Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

একে একে শুখাইছে ফুল, নিবিছে দেউটি
সন্দীপন বিশ্বাস

কয়েকদিন আগে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ আবার পড়ছিলাম। আমাদের আধুনিক মহাকাব্য। রেনেসাঁসের আলোয় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মাইকেল রামায়ণকে দেখেছিলেন। পড়তে পড়তে আমার দিব্যচক্ষু যেন খুলে গেল। মনে হল, আরে ভাই এতো একেবারে বর্তমানের সঙ্গে অনেকটাই মিলে যাচ্ছে। গোড়ায় মাইকেলের বিখ্যাত পংক্তি, ‘গাইব মা বীররসে ভাসি।’ এই বীররস আমরা কতই না দেখলাম! তার তালিকা করতে গেলে কয়েক রিম কাগজ লাগবে। একেবারে ছাপ্পান্ন ইঞ্চির ছাতি থেকে পাকিস্তানকে নাক খত দেওয়ানোর হুঙ্কার পর্যন্ত। এর পাশাপাশি জাতীয়তাবাদের আলোকে মনোপলি দেশপ্রেম, আলটপকা দেশদ্রোহী বাছাই, ধর্মভিত্তিক শাসানি বা পিটুনি, এমনকী খুন পর্যন্ত! এই সবকিছুই দেখা হয়ে গিয়েছে। এর মধ্যে যা আছে, তা হল, ভোটারদের মধ্যে আবেগের রসসিঞ্চন করে ভোটের ফায়দা লোটা। এইসবের মধ্যে নির্বাচনী লড়াই বা ভোটবাক্সে জোরদার সার্জিকাল স্ট্রাইকের প্রচেষ্টাই দেখা গিয়েছিল। কিন্তু নিট ফল আমরা কী দেখেছি? লোকসভা ভোটে মোদিজি ছক্কার পর ছক্কা মারলেও বিধানসভা ভোটে তাঁর জেতার মতো তাকত নেই। নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের নৌকা একের পর এক রাজ্যে ডুবেছে। অনেকটা ভারতীয় ক্রিকেট দলের মতো। দেশের মাটিতে আমরা অন্যদের নাকানি চোবানি খাওয়াই। কিন্তু বিদেশের মাটিতে সবুজ পিচে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ভরাডুবির গল্প যেন মিথ হয়ে যায়। এখানে বিধানসভা ভোটেও মোদিজির সেই অবস্থা! পরপর হোয়াইট ওয়াশ। কিন্তু হার মানেই পরাজয় নয়। এটাই এখন রাজনীতির নতুন শপথবাক্য। তাই পরাজয়ের পরের ক্ষণ থেকেই জয়ের রাস্তায় কীভাবে হাঁটা যায়, তার ছোঁকছোঁকানি শুরু হয়ে যায়। পথ যদি কেউ চেনেন, তাহলে রাস্তার অভাব হয় না। রাস্তা তো কম নেই। সামনের দরজা না থাকলে, খিড়কি দরজা তো আছেই। সেখান দিয়ে সিঁদ কেটে ক্ষমতা দখলের ইতিহাস আমাদের মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। অতীতেও এইসব খেলা আমরা দেখেছি, এখন আরও ঘনঘন দেখছি। আগে বলা হতো, আয়ারাম গয়ারাম। এখন বলা হয়, ঘোড়া কেনাবেচা।
এই কেনাবেচার খেলায় মহারাষ্ট্র রাজ্যটাকে এখনও তেমনভাবে অবশ্য কব্জা করতে পারেননি মো-শা জুটি। তবে কোনওদিন পারবেন না, এটা ভাবা ভুল। টোপ মারার প্রক্রিয়া অবিরত চলছে। আমরা জানি, বীরেরা কখনো দমে যান না। স্কটল্যান্ডের রাজা রবার্ট ব্রুসের মতো চেষ্টার পর চেষ্টা করে যাওয়ার অন্য নামই তো হল বীরত্ব! সুতরাং কেউ যদি ভাবেন, বীরত্ব আধ ছটাক কম পড়ল, তাহলে তিনি নিতান্তই আহাম্মক। কয়েকদিন আগেই মহারাষ্ট্র বিধানসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপির প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী তথা বর্তমান বিধায়ক সুধীর মুঙ্গানিতোয়ার বলেছেন, একদিন না একদিন মহারাষ্ট্রের মাটিতেও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার মতো নেতার সন্ধান আমরা পাব। সেদিন বিজেপি-শিবসেনা আবার ভাই ভাই হয়ে উঠবে। সেই সঙ্গে অবশ্য তিনি এটাও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বিজেপি শিবসেনার সঙ্গে প্রতারণা করেছে। একেই বুঝি বলে বীরত্ব।
সেই বীরত্বেরই সাম্প্রতিকতম নিদর্শন হল মধ্যপ্রদেশ। আবার অন্যের ঘর ভেঙে সরকার গড়ার খেলা শুরু হয়েছে সেখানে। সেই একই চিত্রনাট্য। বিরোধী দলের বিধায়কদের তুলে নিয়ে গিয়ে দামি রিসর্টে রেখে রফা পর্ব চলা। দরদাম ঠিক করা। ঘোড়া কেনাবেচা কাজ, ভোটে হারি নাহি লাজ। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়াকে তুলে নিয়ে একটা বড় দাঁও মেরেছে বিজেপি। কত বড় দাঁও, সেটা অবশ্য ভবিষ্যতেই বোঝা যাবে। সত্যিই কি জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া কংগ্রেসের একটা বড় শক্তিকে ভেঙে নিয়ে বেরিয়ে আসতে পারবেন? সবটাই নির্ভর করছে দরদামের উপর।
কিন্তু জ্যোতিরাদিত্যর বিজেপি শিবিরে তড়িঘড়ি লাফিয়ে পড়ার পিছনে ঘুরছে অন্য একটি কাহিনিও। সেটি হল ইয়েস ব্যাঙ্কের প্রতিষ্ঠাতা রানা কাপুরের সঙ্গে জ্যোতিরাদিত্যর যোগাযোগ। মুম্বইয়ের বিখ্যাত আকাশচুম্বী ভবন ‘সমুদ্র মহল’। এখানকার ফ্ল্যাটের দাম পঞ্চাশ কোটি টাকার ওপর। এখানে বিখ্যাত সব মানুষের বাস। এক সময় এখানকার ফ্লাটে থাকতেন নীরব মোদি এবং বিজয় মালিয়া। থাকেন ইনফোসিসের নন্দন নিলেকানি, বেদান্ত গ্রুপের প্রতীক আগরওয়াল সহ সমাজের বড় বড় ব্যক্তিত্ব। এখানেই আগে ছিল গোয়ালিয়রের রাজাদের নিজস্ব প্রাসাদ। সেটি ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে তৈরি করেছিলেন মাধবরাও সিন্ধিয়ার দাদু। একসময় এখানেই বছরের অনেকটা সময় কাটাতেন সিন্ধিয়া পরিবারের সদস্যরা। এই প্রাসাদেই বিজয়রাজের সিন্ধিয়ার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন মাধবরাও সিন্ধিয়া। পরবর্তীকালে সেটি বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেটি ভেঙে সেখানে বেশ কয়েকটি হাইরাইজ বিল্ডিং তৈরি হয়। এখানে জ্যোতিরাদিত্যর দুটি ফ্ল্যাট আছে। তার মধ্যে একটি ডুপ্লেক্স। সেটিতে ভাড়া থাকতেন ইয়েস ব্যাঙ্কের রানা কাপুর। ইডির পক্ষ থেকে এই ফ্ল্যাটটিতে রেইড করা হয়। তারপরেই গ্রেপ্তার করা হয় রানা কাপুরকে। রানা গ্রেপ্তার হওয়ার একদিন পরই হঠাৎ করে বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া বিজেপিতে যোগ দেন। বিরাট একটা রহস্য কিন্তু পুরো গল্পটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে। রানার গ্রেপ্তারের পরই হঠাৎ পটভূমিকার বদল হয়েছে। সেই রহস্য খুঁজে আনতে গেলে আজ আর একবার ডাকতে হবে ব্যোমকেশ বক্সিকে।
মধ্যপ্রদেশ সরকার ফেলে দিয়ে সেখানে বিজেপি সরকার গঠন করতে পারবে কিনা, এটা একটা প্রশ্ন। সেটা রাজনৈতিক সক্ষমতার প্রশ্ন। কিন্তু তারপরেও একটা পাল্টা প্রশ্ন থেকে যায়, সেটা আদর্শগত নৈতিকতার প্রশ্ন। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতার স্বার্থে ভেঙে দিয়ে নিজেরা সরকার গঠন করে বিজেপি কার্যত জনগণেশের ম্যান্ডেটটাকেই অপমানিত করছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বারবার প্রশ্ন উঠছে, কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকার জোরে, অর্থের জোরে এভাবে সরকার ভেঙে দিলে, ভোটের দরকার কি সত্যিই আর থাকে? গণতন্ত্রের মর্যাদা কি আর থাকে? মানুষের কাছে রাজনীতিকদের শ্রদ্ধা পাওয়ার মতো কিছু কি আর থাকে? মুখে বারবার নৈতিকতার কথা বলাটা তখন মিথ্যা প্রহসনের মতো শোনায়। সম্ভ্রম বলে আর কিছু থাকে না। সম্ভ্রমকে জুতোর সুখতলা বানিয়ে ক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাওয়ার নামই কি
তবে রাজনীতি? অসহায় মানুষ তাঁর গণতান্ত্রিক অধিকারের অমর্যাদা দেখে আজ এই কথাই ভাবছেন!
এখানেই শেষ নয়, আরও আছে বাকি! এর মধ্যেই বিশ্বজুড়ে মহামারীর মতো ছড়িয়ে পড়েছে এক নতুন রোগ, করোনা। এই মারণ ভাইরাস যেভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, তাতে অনায়সেই একে বলা যেতে পারে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। বায়োলজিক্যাল ওয়্যারফেয়ার। আমরা জানি না, কে বা কারা এই জৈব অস্ত্র তৈরি করেছেন! কাদের বিরুদ্ধেই বা ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল! কিন্তু আমরা জানি ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের গল্প। ১০২ বছর আগে লেখা মেরি শেলির সেই ভয়ঙ্কর উপন্যাস আজ যেন অন্যরূপে মানবসমাজে অভিশাপ হয়ে নেমে এসেছে। মানুষই আজ মানুষের একমাত্র শত্রু। এখনই বড় প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। শুধু গোমূত্র দিয়ে যাঁরা একে ঠেকানোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁরা মানবিকতার বড় শত্রু। তাই যদি হতো, তবে মোদিজি তাঁর বিদেশ সফর বাতিল করতেন না। এক বোতল গোমূত্র নিয়েই তিনি বিদেশ সফরে বেরিয়ে পড়তেন। সুতরাং এইসব অবৈজ্ঞানিক এবং অস্বাস্থ্যকর প্রয়াস বন্ধ করতে অবিলম্বে উদ্যোগ নিক মোদি সরকার।
এই সবের ফাঁকেই চলছে ব্যাঙ্কের পতন। মুম্বইয়ের পিএমসি ব্যাঙ্কের হাল আমরা দেখেছি। ভেঙে পড়েছে। পিএমসির পর ইয়েস ব্যাঙ্ক। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, এরপর কোন ব্যাঙ্ক? তালিকায় আছে অনেকগুলি ব্যাঙ্ক। ধীরে ধীরে আরও কয়েকটি ব্যাঙ্কই অচিরে ভেঙে পড়তে পারে। মানুষ তাহলে টাকা রাখবেন কোথায়? ব্যাঙ্ক তাহলে তাঁকে কতটুকু গ্যারান্টি দিতে পারে? সরকারকে এই পরিস্থিতিতে অসহায় দেখাচ্ছে। দিল্লির অশান্তির সময় যেমন সরকার লুকিয়ে পড়েছিল, এখনও চুপ করে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আর রামনাম জপছে। রামনামে উদ্ধার পাওয়া যে যায় না, তা আমরা জানি। কিন্তু রাজনীতি সেটা জানে না। এই অসহায়তার মধ্যে আর যাই দেখি সরকারকে খুব একটা সাহসী দেখাচ্ছে না। এনআরসি, সিএএ, শাহিনবাগ নিয়ে দিল্লির সংঘর্ষ, ব্যাঙ্কিং সিস্টেমের একটু একটু করে ভেঙে পড়া, অর্থনীতির ক্রমেই ঘুমিয়ে পড়া, এই সবকটা দুর্বিপাক একের পর এক আমাদের জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে। এর পিছনে বারবার সরকারের ব্যর্থতাই উঠে এসেছে।
এখানেই আমার মনে হল ’‘মেঘনাদ বধ কাব্যে’র সঙ্গে একটা প্রাসঙ্গিক তুলনা। যুদ্ধের সময় যেমনভাবে রাবণের কাছে একের পর এক খারাপ সংবাদ পৌছে দিতেন ভগ্নদূত। আজ প্রতিদিন যেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে কোনও এক ভগ্নদূত একের পর এক খারাপ খবর পৌঁছে দিচ্ছেন। পরের পর খারাপ খবর, ব্যর্থতার খবর, রাজকার্যে পরাজয়ের খবর। আর তিনি যেন নীরবে নিজের মনেই বলে চলেছেন, ‘একে একে শুখাইছে ফুল এবে, নিবিছে দেউটি’। এই প্রলাপ-বিলাপ অবশ্য কতটা সত্য আমরা সঠিকভাবে জানি না।
কবিচন্দ্রের রামায়ণে বলা হয়েছে, ‘রাজার পাপে রাজ্য নষ্ট, প্রজা কষ্ট পায়’ এবং ‘তোর পাপে মজিল রাজা লঙ্কার বসতি’। এই রকম পংক্তি অবশ্য মাইকেলের লেখাতেও আছে। মন্দোদরি সমস্ত পরিস্থিতির জন্য রাবণকে অভিযুক্ত করে বলছেন, ‘হায় নাথ, নিজ কর্ম-ফলে, মজালে রাক্ষসকুলে, মজিলা আপনি।’ পাপপুণ্যের বিচার অবশ্য এক একজনের কাছে এক একরকম। বিজেপি খুব ধার্মিক দল, শাস্ত্র মানে, পুরাণ মানে, গীতা, রামায়ণ, মহাভারত মানে। এতে অবশ্যই অন্যায়ের কিছু নেই। কিন্তু রাজার পাপে রাজ্যের এবং প্রজার ক্ষতি হয়, এই আপ্তবাক্যটি তারা কি মানে? নাকি, শুধু নিজেদের সুবিধাটুকু বা স্বার্থরক্ষার অংশটুকু মানে। স্বীকার না করলেও হয়তো মানে। কেননা তারা তো দেখছে, একটা একটা করে ফুল শুকিয়ে যাচ্ছে। নিভে যাচ্ছে প্রত্যাশার দীপ।
কার্টুন: সুব্রত মাজী 
16th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

 এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে।
বিশদ

22nd  March, 2020
লড়াই
তন্ময় মল্লিক

 করোনা ভাইরাস। এই দু’টি শব্দই গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। করোনা আতঙ্কে থরহরি কম্প গোটা পৃথিবী। চীন, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলিকে ক্ষতবিক্ষত করে করোনা এবার থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
বিশদ

21st  March, 2020
সময় এসেছে সিরিয়াস কিছু প্রশ্নের
সমৃদ্ধ দত্ত

তাহলে কিছুটা নিশ্চয়ই বোঝা গেল নিজের পাড়ায় দাঙ্গা এলে কী হবে? অতএব এটাও আশা করি আন্দাজ করা গেল যে, এনআরসি, সিএএ, এনপিআর, কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, হিন্দু মুসলমান সবই হল নেহাত সাধারণ টাইমপাস।  বিশদ

20th  March, 2020
যুদ্ধপরিস্থিতি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 এ সবকিছুর জন্য দায়ী ওই চীন, বুঝলেন। চীনেরাই ওই করোনা তৈরি করেছে। করে সামলাতে পারেনি। কোনওভাবে সেটা ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়েছে। এখন নিজেরাও মরছে, আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছে। কাগজে পড়ছি ফ্রান্স, ইতালি, ইরান, ইরাক, আমেরিকা সব নাকি ওই ভাইরাসের দাপটে একেবারে নাজেহাল। বিশদ

19th  March, 2020
করোনায় আতঙ্কে অর্থনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

অমিতাভ রায় এখনও লন্ডনে। সঙ্গে স্ত্রী, আর সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে। নামজাদা তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মী অমিতাভ। পেশার চাপে দেশে আগে দেশে ফিরতে পারেননি। এই দফায় আর হলও না...। একবুক আতঙ্ক নিয়ে বিদেশের মাটিতে কাটছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত। কিন্তু সেটাও কতদিন! জানেন না তিনি। হাড়ে হাড়ে বুঝছেন, বাজারটা খালি হয়ে যাচ্ছে।
বিশদ

17th  March, 2020
ব্যাঙ্কিং নয়, বরং দস্যুবৃত্তি
পি চিদম্বরম

একটি ব্যাঙ্কের তহবিল গড়ে ওঠে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং স্থায়ী আমানতে (ফিক্সড ডিপোজিট) অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে। এরপর তার উপর ব্যাঙ্ক সুদ দেয় । সংগৃহীত জমার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ‘রিজার্ভ’ হিসেবে রেখে দিতে হয়, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শর্ত মেনে। 
বিশদ

16th  March, 2020
একের পর এক ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ের দায়
মোদি সরকার এড়াতে পারে না
হিমাংশু সিংহ

একের পর এক ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ের লম্বা তালিকায় নবতম সংযোজন ‘ইয়েস ব্যাঙ্ক’। এর আগে মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে লাটে উঠেছিল পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সমবায় ব্যাঙ্ক। তা নিয়ে উত্তেজনাও কম হয়নি। এরও আগে একাধিক দুর্বল লোকসানে চলা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংযুক্তি নিয়েও কম প্রশ্ন ওঠেনি। মোদি জমানায় ব্যাঙ্ক-সংযুক্তির সবক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করতে হয় অনেক বিলম্ব করেছে কিংবা সব দেখেও কোনও এক রহস্যজনক কারণে না দেখার ভান করেছে। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক চাপও দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের উদাসীন থাকার আর একটা বড় কারণ।
বিশদ

15th  March, 2020
চীন, কমিউনিজম, জীবাণু ও সভ্যতার সঙ্কট
জিষ্ণু বসু

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক-একটি রোগ মহামারী হিসাবে এসেছে। পবিত্র বাইবেলের দ্বিতীয় অধ্যায় এক্সোডাস বা গণপ্রস্থান। এখানে মিশরের সভ্যতা, ফারাওয়ের সাম্রাজ্য মহামারীতে ধ্বংসের কথা আছে। ১৩৪৭ সাল থেকে ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপের জনসংখ্যার অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষের প্রাণ নিয়েছিল এক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ—প্লেগ।
বিশদ

14th  March, 2020
আর্থিক উদারীকরণনীতির বাস্তবায়নের জন্যই ভারতের অর্থনীতির বহর বিশ্বে এখন পঞ্চম
দেবনারায়ণ সরকার

 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘স্মৃতিকথা’য় লিখেছিলেন, ‘দীপের যে অংশটা শিখা হইয়া লোকের চোখে পড়ে, তাহার জ্বলার ব্যাপারে কেবল সেইটুকুই তাহার সমস্ত ইতিহাস নহে।’ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে স্বনামধন্য মার্কিন ভিত্তিক স্বাধীন সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’ তার প্রকাশিত রিপোর্টে জানাল যে, ২০১৯ সালে ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে পিছনে ফেলে ভারত পৃথিবীর মধ্যে সপ্তম থেকে পঞ্চম অর্থনৈতিকভাবে বৃহত্তম শক্তিশালী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশদ

14th  March, 2020
একনজরে
 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীরা প্রতিবারই মার্চ মাসের বেতন এপ্রিলে পান। এটাই হয়ে এসেছে। লকডাউন হওয়ার আগে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিতে নিযুক্ত কর্মীদের এপ্রিল মাসের বেতনের বিল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ...

সংবাদদাতা, পতিরাম: মঙ্গলবার টিভির পর্দায় প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ দিন লকডাউনের কথা ঘোষণা করা মাত্র রাতেই ভিড় শুরু হয়ে যায় পাড়ার মুদির দোকান ও ওষুধের দোকানগুলিতে। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা ভাইরাসের জেরে দেশবাসী গৃহবন্দি। মঙ্গলবারই আরও ২১ দিনের জন্য গোটা দেশে লক ডাউন করে রাখার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই ...

ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে যেসব সংস্থার শেয়ার গতকাল লেনদেন হয়েছে শুধু সেগুলির বাজার বন্ধকালীন দরই নীচে দেওয়া হল। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

খরচের চাপ এত বেশি থাকবে সে সঞ্চয় তেমন একটা হবে না। কর্মক্ষেত্রে নানান সমস্যা দেখা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮১৪: গিলেটিনের আবিষ্কর্তা জোসেফ ইগনেস গিলেটিনের মৃত্যু
১৮২৭: জার্মান সুরকার এবং পিয়ানো বাদক লুডউইগ ভ্যান বেইটোভেনের মৃত্যু
১৯৯৩: চিত্র পরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭১: স্বাধীনতা ঘোষণা করল বাংলাদেশ, শুরু হল মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭৪: চিপকো আন্দোলনের সূচনা
১৯৯৯: সুরকার আনন্দশঙ্করের মৃত্যু
২০০৬: রাজনীতিবিদ অনিল বিশ্বাসের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.১৯ টাকা ৭৬.৯১ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৮১ টাকা ৮৯.৯৫ টাকা
ইউরো ৮০.৬৪ টাকা ৮৩.৬৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
25th  March, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১১ চৈত্র ১৪২৬, ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) প্রতিপদ ২৯/২৯ অপঃ ৫/২৭। রেবতী অহোরাত্র সূ উ ৫/৩৯/৪১, অ ৫/৪৫/৪৫, অমৃতযোগ দিবা ৭/১৬ মধ্যে পুনঃ ১/৪১ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৪২ গতে ১০/১৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ২/৪২ গতে ৪/১১ মধ্যে।
১১ চৈত্র ১৪২৬, ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার, প্রতিপদ ২৬/১০/২১ অপরাহ্ন ৪/৯/৪৯। রেবতী ৬০/০/০ অহোরাত্র সূ উ ৫/৪১/৪১, অ ৫/৪৫/৪৯। অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে ও ৯/৩২ গতে ১১/১২ মধ্যে ও ৩/২২ গতে ৫/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৫৫ গতে ১০/২৭ মধ্যে। কালবেলা ৮/৪২/৪৩ গতে ১০/১৩/১৪ মধ্যে।
২৯ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তামিলনাড়ুতে আরও ৩ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাস 

11:52:00 PM

আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ 

09:02:11 PM

দেশে একদিনে ৮৮ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাস, মোট আক্রান্ত ৬৯৪: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক

08:55:45 PM

কৃষ্ণনগরে করোনা আতঙ্কে আত্মহত্যা! 
হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ পাওয়ার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী ...বিশদ

08:34:13 PM

ভেন্টিলেশনে রাজ্যের দশম করোনা আক্রান্ত 
শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় বাধ্য হয়ে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হল ...বিশদ

08:24:08 PM

ক্রিকেট খেলা বন্ধ করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিস 
লকডাউন উপেক্ষা করে মাঠে ক্রিকেট খেলা বন্ধ করতে গিয়ে নন্দীগ্রামের ...বিশদ

07:58:08 PM