বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
খেলা
 

দুরন্ত সেঞ্চুরিতে ইংল্যান্ডকে টানছেন জো রুট

রাঁচি: বাজবল ছুড়ে ফেলে সনাতন ক্রিকেটে ফিরল ইংল্যান্ড। মহেন্দ্র সিং ধোনির শহরে সিরিজের চতুর্থ টেস্টের প্রথম দিন অতিরিক্ত আগ্রাসনের স্টাইল থেকে সরে আসতে বাধ্য হল বেন স্টোকসের দল। রিভার্স স্কুপের পাকামি ছেঁটে ধ্রুপদী ছন্দে ফিরলেন জো রুট। টেস্টে তাঁর ৩১তম সেঞ্চুরির সুবাদেই চাপ কাটিয়ে দিনের শেষে স্বস্তিতে সফরকারী দল। সাত উইকেটে সফরকারী দলের স্কোর ৩০২। শনিবার সকালে ইংল্যান্ড চারশো পেরিয়ে গেলে ভারতীয় ড্রেসিং-রুমের আবহ গুমোট হতে বাধ্য। ১১২ রানেই বিপক্ষের পাঁচ উইকেট ফেলে দিয়েও চাপ বজায় রাখতে ব্যর্থ অশ্বিন-জাদেজারা।
সকালের পয়লা ঘণ্টায় অভিষেককারী আকাশ দীপ কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছিলেন ইংল্যান্ড শিবিরে। জীবনের প্রথম টেস্টের প্রথম স্পেলে রীতিমতো আগুন ঝরালেন ২৭ বছর বয়সি পেসার। বাবার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ক্রিকেটকে বেছে নিয়েছিলেন বিহারের সাসারামের এই ক্রিকেটার। তবে আর্থিক কারণে মাঝে বছর তিনেক খেলাটার সঙ্গে সম্পর্কই চুকিয়ে দিয়েছিলেন আকাশ। সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ময়দানে ক্লাব ক্রিকেট খেলা, ভিশন ২০’তে চোখে পড়া এবং বাংলা দলে আসা। গলি থেকে রাজপথের মতোই উত্থান। টেস্ট ক্যাপ পাওয়ার মুহূর্তে মায়ের উপস্থিতি সঞ্চার করল বাড়তি আবেগ। তবে মাঠে বল হাতে সেই রোমাঞ্চকে মাথা তুলতে দেননি আকাশ। টের পেতে দেননি যশপ্রীত বুমরাহর অনুপস্থিতিও। বেন ডাকেট, ওলি পোপ ও জ্যাক ক্রলিকে দ্রুত ফিরিয়ে দেন তিনি। ৫৭-৩ অবস্থায় ধুঁকতে থাকা ইংল্যান্ডকে অক্সিজেন জোগান রুট ও জনি বেয়ারস্টো। তবে লাঞ্চের আগে ফের আঘাত হানে ভারত। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে সুইপ মারতে গিয়ে এলবিডব্লু হন বেয়ারস্টো। স্টোকসের ক্ষেত্রে জাদেজার ডেলিভারি অবশ্য পিচে পড়ে নীচু হয়ে গিয়েছিল। অসহায় ইংল্যান্ড অধিনায়ক ফেরেন হতভম্ব হয়ে।
বেন ফোকসকে সঙ্গে নিয়ে এরপর প্রতিরোধ গড়ে তোলেন রুট। চলতি সিরিজে ৩৩ বছর বয়সির ব্যাট নিষ্প্রভই ছিল। ২৯, ২, ৫, ১৬, ১৮ ও ৭— আগের ছয় ইনিংসে তিরিশও আসেনি। কেউ কেউ তো ব্যঙ্গের সুরে বলছিলেন যে, যত ওভার হাত ঘুরিয়েছে, ব্যাট হাতে তত রান করেনি রুট। রাজকোটে বুমরাহকে আত্মঘাতী শটে উইকেট উপহার দিয়ে প্রবল সমালোচিত হচ্ছিলেন ইংরেজ তারকা। বলা হচ্ছিল যে, বাজবল তাঁর জন্য নয়। রুটের কানে যে তা গিয়েছে, তার প্রমাণ এদিনের ইনিংস। যেমন বল, তেমনই খেলেছেন। আগে থেকে ঠিক করে রাখা শটের পিছনে দৌড়ননি। একটার বেশি রিভার্স সুইপও মারেননি তিনি। ধুমধাড়াক্কার পথে না গিয়ে তিন অঙ্কের রানে পৌঁছতে ২১৯ বল খেলেন রুট। টেস্ট কেরিয়ারের ৩১ নম্বর শতরানের মাহাত্ম্য এখানেই। ভারতের বিরুদ্ধে এটা আবার তাঁর দশম সেঞ্চুরি, যা রেকর্ড। লাফ-ঝাঁপ নয়, শূন্যে হাত ছোড়াও নয়। ক্রমাগত ব্যর্থতা যেন শুষে নিয়েছে যাবতীয় আবেগ।
ভারতীয় স্পিনারদেরও কেমন যেন নিষ্প্রাণ দেখাল। অশ্বিনকে অনায়াসে খেলছেন রুটরা। তুলনায় বিপজ্জনক মনে হচ্ছে জাদেজাকে। তবে পিচ এতটাই মন্থর যে দেখেশুনে খেলতে সমস্যা হচ্ছে না রবিনসনেরও। লাঞ্চের পর যেন আরামে ঘুমিয়েই পড়ল পিচ। শেষ সেশনে রিভার্স সুইংয়ের প্রদর্শনীতে মহম্মদ সিরাজ জোড়া ধাক্কা না দিয়ে আরও ভালো জায়গায় থাকত ইংল্যান্ড। রুট-ফোকস মিলে ষষ্ঠ উইকেটে ১১৩ তুলে পাল্টা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছিলেন ভারতীয় বোলারদের।
এর মধ্যে রোহিত শর্মা আবার তিনটি ডিআরএস-ই খরচ করে ফেলেছেন। পড়ন্তবেলায় তাই রবিনসনের নিশ্চিত এলবিডব্লুও রেফারেল না থাকায় হাতছাড়া হল। কুলদীপ যাদবকে কেন যে দশের বেশি ওভার দিলেন না রোহিত, সেটাও বোঝা গেল না।

24th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ