বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

ফাঁকা মাঠে গোলের মতলব! 

বিজেপির ঘোষিত লক্ষ্য দেশকে ‘দুর্নীতিমুক্ত’ করে তোলা। ‘ভ্রষ্টাচারের বিরুদ্ধে’ যুদ্ধ ঘোষণা করেই জাতীয় রাজনীতিতে পা রাখেন নরেন্দ্র মোদি। নেহরু থেকে সোনিয়া-রাহুল-প্রিয়াঙ্কা পর্যন্ত কংগ্রেস নেতৃত্বের মুণ্ডপাত করেই দু’বার প্রধানমন্ত্রীর কুর্সি দখল করেছেন তিনি। বিজেপি বারবার দাবি করেছে, সে হল ‘পার্টি উইথ আ ডিফারেন্স’। কিন্তু বাস্তবে কী দেখাল গেরুয়াধারী রাজনীতি এবং তাদের সরকার? বিজেপির ক্ষমতার উৎস আসলে ‘অপারেশন লোটাস’! অর্থাৎ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের জন্য রাজনীতিতে ভরসা নেই নেতৃত্বের। কারণ, মানুষের মন জয় করা অত্যন্ত কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ কাজ। এত ধৈর্য ও পরিশ্রম গেরুয়া নেতাদের পোষায় না। তাঁরা চান হাতে গরম রেজাল্ট। তার জন্য সহজ রাস্তা হল, অন্য দলের প্রতীকে জয়ী জনপ্রতিধিদের দলত্যাগে বাধ্য করা এবং বিজেপির ব্র্যাকেটে তাদের ঢুকিয়ে নেওয়া। সেখানে জনপ্রতিনিধিত্ব এবং দলত্যাগ বিরোধী আইন জলাঞ্জলি গেলেও কুছ পরোয়া নেই। 
রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ভারতীয় গণতন্ত্রের মস্ত সমস্যা। নাগরিক সমাজ যখন এর থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজছে মরিয়া হয়ে, ঠিক তখনই বিপরীত বুদ্ধি দ্বারা চালিত হচ্ছে বিজেপি। একজন শিশুও বোঝে, রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন ও অর্থায়ন ছাড়া অপারেশন লোটাসের মতো জঘন্য সংস্কৃতি ডালপালা মেলতে পারে না। কিন্তু এই বেহিসেবি টাকার উৎস কী? কিছু অসৎ ব্যবসায়ী এবং একাধিক শিল্প গোষ্ঠীকে নানাবিধ সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়া। যেমন ব্যাঙ্কঋণ খেলাপিদের একাংশের মোটা অঙ্কের দেনা মকুব করে দেওয়া হয়েছে। তাতে জনসাধারণের ব্যাঙ্ক ধুঁকলেও চিন্তা নেই। গত একদশকে ধনবৈষম্য ভয়াবহ আকার নেওয়ার নেপথ্যে রয়েছে এই কারসাজি। এর পরেই উল্লেখ করতে হয় মোদি সরকারের আজগুবি স্বচ্ছতার পাঠ ইলেক্টোরাল বন্ডের কথা। এর মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলিকে যে যত খুশি টাকা দাও কাকপক্ষীও টের পাবে না! তবে শেষমেশ শীর্ষ আদালত এই ভণ্ডামি বরদাস্ত করেনি। আদালতের উপর্যুপরি গুঁতুনির ঠেলায় সরকার দমে যেতে বাধ্য হয়েছে এবং স্টেট ব্যাঙ্কও অসহায়ের মতো ফাঁস করেছে আসল রহস্য। তার ফলে এটাই সামনে এসে গিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় শাসক দলই দু’হাতে কুড়িয়েছে ‘বন্ডফল’। এমনকী, কোনও কোনও সংস্থা তার লাভের প্রায় ১০০ গুণ বেশি টাকার বন্ড কিনে দিয়েছে বিজেপিকে! বিজেপিকে দু’হাত ভরে চাঁদা দেওয়া কোনও কোনও কোম্পানি সরকারকে কানাকড়িও কর দেয় না কিংবা তারা বিপুল পরিমাণ কর মকুবের সুবিধা পেয়েছে। সরকারি কাজের বরাত বণ্টনের তালিকাতেও ‘উজ্জ্বল’ নাকি বিজেপির প্রতি দরাজহস্ত একাধিক কোম্পানি। স্টেট ব্যাঙ্কের তালিকা অনুযায়ী, এরকম পাঁচটি বিতর্কিত সংস্থা মিলেই শাসককে দিয়েছে ৬০০ কোটি টাকা। 
বন্ডের জাদু-তথ্যাদি সাজিয়ে সোমবার রীতিমতো বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ)। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকেই একের পর এক আঘাত হেনে আপ এমপি সঞ্জয় সিং এই ‘সীমাহীন দুর্নীতি’র জবাব চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীরই কাছে। আমরা জানি, আপের প্রধান নেতাদের ফাটকে ভরা হয়েছে। কেন্দ্রীয় এজেন্সি হাতা গোটাচ্ছে তাদের বাকি গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও সবক শেখাবার জন্য। আপের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার নয় যে, তারা মোদির কাছে নত হয়নি বলেই তাদের উপর এমন খাঁড়া নেমে এসেছে। মোদির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের অর্থনীতিবিদ স্বামী পরকাল প্রভাকর আগেই মন্তব্য করেছিলেন, ‘মোদি সরকারের আবিষ্কার নির্বাচনী বন্ডই হল বিশ্বের বৃহত্তম দুর্নীতি!’ ‘স্বাধীনতার পর সর্ববৃহৎ দুর্নীতিবাজ দলের নাম বিজেপি’—সঞ্জয় সিংয়ের বিস্ফোরক দাবিটি তার সঙ্গেই সাযুজ্যপূর্ণ। সত্যিই তো, দেশের অর্থনীতিকে ডুবিয়ে মেরে ইলেক্টোরাল বন্ডের মাধ্যমে গেরুয়া অর্থভাণ্ডার কানায় কানায় ভরাবার অনাচার হয়েছে এই আমলে! পশ্চিমবঙ্গসহ ‘সিঙ্গল ইঞ্জিন’ রাজ্যগুলির গরিব মানুষের একাধিক প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ এনে। শত চেষ্টাতেও সেই বহু চর্চিত দুর্নীতির প্রমাণ দিতে পারেনি নয়াদিল্লি। উল্টে কয়েকটি বিরোধী দলের মুখ্যমন্ত্রী, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, একাধিক বিভাগীয় মন্ত্রী এবং নানা ধরনের পদাধিকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে নির্বিচারে। ভোট যত এগিয়ে আসছে বিরোধীদের এই কায়দায় দুরমুশ করার তৎপরতা বেপরোয়া হয়ে উঠছে ততই। রাজনৈতিক মহলের খবর—দিল্লি, বাংলা, বিহার, ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক প্রভৃতি বহু জায়গায় গোহারা হওয়ার আশঙ্কায় ভুগছে বিজেপি। তাহলে ‘আব কি বার ৪০০ পার’-এর কী হবে? তাই কি দেশজুড়ে বুথ ফাঁকা করার ‘মহান’ অভিযানে নেমেছে পদ্মপার্টি? মাঠ ফাঁকা না-হলে কি গেরুয়া প্লেয়ারদের পায়ের বল গোল পোস্ট পর্যন্ত পৌঁছবে না!  

10th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ