বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
চারুপমা
 

কাজই শেষ কথা বলবে

বছর শেষের মুখে চারূপমার জন্য শ্যুট করলেন অভিনেত্রী দিতিপ্রিয়া রায়। আড্ডা হল নানা বিষয়ে। শুনলেন অন্বেষা দত্ত।  
 
বর্ষশেষ উদ্‌যাপনে পার্টিওয়্যারের শ্যুট তো হল। বাস্তব জীবনে পার্টি করতে যাবেন?
সম্ভবত সেদিন সারারাত শ্যুটিং করব! মানে ৩১-এর রাতটা কাজ করেই কাটবে। আর বছর শুরুতে ঘুম থেকে উঠে পড়াশোনা করতে হবে। কারণ ৩ জানুয়ারি থেকে আমার পরীক্ষা। ফার্স্ট ইয়ারের সেমিস্টার। তাই পড়াশোনা করতেই হবে। হয়তো বিকেলের দিকে কোথাও যেতে পারি। তবে ভিড়ভাট্টা পছন্দ করি না। তাই বাড়িতেই হয়তো ছোট গেট টুগেদার হবে। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। কারও না কারও বাড়িতেই। 

বছর শুরু হবে শুধু পড়াশোনা দিয়ে?
এটা একটা অদ্ভুত অভ্যেস বলতে পারেন। মা ছোটবেলায় শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সবাই পয়লা জানুয়ারি ছুটি কাটায়। আমার মা বলতেন, বছরের শুরুটা পড়াশোনা দিয়ে করলে সারা বছরই ভালো পড়াশোনা হয়। আমি সেটা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছিলাম! এখনও ওটা মেনে চলি। মাস্টার্স করছি, ওটা নিয়মের মতো আমার কাছে। তাই ১ জানুয়ারি পড়াশোনা। পড়াশোনা না থাকলে কাজ রাখি। মোটমাট কাজের মধ্যেই থাকি। সকালটা কাজ গুছিয়ে বিকেলটা পরিবার বন্ধুবান্ধবের জন্য রাখি। ক্লাবে গিয়ে সারারাত পার্টি করা কোনওদিনই আমার ধাতে নেই, ভালো লাগে না। আমার মনে হয় ওসব জায়গায় আমি খুবই বেমানান। ওদের মতো নই, ওই এনার্জিটাই নেই। ওই এনার্জিটা আমার কাজের ক্ষেত্রেই আসে। যারা যায়, তাদের দেখে ভালো লাগে। সুন্দর এনজয় করছে মনে হয়। কিন্তু আমি বাড়িতে বসে গানবাজনা, আড্ডা এতেই খুশি।  
 
পড়াশোনাটা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে?
অবশ্যই। জানি না কতটা পারব। তবে ইচ্ছে তো আছেই। এখন স্যোশিওলজি-তে মাস্টার্স করছি। আরও একটা বিষয়ে মাস্টার্স করার ইচ্ছে রয়েছে। অথবা পিএইচডি-র জন্য অ্যাপ্লাই করতে পারি। দেখা যাক কী হয়। 

পড়ার জন্য অভিনয় ছাড়তে হয় যদি?
এই প্রশ্নটা আমি অনেকবারই শুনি। আমার মনে হয়, আমি যে কাজই করি না কেন প্রতিটিতেই দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। অভিনেতা হিসেবে, বাবা-মায়ের মেয়ে হিসেবে, পড়ুয়া হিসেবে দায়িত্ব নিতে হয়। প্রতিটা জায়গা এক একটা চরিত্রের মতো। তার দায়িত্ববোধ ঝেড়ে ফেলা যায় না। সবটা কীভাবে ব্যালান্স করে চলা যায়, সেটাই শিক্ষা। ছোটবেলা থেকে সেটাই করে আসছি। একটা ডেলি সোপে অভিনয় করতে করতেই দুটো বোর্ডের পরীক্ষা দিয়েছি। তখন সারা দিন কাজ করতে হতো, ১৪ ঘণ্টার সীমারেখা ছিল না। লন্ডন থেকে মাস্টার্স করার ইচ্ছে ছিল। কাজের জন্যই যেতে পারিনি। তার জন্য আক্ষেপ নেই। যেটা হওয়ার সেটা হবে। কিছু পেতে গেলে কিছু তো ছাড়তেই হবে। আজ লন্ডন চলে গেলে যে ভালো কাজগুলো করছি বা করব, সেটার সুযোগ পেতাম না। আগামী দিনে যদি দেখি বাইরে গিয়ে পড়াশোনা গবেষণা করতে গিয়েও এদিকের কাজটা করতে পারছি, করব। পুরোটাই ব্যালান্স করে চলা।    

২০২৩ কী কী শেখাল?
সবচেয়ে বড় যে শিক্ষাটা পেয়েছি, সেটা হল কাজই শেষ কথা বলবে। ‘অ্যাকশন স্পিকস লাউডার দ্যান ওয়ার্ডস’। এটা কিছুদিন আগেও বুঝিনি। লোকের সব কথা বিশ্বাস করে নিতাম। ছোট থেকেই। ধরা যাক, কেউ যদি বলে আমায় দেখতে খুব ভালো লাগছে। আমি সেটাই বিশ্বাস করে ভাবতাম, সত্যিই হয়তো আমায় দারুণ দেখাচ্ছে। সে হয়তো আমায় বিদ্রুপ করে সেটা বলেছে, হয়তো আমার লাইনার বেঁকে গিয়েছে বা লিপস্টিক ঘেঁটে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও কমপ্লিমেন্ট দিল। এটা একটা সাধারণ উদাহরণ দিলাম। এগুলো বোঝার ক্ষমতা এখন হয়েছে। এখন এইসব কারণের জন্য লোকজনের সঙ্গে কম মিশি। বারবার করে নিজেকে ওই শিক্ষাটাই মনে করাই। যা হবে সবটাই শুধু কাজ দিয়ে হবে। 

লোকের সঙ্গে না মিশে চলা যায়?
সেলিব্রিটি হলে মানুষ অনেক ভুল ধারণা করে নেয়। আমার খুব কাছের বন্ধুরা জানে, আমি কতটা ইন্ট্রোভার্ট। কম কথা বলি। একা থাকতে ভালোবাসি। একা একা সিনেমা যাই। একা কফি খেতে চলে যাই। এই স্বনির্ভরতার ব্যাপারটা আমার খুব পছন্দ। নিজের আবেগ নিজের মধ্যেই রাখতে ভালো লাগে। কিছু ক্ষেত্রে এতে হয়তো অসুবিধে হয়ে যায়। কারণ বেশি এক্সপ্রেস করতে পারি না নিজেকে। সেদিক থেকে ২০২৩-টা আমার কাছে আশীর্বাদের মতো। খুব ভালো কিছু বন্ধু হয়েছে ইন্ডাস্ট্রির মধ্যেই। কারণ এই জগৎটায় এখন অনেকটা সময় কাটাই। ছোট থেকে মানে আড়াই-তিন বছর থেকে। স্কুলের কিছু বন্ধু অবশ্যই আছে, যাদের সঙ্গে যোগাযোগটা আগের মতোই আছে। এছাড়া বাকি শুধুই পরিবার। কাজের থেকে অবসর পেলে পড়াশোনা, লম্বা বিরতি পেলে ঘুরতে যাওয়া।

এর মধ্যে ঘুরে এলেন তো?
হ্যাঁ কাশ্মীর থেকে ঘুরে এলাম। অসাধারণ, এই সময়টা কাশ্মীর দেখার মতো। একেবারে স্বর্গই। তুষারপাত তো ছিলই। চারদিক শুধু সাদা। অসম্ভব ভালো লেগেছে।

একা বেড়াতে যেতে পছন্দ করেন?
না পুরোপুরি একা যাওয়া হয়নি। মনে হয় আমি যদি একা চলে যাই, তাহলে মা-বাবার অনেক জায়গা আর ঘোরা হবে না। খুব মজা করে তিনজনে ঘুরে বেড়াই। খাইদাই। তবে জীবনে সোলো ট্রিপ করার প্ল্যান নিশ্চয়ই আছে। এখন মনে হয়, একা ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ হয়তো পাব আরও পরে। কিন্তু এখন যতদিন পারি, মা-বাবার সঙ্গে সময়টা কাটাতে চাই। কোভিডের পর থেকে আমি খুব বিশ্বাস করি যে, যতটা সময় হাতে আছে, সেটার মূল্য অনেক। যে মানুষগুলো কাছে আছে, তাদের গুরুত্বটা বোঝা খুব জরুরি। মোবাইল ফোনে মুখ গুঁজে বসে থাকাটা কাম্য নয়। কিছুদিন পর বোঝা যাবে, অনেকটা সময় ফোনে কাটানোর জন্য কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে কথা বলার সময় হয়নি। তাই এই আক্ষেপ আমি করতে চাই না। যে জীবনটা বাঁচছি, সেটাকে উপভোগ করতে চাই। প্রতিটা মুহূর্ত বাঁচতে  চাই। আর সেটা কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে। 

এত ছোট থেকে কাজ করছেন। প্রচারের আলো ক্রমশ বাড়ছে। অভিনয়ের জন্য জনপ্রিয়তা পাচ্ছেন। এটা কেমন লাগে এখন? 
খুব ভালো লাগে। যেটা করতে চেয়েছি, ছোটবেলা থেকে সেটাই করতে পেরেছি। আপস অ্যান্ড ডাউন সবার জীবনে থাকে। আমার জীবনেও এসেছে। কঠিন সময় পেরিয়েছি। সেটাকে শিক্ষা বা লার্নিং হিসেবে নিয়েছি। হাল ছাড়লে হবে না। রোজ নিজেকে কতটা উন্নত করা যায়, এটাই আমার কাছে চ্যালেঞ্জ বলে মনে হয়। প্রতিটা দিন নিজেকে পাল্টাতে হবে। সময়টা যেন ঠিকঠাক কাজে ব্যয় হয়। এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। 

এগুলো মি-টাইমে নিজেকে বলেন?
(হেসে) আমার তো পুরোটাই প্রায় মি টাইম। মা-বাবার সঙ্গে কিছুক্ষণ কথা হয়। ওদেরও একটা নিজেদের জগৎ রয়েছে। একটা সময়ে সবাই মিলে যেমন আড্ডা দিই তেমন নিজের মতো করে সময় কাটাই সবাই। বই পড়া, সিনেমা দেখা, থিয়েটার দেখা। আমি আঁকতেও ভালোবাসি।  

সাজগোজ নিয়ে মাথাব্যথা?
আমি খুব ক্যাজুয়াল থাকতেই পছন্দ করি। বিয়েবাড়িতেও খুব মেকআপ করতে চাই না। হয়তো শাড়ি পরলাম। শুধু চুলটা ঠিক করতে হয়। এছাড়া হালকা লিপ বাম। এতেই আমার হয়ে যায়। আলাদা করে ফ্যাশন সচেতন বলা যাবে না আমাকে। শীতকাল এলে একটা কাজ করি। আমার প্রচুর লং কোট আছে, সেগুলো পরার চেষ্টা করি। কলকাতার ঠান্ডায় কমই সুযোগ হয়! এমনিতে আমি যে ধরনের পোশাক পরি তাতে আমার তথাকথিত ‘ভক্ত’দের প্রশংসাই পেয়েছি। এই শ্যুটে যেমন শর্ট ব্ল্যাক ড্রেসটা দারুণ লেগেছে। এমনিতে পোশাক পরার আগে খুব প্ল্যানিং থাকে, এমন নয়। ফ্যাশন মানে আমার কাছে আরাম এবং দেখতে ভালো লাগা। কমফোর্ট থাকলে সেটা এমনিই আত্মবিশ্বাস জোগায়। আত্মবিশ্বাস থাকলে যা পরুন, তাতেই ভালো মানাবে। আমার ফ্যাশন স্টেটমেন্ট আলাদা করে তাই নেই। কাউকে আমি ফলোও করি না।

অভিনয়ের ক্ষেত্রে কাউকে ফলো করার কথা মনে হয়?
এক্ষেত্রেও তাই। কারও অন্ধ ভক্ত আমি নই। ভালো অভিনয় অবশ্যই দেখি। সেখান থেকে প্রতিদিন শিখি।

এই বয়সে আপনার মতো এত পরিণত ভাবনা বা কথা চট করে শোনা যায় না। এগুলো কি জীবন থেকে শেখা?
কিছুটা বাড়ির শিক্ষা। মা-বাবা তো বটেই, আমার গোটা পরিবার বা বন্ধুবান্ধব কেউ আমাকে দিতিপ্রিয়া— মানে আলাদা করে শুধু অভিনেতা হিসেবে গুরুত্ব দেওয়ায় বিশ্বাসী নয়। তাই বাড়িতে থাকলে এই সেলেব-সেলেব অনুভূতি আমার মনেই হয় না। এ ব্যাপারে আমি খুব ভাগ্যবান মনে করি নিজেকে। চারপাশের মানুষজন আমাকে সবসময় মাটির কাছাকাছি থাকতে সাহায্য করেছে। এটা খুব জরুরি। এটা হারিয়ে ফেললে অভিনয় করাটা মুশকিল হয়ে যায়। মনে অহং বোধটা আসতে দেওয়া যাবে না। সবকিছুর মধ্যে ইতিবাচক দিকটা দেখে এগব। আমি ২১ বছরের জীবনে যা যা দেখেছি, হয়তো অনেকে দেখেনি। কোভিডের পরে আমরা সবাই বেঁচে আছি, এটাও আমার কাছে সৌভাগ্যের মতো মনে হয়। আমার বাবার এত বড় অসুখ হওয়ার পরেও বাবা আমার কাছে আছে। তাই আবারও বলছি, প্রিয়জনের গুরুত্ব বোঝা সবসময় দরকার।

30th     December,   2023
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ