বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
খেলা
 

মোহন বাগান ট্রফি পেলে এখনও হরির লুট দেন মোদকবাড়ির কর্তারা

শিবাজী চক্রবর্তী, কলকাতা: পোশাকি নাম ‘যদুভবন।’ পাড়ার প্রবীণদের কাছে শুধুই ‘চিড়িয়াখানা বাড়ি’। একটা সময় হরিণ পুষতেন বড় কর্তা। ছিল ময়ূর, কাচের বিশাল জারে ঝিকমিকে রঙিন মাছ। ছাদের কোণে পায়রাঘর। পশু, পাখির নেশা মোদকবাড়ির রন্ধ্রে রন্ধ্রে। আর প্যাশন মোহন বাগান। দেড়শো বছরের পুরনো ভিটার প্রতিটা ইট, কাঠ, পাথরে শুধুই সবুজ-মেরুন। প্রিয় ক্লাব ট্রফি জিতলে কুলদেবতা রাধাকৃষ্ণের মন্দিরে দেওয়া হয় ‘হরির লুট।’ প্রজন্মের পর প্রজন্ম। সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে। যুবভারতীতে মুম্বই সিটিকে হারিয়ে ভারতসেরা কামিংসরা। আইএসএলের পরেই প্রথা মেনে শুভ কাজ সেরে ফেলবেন মোদকরা।
কালীঘাট মেট্রো থেকে মিনিট সাতেকের হাঁটা পথ। শীর্ণকায় গোপাল ব্যানার্জী লেনের শেষ মাথায় পুরনো কাঠের দরজা স্বাগত জানাতে তৈরি। চুন, সুরকির দেওয়াল, কড়ি-বরগা। টানা লাল মেঝের বারান্দা ঘিরেই সারি সারি ঘর। দেওয়ালে রবীন্দ্রনাথ, নেতাজি, শরৎ চন্দ্রর পাশেই মোহন বাগানের অমর একাদশের ছবি। শিবদাস, অভিলাষদের গলায় টাটকা ফুলের মালা। মেজোকত্তার ঘরে আলো আঁধারি আর প্রাচীন পালঙ্কের মাঝে যেন এক টুকরো মোহন বাগান। শতাব্দীপ্রাচীন ক্লাবের নানা স্মারকে ঠাসা আলমারি। মোহন বাগানের দুর্মূল্য স্যুভেনির, ঘড়ি, পেন স্ট্যান্ড, জার্সি, টুপি, ডাকটিকিট, পেয়ালা। পরম মমতায় সাজিয়ে রেখেছেন তাঁরা। প্রবীণ সোমেশ্বর মোদকের স্মৃতিচারণ, ‘সেবার ক্লাবের শতবর্ষ। হরিদ্বার থেকে জলের কলস এল গঙ্গার ঘাটে। সেই কলসি মাথায় নিয়ে তাঁবুতে এলেন চুনী গোস্বামী, গুরবক্স সিং, ধীরেন দে’রা। বিশাল মিছিলে আমিও হেঁটেছিলাম তাঁদের সঙ্গে। মোহন বাগানই আমাদের যৌবনের উপবন। শেষ বয়সের বারাণসী।’ 
সোমবার বড়ঘরে একসঙ্গে ম্যাচ দেখছেন সবাই। জয়ের পর রাতেই লুচি, মাংসের এলাহি আয়োজন। পরদিন মাস্ট গলদা চিংড়ির মালাইকারি। মঙ্গলবার সকালে কালীঘাট বাজার থেকে বড় সাইজের চিংড়ি পাঠিয়েছেন চেনা বিক্রেতা। হাসি মুখে জয়ন্ত মোদক জানালেন, ‘বুঝলেন দাদা, চিরকাল রেলায় আছে, থাকবে মোহন বাগান।’
শরিকি বাড়ি। অন্নপ্রাশান হোক বা বিয়ের কার্ডে শুধুই সবুজ-মেরুন রং। এমনকী, অশৌচের সময় কেউ প্রিয় ক্লাবে পা রাখেন না। বাড়ির আড্ডায় ঘুরে ফিরে সেই মান্নাবাবু (শৈলেন), ভটজাযদের (সুব্রত) কথা। বারপুজো হোক বা শিল্ড জয়ের ২৯ জুলাই, প্রাণের ক্লাবে ঢুঁ না মারলে জীবন বৃথা। মোহন বাগানই ওদের বেঁচে থাকার অক্সিজেন। জীবনের রং সবুজ-মেরুন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম একই মন্ত্রে বিশ্বাস করে, বলে ওঠে-‘জয় মোহন বাগান।’

17th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ