বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

দুর্নীতির শিকার রাজকোষ

সারা দেশে একটি আধুনিক কর ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার কথা শিল্প-বাণিজ্য মহল এবং অর্থনীতির পণ্ডিতরা কখনও অস্বীকার করেননি। তবে তাঁদের দাবি ছিল, এই সিস্টেম চালু করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। কারণ অনাবশ্যক তাড়াহুড়োর কারণে কিছু অবাঞ্ছিত ত্রুটি রয়ে যেতে পারে। তাঁরা এই আশঙ্কাই করেছিলেন যে, সরকারি ব্যবস্থার ফাঁক দিয়েই তখন চলতে থাকবে মারাত্মক দুর্নীতি। কিন্তু মোদি সরকারের যা স্বভাব সেটাই করেছিল তারা, দেশজুড়ে তড়িঘড়ি জিএসটি চালুর চমক দিয়েছিল আগাপাস্তালা না ভেবেই। তারপর অতিক্রান্ত সাতবছরে শিল্প-বাণিজ্য মহলের প্রাপ্তিযোগ একটাই—চরম ভোগান্তি। বিশেষত, ছোট ব্যবসা-বাণিজ্যের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। অন্যদিকে অর্থবিভাগের তুঘলকিপনার ফাঁক গলে রমরমা এখন কর প্রতারকদের। প্রতিবছর হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব খোয়াচ্ছে সরকার—কেন্দ্র এবং রাজ্যগুলি—উভয় পক্ষই। 
অর্থমন্ত্রকের অন্তর্বর্তী রিপোর্ট সূত্রেই এই ক্ষতির বহরে একটু নজর রাখা যাক: গত অর্থবর্ষেই অঙ্কটি পৌঁছেছে প্রায় ২ লক্ষ ১০ হাজার কোটি টাকায়! অর্থাৎ প্রতিমাসে দেশে আদায় হওয়া জিএসটির প্রায় সমপরিমাণ টাকার ক্ষতি হচ্ছে একবছরে। লক্ষণীয় বিষয় হল—এই প্রতারকদের একটি বড় অংশে রয়েছে একাধিক অনলাইন গেমিং ও লটারি সংস্থা। তারা মিলে একবছরে জিএসটি মেরে দিয়েছে প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকা। এরাজ্যের সিজিএসটি দপ্তর সূত্রের খবর, কর ফাঁকির অভিযোগে গত অর্থবর্ষে অন্তত চারটি সংস্থাকে শোকজ নোটিস ধরিয়েছে তারা। সেখানে কর দাবি করা হয়েছে—কারও কাছে ৯০৬৭ কোটি টাকা তো কোনও সংস্থার কাছে ৭৫৪৯ কোটি টাকা। দাবির পরিমাণ অন্য দুটি সংস্থার মধ্যে একটির কাছে ৬৩৮৪ কোটি এবং অন্যটির কাছে ১২৪১ কোটি টাকা। মাত্র একটি রাজ্যেই কর ফাঁকির বহর এই! উদ্বিগ্ন জিএসটি কর্তাদের বক্তব্য, এরপর অনুমান করা কঠিন নয়, সারা দেশে কী হারে কর ফাঁকি চলছে। জিএসটি ফাঁকি বাবদ বিপুল অর্থ দাবি করেছে রাজ্যগুলিও। জিএসটি প্রতারণার অঙ্ক ইতিমধ্যেই পাহাড়প্রমাণ! মোদি সরকারও আর শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে পারছে না। সংসদে সরকারই জানিয়েছে, ২০২০-র এপ্রিল থেকে গত মে পর্যন্ত, অর্থাৎ তিনবছরে ভারতব্যাপী ২ লক্ষ ৬৮ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকার জিএসটি প্রতারণার হিসেব সামনে এসেছে। মোট কেসের সংখ্যা ৪৩,৫১৬। এমনকী, জিএসটি চালুর প্রথম তিনবছরেই প্রতারণার পরিমাণ ৭০ হাজার কোটি টাকার অধিক। 
প্রতারণার একাধিক কৌশলের মধ্যে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিটই সর্বাধিক লোভনীয়। কাগুজে কোম্পানি খুলে গরিবগুর্বোদের ডিরেক্টর বানিয়ে ভুয়ো লেনদেন দেখানো হয়। অতঃপর চলে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট বাবদ সরকারের কাছ থেকে মোটা টাকা বাগানো। এই ছকবাজি সরকার বন্ধ করতে পারেনি। এর পাশাপাশি, জিএসটি না মিটিয়ে মোটা টাকা ঘরে রেখে দেওয়ারও একাধিক ফন্দি-ফিকির আবিষ্কার করেছে বহু সংস্থা। অনেকের সন্দেহ, সেগুলিরই একটি নিশ্চয় ইলেক্টোরাল বন্ড! নির্বাচনী বন্ড ক্রয়-বিক্রয়ের অঙ্ক এবং ওই বিপুল অর্থের দাতা ও গ্রহীতাদের মুখোশ খসে পড়তেই সন্দেহটি গভীর হয়েছে বইকি। প্রশ্ন উঠেছে, এই ভয়াবহ দুর্নীতির পথ বন্ধ করা যায়নি, নাকি কোনও কোনও পক্ষের পরোক্ষ মদতে মসৃণভাবে চালু রাখা হয়েছে? তবে এই অনাচারের যতটুকু এখনও সামনে এসেছে, তার  যাবতীয় কৃতিত্ব প্রাপ্য আরটিআই আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগণ এবং শীর্ষ আদালতের। আরটিআই আন্দোলনকারীদের নাছোড় মনোভাব এবং সুপ্রিম কোর্টের লাগাতার গুঁতোয় সরকার এই সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস রুখতে ব্যর্থ হয়েছে। অন্যদিকে, ইলেক্টোরাল বন্ডের একমাত্র বিক্রেতা এসবিআই’ও বাধ্য হয়েছে যাবতীয় তথ্য সবিস্তারে জানাতে। তাতেই সামনে এসে গিয়েছে একাধিক ভোজবাজি—যেসব অনলাইন গেমিং এবং লটারি সংস্থা সরকারকে প্রাপ্য কর মেটাচ্ছে না তারাই বহু কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলিকে। এমনকী, যেসব সংস্থা বছরের পর বছর লাভের মুখই দেখে না, তারাও রাজনৈতিক প্রভুদের পুজো দিয়েছে দু’হাতে! আর এই কাণ্ডে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছে মোদির পার্টি, যিনি আজও বকে চলেছেন—‘না খায়ুঙ্গা, না খানে দুঙ্গা’ কিংবা ‘দশ বছর ধরে ট্রেলার দেখেছেন, আবার ভোটে জেতালে আসল ছবি দেখাব, ভ্রষ্টাচারের শেষ দেখে ছাড়ব’ ইত্যাদি। এরপর মোদির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের অর্থনীতিবিদ স্বামী পরকলা প্রভাকর এবং আপ এমপি সঞ্জয় সিংয়ের বিস্ফোরক মন্তব্যেই সিলমোহর পড়ে না কি? প্রভাকরের মতে, ‘মোদি সরকারের আবিষ্কার নির্বাচনী বন্ডই হল বিশ্বের বৃহত্তম দুর্নীতি’ এবং অন্যদিকে সঞ্জয় সিংয়ের উপলব্ধি, ‘স্বাধীনতার পর সর্ববৃহৎ দুর্নীতিবাজ দলটির নাম বিজেপি’।

11th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ