বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

হঠাৎ দাঁতে ব্যথা! কোন প্যাথিতে কী সমাধান?

মডার্ন মেডিসিন
প্রথমেই কী কারণে দাঁতে ব্যথা হচ্ছে, সেটা জানা খুব জরুরি। পাশাপাশি কখন যন্ত্রণা হচ্ছে, সেটাও দেখতে হবে। যেমন দাঁতের মাঝে খাবার জমে থাকলে সেটা যন্ত্রণা সৃষ্টি করতে পারে। সেক্ষেত্রে খাবার বের করতে হবে। আক্কেল দাঁত না বেরতে পারলেও ব্যথা হয়। এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক প্রয়োগের পর এক্স রে করাটাই দস্তুর। পাশাপাশি মাড়ি ফুলে গেলে তার চিকিৎসা সম্পূর্ণ পৃথক। তাই শুরুতে ব্যথার কারণ খুঁজতে হবে। 
দাঁতে ক্যাভিটি বা গর্ত হলে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। গর্ত খুব বড় হলে ঠান্ডা বা গরম জল- দু’টি খেলেই যন্ত্রণা শুরু হয়। মনে হয় শিরশির করছে। ঘুম পর্যন্ত হচ্ছে না।  যাকে বলা হয় ইরিভার্সিবল পাল্পাইটিস। অনেক সময় শুধু গরম জলের ক্ষেত্রে এই সমস্যা হয় (রিভার্সিবল পাল্পাইটিস)। এক্ষেত্রে ক্যাভিটির অংশটা ভরে দেওয়া দরকার। তার আগে এক্স রে করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঠান্ডা বা গরম জল না খেলেও দাঁতে যন্ত্রণা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে রুট ক্যানাল অত্যন্ত জরুরি। 
মাড়ির সমস্যার ক্ষেত্রে ওরাল প্রোফাইল্যাক্সিস খুব উপকারী। এর জেরে মুখের স্বাস্থ্য ভালো হয়। এর সঙ্গে অ্যান্টিসেপটিক মাউথ ওয়াশ ব্যবহার করা যেতে পারে। 
অনেক সময় খেতে গিয়ে দাঁত নড়ে যায়। সেক্ষেত্রে প্রয়োজনে দাঁত তুলে নেওয়া উচিত। আবার কিছুক্ষেত্রে দেখা যায় দাঁতের একটা অংশ ভেঙে গিয়েছে। প্রথমে সমস্যা না হলেও পরে সেটাই ব্যথার কারণ হয়ে উঠতে পারে। সেক্ষেত্রে রুট ক্যানালের পর ক্যাপ ক্রাউন করতে হবে। 
আবার অনেক ক্ষেত্রে দু’টো দাঁতের মাঝখানে ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। তার মধ্যে খাবার আটকে শুরু হয় যন্ত্রণা। এক্ষেত্রে ক্রাউন পরে সেই জায়গাটাকে আটকে দেওয়া দরকার। খাবার পর সঠিকভাবে দাঁত পরিষ্কার করা উচিত।
আয়ুর্বেদ
দন্ত ভেদরোগ: দাঁতের গোড়ায় ঠিক সূচ ফোটার মতো অসহ্য যন্ত্রণা হয়। এক্ষেত্রে চিকিৎসায় তিল এবং যষ্টিমধু ব্যবহৃত হয়। 
দন্তচাল রোগ: দাঁত নড়ে যায়। এর জেরে খাওয়ার সময় শুরু হয় প্রচণ্ড ব্যথা। দশমূল ক্বাথের প্রয়োগ, নস্য কর্ম (বিশেষ পদ্ধতিতে নাকে তেল দেওয়া) এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে।
দন্তহর্ষ: এই রোগের ক্ষেত্রে ঠান্ডা ও টক পদার্থ দাঁত সহ্য করতে পারে না। এক্ষেত্রে আমলকী, প্রিয়ঙ্গু প্রভৃতি ভেষজের চূর্ণ দাঁতে ঘষলে আরাম মিলবে। 
সুষির রোগ: দাঁতের গোড়া ফুলে যাওয়ার কারণে প্রচণ্ড ব্যথা হয়। লালা বেরোতে থাকে। লোধ, দারুহরিদ্রার ব্যবহারে দাঁতের এই রোগ নির্মূল করা সম্ভব। 
 শীতাদ রোগ: দাঁতের মাড়ি থেকে হঠাৎ রক্তস্রাব হতে থাকে। পাশাপাশি দাঁতের মাংস ক্রমে পচে দুর্গন্ধ, কালো পড়তে থাকে। এক্ষেত্রে আদা, ত্রিফলা ব্যবহার করা হয়। 
উপকুশ: এক্ষেত্রে পিত্তদোষ ও রক্তধাতুর বিকৃতি ঘটে। যার জেরে দাঁতের মাড়িতে ব্যথা হয়। এই রোগের চিকিৎসায় পঞ্চলবন ও ত্রিকটু খুব উপকারী।

হোমিওপ্যাথি
আক্কেল দাঁতের ব্যথা খুবই যন্ত্রণাদায়ক। অনেক সময় প্রয়োজনে মাড়ি পর্যন্ত কাটতে হয়। এক্ষেত্রে আরাম দিতে পারে হেকলালাভা ও চেরিয়ান্থাস চেরি। মাড়ির সমস্যার ক্ষেত্রেও হেকলালাভা ব্যবহার করা যেতে পারে। 
অনেক সময় প্রচণ্ড দুশ্চিন্তা থেকেও দাঁতে ব্যথা শুরু হতে পারে। অ্যাকোনাইট বা কফিয়া এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে। শিশুদের দাঁত ব্যথার ক্ষেত্রে খুবই উপকারী কফিয়া। কিন্তু চিকিৎসার আগে সমস্ত উপসর্গ খতিয়ে দেখা অত্যন্ত জরুরি। 
কিছু ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঠান্ডা হাওয়া লাগলেই দাঁতে যন্ত্রণা হচ্ছে। এক্ষেত্রে সালফার, মার্কসল বা কস্টিকামের ব্যবহার করা হয়। মুখে দুর্গন্ধ বা রাত্রে দাঁত ব্যথার ক্ষেত্রেও মার্কসল খুবই উপকারী।
দাঁত ব্রাশ করা আমাদের দৈনন্দিন প্রক্রিয়া। কিন্তু অনেক সময় সেটা করতে গিয়েও দাঁত ব্যথা হতে পারে। এক্ষেত্রে স্ট্যাথিসেগ্রিয়া বা ল্যাকেসিস যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করবে। 
অনেক ক্ষেত্রে কিছু খেলেই দাঁতে যন্ত্রণা শুরু হয়। সেক্ষেত্রে ক্যালকেরিয়া ব্যবহার করা যেতে পারে। 
অনেকে বলে থাকেন ঠান্ডা জল খেলে দাঁতের ব্যথা কমছে। পালসেটিলা, কফিয়া এই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে। 
রুট ক্যানালের পরে দাঁতে ব্যথা হতে পারে। পাশাপাশি দাঁতে পোকা হলে সংশ্লিষ্ট অংশটি ভরে দেওয়া বা দাঁত তোলার পর যন্ত্রণা হয়। সেক্ষেত্রে আর্নিকা খুব আরাম দেয়। 
অনেক সময় কোনও সমস্যা না থাকা সত্ত্বেও দাঁত যন্ত্রণা করে। এক্ষেত্রে অ্যাকোনাইটের প্রয়োগ খুব আরামদায়ক। 
দাঁত খুব ধারালো হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে। বারবার গালে লেগে ঘায়ের সৃষ্টি হয়। এক্ষেত্রে আঙুল দিতে দাঁত ঘষার পাশাপাশি আর্নিকা ব্যবহার করা হয়। 
মাড়ির সমস্যার জন্য অনেক সময় দাঁত নড়ে যায়। প্রচন্ড ব্যথা অনুভূত হয়। 
কস্টিকাম, মার্কারির প্রয়োগে আরাম মিলবে।
বহু মানুষের দাঁতে দাগ পড়ে যায়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে স্টাথিসেগ্রিয়া, মার্কারি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সবকিছুর আগে রোগীর সমস্যা খতিয়ে দেখতে হবে। সমস্যা দাঁতের হলেও চিকিৎসা পদ্ধতি আলাদা।
লিখেছেন সায়নদীপ ঘোষ
 

7th     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ