বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

বাঙালিদের মধ্যে কোন কোন ক্যান্সার বাড়ছে?

জানাচ্ছেন মেডিকা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের মেডিকা অঙ্কোলজি বিভাগের ডিরেক্টর ডাঃ সৌরভ দত্ত।

পশ্চিমবঙ্গে আলাদা করে কোনও ক্যান্সার হঠাৎ মাথাচাড়া দিয়েছে এমন নয়। সারা ভারতে যে সমস্ত ক্যান্সার চিকিৎসা পরিষেবা প্রদানকারীদের কপালে ভাঁজ ফেলার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে, ঠিক সেই অসুখগুলিই আবার বাঙালিদের জন্য চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রথমে আমরা পুরুষের ক্যান্সার নিয়ে আলোচনা শুরু করি। ছেলেদের ক্যান্সারের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে মুখ ও গলার ক্যান্সার। দ্বিতীয় স্থানে থাকবে লাং ক্যান্সার। এর পরের জায়গাটি দখল করবে কোলন ক্যান্সার। 
মুখ, গলা এবং লাং ক্যান্সারের কারণ: প্রথম এবং প্রধান কারণ তামাকের ব্যবহার। ভারতে ৬০ শতাংশ মানুষ চিবানোর তামাকের নেশা করেন। মুখ ও মুখগহ্বরের ক্যান্সার বেশি হয় চিবানোর ক্যান্সারের কারণে। আর সিগারেট, বিড়ির মতো মাধ্যমে ধূমপানের কারণে বেশি হয় লাং ক্যান্সার। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে যেখানে চিবানোর তামাক ব্যবহারের হার বেশি সেখানে পশ্চিমবঙ্গে ধূমপানের সঙ্গে চিউং টোব্যাকো ব্যবহারের অনুপাত প্রায় সমান সমান। ফলে মুখগহ্বর এবং ল্যাং ক্যান্সারে ভোগ রোগীর অনুপাতও প্রায় সমান সমান।
কোলন ক্যান্সার: এই ধরনের ক্যান্সারের পিছনে খাদ্যাভ্যাসের ভূমিকা আছে। মটন, ফ্যাটযুক্ত খাদ্য খাওয়ার অভ্যেস কোলন ক্যান্সারে ভোগার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। কারণ দেখা গিয়েছে, প্রয়োজনের অতিরিক্ত মাংস এবং চর্বিজাতীয় খাদ্য খেলে ও তার সঙ্গে শাকসব্জি খাওয়ার মাত্রা কমিয়ে দিলে বাড়ে কোলন ক্যান্সারের আশঙ্কা।
মহিলাদের কথা
মেয়েদের মধ্যে অতিপরিচিত সমস্যাটি হল ব্রেস্ট ক্যান্সার। দ্বিতীয় স্থানে আসবে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার। তৃতীয় স্থানে আসবে হেড অ্যান্ড ক্যান্সার বা ওরাল ক্যান্সার।
ব্রেস্ট ক্যান্সার: জিনগত প্রভাব, সঠিক সময়ে সন্তান না নেওয়া, অলস জীবনযাপন ইত্যাদি কারণে মহিলাদের মধ্যে ব্রেস্ট ক্যান্সারের আশঙ্কা বেড়েছে অনেকখানি।
সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার: মহিলাদের সারভিক্সে হয় এই ক্যান্সার। এই ক্যান্সার হওয়ার পিছনে মূল কারণগুলি হল সঠিক স্বাস্থ্যবিধি পালনের অভাব ও অসুরক্ষিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন। নিয়মিত স্নানের সময় সাবানের ব্যবহার, প্রাইভেট পার্টস পরিষ্কার জল দিয়ে সাফসুতরো রাখলেই সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার দূরে রাখা যায়। মুশকিল হল গ্রামেগঞ্জে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারে আক্রান্তর সংখ্যা যথেষ্ট বেশি। এর কারণ হল সেখানে মহিলারা এখনও নোংরা পকুর, ডোবায় স্নান করেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে রাস্তার ধারে ট্যাপকলেও স্নান করতে হয়। আর্থিক দুরবস্থার কারণে বাড়িতে বাথরুম-টয়লেটের চার দেওয়ালের ঘেরাটোপের সুবিধাটকুও পান না অনেকে। ফলে শরীরের ব্যক্তিগত অংশ পরিষ্কার করা হয় না স্বাস্থ্যসম্মতভাবে। এমনকী শহরাঞ্চলেও অর্থনৈতিকভাবেও পিছিয়ে পড়া কিছু এলাকার মহিলা বাসিন্দারাও একই সমস্যায় ভোগেন। আবার অসুরক্ষিত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমেও শরীরে প্রবেশ করতে পারে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (এইচপিভি)। এই ভাইরাসটির কিছু বিশেষ ধরনের সংক্রমণেও সার্ভাইক্যাল ক্যান্সার হয়। এইচপিভি ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকরী টিকা এখন পাওয়া যায়। এই টিকাটি ৯ থেকে ২৬ বছর বয়সের মধ্যে বা যৌন সম্পর্ক শুরু করার আগে নিতে হয়। এই ভ্যাকসিন নেওয়া থাকলে সার্ভাইক্যাল ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো যায়। 
ওরাল ক্যান্সার: মহিলাদের মধ্যে ওরাল ক্যান্সারের সংখ্যা কম ভাবলে ভুল হবে। চিউং টোব্যাকো বা চিবানোর তামাক যেমন পানে জর্দার ব্যবহার, গুটকা, দোক্তা খাওয়ার অভ্যেস ইত্যাদিও মহিলাদের মধ্যে চালু রয়েছে। বহু মহিলাই ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।
রোগ প্রতিরোধের উপায়
• সরকারি তথ্য অনুসারে দেশে যত ক্যান্সার হয় তার ৪০ শতাংশের পিছনে কারণ হল তামাক এবং তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার। ফলে শুধু তামকজাত দ্রব্য প্রস্তুতের উপর নিষেধাজ্ঞা আনলেই এক ধাক্কায় ৪০ শতাংশ ক্যান্সার প্রতিরোধ করা যাবে।
• জেনিটাল হাইজিন মেনে চললে কমে যাবে সার্ভাইক্যাল কান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা।
• কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায় বলতে রয়েছে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা। খেতে হবে সবুজ শাকসব্জি, ফল। কারণ এই ধরনের খাদ্যে রয়েছে ফাইবার ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধের সঙ্গে কোলন ক্যান্সারও প্রতিরোধে সাহায্য করে।
চিকিৎসা
যে কোনও ক্যান্সারের মূলত তিনটি অংশ— সার্জারি, রেডিও থেরাপি, কেমোথেরাপি। 
ওরাল, কোলন, ব্রেস্ট ক্যান্সারের মূল চিকিৎসাই হল অপারেশন। সার্জারি এখন অনেক বেশি আধুনিক কারণ ল্যাপারোস্কোপিক, রোবোটিক সার্জারির মতো আধুনিক সার্জারি আমাদের হাতে আছে। হেড নেক সার্জারিতে মাইক্রোভাসকুলার ফ্রি ফ্ল্যাপ এগুলি দিয়ে অনেক নিখুঁতভাবে সার্জারি করা যায়। এমনকী অপারেশনের পর রোগী যাতে দ্রুত সুস্থ এবং কর্মক্ষম হয়ে ওঠেন তাও নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে সার্জারিগুলি।
রেডিওথেরাপি
রেডিওথেরাপির মেশিন এখন অনেক বেশি উন্নত। রেডিওথেরাপির সবচাইতে বড় ভয় থাকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে। তবে লিনিয়ার অ্যাকসেলেটর বা আরও উন্নত প্রোটন থেরাপি, কার্বনোয়ন থেরাপি চলে আসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও অনেক কমে গিয়েছে।
আবার কেমোথেরাপির ক্ষেত্রেও একটা বিরাট পরিবর্তন এসেছে। কেমোথেরাপির ড্রাগেও এসেছে পরিবর্তন। এখন প্রয়োগ হচ্ছে টার্গেটেড কেমোথেরাপি। এই ওষুধগুলি শরীরের নির্দিষ্ট কিছু রিসেপটরকেই লক্ষ্য হিসেবে স্থির করছে। এসেছে ইমিউনোথেরাপি। ফলে খুব খারাপ পর্যায়ের ক্যান্সারের রোগীকেও অনেকদিন ভালো রেখে চিকিৎসা করা যাচ্ছে।
রোগ নির্ণায়ক পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন। মলিকিউল টেস্ট-এর মতো প্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষার মাধ্যমে নির্দিষ্ট অসুখের জন্য কোন নির্দিষ্ট ওষুধ দিলেই কাজ হবে তা জানা সম্ভব হচ্ছে। ক্যান্সারের অবস্থান ও অবস্থা জানার জন্য রয়েছে পেট সিটি স্ক্যান। মোট কথা পৃথিবীর অন্যান্য প্রান্তে ক্যান্সারের চিকিৎসার জন্য আধুনিক যা যা কিছু পরিষেবা দেওয়া সম্ভব তা এই মুহূর্তে কলকাতাতেও দেওয়া সম্ভব।

4th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ