বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
খেলা
 

বাটলারের শতরানে বশ মানল নাইটরা

সুকান্ত বেরা, কলকাতা: সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে সুনীল নারিন হয়তো ইডেনের মন জিতলেন ঠিকই, তবে বিধ্বংসী শতরানে রাজস্থানকে জিতিয়ে ম্যাচের নায়ক জস বাটলার। বলা ভালো কেকেআর বোলারদের উপর রোলার চালালেন তিনি। স্টার্ক, রানারা বুঝতেই পারছিলেন না কোথায় বল ফেলবেন। স্বভাবতই ঘরের মাঠে রাজস্থানের কাছে ২ উইকেটে হারতে হল নাইট রাইডার্সকে। খেলায় হার-জিত থাকে। তবে শেষ বলে ম্যাচের রোমাঞ্চকর পরিসমাপ্তির সাক্ষী থাকলেন ক্রিকেটপ্রেমীরা।  
টসে হেরে প্রথম ব্যাট করতে নেমে নারিনের ১০৯ রানের সুবাদে কেকেআর ৬ উইকেটে ২২৩ রান তোলে। তখন মনে হয়েছিল সহজেই হয়তো ম্যাচটা জিতে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে আসবে শ্রেয়স আয়ারের দল। কিন্তু সেই আশায় জল ঢাললেন বাটলার। অসম্ভবকে সম্ভব করলেন তিনি। ৬০ বলে ১০৭ রানে অপরাজিত থেকে নাটকীয় জয় উপহার দিলেন রাজস্থানকে। আপাতত পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষস্থান মজবুত করলেন গোলাপি জার্সিধারীরা (৭ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট)। একটা ম্যাচ কম খেলে কেকেআর থাকল ৮ পয়েন্টেই। 
জবাবে অবশ্য রাজস্থানের শুরুটা ভালো হয়নি। তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে আউট হন যশস্বী জয়সওয়াল (১৯)। হর্ষিত রানার বলে সঞ্জু স্যামসন (১২) আউট হতে আরও চাপে পড়ে যায় রাজস্থান। তবুও বাটলার ও রিয়ান পরাগ দ্রুত রান তুলে আশা জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরাগ ৩৪ রানে ফিরতেই ম্যাচের রাশ চলে যায় নাইটদের হাতে। তারপর জুরেলকে (২) আউট করে কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দেন নারিন। স্পিনের ভেল্কিতে  বরুণ চক্রবর্তী তুলে নেন অশ্বিন (৮) ও হেটমায়ারকে (০)। এই পর্বে জয়ের আগমনী গান বাজতে শুরু করে দিয়েছিল কেকেআর শিবিরে।   কিন্তু ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা। মুহূর্তে রং বদলায়। যার সাক্ষী থাকল রাতের ইডেন। বুক চিতিয়ে লড়লেন বাটলার। দুরন্ত শতরানে জেতালেন দলকে। শেষ ১২ বলে রাজস্থানের দরকার ছিল ২৮ রান। হর্ষিত রানার ওভারে বাটলার একের পর এক চার-ছক্কা হাঁকিয়ে ১৯ রান তোলেন। ম্যাচ তখন চলে গিয়েছিল নাইটদের নাগালের বাইরে। গ্যালারিতে তখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। নাইট সমর্থকদের চোখে জল। যেন স্বজন হারানোর বেদনা কুরে কুরে খাচ্ছে শাহরুখ খানকেও। 
অন্তিম ওভারে বরুণ চক্রবর্তীর হাতে বল তুলে দেন ক্যাপ্টেন শ্রেয়স। স্কোরবোর্ড বলছে ৬ বলে ৯ রান দরকার রাজস্থানের। বাটলার ছিলেন প্রত্যয়ী। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে একপ্রকার জয় নিশ্চিত করেন।  তবুও স্ট্রাইক রোটেট করার সাহস দেখাননি। তিনটি ডট বল খেলেন। পঞ্চম বলে দু’রান নেওয়ার পর সুপার ওভারের সম্ভাবনাও জেগেছিল। কিন্তু চাপের মুখে ঠান্ডা মাথায় শেষ বলে সিঙ্গলস নিয়ে নাটকীয় জয় উপহার দেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান। ব্যাট-হেলমেট ছুড়ে গর্জে ওঠেন তিনি। সতীর্থরা দৌড়ে গিয়ে কোলে তুলে নেন নায়ককে।  
উল্টো দিকে তখন বিধ্বস্ত চেহারাগুলো মাটিতে লুটোচ্ছে। মুখে ঢেকে শুয়ে রয়েছেন রাসেল। বৃথা গেল নারিনের অনবদ্য শতরানের ইনিংস। টসে হেরে দল যখন শুরুতে বিপদে পড়েছিল, তখন  তরুণ রঘুবংশীকে (৩০) সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত রান যোগ করেছিলেন তিনিই। তারপর একাই টানেন দলকে। ৪৯ বলে বাউন্ডারি হাঁকিয়ে পূর্ণ করেন শতরান। সব ফরম্যাট মিলিয়ে এটাই 
প্রথম। ১৩টি চার ও ৬টি  ছক্কায় লিখেছেন কেরিয়ারের সেরা অধ্যায়। শেষ পর্যন্ত ৫৬ বলে ১০৯ রান করে তিনি যখন মাঠ ছাড়ছিলেন করতালিতে ফেটে পড়ল ক্রিকেটের নন্দনকানন। তবে কে জানত নারিন হয়ে রইবেন ট্রাজিক হিরো!

17th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ