বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

এই আন্দোলন ন্যায্য

দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতায় আসার আগে মোদি এই বলে আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ২০২২ সালের মধ্যে ভারতের কৃষকদের আয় দ্বিগুণ হয়ে যাবে। তারপর একবছরের বেশি সময় কেটে গিয়েছে। কৃষক কি এখনও তার দুর্দশা কাটিয়ে উঠতে পেরেছে? পিরিয়ডিক লেবার ফোর্স সার্ভে (পিএলএফএস) এবং স্টেট অফ ওয়ার্কিং ইন্ডিয়া রিপোর্ট কিন্তু তা মনে করে না। নিয়মিত শ্রমিক, অস্থায়ী শ্রমিক বা দিনমজুর ও স্বনিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রকৃত মজুরি বস্তুত ২০১৭-১৮ সালের জায়গাতেই আটকে রয়েছে। কেননা, মজুরি কিছু ক্ষেত্রে সামান্য বাড়লেও তা কাটাকুটি হয়ে যাচ্ছে জিনিসপত্রের অগ্নিমূল্যের সঙ্গে। কৃষি শ্রমিক, কারখানার স্থায়ী শ্রমিক, অন্যান্য ক্ষেত্রের দিনমজুর প্রত্যেকেই কমবেশি দুর্দশা সঙ্গী করে বেঁচে আছেন। পিএম-কিষান সম্মান যোজনার সুবিধা প্রদানেও জারি রয়েছে বঞ্চনা। প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকসহ দেশের প্রায় ১২ কোটি কৃষককে (সবাই কৃষিজমির মালিক) এই টাকা দেওয়া হচ্ছে বলে মোদি সরকারের দাবি। কিন্তু জোরালো অভিযোগ রয়েছে যে, সেখানেও বৈষম্যের শিকার পশ্চিমবঙ্গের মতো সিঙ্গল ইঞ্জিন রাজ্যগুলির বহু কৃষক। এছাড়া ভূমিহীন কৃষকরা, যারা প্রকৃতই গতরে খেটে ফসল ফলান এবং সবচেয়ে বেশি দুঃস্থ—এই প্রকল্পে তাঁরা পুরোপরি ব্রাত্য। সব মিলিয়ে ভারতে অন্নদাতাদের প্রতি রাষ্ট্রের অবহেলার অন্ত নেই। অথচ, দেশের অর্থনীতির চাকা ভয়াবহ দুর্দিনেও গাড্ডায় বসে যাওয়া বারবার রুখে দিয়েছে যে একটিমাত্র ক্ষেত্র তার নাম কৃষি। টাটকা দৃষ্টান্ত করোনার তিনবছর। প্রথম দু’বছর উৎপাদন এবং পরিষেবা শিল্প ক্ষেত্র বাস্তবিকই মুখ থুবড়ে পড়েছিল। জিডিপি এবং কর্মসংস্থানের হার যতটুকু মাথা তুলে রাখতে পেরেছিল তার জন্য কৃষি সেক্টরই বিশেষ কৃতিত্ব দাবি করতে পারে। স্বাভাবিক সময়েও আর্থিক বৃদ্ধি এবং অধিক কর্মসংস্থানের জন্য কৃষি ক্ষেত্রেরই মুখ চেয়ে থাকে রাষ্ট্র। 
কিন্তু সেই সেক্টরের আসল কারিগর যে কৃষক শ্রেণি, তাদের দাবি পূরণ নিয়ে সরকারের কোনও গরজ নেই। উল্টে, কৃষকদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে কর্পোরেটদের আরও বড়লোক বানাতে তৈরি করা হয়েছিল তিনটি কৃষি আইন। কৃষকদের তীব্র আপত্তি এবং গণ আন্দোলন দমন করেই এই ‘কীর্তি’ স্থাপন করেন মোদি। কৃষকদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের প্রত্যুত্তরে রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়াবহ দমনপীড়নের নিন্দায় সরব হয়েছিল গোটা গণতান্ত্রিক দুনিয়া। একাধিক বন্ধুরাষ্ট্রও মোদি সরকারকে সতর্ক করতে দ্বিধা করেনি। সর্বোপরি ছিল কৃষকদের প্রতি দেশের নাগরিক সমাজের অকুণ্ঠ সমর্থন। রাজধানী নয়া দিল্লিসহ সারা দেশে সংগঠিত বৎসরাধিক কালের কৃষক আন্দোলনের সামনে সরকার একসময় নতজানু হতে বাধ্য হয়। কৃষকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়ার পাশাপশি ২০২১-এ বাতিলও করা হয় বিতর্কিত কৃষি আইন তিনটি। সরকার যেসব দাবি মেনে নিয়েছিল, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল—নিছক সরকারি ঘোষণা নয়, কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যকে (এমএসপি) আইনসিদ্ধই করা হবে। সরকারের প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে কৃষকরা এই ব্যাপারে বারবার আর্জিও জানিয়েছেন দিল্লির দরবারে। কিন্তু তিনবছর যাবৎ বিফলে গিয়েছে সবই। 
অতএব, ফের আন্দোলনে নেমেছেন নিরুপায় কৃষকরা। পাঞ্জাব ও হরিয়ানার কৃষকরা ‘দিল্লি চলো’ ডাক দিয়েছেন। রাজধানীর একাধিক সীমানায় তাঁদের আটকে দিয়েছে গেরুয়া শাসকের পুলিস। নিরীহ কৃষকদের রুখতে সিংঘু, তিক্রি, গাজিপুর, চিল্লা প্রভৃতি সীমানার রাজপথ অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে সিমেন্টের ব্যারিকেড, কাঁটাতার, পেরেক প্রভৃতি ফেলে। যেন বহিঃশত্রুর আক্রমণ রুখতে দুর্গ সাজানো চলছে! এখানেই শেষ নয়, কৃষকদের ছত্রভঙ্গ করতে ড্রোন থেকে ছোড়া হয় কাঁদানে গ্যাস এবং চলে জলকামান ও বেধড়ক লাঠিচার্জ। বাদ যায়নি হাই অ্যালার্ট জারি থেকে লালকেল্লা, ভিভিআইপি জোন এবং মেট্রো রেল স্টেশনগুলি নিয়ে বিশেষ সতর্কতা। আসলে সরকার আঁচই করতে পারেনি যে, ভোটের মুখে মুখ পুড়বে এভাবে! ভেবেছিল, প্রয়াত কৃষক নেতা চৌধুরী চরণ সিংকে ‘ভারতরত্ন’ খেতাব দিয়েই কৃষকদের পাশে পেয়ে যাবে বিজেপি। মানুষের পেটে যখন লাথি পড়ে, তখন এসব ঘুষে কি সেই জ্বালা জুড়োয়? কৃষকরা আর অপেক্ষা করবেনই বা কোন ভরসায়? এই সরকার গাড্ডায় পড়লেই ‘গাজর’ ঝুলিয়ে দেয়। কিন্তু সেই গাজর চেখে দেখারও সুযোগ দেয় না কখনও। বছরে ২ কোটি চাকরি, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকার ‘জুমলা’ যে এখনও টাট‍কা! অতএব, অধিকার আদায়ের জন্য একমাত্র রাস্তাতেই নেমে এসেছেন কৃষকরা—তাঁরা এখন গণ আন্দোলনে। সারা দেশের এবং গোটা গণতান্ত্রিক দুনিয়ার উচিত, তাঁদের ন্যায্য আন্দোলনের পাশে সর্বশক্তি নিয়ে দাঁড়ানো।

15th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ