চারুপমা

মুক্তা যেমন...

এমন একটা ঝিনুক সবাই চায় যাতে মুক্তো আছে! মুক্তো-বিলাস নিয়ে  লিখছেন অন্বেষা দত্ত।

নিউ ইয়র্কে প্রতি বছর দ্য মেট্রোপলিটান মিউজিয়াম অব আর্ট’স-এর কস্টিউম ইনস্টিটিউটের ফ্যাশন শো বসে, মেট গালা নামেই যা বেশি প্রসিদ্ধ। এবার সেখানে বিখ্যাত ফ্যাশন ডিজাইনার কার্ল ল্যাগারফেল্ড-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে থিম ছিল ‘কার্ল ল্যাগারফেল্ড: আ লাইন অব বিউটি’। বলিউড অভিনেত্রী আলিয়া ভাট সেখানে আপন করে নিয়েছিলেন এমন একটি শ্বেতশুভ্র গাউন যাতে ছড়ানো ছিল এক লাখ মুক্তো। যা দেখে মুক্তোপ্রেমীদের হৃদয় উদ্বেলিত। 
নানাবিধ অলঙ্কারের মধ্যে মুক্তো বহুদিন ধরেই তার আভিজাত্যে স্বকীয়। সে রূপকথার গল্প হোক বা বাস্তব, মুক্তো নিয়ে গয়নাপ্রেমী নারীর আকাঙ্ক্ষার শেষ নেই। গ্রিক পুরাণে প্রেমের দেবী আফ্রোদিতের আনন্দাশ্রুকেই মনে করা হতো মুক্তো। মিশরীয় রানি ক্লিওপেট্রাও নাকি মার্ক অ্যান্টনিকে তাঁর আভিজাত্য বোঝাতে নিজের কানের দুলের বড়সড় মুক্তো ভেঙে ওয়াইনে মিশিয়েছিলেন! 
ফেরা যাক এদেশে। পিছিয়ে যাওয়া যাক অন্তত হাজার তিনেক বছর। ঋগ্বেদে উল্লেখ রয়েছে মুক্তোর। অথর্ব বেদে মুক্তোর তাবিজের কথা রয়েছে। রামায়ণেও আছে ২৭টি মুক্তোয় গাঁথা মালার কথা। মুক্তোর সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের নামটি জড়িত। বলা হয়, ভারতেই প্রথম মুক্তো আবিষ্কার করেছিলেন কৃষ্ণ। সেই মতে, সমুদ্র সেঁচে পাওয়া সেই প্রথম মুক্তো তিনি তাঁর কন্যার বিবাহে দিয়েছিলেন। আর একটি মতে, কার্তিক মাসের কোনও এক দীপাবলির দিনে রাধার সঙ্গে বসে গোপিনীরা মুক্তোর মালা গাঁথছিল। খবর পৌঁছয় শ্রীকৃষ্ণের কাছে। তিনি সেখানে উপস্থিত হয়ে রাধা ও গোপিনীদের অনুরোধ করেন কিছু মুক্তো দিতে, তাঁর প্রিয় দুই গোরুর সজ্জার জন্য। গোপিনীরা অনুরোধে পাত্তা দেননি। এর মধ্যে সখী ললিতা মুক্তোর থলে থেকে একটা ছোট ভাঙা টুকরো দিয়ে বলেন, এইটুকুই পেতে পারেন যশোদা-পুত্র। দুঃখ পেয়ে সেখান থেকে চলে আসেন কৃষ্ণ। মাকে বলেন, মুক্তোর বাগান করব। আমাকে মুক্তো দাও, মাটিতে পুঁতব। জননী যশোদা ছেলের ভাবনায় অস্থির হয়ে জানান, মুক্তো গাছে ফলে না, সাগর থেকে আসে। ছেলে শোনার পাত্র নন। মা ছেলেকে শান্ত করতে দিলেন কিছু মুক্তো। যমুনার তীরে মাটি খুঁড়ে প্রোথিত হল মুক্তো ‘বীজ’। তাতে জল নয়, দিতে হবে দুধ। কিন্তু গোপিনীরা সেই দুধ দিতেও রাজি হয়নি। সকলে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছে তাঁকে। মা যশোদাই ভরসা, তাঁর কাছ থেকে দুধ নিয়ে মুক্তো ছড়ানো মাটিতে নিয়মিত ঢালতে থাকেন কৃষ্ণ। কিছুদিন পরে একটু একটু করে মাথা তোলে ডালপালা, পাতা। আশ্চর্যের বিষয়, গাছ হতে না হতেই তাতে ঝুলছে থোকা থোকা বড় বড় নানা রঙের মুক্তো, যেমন তার উজ্জ্বলতা তেমনই সুগন্ধ! সকলে হতবাক। গোপিনীরা একইভাবে মুক্তো ফলাতে গেলেও কোনও ফল দিল না। সবই কৃষ্ণমহিমা। আর মহিমার গুণেই কৃষ্ণ তাঁর ফলানো মুক্তো থেকে সেরাগুলো বেছে গলার মালা বানিয়ে শ্রীরাধিকাকে উপহার দিয়েছিলেন। তার আগে বৃন্দাবনে সাধারণের মধ্যেও তিনি অকাতরে মুক্তোমালা বিলিয়েছেন। গো-বেচারারাও পেয়েছে অপূর্ব সব মুক্তাহার।    
গল্প থেকে চলে আসা যাক বাস্তবের জগতে। মুক্তোর হার পরিহিত জয়পুরের মহারানি গায়ত্রী দেবীর ছবিও ভোলার নয়। মায়ের থেকে গয়নার প্রতি ভালোবাসা তৈরি হয়েছিল গায়ত্রীর। নামী ব্র্যান্ডের হীরের গয়না তো বটেই, গায়ত্রীর পছন্দের তালিকায় বেশ উপরের দিকেই ছিল মুক্তো। যে শাড়িই তিনি পরুন, তাঁর গলায় শোভা পেত ঝকঝকে মুক্তোর মালা। কখনও আবার ন্যাচারাল পার্ল-এর সঙ্গে মাঝে ডায়মন্ড বসানো নেকলেসও পরেছেন রানিসাহেবা। কখনও সোনার নেকলেসে মুক্তো, চুনী, হীরে বসানো অলঙ্কার বেছেছেন তিনি। এ তো গেল রাজরাজরার অভিজাত ব্যাপার। সাধারণ নারীর কি মুক্তো-প্রেম থাকতে নেই? আলবাত। 
সেই ভালো লাগা আছে বলেই না এত হাজার বছর ধরে মুক্তো-মনা হয়ে রয়েছে মানুষ! মুক্তোর রয়েছে আরও গুণ। ক্যালসিয়াম কার্বনেট সমন্বিত এই বস্তুটি সম্পর্কে গণিত ও জ্যোতিষ গবেষক ডঃ আকাশদীপ কর্মকার বলেন, ‘সাধারণভাবে মস্তিষ্ক চঞ্চল বা বাচ্চারা অমনোযোগী হলে বাবা-মায়েরা মুক্তো ব্যবহার করেন। তবে এটা সবসময় ঠিক না-ও হতে পারে। জ্যোতিষে বিচার না করে মুক্তো পরা উচিত নয়। মুক্তো মহারত্ন। বাজারের পাঁচ-দশ টাকার পুরী দীঘার মুক্তোকে এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না। জন্মছক অনুযায়ী মুক্তো শুভ হলে এর অনেক গুণ আছে। যেমন স্বাস্থ্যবান হওয়া, নার্ভের চাপ কমানো, মানসিক অশান্তি ও অনিদ্রা দূর করা ইত্যাদি। তবে জ্যোতিষমতে মুক্তো গলায় বা কানে পরার নয়। কাজের যে কোনও হাতে পরা উচিত।’ 
13Months ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

মাতুলের থেকে বিত্তলাভ হতে পারে। কোনও বিষয়ের মানসিক উদ্বেগ কমবে। বিদ্যাচর্চায় বিশেষ শুভ।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮২.৬৬ টাকা৮৪.৪০ টাকা
পাউন্ড১০৩.৮৯ টাকা১০৭.৩৫ টাকা
ইউরো৮৭.৭৬ টাকা৯০.৮৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
25th     June,   2024
দিন পঞ্জিকা