বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

মানুষ চিনবেন কীভাবে?

১.প্রকৃতি বিজ্ঞান আসলে কী?
আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিকোণে প্রত্যেক মানুষের শারীরিক ও মানসিক কিছু বিশিষ্ট লক্ষণ, স্বতন্ত্র গঠন, রুচি ইত্যাদির উপর নির্ভর করে প্রকৃতির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। এককথায় প্রকৃতি হচ্ছে মানুষের দৈহিক আকারগত, শারীরবৃত্তীয় এবং মনস্তাত্বিক বৈশিষ্ট্যের এক  সমষ্টি, যা মূলত জন্মগত। বিষয়গুলি স্পষ্টভাবে জানান দেয় মানুষটি ঠিক কী ধরনের ব্যক্তিত্বসম্পন্ন এবং কোন কোন রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল। কেমন পথ্য ও ওষুধ  প্রকৃতি অনুযায়ী লাভদায়ক হবে, তাও অনুমান করা সম্ভব। আয়ুর্বেদে বাত, পিত্ত ও কফ এই তিন প্রকৃতি প্রধানতম।
২. বাত- পিত্ত - কফ প্রধান ব্যক্তি শনাক্তকরণের লক্ষণ কী কী?
মূলত বিভিন্ন শারীরিক গতির ইঙ্গিতবাহী রূপক হিসেবে বায়ু বা বাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়। অন্যদিকে শরীরের উষ্ণতা, পাচকশক্তি, ক্ষুধা, তৃষ্ণা, মানসিক স্থিতির উপস্থাপনা পিত্ত দ্বারা হয়ে থাকে। কফ অর্থে শারীরিক শ্লেষ্মা ও দেহস্থ জলীয় পদার্থ, স্নিগ্ধ গুণ ইত্যাদির সমবায় রূপ। 
বাতপ্রধান ব্যক্তিরা মূলত শারীরিক অবয়বে রোগা, ত্বক রুক্ষতা যুক্ত, চুল শুষ্ক এবং পাতলা, চোখ জৌলুসহীন, দাঁত ও নখ রুক্ষতা যুক্ত, জিভে খরখরে ভাব, অনিয়মিত খিদে পাওয়া, স্বভাবে চঞ্চলতা অর্থাৎ মুখ, ঠোঁট, জিভ, মাথা, কাঁধ, হাত এবং পা নাড়াতে থাকেন। শারীরিকভাবে কর্মক্ষম, দ্রুত কথা বলা ও খাওয়া, অল্প আবেগে উত্তেজিত হয়ে পড়া ও মনের প্রবৃত্তি চেপে না রাখতে পারা, ত্বকের রঙ প্রায় শ্যামলা বর্ণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুক্তভোগী ইত্যাদি লক্ষণ দেখা যায়।
পিত্তপ্রধান ব্যক্তিরা মধ্যম শারীরিক অবয়ব যুক্ত ও উচ্চতায় মাঝারি। এঁদের ত্বক নরম, স্বেদযুক্ত। ত্বকে ব্রণ, মেচেতা ইত্যাদি সমস্যা দেখা দেয়। চুলে অকালপক্বতা ভাব। চোখ, নখ ও দাঁত সুন্দর প্রভাযুক্ত হয়ে থাকে। উষ্ণ পদার্থ সেবনে অনীহা, ঘন ঘন খিদে পায়, পরাক্রমী ভাব, নেতৃত্ব প্রদানকারী, মধ্যম আয়ু, মেধাবী, ক্রোধ ও রাগ দমন করতে না পারায় একটুতেই রেগে যায়। এই প্রকৃতির ব্যক্তিদের উদ্বেগ, দুশ্চিন্তা ও নতুন জায়গায় যাওয়ার তাড়ায় ক্ষেত্রবিশেষে মলবেগ পায়।  
কফপ্রধান ব্যক্তিরা মূলত স্নিগ্ধতা যুক্ত, সুন্দর শারীরিক কাঠামো, সুকুমার প্রকৃতি, ফর্সা, ধীর, স্থির ও হৃষ্টপুষ্ট, মৃদুভাষী, অলস, নিদ্রালু ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়। কফের শীত গুণের দরুন এই প্রকৃতির মানুষের খিদে, তৃষ্ণা কম পায়। স্বভাবে প্রসন্ন, গম্ভীর, দায়িত্ববান ও আয়ুষ্মান হন।
৩. ত্বক, মাংস, মেদ, হাড়ের গঠন দেখে কারা কোন প্রকৃতির বোঝা সম্ভব?
অস্থিসার ব্যক্তিরা অর্থাৎ যাঁদের গোড়ালি, হাঁটু, চিবুক, গলার হাড়, নখ, দাঁত, আঙ্গুলের পর্বসন্ধি বেশ কাঠামোযুক্ত হয়, তাঁরা অত্যন্ত উৎসাহী, কর্মঠ, কষ্টসহিষ্ণু, শক্তিশালী, সুপুষ্ট শারীরিক গঠনযুক্ত হন। দীর্ঘায়ু লাভ করেন। আবার মেদসার যুক্ত ব্যক্তিদের বর্ণ, স্বর, চোখ, লোম, নখ, ঠোঁট স্নিগ্ধতা যুক্ত হয়। এঁরা স্বভাবে সুখী এবং মৃদু চিকিৎসা যোগ্য হয়। শুক্রসার ব্যক্তিরা সৌম্যগুণ প্রধান, মধুর চাউনি যুক্ত, সুন্দর চোখের অধিকারী, সর্বদা প্রসন্ন ভাব, শারীরিক ভাবে শক্তিশালী, সুদন্ত, কান্তিযুক্ত এবং পশ্চাৎপট মেদযুক্ত হয়। এঁরা আকর্ষণীয় ও কামুক প্রকৃতির হয়ে থাকেন।
৪. কোন প্রকৃতির ব্যক্তিরা এইসবের বিপরীতধর্মী?
আয়ুর্বেদে অষ্টনিন্দনীয় অর্থাৎ আট প্রকার দেহ  প্রকৃতির কথা উল্লেখ রয়েছে, যা নিন্দনীয়। যেমন অতিস্থূল। এক্ষেত্রে অধিকাংশ অতিরিক্ত স্থূলকায় ব্যক্তিরা মেদজনিত দুর্বলতা, স্ফূর্তির অভাব, স্বেদ অবরোধ জনিত ত্বকজ সমস্যায় ভোগেন। অন্যদিকে অত্যন্ত কৃশ অর্থাৎ রোগা ব্যক্তিরা দুর্বল, কাস, ক্ষয়, শ্বাসরোগ, অর্শ, উদর রোগ ইত্যাদি সমস্যায় ভুক্তভোগী। এছাড়াও অতি লোমযুক্ত ও একেবারেই লোমহীন, অতি দীর্ঘকায় ও একেবারেই খাটো ইত্যাদি প্রকৃতির মানুষেরাও নানা অসুখে পড়েন। 
৫. কোন প্রকৃতির মানুষের কেমন ব্যাধি হওয়ার আশঙ্কা প্রবল? 
বর্তমানে এই বিষয়ে আয়ুর্বেদ ও আধুনিক বিজ্ঞানের  ইন্টিগ্রেটেড গবেষণা আয়ুর জিনোমিক্স ও জিনোম স্টাডি নামে দেশ বিদেশে সাড়া জাগানো কাজ। এককথায় যার মূল সূত্রই হল প্রকৃতি অনুযায়ী রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলা ও চিকিৎসা করা। যেমন, আয়ুর্বেদে স্থূলতা, শ্বাস রোগ, অর্বুদ রোগ, তন্দ্রা ভাব, মুখে মিষ্টত্ব স্বাদ, বারেবারে থুতু ফেলা, আলস্য ইত্যাদি মূলত কফ প্রধান সমস্যা। শরীরে জ্বালা ভাব, অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, অম্ল উদ্গার, অতিরিক্ত তেষ্টা পাওয়া, চোখে অন্ধকার দেখা ইত্যাদি প্রায় চল্লিশ প্রকার পিত্তদুষ্টি লক্ষণ রয়েছে। অন্যদিকে নখ থেকে মাথা পর্যন্ত ৮০ প্রকার বাত প্রধান ব্যাধি বর্তমান। যেগুলো মূলত বাত প্রকৃতির মানুষের বেশি দেখা যায়। যেমন, নখ ও পায়ের পাতা ফাটা, মূলত গোড়ালি, হাঁটু, কোমর, ঘাড়, কানের যন্ত্রণা। ঠিকমতো ঘ্রাণ না পাওয়া, কথা জড়িয়ে যাওয়া, কানে কম শোনা, অর্দিত অর্থাৎ বিশেষভাবে একদিকে মুখ বেঁকে যাওয়া, পক্ষাঘাত, অনিদ্রা ও চিত্ত চাঞ্চল্য ইত্যাদি। তবে একক প্রকৃতি অপেক্ষা মিশ্র প্রকৃতির রোগ ও ব্যক্তি সংখ্যায় অধিক।
৬. খাদ্য গ্রহণেও ভিন্নতা আছে? 
মধুর, অম্ল, লবণ, তিক্ত, কটু, কষায়—এই ছয় রসের প্রত্যেকটির স্বতন্ত্র গুণাগুণ রয়েছে। প্রথম তিনটি রসযুক্ত খাদ্যদ্রব্য বাত শামক। আবার কটু, অম্ল, লবণ রসসমৃদ্ধ খাদ্য শরীরে পিত্তগুণ বাড়ায়। 
ক্ষেত্রবিশেষে দোষের সাম্যতা বজায় রাখতে প্রকৃতির বিপরীত গুণের রস দ্বারাও চিকিৎসা করা হয়ে থাকে।
 

7th     December,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ