেশজুড়ে ভোট নেওয়া হবে মোট সাত দফায়। প্রথম দফার ভোট গ্রহণের বাকি আর মাত্র তিনদিন। তামিলনাড়ু-সহ ১৭টি রাজ্য এবং জম্মু ও কাশ্মীরসহ চারটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ১০২টি লোকসভা আসনের জন্য ভোট নেওয়া হবে ১৯ এপ্রিল। উল্লেখ্য, এদিন পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৬টি রাজ্যের কিয়দংশ আসনেই ভোট নেওয়া হবে। কিন্তু তামিলনাড়ুর মোট ৩৯টি আসনের সবক’টিতেই ভোট গ্রহণ সাঙ্গ হবে একদিনেই। সাত দফা নির্বাচনের প্রথম দফাতেই ভোট নেওয়া হবে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক আসনে। বাকি ছয় দফা ভো‍ট গ্রহণের প্রত্যেকটিতেই লোকসভার আসন সংখ্যা একশোর নীচে, এমনকী ২০ মে, পঞ্চম দফার জন্য নির্দিষ্ট আসন পঞ্চাশেরও কম—৪৯টি। এবারের সাধারণ নির্বাচনে ৫৪৩টি লোকসভা আসনের সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশ, ওড়িশা, অরুণাচল প্রদেশ এবং সিকিম রাজ্য বিধানসভারও ভোট নেওয়া হবে। তার মধ্যে ৬০ সদস্যের অরুণাচল প্রদেশ এবং ৩২ সদস্যের সিকিম বিধানসভার ভোট সম্পন্ন হয়ে যাবে প্রথম দফায়, অর্থাৎ ১৯ এপ্রিল। সাধারণ নির্বাচনের সঙ্গেই হবে হিমাচল প্রদেশ-সহ ১৩টি রাজ্যের ২৬টি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচনও। তার মধ্যে তামিলনাড়ু এবং ত্রিপুরা রাজ্যের একটি করে আসনের উপনির্বাচন সম্পন্ন হবে প্রথম দফার ভোটের দিনেই। লোকসভা, বিধানসভা এবং উপনির্বাচন মিলিয়ে প্রথম দফার ভোট গ্রহণের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।     
এমনই একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে দু-দু’বার ‘বোমা’ ফাটল। ফাটাল সেন্টার ফর দ্য স্টাডি অব ডেভেলপিং সোসাইটিজ (সিএসডিএস)। আমরা জানি, এই ঐতিহ্যবাহী সমীক্ষক সংস্থাটি কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তায় পরিচালিত হয়। পূর্ববর্তী রিপোর্টে সিএসডিএস তুলে ধরেছিল—মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব নিয়ে দেশবাসীর মনোভাব। স্বভাবতই চওড়া হয়ে উঠেছিল মোদি সরকারের কপালের ভাঁজ। ভোটের মুখে সেই দুশ্চিন্তার মেঘ ঢাকা দেওয়ার কৌশল খুঁজতে গেরুয়া শিবির যখন হয়রান, ঠিক তখনই সামনে এল আর একদফা জনমত যাচাইয়ের ফলাফল। কেন্দ্রীয় শাসকের পক্ষে দুঃসংবাদ এটাই যে, এই সমীক্ষা রিপোর্টে মোদি সরকারের ‘হ্যাটট্রিক’-এর গাওনা-বাজনার সারবত্তা নিয়ে রীতিমতো সংশয় প্রকাশ করা হয়েছে।
সমীক্ষায় দেখানো হয়েছে, আপাতভাবে মোদি সরকারকেই ফের ক্ষমতায় আনার পক্ষে এখনও বেশিরভাগ মানুষ। ৪৪ শতাংশ চান, মোদিই সরকার তৈরি করুন এবং ৩৯ শতাংশের চাহিদা উল্টো। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই রিপোর্টে মূল্যবৃদ্ধি ও বেকারত্ব নিয়ে প্রাথমিকভাবে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সমীক্ষালব্ধ সংখ্যা-তথ্যের ময়নাতদন্ত করে দেখা যাচ্ছে, মোদির জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে যথেষ্ট কমেছে। ২০১৯-এ ৪৭ শতাংশ ভোটার মোদির দ্বিতীয় সরকার চেয়েছিলেন। সংখ্যাটি পাঁচবছর বাদে ৪৪-এ নেমে এসেছে, মানে ৩ শতাংশ মানুষের মন গিয়েছে ছুটে। নেহরুর রেকর্ড ছোঁয়ার স্বপ্ন এখনও কি পূরণ হওয়ার অবকাশ আছে নরেন্দ্র মোদির? ২০১৯-এ এই সমীক্ষায় নেতিবাচক উত্তর দেন ৩৪ শতাংশ মানুষ। মোদিকে পছন্দ করেন না এমন মানুষজন এবার আরও দলে ভারী—৩৯ শতাংশ! এই দুই পরিসংখ্যানে লুকিয়ে রয়েছে আরও একটি সূক্ষ্ম তথ্য: গতবার পক্ষে-বিপক্ষের ব্যবধান ছিল (৪৭-৩৪=) ১৩, সেটাই এবার নেমে এসেছে মাত্র (৪৪-৩৯) ৫-এ! পরিস্থিতিটা ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলার মতোই ভয়ংকর নয় কি? ১৭ শতাংশ উত্তরদাতা ‘নো কমেন্টস’ বলে কাকে এড়াতে চাইলেন? মোদি-শাহ অনেক দিন ধরেই বুক বাজাচ্ছেন, ‘আব কি বার ৪০০ পার’ এবং ভোট সংগ্রহে তাঁরা ৫০ শতাংশের গণ্ডি পেরবেন! নববর্ষ হল শুভেচ্ছা বিনিময়ের একটি পবিত্র মুহূর্ত। কিন্তু তার প্রাক্কালে প্রকাশিত সমীক্ষা রিপোর্টে জনতা জনার্দনের যে কঠোরতর মনোভাব ব্যক্ত হয়েছে, তাতে শুভেচ্ছার ভাগ কমই দৃষ্ট হল। বিজেপি তো বটেই, এনডিএ’র ছুটন্ত অশ্বমেধের ঘোড়ার সামনেও একটি কালো বেড়াল রাস্তা কেটে দিল না কি?

15th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ