বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
চারুপমা
 

কানের গয়না

কান বলুন বা নাক, পিয়ার্সিং-এর পর চাই মানানসই জুয়েলারি। লিখেছেন কমলিনী চক্রবর্তী।

মিশরের মমির কানের দুল দেখে অনুমান করা যায়, কান বেঁধানোর রীতি সেই সময় চালু ছিল। মোটামুটি পাঁচ হাজার বছর আগে থেকেই কানে গয়নার পরার প্রচলন দেখা দিয়েছিল বিশ্বের বিভিন্ন রাজপরিবারে। তবে তা সবই ছিল কানের লতিতে সীমাবদ্ধ। গোটা কান বেঁধানোর চল আরও পরে শুরু হয়। পরবর্তীকালে হিপিরা কানের ভিতর ও বাইরে নানা স্থানে ফুটো করে দুল পরতে শুরু করে। তখনও সাধারণ মধ্যবিত্ত কন্যেরা কানে একাধিক পিয়ার্সিং করতে সঙ্কোচ বোধ করতেন।  
কান বেঁধানোর নানারকম নিয়ে কলকাতার এক ইয়ার পিয়ার্সিং সেন্টারের কর্ণধার মনীষা টি নায়ার জানালেন, মনে রাখা জরুরি যে কানের যে কোনও অংশ বেঁধানো যায় না।  রীতিমতো পড়াশোনা করে তবেই কান বেঁধানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। কানের ভেতর ও বাইরের দিক মিলিয়ে মোট তেরোটি  পিয়ার্সিং স্পট আছে। প্রতিটি অংশের আলাদা নাম রয়েছে। তাঁর কথায়, ‘যিনি কান বেঁধাবেন এবং যাঁর কান বেঁধানো হবে দু’জনেরই বিষয়টা জানা জরুরি। অনেক অংশ এমনও আছে যা বেঁধালে রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনাও থাকে! যেমন ধরুন, গাল লাগোয়া কানের সামান্য উঁচু অংশ বেঁধানো হলে তা ওজন কমাতে সাহায্য করে। আবার কানের একদম ভিতর দিকে উপরে এমন একটি স্থান রয়েছে যা বেঁধালে মাইগ্রেনের ব্যথা কমে। কানের লতির মাঝ বরাবর স্থান বেঁধানো থাকলে অবসাদ কাটে আবার লতির উপরের দিকে বেঁধানো হলে ঘুমের অভাব বা ইনসোমনিয়া দূর হয়।’ 
মনীষা জানালেন, কান বেঁধানোর যতরকম রয়েছে তার মধ্যে লতি বেঁধানোর প্রচলন সবচেয়ে বেশি। সেক্ষেত্রে দুলের ধরনও বিভিন্ন। ঝোলা, ঝুমকো, পাশা, রিং, স্টাড যেমন খুশি দুলই কানের লতিতে মানানসই। কিন্তু লতি ছাড়া অন্যান্য অংশ যদি বেঁধানো থাকে তাহলে দুল বাছাইয়ে একটু যত্নবান হতে হবে। যেমন ধরুন গালের সংলগ্ন কানের অংশ যদি বেঁধানো হয় তাহলে সেখানে পরার জন্য ছোট বসানো দুলই উপযুক্ত। অনেকে একটা হীরের স্টাড বা নক্ষত্র ডিজাইনের ছোট দুল বাছেন। আবার তার উপরে কানের ভিতরের অংশে দু’টো অঞ্চল রয়েছে যা বেঁধানো সম্ভব। গায়ে গায়ে এই দু’টি অংশের প্রথমটিতে ছোট বল পরুন। আর তার উপরেরটিতে পরুন একটা পাতলা ফুল। এবার লতির বিভিন্ন পিয়ার্সিং প্রসঙ্গে বলি, এক্ষেত্রে উপর থেকে নীচে ক্রমশ দুলের মাপ বড় করতে পারেন। একদম উপরের অংশে ছোট্ট বল স্টাড বা একটা হীরের স্টাড মানানসই। তারপর একটু একটু করে টপ বা স্টাডের আয়তন বাড়িয়ে যান। ক্রমশ শেষের দিকে অর্থাৎ কানের লতি ও তার ঠিক উপরের পিয়ার্সিংয়ের জন্য রাখুন বড় দুল। অনেকে একটা নকশায় সাজিয়ে নেন কানের দুলের ধরন। যেমন উপরের দিকে বসানো টপ, মাঝ বরাবর একটু ছোট রিং বা মাকড়ি পারলেন দু’তিনটে। তারপর একদম  নীচের দিকে একটু বড় দুল পরে শেষে লতিতে একটা বড় ঝোলা দুল পরে নিলেন। অনেকে আবার সুঁই ধাগা দুলটির চেনের অংশ একটু উপর দিকের পিয়ার্সিংয়ে গলিয়ে ঝালরের মতো ডিজাইন করে তা নামিয়ে নেন।  
নাক বেঁধানোর ধরন আমাদের দেশে কানের তুলনায় সীমিত। মনীষা জানালেন, নাকের নোলক আফ্রিকা মহাদেশ থেকে আমাদের দেশে এসেছিল। যখন ভৌগোলিক ভাগ ছিল না তখন আফ্রিকার সঙ্গে মিশে ছিল ভারতের গুজরাত রাজ্য। অঞ্চলের নাম ছিল গন্ডোয়ানা ল্যান্ডস। সেই সময় ওই অঞ্চলের মহিলারা বিয়ের পর নাকের মধ্যভাগ বিঁধিয়ে নোলক পরতেন। সেই দেখাদেখি আমরাও সেই ধারা বজায় রেখে নাকছাবি পরতে শুরু করি। আমাদের দেশে নাকের গয়নার ধরনে, মূলত রিং আর স্টাড জনপ্রিয়। অনেক সময় মাকড়ির মুখের দিকে ফুল কাটা নকশাও থাকে। আবার কোথাও বা স্টোন বসানো থাকে। 
মনীষার মতে, খুব টিকালো নাক হলে একটু বড় গোলাকার নাকছাবি দেখতে ভালো লাগে। নাকছাবির ক্ষেত্রে হীরের ফ্যাশন তুঙ্গে। কেউ হয়তো একটু বড় সাইজের একটা হীরের নাকছাবি পছন্দ করেন, কেউ বা ছোট ছোট হীরের ফুল তোলা নাকছাবি পরতে চান। তবে দু’ক্ষেত্রেই হীরের চাহিদা প্রচণ্ড। হীরে ছাড়া চুনিরও কদর রয়েছে। সেপ্টাম বা নোলকের ক্ষেত্রে অক্সিডাইজড সিলভার পারেন অনেকেই। যাঁরা একটু ট্রাইবাল স্টাইল দিতে চান গয়নায় তাঁরা নাকছাবির নকশায় মাকড়ি ভালোবাসেন। সেক্ষেত্রে রুপোর পাতলা রিংয়ের উপর ছিলেকাটা নকশা খুবই জনপ্রিয়। তবে ফিলিগ্রি বা মীনাকারি কাজ নাকচাবিতে কেউ খুব একটা পছন্দ করেন না। মনীষা বললেন, এই কাজগুলো একটু বড় গয়নায় যতটা মানানসই, ছোট গয়নায় ততটা নয়। আর নাকের গয়না যেহেতু মূলত ছোট তাই এই ধরনের কাজ তাতে মানায় না।      

23rd     December,   2023
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ