বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
চারুপমা
 

সেলেবদের দীপাবলি

আলোর উৎসবে শামিল অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন এবং দিতিপ্রিয়া রায়। কীভাবে কাটবে ওঁদের দীপাবলি? শুনলেন অন্বেষা দত্ত।

কালীপুজোয় এবার ডাবল মজা: সন্দীপ্তা
শৈশবের কালীপুজো কেমন ছিল?
দীপাবলি বা কালীপুজো সংক্রান্ত স্মৃতি অনেক আছে। ভবানীপুরে বাড়ি ছিল আমাদের। ওখানেই বড় হওয়া। বাড়ির সামনে বক্সিং ক্লাবে বিরাট বড় পুজো হতো। ছোট থেকে সারারাত জেগে থাকতাম কালীপুজোয়। প্যান্ডেলে আড্ডা দিতাম। পরদিন ভাসানেও প্রচুর আনন্দ। বাড়ির সামনেই গঙ্গা ছিল। তাও আমরা হেঁটে হাজরা ঘুরে আবার বাড়ির পাশেই ভাসান দিতে যেতাম। এগুলো ভীষণ মিস করি এখন। সেই স্মৃতি ফিরে ফিরে আসে। 
বাজি পোড়ানো ছিল আর এক আনন্দের বিষয়। রংমশাল আর ফুলঝুরি খুব প্রিয় আমার। চকোলেট বোম বা ওইসব বিকট শব্দবাজি কোনওকালেই ভালো লাগত না। রংমশাল, চরকি, তুবড়ি, ফুলঝুরি— সব আলোর বাজিই জ্বালাতে ভালোবাসি। কালীপুজার পরে আমাদের আবার ফাংশন হতো। সেখানে আমার জেঠিমা কোরিওগ্রাফার ছিলেন। উনি এখনও এটা করেন। সবাইকে নাচ শিখিয়ে তৈরি করে দিতেন। আমরাও অপেক্ষা করে থাকতাম, প্রতি বছর কোন গানটা সেরা হবে। আমি প্রতিবারই দু’-তিনটে কোরিওগ্রাফিতে থাকতাম। পারফর্ম করাটা যেন খুব উত্তেজনার ব্যাপার ছিল! এছাড়া বাড়িতে দীপাবলির সময় মোমবাতি আর নানারকম আলো দিয়ে ঘর সাজানো তো ছিলই। সেটাও ভীষণ আগ্রহের বিষয় ছিল। এখনও আছে। আলো দিয়ে ঘর সাজিয়ে তুলতে কার না ভালো লাগে!

এবারের কীরকম প্ল্যান?
 এবছর কালীপুজার দিন আমার হবু বর সৌম্যর (মুখোপাধ্যায়) জন্মদিন। কালীপুজোর মজা ডাবল হয়ে গিয়েছে তাই! আমি আর সৌম্য লাঞ্চে যাব। তারপর যাব আমাদের এক বন্ধুর বাড়ি। ওদের ওখানে বিশাল বড় করে কালীপুজো হয়। গত বছরও ওখানে গিয়েছিলাম। এবারও আমার মা, বাবা আমি আর সৌম্য যাব। সারা রাত ধরে গানবাজনা চলে ওখানে। পুজোর সব উপচার মন দিয়ে দেখি। খুব ভালো লাগে পুজো দেখতে। 

 দীপাবলিতে নিজের সাজ?
দীপাবলির সাজগোজে কালো রংটাই আমার প্রিয়। গতবার কালো রঙের একটা মসলিন পরেছিলাম। এবার একটা মাল কটন পরছি। খুব বেশি কখনও সাজি না। কালীপুজোতেও নয়। শাড়িটাই সাজ!

নিজে হাতে প্রদীপ বানাতাম : দিতিপ্রিয়া
শৈশবের কালীপুজো কেমন ছিল?
 আমি যখন ছোট ছিলাম, তখন কালীপুজো আসতে আসতে ঠান্ডা পড়ে যেত। আর আমাকে টুপি পরানো নিয়ে মা আর বাবার মধ্যে প্রতিবার একটা ঝামেলা হতো! মা আমায় টুপি-সোয়েটার পরাবে না, আর বাবা পরিয়েই ছাড়বে। এটা খুব মনে আছে। বাজিতে খুব ভয় পেতাম। এদিকে বাবা বাজি ফাটাতে খুব ভালোবাসেন। ছোটবেলায় বাবা যখন বাজি ফাটাতেন, আমি ঘরে ঢুকে বসে থাকতাম। ছোটবেলার পুজো এভাবেই কাটিয়েছি। এখনও তাই! বাজির শব্দ একদম ভালো লাগে না। খুব কষ্ট হয় কুকুর বেড়ালগুলোর জন্য।  আর একটা বিশেষ স্মৃতি আছে শৈশবের। নিজে হাতে প্রদীপ তৈরি করতাম। মাটি ঘাঁটতে ভালোবাসতাম। তাই আমাদের পুরনো বাড়িতে নিজে হাতে বানাতাম ট্যারাবেঁকা সব প্রদীপ। কিন্তু ওই ১৪টা প্রদীপ দিয়েই মা বাড়ি সাজাত। এখন আর সেসব হয় না। এখন প্রদীপও কেনা আসে। মোমবাতিও আসে। নিজে হাতে সেই বানানোটা খুব মিস করি। আগে দুর্গাপুজো দশমী শেষ হলেই বসে পড়তাম মাটি নিয়ে। প্রদীপ তৈরি করে আবার সেগুলোকে পোড়াতাম। পুরনো বাড়িতে অনেকটা জায়গা ছিল। পুরনো বাড়ির পাশেই একটা ফ্ল্যাটে এখন থাকি। সেই ঘটনা যদিও স্মৃতি হিসেবেই রয়ে গিয়েছে। 

 এবারের কীরকম প্ল্যান?
 এবারের প্ল্যান বলতে কিছু জায়গায় যেতে হবে অতিথি হিসেবে। কালীপুজোয় মায়ের মুখটা ওভাবেই দেখা হয়ে যায়। এছাড়া বাজির শব্দে বেরতে আর ইচ্ছে করে না। ঘরেই থাকি। 

 দীপাবলিতে নিজের সাজ?
এই সময় সাজ বলতে একটু ঝলমলে ব্যাপার তো থাকেই। উৎসবের আমেজটা রেখে সেইরকমই কিছু সাজার ইচ্ছে আছে। শাড়ি অথবা এথনিক কিছুই পরব। এখনও ফাইনাল করিনি কিছু। আর সবাইকে একটা কথা বলব, আলোর উৎসবে প্রচুর আনন্দ করুন। কিন্তু কাউকে কষ্ট দিয়ে কিছু করবেন না। আমাদের আনন্দ যেন অন্যের দুঃখের কারণ না হয়। চারদিকে অবলা প্রাণীদের সামনে অনেকে বাজি ফাটায় বেশি করে। এগুলো কাম্য নয়। আলোর উৎসবে আলো থাকুক, শব্দ কেন? ওটা যদি কমানো যায়, উৎসবে সবার আনন্দ অমলিন থাকে।
 গ্রাফিক্স : সোমনাথ পাল

11th     November,   2023
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ