বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

মোদি আমলে নব চেহারায় দুর্নীতি

ভোট এলেই একটা করে নতুন স্লোগান সামনে আনেন নরেন্দ্র মোদি। ২০১৪ সালে লোকসভা ভোটের আগে তিনি বলেছিলেন, বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধার করে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে। হবে বছরে ২ কোটি বেকারের চাকরি। তাঁর এই প্রধান দুই প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিস্তর হাসি-ঠাট্টা-কটাক্ষ চললেও তিনি নির্বিকার! এরপর ২০১৯ সালের ভোটের আগে তাঁর মুখে শোনা গিয়েছিল পুলওয়ামাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে উগ্র জাতীয়তাবাদের কথা। তার পরের পাঁচ বছরে মানুষের অভিজ্ঞতা হল, মোদির জাতীয়তাবাদ-দেশপ্রেমের আসল লক্ষ্য ভারতের বহুত্ববাদের ধারণার গলা টিপে হিন্দুরাষ্ট্র গঠনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। যা একান্তই আরএসএস-বিজেপি’র কর্মসূচি। এবারের ভোট আসতেই ‘দুর্নীতিকে’ হাতিয়ার করেছেন মোদি। দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়তে আগামী পাঁচ বছর আরও কড়া হওয়ার হুঁশিয়ারিও শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। বলেছেন, ‘মোদি বলে দুর্নীতি হটাও।’ খোদ প্রধানমন্ত্রীর মুখে বারবার এমন কথা শুনে দেশের যে কোনও নাগরিকের শ্রদ্ধায়-ভক্তিতে মাথা নত হওয়ার কথা। মনে হতে পারে, স্বয়ং ‘রামচন্দ্র’ বুঝি ধরাধামে অবতীর্ণ হয়ে অভয়বাণী দিয়ে ভক্তদের আশ্বস্ত করছেন। কিন্তু ইতিহাস যে বড় নির্মম সত্য। আম জনতার গত দশ বছরের অভিজ্ঞতা হল, রামচন্দ্রের এই স্বঘোষিত ‘দূত’ এতদিন প্রতিশ্রুতির আড়ালে যেন মানুষ ঠকানোর কারবারই চালিয়েছেন। এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে হুঙ্কার ছেড়ে নিজেই কি এই রোগটিকে প্রায় শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছেন না? কোনও সন্দেহ নেই যে, বেআইনিভাবে অর্থের লেনদেন বা ঘুষ নেওয়াকে দুর্নীতি বলেই মনে করা হয়। এই দুর্নীতির অভিযোগে প্রায় সব বিরোধী দলের দিকে আঙুল তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দল। ঘটনা হল, শাসকদলের এই অভিযোগ পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কিন্তু এর চেয়েও অনেক বড় সত্য হল, মোদি জমানায় শাসকদলের মদতে ও পরিকল্পনায় দুর্নীতি এক নতুন শিখর ছুঁয়েছে। রীতিমতো ছক কষে এমন দুর্নীতির নজির অতীতে দেখা যায়নি।
দেশের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের অর্থনীতিবিদ স্বামী যাকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম আর্থিক কেলেঙ্কারি’ বলেছেন, তার পোশাকি নাম নির্বাচনী বন্ড। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এই বন্ডের যাবতীয় অজানা তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই দেখা গেল, সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগীর নাম বিজেপি। কোন ব্যবসায়ী সংস্থা কোন রাজনৈতিক দলকে কত টাকা চাঁদা দিচ্ছে, তা আড়াল করতেই বন্ড চালু করেছিল মোদি সরকার। কিন্তু প্যান্ডোরার বাক্স খুলতেই দেখা গেল তার পরতে পরতে দুর্নীতির ছবি। যেমন, মোটা টাকার চাঁদার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে কয়েক হাজার কোটি টাকার সেতু-সুড়ঙ্গ বানানোর বরাত পাইয়ে দেওয়া হয়েছে, ড্রাগ টেস্টে ‘ফেল’ করা কিছু ওষুধ কোম্পানি শাসকগোষ্ঠীকে কয়েকশো কোটি টাকা চাঁদা দেওয়ার বিনিময়ে তাদের ওষুধ বাজারে বিক্রি করার লাইসেন্স পেয়ে গিয়েছে! আবার কিছু সংস্থার কর্ণধারের বিরুদ্ধে মামলা বা তদন্ত চলছিল, তারা মোটা অঙ্কের চাঁদা দেওয়ায় তদন্ত-মামলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে! এও দেখা গিয়েছে, লোকসানে চলা সংস্থাও কোটি কোটি টাকা চাঁদা দিয়েছে মোদির দলকে। পরপর কয়েক বছর মুনাফা হয়নি, তাও শাসকদলকে চাঁদা দিয়েছে—এমন নজিরও মিলেছে নির্বাচনী বন্ডে। সব মিলিয়ে বন্ড চালুর পর পাঁচ বছরে যত টাকা চাঁদা উঠেছে তার অর্ধেকের বেশি অর্থ গিয়েছে বিজেপির কোষাগারে। বাকি টাকা দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক দলের মধ্যে ভাগ হয়েছে।
এই বৃহত্তম কেলেঙ্কারি যদি একটি দিক হয়, তাহলে ঘুরপথে দুর্নীতির আর এক অনন্য নজির গড়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার। সংবাদে প্রকাশ, মোদি জমানায় দুর্নীতির অভিযোগে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তদন্তের মুখে পড়া ২৫ জন বিশিষ্ট বিরোধী নেতা বিজেপিতে যোগ দিয়ে কার্যত ‘ক্লিনচিট’ পেয়েছেন। এর মধ্যে ২৩ জনের ক্ষেত্রে তদন্ত বা মামলা বন্ধ হয়ে গিয়েছে অথবা তা হিমঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তালিকায় এমন ছ’জন রয়েছেন যাঁরা ভোটের মুখে এ বছরই কেন্দ্রের শাসকদলে যোগ দিয়েছেন। যেমন প্রফুল্ল প্যাটেল। ইউপিএ জমানায় এয়ার ইন্ডিয়ার ১১১টি বিমান কেনা নিয়ে দুর্নীতির বড়সড় অভিযোগ ওঠে তৎকালীন বিমানমন্ত্রী প্যাটেলের বিরুদ্ধে। ২০১৭ সালে সিবিআই তাঁর বিরুদ্ধে মামলা শুরু করে। ২০১৯ সালে চার্জশিট পেশ হয়। দেখা যায়, ২০২৩-এ তিনি শাসকগোষ্ঠীতে যোগ দিতেই ‘ক্লিনচিট’, সিবিআই আদালতে এই মামলার ‘ক্লোজড’ রিপোর্ট পেশ করে। বিজেপি’র ‘ওয়াশিং মেশিনে’ কালো থেকে সাদা হওয়ার তালিকায় আরও অনেক রথী-মহারথীর নাম রয়েছে। কিন্তু যাঁরা এমন তদন্ত বা মামলার মুখে দাঁড়িয়েও ‘বাঁচার শর্ত’ হিসাবে বিজেপিতে যোগ দেননি তাঁদের জেলের ঘানি অথবা জেরার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। যেমন অরবিন্দ কেজরিওয়াল, হেমন্ত সোরেন, প্রমুখরা। সরকারি বরাত পাইয়ে দেওয়া, ফেলকে পাশ করিয়ে দেওয়া বা কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার করে দুর্নীতির এক নতুন চেহারার জন্ম দিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর দল। এই কাজে তাঁর দুই বিশ্বস্ত অস্ত্রের নাম সিবিআই ও ইডি। প্রভুর হয়ে তারা ময়দান কাঁপাচ্ছে।

6th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ