বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
চারুপমা
 

টোটার টিপস

অন্দর থেকে সুস্থ থাকলে সেটাই ফুটে উঠবে চেহারায়। টোটা রায়চৌধুরী-র সঙ্গে কথায় অন্বেষা দত্ত।

ফিটনেস নিয়ে আপনি বরাবর ব্যতিক্রমী। খুব ব্যস্ত সময়েও শরীরচর্চা করেন কীভাবে?
সময় এখন কম পেলেও শরীরচর্চা বন্ধ হয়নি। আগে নিয়ম করে ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টা করতাম। এখন কাটছাঁট করে আধ ঘণ্টা হলেও করি। কখনও মিস করি না।

কীভাবে নিজের মধ্যে এই জেদটা বজায় রাখেন?
দেখুন ভয়ানক ব্যস্ত রাষ্ট্রনেতা বা শিল্পপতিও চাইলে ঠিক সময় বের করে শরীরচর্চা করেন। এঁদের কাছে তো প্রতিটা মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এঁরা এটাও জানেন, যদি কোনও কাজে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হয় তাহলে শক্তপোক্ত শরীর চাই। কারণ শরীর ভেঙে গেলে মন কখনও সেই শক্তিটা প্রতিফলিত করতে পারে না। আমার কাজে উৎকর্ষতা বজায় রাখার প্রাথমিক শর্ত হল নিজের শরীরটাকে মজুবত রাখা। কারণ আমাদের কাজে কায়িক শ্রম অনেক বেশি। ১২-১৪ ঘণ্টা সময় দিতে হয়। নিজেকে এমনভাবে ধরে রাখতে হয় যে দিনের শেষে শটটা দিতে গেলেও যেন সতেজ দেখতে লাগে।

এর সঙ্গে মনের ভূমিকাটা কীরকম?
মন হচ্ছে দু’দিকে ধার দেওয়া তলোয়ারের মতো। তা যদি আপনার আয়ত্তে থাকে, আপনি তা দিয়ে কাটতে পারেন। তা না হলে সেই তলোয়ার আপনাকে কেটে ফেলবে। মন সবসময়ই চেষ্টা করে শরীরকে বশীভূত করার। মন বলবে, শরীরচচর্চা করে কাজ নেই, আর একটু বেশি খাও...। সেই মনকে তো নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে। মন নিয়ন্ত্রণে এলে শরীরও ভালো হবে। রোজ পাঁচ মিনিট ধ্যান করা যায়। শহরের নানা প্রান্তে যাতায়াতের সময়টাকে কাজে লাগান। সোশ্যাল মিডিয়ায় মন না দিয়ে হেডফোন লাগিয়ে হালকা মিউজিক শুনুন চোখ বুজে। দেখবেন কাজ হবে।

নিজের সময় (মি টাইম) কীভাবে খুঁজে পান?
অনেক কিছুতে ‘না’ বলতে শিখতে হয়। তাতে অপ্রিয় হতে হয়। কিন্তু প্রয়োজনে বলতেই হবে। নিজের জন্য সময় ঠিক বেরিয়ে আসবে। আজকাল সর্বত্র সবাই চায় মানুষ যেন তারই দিকে সমর্পিত হয়ে থাকে। ঊর্ধ্বতন চাইবে অধস্তন তার দাস হয়ে থাকুক। অধস্তনকেই ঠিক করতে হবে সে কর্মী হবে, না ক্রীতদাস। কাজের জগতে ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে এখন সারা বিশ্ব তোলপাড়। আমাদের তৃতীয় বিশ্বে বিষয়টা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলে। কিন্তু এটা নিয়ে ভাবার আছে। কাজের জন্য সর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে তারপর কী পাব? তাই বুঝতে হবে, ঠিক কতটা পারব, আর কতটা নয়। 

ত্বক বা কেশচর্চা নিয়ে আপনি সময় দেন?
এইসব পরিচর্যা বা বিশেষ কসমেটিক্স ব্যবহার, এগুলোর ৫-১০ শতাংশ হয়তো কাজে লাগে। বাকি ৯০ শতাংশই লাইফস্টাইল। অর্থাৎ কত ঘণ্টা ঘুমাতে পারছেন, ডায়েট কেমন, শরীরচর্চা কতটা করছেন, মানসিক শান্তি কতটা রয়েছে, পরিবারকে কতটা সময় দিচ্ছেন— এগুলোই দিনের শেষে কাজে দেয়।

বয়স ধরে রাখার জন্য স্কিন ট্রিটমেন্ট বা কসমেটিক সার্জারি জরুরি নয়?
বয়স কি আদৌ ধরে রাখা যায়? শরীরের সুস্থতাই মানসিক শান্তি আনে। সেটাই ফুটে ওঠে চেহারায়। সেটা কসমেটিক সার্জারিতে আসে না। এধরনের কিছু পদ্ধতি হয়তো কাজে দেয়। আমার মনে হয়, সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আভিজাত্য রেখে বয়স বেড়ে যাওয়ার মধ্যেই সৌন্দর্য। জোর করে নিজেকে একটা বয়সে আটকে রেখে কী হবে? আমাদের জগতের কথাই বলি। কেউ যদি বলে ২০ বছর ধরে একইরকম আছি, সেটা আমার কাছে কৃতিত্বের বিষয় নয়। পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো অভিনেতারও বয়সকালে অনেক বলিরেখা তৈরি হয় মুখে। যে দর্শক ওই অভিনেতাকে দেখে আসছে, তারও বয়স বাড়ছে। সে-ও নিজেকে আয়নার দেখছে। ফলে অভিনেতাকে একটা সময় বয়সোচিত চরিত্রও করতে হয়। ৪৫-এ পৌঁছে ২৫-এর মতো দেখানোর চেষ্টা করলে সেটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে? হাস্যকরও হয়ে যেতে পারে। ৪৫-কে ৪০ দেখাতে পারলে হয়তো তার যৌক্তিকতা থাকতে পারে।  

13th     January,   2024
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ