বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
সম্পাদকীয়
 

বিকল্প উন্নয়নেও নেতৃত্বে বাংলা

বেঙ্গল রেল দিব্য চলছে সিঙ্গল ইঞ্জিনেই। সেটা পছন্দ নয় মোদি কোম্পানির। তারা এই গাড়িতে ডাবল ইঞ্জিন জুড়তে গিয়েও ফেল করেছে বারবার। আর যায় কোথায়—গেরুয়া শিবিরের এই ব্যর্থতার রোষ সরাসরি এসে পড়েছে বাংলার গরিব মানুষের উপর। টাকার হিসেব মিলছে না, এই অজুহাতে রাজ্যে চালু ও বিশেষভাবে সফল একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্পে টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন দিল্লির বাবুরা। ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি (মনরেগা) প্রকল্পে টাকা বন্ধ ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে। ফলে পরবর্তী দু’বছরেও (২০২২-২৩, ২০২৩-২৪) বাংলার গরিব মানুষকে এই প্রকল্পে কোনও কাজ দেওয়া যায়নি। তার ফলে গ্রামবাংলার জন্য পরিকল্পিত ৬২ কোটি শ্রমদিবস নষ্ট হয়েছে। এজন্য গরিব মানুষগুলোর সঙ্গে বঞ্চনার আর্থিক পরিমাণটাও বিশাল—২২ হাজার কোটি টাকা। সম্পদ অনর্থক জমিয়ে রাখার বিরুদ্ধে সওয়াল করতে গিয়ে মনস্বী বঙ্কিমচন্দ্র সম্পদকে তুলনা করেছিলেন দুর্গন্ধযুক্ত আবর্জনার সঙ্গে। তুলনাটা টাকার সঙ্গেও লাগসই। বস্তু হিসেবে টাকারও কোনও ক্ষমতা নেই, খামোকা জমিয়ে রাখলে তারা কিছু জায়গা দখল করে মাত্র। টাকার আসল শক্তি তার গতিশীলতায়—একটা টাকা যত বেশি হাত বদল করবে, তত বেশি লোকের প্রয়োজন মেটাবে, সৃষ্টি হবে তত বেশি উপযোগ। এটাই হল টাকার বৃদ্ধি। 
রাজ্যের কয়েক লক্ষ মানুষ এই ২২ হাজার কোটি টাকা পেলে বহু কাজে সেগুলো খরচ করতে পারত। তারা নানারকম খাদ্য, পোশাক, বাসনপত্র, আসবাব প্রভৃতি কিনত। কিছু টাকা পরিবহণ, শিক্ষা, চিকিৎসা, বিনোদনেও ব্যয় হতো। সব মিলিয়ে বাড়তি চাহিদা সৃষ্টি হতো অর্থনীতির অনেকগুলি ক্ষেত্রে। চাহিদাই যেকোনও ব্যবসা ও শিল্পের জিয়নকাঠি। সেই হিসেবে, বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস পার্টি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সবক শেখাতে নেমে মোদি সরকার বাংলার একাধিক ক্ষতি করে চলেছে। সরাসরি বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ এবং পরোক্ষে নষ্ট করা হচ্ছে বাংলার শিল্প-বাণিজ্য সম্ভাবনাকেও। এত কাণ্ডের পরেও মমতার হাত ধরে রাজ্যে দারিদ্র্য কমে চলেছে প্রতিদিনই। তিনি যখন রাইটার্সের দায়িত্ব পান তখন রাজ্যবাসীর ৫৭.৬০ শতাংশের অবস্থান ছিল দারিদ্র্যসীমার নীচে (বিপিএল)। গত ১২ বছরে বাংলার ৪৯ শতাংশ মানুষকে বিপিএল স্তরের উপরে টেনে তুলেছে তৃণমূল সরকার। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গে বিপিএল শ্রেণিভুক্ত মানুষের শতাংশ হার কমে ৮.৬০ হয়েছে। নীতি আয়োগই জানাচ্ছে বাংলার অভূতপূর্ব সাফল্যের এই তথ্য। মনে রাখতে হবে, বাংলায় একই সঙ্গে কমেছে লিঙ্গবৈষম্যও। 
অর্থনীতির পণ্ডিতরা জানেন, এই সাফল্য মুফতে বা কোনও ম্যাজিকে আসেনি। পুরোটাই সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি রূপায়ণের ধারাবাহিকতার ফসল। দুর্বল শ্রেণি বা প্রান্তিক মানুষজনের জন্য নানা রকমের ভাতা, বৃত্তি এবং কর্মসংস্থান প্রকল্পগুলির ভূমিকা বিরাট। এছাড়া উল্লেখ করতে হয় ফ্রি রেশন, মিড ডে মিল, নারী ও শিশুর পুষ্টি, সবার জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা ও শস্যবিমার কথা। আমাদের দেশে এমনিতেই আঠারো মাসে বছর! তার উপর আছে ঘুষের কারবারও। এই ভয়াবহ বাধা পেরনোর জন্য নবান্নের নির্দেশে সক্রিয় রয়েছে দুয়ারে সরকার-এর মতো একাধিক অনবদ্য কর্মসূচি। সুদীর্ঘকাল ক্ষমতায় থেকেও সিপিএমের মাতব্বরদের মাথা থেকে এসব বেরয়নি। অথচ তাঁরা নাকি বামপন্থী এবং বিকল্প অর্থনীতির প্রবক্তা! কিন্তু দেশবাসী কী দেখছে? কঠিন কঠিন বুলি না আউড়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিকল্প অর্থনীতিরই ফলিতরূপ প্রতিদিন উপহার দেন। তিনি যেটা করেন সেটাই আসলে ওয়েলফেয়ার ইকনমিক্সের সারকথা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন সাফল্য দেখে সিপিএম এখন কী করে? কেবল চিমটি কাটে, আর তাই দেখে হাততালি দেয় বিজেপি। অথচ দেশবাসী ইতিমধ্যেই দেখে নিয়েছে এই বিজেপিই রাজ্যে রাজ্যে ‘রেউড়ি’ সংস্কৃতির জুতোয় পা গলিয়ে বসে আছে। মোদি সরকার এই দ্বিচারিতা থেকে বেরতে পারলে বাংলা-সহ সারা দেশ দারিদ্র্যদূরীকরণ এবং কর্মসংস্থানে অনেক বেশি এগতে পারত। দেশের সরকার তাতে নিতান্তই অপারগ যখন, তখন রাজ্য সরকারগুলিকেই সেই দায়িত্ব একার কাঁধে তুলে নিতে হবে। যেমন মনরেগার অবর্তমানে ৫০ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রকল্প চালু হতে চলেছে বাংলায়। তাতে আপাতত ৮ হাজার কোটি টাকা খরচ করার পরিকল্পনা নিয়েছেন মমতা। সোজা কথায়, বিকল্প উন্নয়নেও যথার্থ নেতৃত্বের ভূমিকায় এখন বাংলা।

12th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ