Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

সময় এসেছে সিরিয়াস কিছু প্রশ্নের
সমৃদ্ধ দত্ত

তাহলে কিছুটা নিশ্চয়ই বোঝা গেল নিজের পাড়ায় দাঙ্গা এলে কী হবে? অতএব এটাও আশা করি আন্দাজ করা গেল যে, এনআরসি, সিএএ, এনপিআর, কংগ্রেস, বিজেপি, সিপিএম, হিন্দু মুসলমান সবই হল নেহাত সাধারণ টাইমপাস। বাঁচব কি না এই আতঙ্ক যখন গ্রাস করে, তখন বাকি সব শূন্য হয়ে যায়, এই সাধারণ উপলব্ধিটা আপাতত কিছুটা হলেও তো আশা করা যায় পাওয়া গিয়েছে? এই যে সারা বছর ধরে অন্য রাজ্যে, অন্য এলাকায়, অন্য শহরের দাঙ্গার খবরকে নিজের মনের মাধুরী মিশিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করে, ফেক নিউজ জেনেও ফরওয়ার্ড করে, হিন্দু বনাম মুসলিম প্ররোচনামূলক আলোচনা, ঝগড়া, তর্ক করেও নিজেদের বেশ দূরে থেকে নিরাপদ হাসিখুশি জীবনযাপন করার অভ্যাসকে অবশেষে সজোরে একটা ধাক্কা দিয়েছে করোনা ভাইরাস। এই প্রথম আমাদের ভয় লাগতে শুরু করেছে। যদি আমারও হয়! হ্যাঁ। এটাই নিয়ম। যখন বিপদ দোরগোড়ায় এসেছে তখনই ভয় পাই আমরা। যতক্ষণ দূরে থাকে বিপদ ততক্ষণ ভাবি আমার কী যায় আসে? তাই হাসিঠাট্টা, ইয়ার্কি, নির্বোধ রসিকতা চলে। তাই এবার প্রমাণ হল যে বিপদ যখন কাছে আসে, তখনই শুধু ভয় পাওয়াটা দরকার এমন নয়। উপলব্ধি করা উচিত যে, দূরের ভয় কয়েকদিনের মধ্যেই নিজের ঘরেও ঢুকতে পারে। তাই বিপদ আগামীদিনে অনেক দূরে থাকলেও ভয় পাওয়া অভ্যাস করা দরকার। ওটা ভালো অভ্যাস। যতই দিন যাচ্ছে ততই একটা স্বার্থান্বেষী চক্র আমাদের মধ্যে হিন্দু বনাম মুসলিম নামক হেটগেম ইনস্টল করে দিয়ে নিজেরা সবরকম সুযোগসুবিধা পেয়ে চলেছে। আর আমরা নিজেদের মধ্যেই ঝগড়াঝাঁটি, মারামারি করছি এবং দিনরাত ব্যস্ত আছি ওই একটি বিষয়কেই জীবনের প্রধান ইস্যু ধরে নিয়ে। কেন করছি? কারণ, আমাদের পাড়ায় তো দাঙ্গা হচ্ছে না। দাঙ্গা হচ্ছে দিল্লি অথবা মুজফফরনগর কিংবা বিহারের কোনও প্রান্তিক মফস্‌সলে। অথবা বসিরহাট কিংবা ধূলাগড়ের কোনও পাড়ায় এক্সপেরিমেন্ট চলছে মাঝেমধ্যেই। কিন্তু আমাদের জীবনযাপনে কোনও হেরফের হয়নি। তাই গায়ে আঁচও লাগেনি। মনের সুখে বছরভর হিন্দু-মুসলমান তর্কাতর্কি আর ‘ওদের টাইট দেওয়া দরকার’ মন্ত্রেই নিজেদের ব্যস্ত রেখে চলেছি। তার জেরে আমার যে কী সুবিধা হবে তা জানি না। যে নেতানেত্রীরা ব্যক্তিগতভাবে আমাদের চেনেনই না, তাঁর হয়েই লড়াই করে যাই বন্ধু বা আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে। যে দলের হয়ে চেনা লোকজনের সঙ্গে সারাদিন ধরে ঝগড়াঝাঁটি করছি, তাদের লোকাল দপ্তরে গেলেও নেতার সঙ্গে দেখা করতে চাইলে হয়তো ঢুকতেই দেবে না আমাদের। কিন্তু তাও অবোধের মতো এসব করে চলেছি। যে লোকটির সঙ্গে ঝগড়া করছি তিনি তাঁর পছন্দের দলকে ভোট দিয়ে সরকার বা রাষ্ট্র থেকে যেসব সুবিধা অসুবিধা ভোগ করছেন, আমি বিপরীত কোনও দলকে ভোট দিয়েও সেই একই সুবিধা অসুবিধা ভোগ করছি। কেউই এক্সট্রা সুযোগ পাচ্ছি না, আবার কেউই বেশি বঞ্চনা ভোগ করছি না। আমি যে বিশেষ দলকে ভোট দিয়ে একটু কম আয়কর দিচ্ছি তাও নয়। সাংঘাতিক মজার ব্যাপার। লক্ষ্য করেছেন যে, এই কয়েকদিন আর ওইসব হিন্দু খারাপ, মুসলিম খারাপ মার্কা আলোচনা একটু হলেও স্তিমিত হয়েছে।
কারণ কী? কারণ হল, এবার সরাসরি জীবনে আঁচ লাগছে করোনা ভাইরাসের। বাজার বন্ধ হলে খাবো কী? ব্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে গেলে টাকা তুলব কীভাবে? এই যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স থেকে সিবিএসই পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেল এবার আমার ছেলেমেয়েটার কী হবে? কবে হবে পরীক্ষা? কেরিয়ারটা কি পিছিয়ে গেল এভাবে? এটাই হলাম আমরা। যতক্ষণ না নিজেরা আক্রান্ত হচ্ছি পরিস্থিতির চাপে, ততক্ষণ অনুধাবন করতে পারি না যে, সাধারণ সময়ে কতরকম অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে মাথা ঘামাচ্ছি।
এবার করোনা ভাইরাসের ক্ষেত্রেও ঠিক তাই হয়েছে। চীন থেকে ইতালি। আমেরিকা থেকে ইরান। তুরস্ক থেকে মালয়েশিয়া পর্যন্ত ঠিক ছিল। এমনকী দিল্লি, তেলেঙ্গানা, মুম্বইয়ে তিনজনের মৃত্যু হল যখন, তখনও আমাদের একাংশের হেলদোল ছিল না। বরং ফাজলামি ছিল। ছড়া লেখা হয়েছে। কার্টুন আঁকা চলেছে। মিম তৈরি হয়েছে। সামাজিক সচেতনতাও লক্ষ্য করা যায়নি। বরং মোটামুটি একটা ক্যালাস, ডোন্ট কেয়ার আচরণ পরিলক্ষিত হয়েছে। কিন্তু যেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর কলকাতা থেকেই পাওয়া গেল তৎক্ষণাৎ কমবেশি একটা আতঙ্ক সকলের মধ্যেই গ্রাস করল। সরকার ও বিশেষজ্ঞরা বলল, সামাজিক ট্র্যান্সমিশনে সংক্রমণ হতে পারে। সবরকম সমাবেশ বন্ধ, খেলা বন্ধ, সিনেমা হল বন্ধ, আগামীদিনে মার্কেটও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ভিড় ট্রেন বাসে চলাফেরা করলে সংক্রমণ বাড়তে পারে। মার্কেট থেকে আমরা বাজার করে মজুত করতে শুরু করলাম। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনযাপন ক্রমেই ব্যাহত হয়ে যাচ্ছে। আগামীদিনে আরও কী ভয়ঙ্কর অবস্থা অপেক্ষা করে আছে তাও নিশ্চিত নয়। কমপ্লিট শাটডাউন ও লকডাউন কাকে বলে তা আমরা দেখিনি অদূর অতীতেও। এবার সেই আশঙ্কা এসেছে। তাই আমরা ভয় পাচ্ছি। আতঙ্কিত হচ্ছি। যত দ্রুত সম্ভব এই সঙ্কট কেটে যাক এটাই সকলের কাম্য। গোটা দুনিয়ায় কালান্তক মহামারী এসে উপস্থিত হলে আদৌ কতজন বাঁচবে, কতজন প্রাণ হারাবে তাও অজানা। একবার বিশ্বের আঙিনায় যখন ভাইরাস প্রবেশ করেছে, তখন এত দ্রুত তার করাল ছায়া অন্তর্হিত হবে কি? এই প্রশ্ন গোটা বিশ্বের।
আসুন এটাই আদর্শ সময় ভাবার যে, এই সঙ্কট কেটে যাওয়ার পর নিজেরা আর ম্যানমেড সঙ্কট ডেকে আনব না। ম্যানমেড মহামারী হল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। করোনা ভাইরাসের উপর মানুষের হাত ছিল না। কিন্তু এই সঙ্কটের পরবর্তী সময়ে অযথা আর আগামীদিনে দাঙ্গাকে প্ররোচনা যেন না দিই। অনেক দূরে দিল্লি অথবা রাজস্থান, যেখানেই সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সংবাদ আসবে, তৎক্ষণাৎ যেন ভয় পাই আমরা। কারণ আমরা ওই আগুনকে গুজব, জল্পনা, কল্পনা আর রাজনীতির স্বার্থসিদ্ধির বাতাস দিলে একদিন না একদিন আমাদের ঘরের মধ্যে, দোরগোড়ায় আছড়ে পড়বে সেই আগুন। অবিকল এরকমই সঙ্কট নিয়ে আসে দাঙ্গা আর গৃহযুদ্ধ। জীবনের সব স্বাভাবিকতা চলে যায়। এই যে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক আমাদের সকলকে গ্রাস করেছে, ঠিক এই সময়ে সদ্য দাঙ্গাবিধ্বস্ত উত্তর পশ্চিম দিল্লির মহল্লার পর মহল্লায় গেলে দেখা যাচ্ছে অকল্পনীয় দৃশ্য। সামান্য চাল ডাল রাখার পাত্র অবশিষ্ট নেই। বাড়ির একমাত্র রোজগার করা মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাই আয় করার কেউ নেই স্ত্রী আর ছোট ছোট সন্তানদের ঘরে। করোনার মাস্ক কেনা তো দূরে কথা, সামান্য খাবার জোটানোর জন্য বহু মানুষ আজও ত্রাণ শিবির ছাড়ছে না। কারণ খাবার পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু কতদিন পাওয়া যাবে? ঠিক নেই। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শিবিরগুলি। সুতরাং মনে রাখতে হবে আমাদের বাংলাও অতীতে দাঙ্গা প্রত্যক্ষ করেছে সবথেকে খারাপ আকারে। তাই, বাকি সব চলুক। সাম্প্রদায়িক উসকানি বন্ধ হোক। একবার দাঙ্গা শুরু হলে করোনা ভাইরাসের মতোই আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা গ্রাস করবে। ইতিহাস সাক্ষী আছে। রোদ্দুর রায়কে নিয়ে মনস্তাস্ত্বিক ও সমাজতাত্ত্বিক আলোচনা এখন আর নেই। রাজ্যসভার ভোটে সিপিএম ও কংগ্রেসের জোটের বিশ্লেষণ নেই, প্রতিদিন মুখ্যমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কী কী করা উচিত এবং তাঁরা কী কী ভুল করলেন এই পরামর্শ ফেসবুক বা হোয়াটস অ্যাপে দেওয়া নেই এখন। কারণ, এখন সরাসরি জীবনযাপনেই থ্রেট এসেছে। করোনা বিপুল ক্ষতি করে দিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশের। অর্থনীতির, জীবনযাপনের, শিক্ষায়, স্বাস্থ্যে। কিন্তু এই ধাক্কা থেকেই আমাদের ইতিবাচক একটা উপলব্ধি হওয়া দরকার যে, সারা বছর ধরে আমরা যে অযথা নন-সিরিয়াস অন্তহীন বিষয়গুলি নিয়ে মাতামাতি করি, এবার কিছুটা হলেও সেখান থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করব।
করোনা নিয়ে যে সচেতনতা দেখানো শুরু করেছি, সেই প্রবণতা আগামীদিনেও বজায় রাখা দরকার। কেন দরকার? কারণ, পাবলিক ডিসকোর্সে স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয় না বেশি। এবার থেকে এই আলোচনায় বেশি বেশি প্রবেশ করা দরকার। আমাদের রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করতে হবে যে, কেন আজ থেকে ২০ বছর আগেও মোট জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ দেশের হেলথকেয়ারে বরাদ্দ করা হতো এবং আজও সেই ১ শতাংশই বরাদ্দ করা হয়? একটি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার সূত্রপাত হল সেই দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য দিয়ে। গরিব শিশুদের স্বাস্থ্যোন্নয়নের সবথেকে বৃহৎ প্রকল্প আইসিডিএস প্রকল্পের বরাদ্দ বেশি হয় না বাজেটে? কেন আইসিডিএস এবং মিড ডে মিলকে ধীরে ধীরে বেসরকারি হাতে, কর্পোরেট এনজিওর হাতে ক্রমেই দেওয়া হচ্ছে? দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবায় সরকার খুব চিন্তিত এটা বোঝাতে সবথেকে বেশি যে প্রকল্প বারংবার ঘোষণা করা হয় হেলথকেয়ারে, সেটি হল স্বাস্থ্যবিমা। ইউপিএ আমলের আম আদমি স্বাস্থ্য বিমা অথবা মোদি সরকারের আমলে আয়ুষ্মান ভারত বিমা যোজনা। অথবা কৃষকদের ফসল বিমা। ক্রমেই রাষ্ট্রের জনকল্যাণ প্রকল্পগুলির সঙ্গে প্রাইভেট বিমা সংস্থাগুলির সংযুক্তি হচ্ছে কেন? রাষ্ট্র ধীরে ধীরে বিমা উন্নয়ন মডেলে চলে যাচ্ছে কেন? এই একের পর এক বিমা প্রকল্পে ৮২ শতাংশ বিলো পভার্টি লা‌঩ইনের দেশে গরিবদের জন্য হরেকরকম বিমা প্রকল্পে প্রিমিয়ামের টাকা থেকে কাদের লাভ হচ্ছে সবথেকে বেশি? এইসব স্বাস্থ্যবিমা অথবা কৃষিবিমায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া এবং ক্লেইম পাওয়ার গোপন শর্তাবলি কী? করোনার কারণে স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ যখন একবার এসেছে সমাজে, তখন আগামীদিনে এসব নিয়েও একটু আলোচনা করা হোক। ন্যাশনাল নিউট্রিশন মনিটরিং ব্যুরো কয়েক বছর আগে সমীক্ষায় বলেছে, ভারতের ৪ থেকে ৬ বছর বয়সি শিশুদের মধ্যে মাত্র ১৬ শতাংশ প্রয়োজনীয় ভিটামিন এ পায়, মাত্র ৩৫ শতাংশ শিশু আয়রন পায়, ৩৩ শতাংশ পায় ক্যালসিয়াম। অর্থাৎ বাকি বিপুল অংশের শিশুরা এসব পায় না। আর প্রবল অপুষ্টি তাই বেড়ে চলে দেশে। কেন পাঁচ বছরের কম বয়সি ভারতের ৪৩ শতাংশ শিশুই অপুষ্ট? সাপ্লিমেন্টারি ফুড প্রোগ্রামের টাকা কোথায় যাচ্ছে? 
20th  March, 2020
পাহাড়প্রমাণ চ্যালেঞ্জ, অস্ত্র নাগরিক সচেতনতা
শান্তনু দত্তগুপ্ত

ডাঃ সুশীলা কাটারিয়া। জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যাঁদের জন্য পাঁচটা মিনিট সময় বের করার আর্জি জানিয়েছিলেন, ডাঃ কাটারিয়া তাঁদেরই মধ্যে একজন। গুরুগ্রামে একটি হাসপাতালের ইন্টারনাল মেডিসিনের ডিরেক্টর তিনি। বয়স ৪২ বছর। গত ৪ মার্চ যখন তাঁকে বলা হয়েছিল, আপনার দায়িত্বে ১৪ জন ইতালীয় পর্যটককে ভর্তি করা হচ্ছে, তখনও তিনি রোগের নাড়িনক্ষত্র ভালোভাবে জানেন না। 
বিশদ

24th  March, 2020
মন্বন্তরে মরিনি আমরা, মারী নিয়ে ঘর করি
 সন্দীপন বিশ্বাস

পৃথিবীর গভীর গভীরতর অসুখ এখন। আর এই ‘অসুখ’ থেকে বারবার মানুষ লড়াই করে ফিরে এসেছে। প্রতিবার অস্তিত্বের সঙ্কটের মুখে দাঁড়িয়ে একযোগে লড়াই করে মানুষ এগিয়ে গিয়েছে উত্তরণের পথে। প্রকৃতির কোনও মারণ আক্রমণেই সে পিছিয়ে পড়েনি। তাই মানুষ বারবার ঋণী মানুষেরই কাছে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াই এবং তারপর
পি চিদম্বরম

আপনি এই লেখা যখন পড়ছেন, ততক্ষণে পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে করোনা ভাইরাসের (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় ভারত এগতে পারল না কি পিছনে পড়ে গেল। সরকার ব্যস্ত ভিডিও কনফারেন্সে, আক্রান্ত দেশগুলি থেকে ভারতীয়দের দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং করোনা থেকে বাঁচার জন্য নির্দেশিকা (হাত জীবাণুমুক্ত করা, নাক-মুখ ঢেকে রাখা এবং মাস্ক পরা) জারিতে।  
বিশদ

23rd  March, 2020
ভয় পাবেন না, গুজব ছড়াবেন না, জনতা কার্ফুতে ঘরে থাকুন, বিশ্বযুদ্ধে ভাইরাস পরাজিত হবেই
হিমাংশু সিংহ

 এক মারণ ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী মহাযুদ্ধ চলছে। এই যুদ্ধের একদিকে করোনা আর অন্যদিকে গোটা মানবজাতির অস্তিত্ব। প্রবীণ মানুষরা বহু স্মৃতি ঘেঁটেও এমন নজির মনে করতে পারছেন না যেখানে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া একটা রোগ ঘিরে এমন ত্রাস, আতঙ্ক দানা বেঁধেছে মানুষের মনে।
বিশদ

22nd  March, 2020
লড়াই
তন্ময় মল্লিক

 করোনা ভাইরাস। এই দু’টি শব্দই গোটা বিশ্বকে কাঁপিয়ে দিচ্ছে। করোনা আতঙ্কে থরহরি কম্প গোটা পৃথিবী। চীন, জার্মানি, ইতালি, আমেরিকা, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স সহ বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলিকে ক্ষতবিক্ষত করে করোনা এবার থাবা বসাতে শুরু করেছে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলিতে।
বিশদ

21st  March, 2020
যুদ্ধপরিস্থিতি
মেরুনীল দাশগুপ্ত

 এ সবকিছুর জন্য দায়ী ওই চীন, বুঝলেন। চীনেরাই ওই করোনা তৈরি করেছে। করে সামলাতে পারেনি। কোনওভাবে সেটা ফাঁক গলে বেরিয়ে পড়েছে। এখন নিজেরাও মরছে, আমাদেরও বিপদে ফেলে দিয়েছে। কাগজে পড়ছি ফ্রান্স, ইতালি, ইরান, ইরাক, আমেরিকা সব নাকি ওই ভাইরাসের দাপটে একেবারে নাজেহাল। বিশদ

19th  March, 2020
করোনায় আতঙ্কে অর্থনীতি
শান্তনু দত্তগুপ্ত

অমিতাভ রায় এখনও লন্ডনে। সঙ্গে স্ত্রী, আর সাড়ে পাঁচ বছরের ছেলে। নামজাদা তথ্য-প্রযুক্তি কোম্পানির কর্মী অমিতাভ। পেশার চাপে দেশে আগে দেশে ফিরতে পারেননি। এই দফায় আর হলও না...। একবুক আতঙ্ক নিয়ে বিদেশের মাটিতে কাটছে প্রত্যেকটা মুহূর্ত। কিন্তু সেটাও কতদিন! জানেন না তিনি। হাড়ে হাড়ে বুঝছেন, বাজারটা খালি হয়ে যাচ্ছে।
বিশদ

17th  March, 2020
একে একে শুখাইছে ফুল, নিবিছে দেউটি
সন্দীপন বিশ্বাস

কয়েকদিন আগে মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘মেঘনাদ বধ কাব্য’ আবার পড়ছিলাম। আমাদের আধুনিক মহাকাব্য। রেনেসাঁসের আলোয় নতুন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মাইকেল রামায়ণকে দেখেছিলেন। পড়তে পড়তে আমার দিব্যচক্ষু যেন খুলে গেল।   বিশদ

16th  March, 2020
ব্যাঙ্কিং নয়, বরং দস্যুবৃত্তি
পি চিদম্বরম

একটি ব্যাঙ্কের তহবিল গড়ে ওঠে কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, সেভিংস অ্যাকাউন্ট এবং স্থায়ী আমানতে (ফিক্সড ডিপোজিট) অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে। এরপর তার উপর ব্যাঙ্ক সুদ দেয় । সংগৃহীত জমার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ‘রিজার্ভ’ হিসেবে রেখে দিতে হয়, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের শর্ত মেনে। 
বিশদ

16th  March, 2020
একের পর এক ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ের দায়
মোদি সরকার এড়াতে পারে না
হিমাংশু সিংহ

একের পর এক ব্যাঙ্ক বিপর্যয়ের লম্বা তালিকায় নবতম সংযোজন ‘ইয়েস ব্যাঙ্ক’। এর আগে মহারাষ্ট্র বিধানসভা ভোটের ঠিক আগে লাটে উঠেছিল পাঞ্জাব ও মহারাষ্ট্র সমবায় ব্যাঙ্ক। তা নিয়ে উত্তেজনাও কম হয়নি। এরও আগে একাধিক দুর্বল লোকসানে চলা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের সংযুক্তি নিয়েও কম প্রশ্ন ওঠেনি। মোদি জমানায় ব্যাঙ্ক-সংযুক্তির সবক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক হস্তক্ষেপ করতে হয় অনেক বিলম্ব করেছে কিংবা সব দেখেও কোনও এক রহস্যজনক কারণে না দেখার ভান করেছে। নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক চাপও দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্কের উদাসীন থাকার আর একটা বড় কারণ।
বিশদ

15th  March, 2020
চীন, কমিউনিজম, জীবাণু ও সভ্যতার সঙ্কট
জিষ্ণু বসু

মানবসভ্যতার ইতিহাসে এক-একটি রোগ মহামারী হিসাবে এসেছে। পবিত্র বাইবেলের দ্বিতীয় অধ্যায় এক্সোডাস বা গণপ্রস্থান। এখানে মিশরের সভ্যতা, ফারাওয়ের সাম্রাজ্য মহামারীতে ধ্বংসের কথা আছে। ১৩৪৭ সাল থেকে ১৩৫১ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে ইউরোপের জনসংখ্যার অন্তত ৫০ শতাংশ মানুষের প্রাণ নিয়েছিল এক ব্যাকটেরিয়া ঘটিত রোগ—প্লেগ।
বিশদ

14th  March, 2020
আর্থিক উদারীকরণনীতির বাস্তবায়নের জন্যই ভারতের অর্থনীতির বহর বিশ্বে এখন পঞ্চম
দেবনারায়ণ সরকার

 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘স্মৃতিকথা’য় লিখেছিলেন, ‘দীপের যে অংশটা শিখা হইয়া লোকের চোখে পড়ে, তাহার জ্বলার ব্যাপারে কেবল সেইটুকুই তাহার সমস্ত ইতিহাস নহে।’ ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে স্বনামধন্য মার্কিন ভিত্তিক স্বাধীন সংস্থা ‘ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ’ তার প্রকাশিত রিপোর্টে জানাল যে, ২০১৯ সালে ব্রিটেন ও ফ্রান্সকে পিছনে ফেলে ভারত পৃথিবীর মধ্যে সপ্তম থেকে পঞ্চম অর্থনৈতিকভাবে বৃহত্তম শক্তিশালী দেশ হিসেবে উঠে এসেছে। বিশদ

14th  March, 2020
একনজরে
 প্যারিস, ২৫ মার্চ: গোটা বিশ্বে করোনা ভাইরাসের নাম করে আর্থিক প্রতারণা বাড়ছে। সতর্ক করে দিল আন্তর্জাতিক পুলিস সংগঠন ইন্টারপোল। বিশ্বের এই স্বাস্থ্য সঙ্কটের মুহূর্তে অনলাইনে কোনও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার সময় ক্রেতাকে পুরোপুরি সতর্ক থাকার আহ্বান জানাল তারা। ...

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: করোনা ভাইরাসের জেরে দেশবাসী গৃহবন্দি। মঙ্গলবারই আরও ২১ দিনের জন্য গোটা দেশে লক ডাউন করে রাখার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাই ...

 নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্য সরকারি কর্মীরা প্রতিবারই মার্চ মাসের বেতন এপ্রিলে পান। এটাই হয়ে এসেছে। লকডাউন হওয়ার আগে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর থেকে স্থায়ী ও চুক্তিভিত্তিতে নিযুক্ত কর্মীদের এপ্রিল মাসের বেতনের বিল পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ...

সংবাদদাতা, পতিরাম: মঙ্গলবার টিভির পর্দায় প্রধানমন্ত্রী আগামী ২১ দিন লকডাউনের কথা ঘোষণা করা মাত্র রাতেই ভিড় শুরু হয়ে যায় পাড়ার মুদির দোকান ও ওষুধের দোকানগুলিতে। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

খরচের চাপ এত বেশি থাকবে সে সঞ্চয় তেমন একটা হবে না। কর্মক্ষেত্রে নানান সমস্যা দেখা ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৮১৪: গিলেটিনের আবিষ্কর্তা জোসেফ ইগনেস গিলেটিনের মৃত্যু
১৮২৭: জার্মান সুরকার এবং পিয়ানো বাদক লুডউইগ ভ্যান বেইটোভেনের মৃত্যু
১৯৯৩: চিত্র পরিচালক ধীরেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ্যায়ের জন্ম
১৯৭১: স্বাধীনতা ঘোষণা করল বাংলাদেশ, শুরু হল মুক্তিযুদ্ধ
১৯৭৪: চিপকো আন্দোলনের সূচনা
১৯৯৯: সুরকার আনন্দশঙ্করের মৃত্যু
২০০৬: রাজনীতিবিদ অনিল বিশ্বাসের মৃত্যু





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৭৫.১৯ টাকা ৭৬.৯১ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৮১ টাকা ৮৯.৯৫ টাকা
ইউরো ৮০.৬৪ টাকা ৮৩.৬৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
25th  March, 2020
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৪১,৮৮০ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩৯,৭৩০ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৪০,৩৩০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৮,৮০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৮,৯০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]
22nd  March, 2020

দিন পঞ্জিকা

১১ চৈত্র ১৪২৬, ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার, (চৈত্র শুক্লপক্ষ) প্রতিপদ ২৯/২৯ অপঃ ৫/২৭। রেবতী অহোরাত্র সূ উ ৫/৩৯/৪১, অ ৫/৪৫/৪৫, অমৃতযোগ দিবা ৭/১৬ মধ্যে পুনঃ ১/৪১ গতে উদয়াবধি। বারবেলা ৮/৪২ গতে ১০/১৩ মধ্যে পুনঃ ১১/৪৩ গতে ১/১৩ মধ্যে। কালরাত্রি ২/৪২ গতে ৪/১১ মধ্যে।
১১ চৈত্র ১৪২৬, ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার, প্রতিপদ ২৬/১০/২১ অপরাহ্ন ৪/৯/৪৯। রেবতী ৬০/০/০ অহোরাত্র সূ উ ৫/৪১/৪১, অ ৫/৪৫/৪৯। অমৃতযোগ দিবা ৭/১২ মধ্যে ও ৯/৩২ গতে ১১/১২ মধ্যে ও ৩/২২ গতে ৫/১ মধ্যে এবং রাত্রি ৬/২৭ গতে ৮/৫৫ গতে ১০/২৭ মধ্যে। কালবেলা ৮/৪২/৪৩ গতে ১০/১৩/১৪ মধ্যে।
২৯ রজব

ছবি সংবাদ

এই মুহূর্তে
তামিলনাড়ুতে আরও ৩ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাস 

11:52:00 PM

আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে প্রথম করোনা আক্রান্তের খোঁজ 

09:02:11 PM

দেশে একদিনে ৮৮ জনের শরীরে মিলল করোনা ভাইরাস, মোট আক্রান্ত ৬৯৪: কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক

08:55:45 PM

কৃষ্ণনগরে করোনা আতঙ্কে আত্মহত্যা! 
হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ পাওয়ার পর গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী ...বিশদ

08:34:13 PM

ভেন্টিলেশনে রাজ্যের দশম করোনা আক্রান্ত 
শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় বাধ্য হয়ে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হল ...বিশদ

08:24:08 PM

ক্রিকেট খেলা বন্ধ করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিস 
লকডাউন উপেক্ষা করে মাঠে ক্রিকেট খেলা বন্ধ করতে গিয়ে নন্দীগ্রামের ...বিশদ

07:58:08 PM