আমরা মেয়েরা

তরুণ প্রজন্ম বাংলা ছবি কম দেখে

পক্ষে
শ্রবণা পাল, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী
তরুণ প্রজন্ম বাংলা ছবি কম দেখে, তার কয়েকটি কারণ রয়েছে। প্রথমত, তারা আন্তর্জাতিক এবং বলিউড ফিল্ম দেখে বেশি আকৃষ্ট হয়, যা উন্নত প্রযুক্তি এবং উচ্চ বাজেটের জন্য জনপ্রিয়। দ্বিতীয়ত, বাংলা চলচ্চিত্রের অনেক কাহিনি এবং প্রযোজনার মান এখন অনেকটাই নিকৃষ্ট, যা তরুণদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হয়। তৃতীয়ত, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানও একটি বড় কারণ, যেখানে বিভিন্ন ভাষার বৈচিত্র্যময় কনটেন্ট সহজেই পাওয়া যায়। অবশেষে, সামাজিক মাধ্যম এবং অনলাইন বিনোদনের জন্য কম সময়ে বেশি বিনোদন পেতে তরুণরা বাংলা ছবির দিকে কম ঝোঁকে।

শরদিন্দু দাস, ছাত্র 
বিংশ শতকের বাংলা চলচ্চিত্রের কাহিনি, গান, নায়ক-নায়িকার পারস্পরিক অভিনয়ের মাধুর্য এখনকার চলচ্চিত্রে পাওয়া যায় না। বর্তমান যুগের ছাত্রসমাজের একাংশ যারা উত্তম-সুচিত্রা জুটি, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের কমেডি, কিশোর কুমার ও মান্না দে-র গান এবং সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনা এবং ভাবনাকে পছন্দ করে এসেছে, তারা কেউই এখনকার ছবি পছন্দ করে না। বাড়ির দাদু দিদিমার মুখেই শোনা যায়, আগে তাদের সময় এক পয়সার টিকিট কেটে সিনেমা দেখে যে আনন্দ হতো, তা এখনকার সিনেমা দেখে হয় না।

দীপমাল্য চন্দ্র, গৃহশিক্ষক, তারকেশ্বর
বর্তমান প্রজন্মের তরুণ-তরুণী বাংলা সিনেমা কম দেখে, ধারণাটা আমি সমর্থন করি। এর জন্য দায়ী এই প্রজন্ম নয়, আজকের আধুনিকতা। প্রথমত শিশু যা শেখে পরিবার থেকে শেখে, সে যখন তারুণ্যে উত্তীর্ণ হয় সেই ধারাতেই অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। বাড়িতেই বাংলা সিনেমা দেখার চল নেই। এখন সবকিছুই চটকদারিতে ভর্তি আর আজকের প্রজন্ম তাতেই মাতছে। সিনেমা মানেই বোধ আর বিনোদনের যুগলবন্দি। এখন আড়াই ঘণ্টায় ওরা বিনোদনটাই বেশি চেটেপুটে উপভোগ করতে চায়, গল্পের ভিতরে ঢুকে সামাজিক বার্তার অনুসন্ধান চালায় না। আর ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়ার ঝোঁক থাকার জন্য পাঠ্যক্রমে বাংলা বিষয়টিই দায়সারা করে শেখে। বাংলা সিনেমার কনটেন্ট দেখেও তাদের আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই তারা বাংলা সিনেমা থেকে মুখ ফেরাচ্ছে। 

জয় মণ্ডল, কলেজছাত্র
আমার মনে হয় তরুণ প্রজন্ম বাংলা ছবি কম দেখে এইটা না বলে, বলা উচিত তরুণ প্রজন্ম চিরাচরিত ধাঁচের বাংলা ছবি কম দেখে। বর্তমান সময়টা প্রেম ভালোবাসার হলেও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে সেই ধরনের বাণিজ্যিক ছবিগুলি দেখার প্রবণতা অনেকটাই কম। অন্যদিকে কিছু ঐতিহাসিক, সামাজিক কিংবা সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি ছবিগুলি তরুণ প্রজন্মের মনে দাগ কাটছে। তবে হ্যাঁ, এটাও ঠিক যে বিগত কয়েক বছর ধরে সিনেমা হলগুলো বিপন্নতার মুখে এবং কিছু হল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু এর সঙ্গে বাংলা ছবি না দেখার কোনও সম্পর্ক নেই। আসলে মোবাইল এখন সব প্রজন্মের মানুষের সবথেকে বড় সঙ্গী। তাই হলমুখী মানুষের সংখ্যাটাই কম। 

বিপক্ষে
সমীরণ রায়, স্নাতকোত্তর ছাত্র 
এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বর্তমান পরিস্থিতিতে হিন্দি, মারাঠি, ইংরেজি সিনেমার প্রভাব থাকলেও তরুণ প্রজন্ম তথা যুবসমাজের কাছে বাংলা সিনেমার গুরুত্ব কখনওই লঘু হয়ে যায়নি। ভালো মাপের পরিচালক এবং অভিনেতারা প্রতি বছরই ভালো কমার্শিয়াল ছবি, কমেডি, রোমাঞ্চকর, দেশ তথা স্বাধীনতার লড়াইয়ে জীবন দেওয়া বিপ্লবীদের জীবনকাহিনি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে সমাজের কাছে তুলে ধরছেন। তরুণরা এই সব ছবি হল-এ গিয়ে দেখছেন এবং অনুপ্রেরণাও পাচ্ছেন। কিছু সময় আগেও দক্ষিণী সিনেমা বা হিন্দি সিনেমাকে টক্কর দিতে পারত না বাংলা সিনেমা। কিন্তু বর্তমানে বাংলা সিনেমা সেই পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং টক্কর দিতেও সমর্থ হচ্ছে। 
 
 ঐশানী দত্ত, ছাত্রী
বাংলা ছবি আপামর বাঙালির কাছে একটা আবেগের মতো। প্রথমত, বর্তমানে যে সমস্ত বাংলা ছবি মুক্তি পাচ্ছে সেগুলোর বেশিরভাগই এখনকার আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে তৈরি, যার কারণে তরুণ প্রজন্ম ভীষণভাবে আকৃষ্ট হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, বর্তমানে চিত্রনাট্য থেকে শুরু করে সিনেমাটোগ্রাফি আধুনিক প্রযুক্তি দ্বারা নির্মিত হচ্ছে। এতে তরুণ প্রজন্মের বাংলা ছবির প্রতি আকর্ষণ আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তৃতীয়ত, বর্তমান যুগের তরুণ অভিনেতা এবং অভিনেত্রী তাদের অভিনয় দক্ষতার মাধ্যমে বর্তমান প্রজন্মকে বাংলা সিনেমামুখী করে তুলছে। তাই কখনই বলা যায় না যে তরুণ প্রজন্ম বাংলা ছবি কম দেখে, বরং প্রতিনিয়ত তাদের বাংলা ছবির প্রতি আগ্রহ বেড়ে চলেছে এবং তারা সক্রিয়ভাবে বাংলা ছবির সঙ্গে যুক্ত হতে চাইছে ।

কৌশিকী চট্টোপাধ্যায়, স্নাতকোত্তর ছাত্রী
তরুণ প্রজন্ম বাংলা সিনেমা  কম দেখে, কথাটার সঙ্গে একমত নই। এখনকার প্রজন্ম সিনেমার কনটেন্ট দেখে। আর সেটা ভালো হলে অবশ্যই আগ্রহ দেখায়। আমি নিজে তরুণ প্রজন্মের একজন। সিনেমা দেখার সময় সবসময় না পেলেও কিছু কিছু যেমন ‘প্রধান’, ‘টনিক’, ‘রক্তবীজ’-এর মতো ছবি সিনেমা হলে গিয়ে দেখেছি। পরে বাড়িতেও ওগুলো বেশ কয়েকবার দেখেছি। ভালো মূল ভাবনা ও দক্ষ অভিনয়  হলে সিনেমা হিন্দি হোক বা বাংলা, সব প্রজন্মই দেখে।

সন্নীতি পাঠক, গৃহবধূ
ছায়াছবির গল্প বা চিত্রনাট্য যদি ভালো হয়, তাহলে সে বাংলা ছবি হোক বা ভিন্ন ভাষার ছবি হোক, দেখতে সবারই ভালো লাগে। তরুণ প্রজন্ম বাংলা ছবি কম দেখে, সেই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। ভালো গল্পের ছবি হলে তারা অবশ্যই দেখে। এমনকী সিনেমাহলে গিয়েও দেখতে তারা পছন্দ করে। বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমার থেকে ভিন্ন ঘরানার সিনেমার গল্পের সঙ্গে বাস্তবের অনেক মিল পাওয়া যায়। বর্তমানে কয়েকজন পরিচালকের বাংলা ছবি বা সিনেমা সত্যিই খুব উচ্চ পর্যায়ের। এই সব সিনেমা দেখতে বহু তরুণ প্রজন্মকে হলমুখী হতে দেখা যাচ্ছে।
1Month ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

গুরুজনের থেকে অর্থকড়ি লাভ হতে পারে। স্বার্থান্বেষী আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলুন। মনে চাঞ্চল্য।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা