বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

সাইনাস কি কখনও সারে না?

সাইনাস হল আমাদের করোটি বা খুলির মধ্যের ছোট ছোট গহ্বর বা খুপরি। থাকে নাকের চারপাশে। অনেকটা পাতলা হাড়ের তৈরি বেলুনের মতো। জন্মের সময় প্রায় থাকে না বললেই চলে। শিশু যত বড় হয়, এরাও বাড়তে থাকে। সাইনাস বাড়ে বলেই শৈশব থেকে কৈশোর অবস্থার মধ্যে বারে বারে পাল্টাতে থাকে মুখের চেহারা। সাইনাসের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে গেলে ১২-১৪ বছরের মধ্যেই মুখ একটা স্থায়ী চেহারা পেয়ে যায়। দু’জন মানুষের সাইনাসের আকার-আয়তন কখনই একরকম হয় না। 
চারজোড়া সাইনাস আছে আমাদের করোটিতে। সাইনাসগুলোর ভিতরে থাকে মিউকাস মেমব্রেন বা শ্লেষ্মা পর্দা। এই পর্দায় থাকে নানা মিউকাস গ্ল্যান্ড। এদের নিঃসরণ নাক দিয়ে বের হয়ে যায়। 
সাইনাসগুলোর কাজ কী কী—  সাইনাস শ্বাসপথের রোগ জীবাণুকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করে। এর ভেতরের নরম আবরণ মিউকাস মেমব্রেনে যেমন অসংখ্য গ্ল্যান্ড আছে, তেমনি আছে অসংখ্য সিলিয়া বা শুঙ্গ। এই শুঙ্গগুলোর জন্য সাইনাসের সমস্ত তরল পদার্থ নাক থেকে বেরিয়ে যায়।  করোটিকে হালকা রাখে, যাতে দেহ সহজেই মাথাকে বইতে পারে।  কণ্ঠস্বরে রেজোন্যান্স বা অনুরণন যুক্ত করে স্বরকে মিষ্টি করে।  বাইরের ছোটখাটো আঘাত থেকে মস্তিষ্ককে রক্ষা করে।  শ্বাসপথের বায়ুকে উষ্ণ এবং আর্দ্র  রাখে অর্থাৎ এয়ারকন্ডিশনিং চেম্বার হিসেবে কাজ করে। 
সাইনাসে সংক্রমণ কীভাবে হয়—সাইনাসের মিউকাস মেমব্রেনের বিভিন্ন গ্ল্যান্ড থেকে নিঃসৃত কিছুটা তরল সব সময়ই সাইনাসের মধ্যে কিছুটা করে লেগে থাকে। রোগ জীবাণু একবার নাক দিয়ে ঢুকে সংযোগনালী বেয়ে সাইনাসে পৌঁছতে পারলে তাদের আর পায় কে! সাইনাসে জমে থাকা তরল থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য সংগ্রহ করে নেয়। সাইনাসের সিলিয়াগুলোকেও ধীরে ধীরে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে এই জীবাণুগুলো। 
 শীতে সমস্যা বাড়ে কেন—প্রথমত হয় ঠান্ডা লেগে অর্থাৎ হঠাৎ করে তাপমাত্রার পরিবর্তনে। শীতে সাইনাসের সমস্যা বাড়ে। আমাদের নাক এয়ারকন্ডিশনিং চেম্বার হিসেবে কাজ করে। বাইরের ঠান্ডা বাতাসকে গরম করে শ্বাসপথের ভিতরে পাঠাতে নাকের বিভিন্ন রক্তনালীতে ধেয়ে আসে উষ্ণ রক্ত। ফুলে যায় নাকের মিউকাস মেমব্রেন। সাইনাসগুলোর সঙ্গে নাকের সংযোগনালীগুলো বন্ধ হয়ে যায়। সাইনাসে রোগ-জীবাণু আটকে পড়ে দাপাদাপি শুরু করে।
এমনটা ঘটতে পারে অ্যালার্জি, নাকের পার্টিশনের হাড় বাঁকা থাকলে, এমনকী হঠাৎ নাক ঝাড়লেও। সব সাইনাসগুলো যখন একসঙ্গে সংক্রামিত হয়, তখন তাকে বলে প্যানসাইনাসাইটিস।
সাইনাসের জন্যই মাথাব্যথা বুঝবেন কীভাবে—সাইনাসের মাথা ব্যথার অ্যাকিউট বা তীব্র স্টেজে সকালবেলা সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ব্যথা শুরু হয়। বেলা বাড়ে, মাথার টনটনানিও বাড়ে। কিন্তু সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যথা হঠাৎ করে কমে যায়। আবার ক্রনিক স্টেজে রোগী বিছানা ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, বেলা একটু বাড়লেই ধীরে ধীরে কমে আসে। 
কাদের সমস্যা বেশি হয়—সবারই যে সাইনাসের ব্যথা এভাবে শুরু হয় বা শেষ হয়, তা কিন্তু নয়। যাঁদের সারা বছরই নাক বন্ধ থাকে, যখনতখন হাঁচি হয়, দুর্গন্ধযুক্ত সর্দি ঝরে, শরীর জুড়ে ম্যাজম্যাজানি, চোখ জ্বালা, ব্যথা, গলা ভার ইত্যাদি উপসর্গ থাকে, চোখ বুজে বলা যায়, তিনি সাইনাসের সংক্রমণে ভুগছেন। 
কী করবেন— সঙ্গে দু’বেলা ফুটন্ত জলের ভাপ, ব্যথা কমানোর বড়ি এবং অ্যালার্জির বড়ি খেয়ে দেখতে পারেন। এতে ম্যানেজ হলে ভালো, না হলে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। মাথা ব্যথার সঠিক কারণ যে সাইনাস, সেটা নির্ণয় করতে হবে। অ্যালার্জির কারণে সাইনাস হলে তার চিকিৎসা এবং জটিল সংক্রমণে সাইনাস হলে, তার চিকিৎসা পদ্ধতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। সাইনাসে পচা সর্দি থাকলে ইদানীং ফাংশনাল এন্ডোস্কপিক সাইনাস সার্জারি করে রোগীকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে তোলা যায়।
লিখেছেন ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য

22nd     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ