বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

উজ্জ্বলা রাজনীতি

এবার চারশো আসন জয়ের হুংকার পালাক্রমে দিয়ে চলেছেন মোদি ও শাহ। এটা শুধু বিজেপি কেন, এনডিএ’র পক্ষেও কতটা কঠিন তা প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ে ভালো কেউ জানেন না। কারণ বিজেপি এবং এনডিএ তৈরি হওয়ার পর থেকে ২০১৯ সালেই তাঁরা সেরা সাফল্য পেয়েছিলেন—লোকসভায় বিজেপি জিতেছিল ৩০৩টি আসনে। অন্যদিকে, এনডিএ হিসেবে গোটা গেরুয়া শিবিরের সংগ্রহ ছিল ৩৫৩। কিন্তু মোট প্রদত্ত ভোটে তাদের শতাংশ হার ছিল যথাক্রমে ৩৭.৩৬ ও ৪৫! অর্থাৎ দেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মানুষই বিজেপি’কে ক্ষমতার সর্বোচ্চ আসনে দেখতে চাননি। এমনকী, অর্ধেকের বেশি ভোটদাতা চাননি ফের এনডিএ সরকার হোক। তবু মোদি দ্বিতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রীর কুর্সিতে বসেন! এজন্য বিজেপি বা এনডিএ নেতৃত্ব কতখানি কৃতিত্ব দাবি করতে পারেন? সামান্যই। এই জয়ের আসল কারিগর একটিমাত্র ভোটের ব্যবধানে জয়-পরাজয় নির্ধারণের সিস্টেম এবং মোদির ভাগ্য। 
কিন্তু এমন বিজয়ী সচেতন হলে ভিতরে ভিতরে চরম হতাশার ছবি বয়ে বেড়াবেনই। কেননা এই কাঠামো বারবার সহায় নাও হতে পারে। সেজন্য সামান্য প্রতিশ্রুতি বণ্টনে আর থেমে নেই, দিকে দিকে রকমারি ‘গ্যারান্টি’র প্রচারেই মনোনিবেশ করেছেন মোদি। তাঁর সবচেয়ে ভয় গরিব এবং নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণি দুটিকে নিয়ে। মোদি সরকার প্রায় ২৫ কোটি মানুষকে দারিদ্র্য সীমার উপরে তুলে এনেছে দাবি করা হলেও প্রকৃত কাহিনি গেরুয়া পণ্ডিতদেও অজানা নয়, আর যাঁরা ভুক্তভোগী তাঁরা তো জানেনই নিজেদের হাঁড়ির হাল। তাই এই দুই শ্রেণির কোটি কোটি ভোটারের ক্ষতে প্রলেপ দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকেই। এই ছকের মোক্ষম অস্ত্র হল, নতুন করে ‘উজ্জ্বলা’ সংযোগ দিয়ে ‘মোদি মাহাত্ম্য’ প্রচার। টার্গেট ছিল, দেশজুড়ে ৭৫ লক্ষ উজ্জ্বলা সংযোগ প্রদান। কিন্তু কারা এই সংযোগ পাবেন? তা ঠিকই-বা করবেন কারা? দিল্লির ফর্মুলা ছিল—গ্যাস সংস্থার প্রতিনিধি ও সমাজের ‘গণ্যমান্য’ ব্যক্তিদের নিয়ে একটা কমিটি গড়া হবে এবং তার মাথার উপর থাকবেন জেলাশাসকরা। আর এখানেই উঠে এসেছে দুটি গুরুতর প্রশ্ন। ‘গণ্যমান্য’ ব্যক্তির সংজ্ঞা এবং ডিএম সাহেবদের ভূমিকা কী হবে? আমরা অভিজ্ঞতা থেকে এটাই দেখি যে, সংকীর্ণ রাজনীতি সর্বগ্রাসী রূপ নেওয়ার পর থেকে প্রকৃত গুণীর কদর করার সংস্কৃতি দেহ রেখেছে। গুণীদের আসন বরাদ্দ হয়েছে শাসকের ধামাধরা বা তল্পিবাহক কিছু ব্যক্তির জন্য। যেহেতু উজ্জ্বলা যোজনায় দাতার ভূমিকায় নরেন্দ্র মোদির সরকার, সেই হিসেবে গণ্যমান্যদের তালিকায় গেরুয়া পংক্তির বাইরের কোনও ব্যক্তির জায়গা হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় শূন্য। আগে থেকে বাছাই করা নামধামের তালিকায় সই বা সিলমোহর দেওয়ার জন্যই কমিটিতে ডিএমদের কদর। 
কিন্তু এদেশে সরকারি প্রকল্পগুলিতে চুরি দুর্নীতি অস্বচ্ছতার যে ছড়াছড়ি! উজ্জ্বলা সংযোগ নিয়েও যদি কোনওদিন এমন বেনিয়ম ধরা পড়ে? তখন বাকিরা হাত ধুয়ে ফেললেও ডিএমরা পালাবেন কোথায়? সব দায় বর্তাবে তাঁদেরই উপর। স্বভাবতই এমন শর্তে রাজি হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন। ফলে বাংলায় উজ্জ্বলা সংযোগের কোনও কমিটি তৈরি হয়নি এবং থমকে ছিল গোটা প্রক্রিয়া। কিন্তু ভোটের কথা মাথায় রেখে আর বিলম্ব চায় না দিল্লি। তাই নবান্নকে ‘অন্ধকারে’ রেখেই, কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে, চলিত সপ্তাহেই এরাজ্যে শুরু হতে চলেছে উজ্জ্বলার নয়া সংযোগ প্রদান। এপর্যন্ত এখানে উজ্জ্বলায় আবেদন জমা পড়েছে প্রায় পাঁচ লক্ষ। ভোট ঘোষণার আগেই বেশিরভাগের নিষ্পত্তি সেরে ফেলতে চান মোদিরা। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের দাবি, ২০২২-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশে উজ্জ্বলার গ্রাহক সংখ্যা ছিল ৯ কোটি ৬০ লক্ষ। তারপরই নতুন সংযোগের দুয়ার বন্ধ রাখা হয়। সেটা ফের খুলে দেওয়া হয়েছে গত সেপ্টেম্বরে। ভোট বড় বালাই! আর এখানেই শুরু হয়েছে শর্ত নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। সংসদীয় গণতন্ত্রে নির্বাচনই শেষকথা। ভোট-লড়িয়ে মাত্রই রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি। কেউ অন্য দলের সুবিধা করে দেওয়ার সংকল্প নিয়ে রাজনীতি করেন না। স্বভাবতই কেন্দ্রের বোঝা উচিত ছিল, নবান্ন কোনওভাবেই মোদির ভোট প্রচারে হাওয়ার জোগান দেবে না। বিজেপির তালিকায় সই করার বোকামিতেও জড়াতে দেবে না তার ডিএমদের। তারা পুরনো নিয়মেই উজ্জ্বলার সংযোগ চায় এখনও। এতে কোনও অন্যায় নেই। তবে গ্যাস সংযোগ যেন গরিবের রান্নাঘরের শুধু শোভা বৃদ্ধি না করে, তাতে দু’বেলা ভাত-রুটি এবং অন্য খাবার রান্নারও সংস্থান যেন হয়, মোদি সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে সেটাও। 

14th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ