বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

কাঁদলে কেন দুঃখ কমে?

‘মন ভালো নেই মন ভালো নেই মন ভালো নেই/ কেউ তা বোঝে না, সকলি গোপন মুখে ছায়া নেই!’ একথা একদা লিখেছিলেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। মন ভালো নেই বলে কবি কি কেঁদেছিলেন কখনও? জানার উপায় আর নেই। তবে আপনি যদি দুঃখ চেপে ‘সকলই গোপন’ করার পথে হাঁটেন, তবে সে পথ ভুলে ভরা। অন্তত জাপান থেকে শুরু করে আমেরিকা— সকল দেশের গবেষণা সেকথাই বলছে। কাঁদলে নাকি শুধু মনই হালকা হয় না, শরীরেরও অনেক উপকার হয়। দুঃখ পেলে বা রাগ-ক্ষোভ থেকে জন্ম নেওয়া কান্নাকে না চেপে তাই উগড়ে দেওয়ার পরামর্শই দিচ্ছেন গবেষকরা। কেন এমন নিদান? মানবদেহের মস্তিষ্কের সঙ্গে ল্যাক্রিমাল গ্রন্থির (টিয়ার গ্ল্যান্ড) সঙ্গে মানবমস্তিষ্কের যোগাযোগ রয়েছে। ফলে যখনই মস্তিষ্কে কোনও আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হয়, তখনই ল্যাক্রিমাল গ্রন্থিতে তা আঘাত করে ও সেখান থেকে জলীয় তরল বের হয়। কখনও চোখ কোনওভাবে বিরক্ত হলে প্রতিবিম্বের মাধ্যমে চোখ থেকে জল বেরয়। একেই কান্না বলে। যে কোনও আবেগ এর নেপথ্যে দায়ী বলে, মানুষ এক এক সময় আনন্দেও কেঁদে ফেলে। 
মজা হল, অনেকেই কান্নাকে ‘মেয়েলি’ স্বভাব ভাবেন। কান্নাকাটি করাকে ‘কাপুরুষতা’ বলে মনে করেন। বিজ্ঞানীরা কিন্তু এই যুক্তির সম্পূর্ণ বিরোধিতা করছেন। ব্রিটিশ গবেষকদের দাবি, অনেকে অনুভূতিপ্রবণ হয়ে কেঁদে ফেললে, ‘সরি’ বলে ওঠেন। এই ভাবনাও অকারণ। কান্নায় কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই। হাসির মতো কান্নাও খুব স্বাভাবিক একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। বরং কাঁদলে শরীর ও মনের নানা উপকার হয়। ইদানীং তাই জাপান ও ব্রিটেনে লাফিং ক্লাব-এর মতো ‘ক্রাইং ক্লাব’-এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। 
কেমন সেসব উপকার? বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১) কাঁদলে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যাও প্রতিরোধ করা যায়। অনেকেরই ড্রাই আই বা চোখের গ্রন্থি শুষ্ক হয়ে যাওয়ার সমস্যা থাকে। কাঁদলে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা যায়। ২) চোখের জলে ৯৮ শতাংশ জল থাকে, বাকি অংশ থাকে স্ট্রেস হরমোন এবং টক্সিন। তাই কাঁদলে চোখের জলের মাধ্যমে শরীর থেকে বেশ কিছু টক্সিন নির্গত হয়ে যায়। ৩) কাঁদার সময় শরীর থেকে এন্ডরফিন হরমোন নিঃসরণ হয়। তাই কাঁদলে দুঃখ-কষ্টের ভার লাঘব হয়। মনমেজাজ ফুরফুরে হয় ও ঘুম ভালো হয়। তাই বড় শোকে একেবারে না কাঁদলে অনেক সময় মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। ৪) কাঁদার সময় শরীর থেকে কর্টিসোল হরমোনও ক্ষরণ হয়। এই হরমোনের মাত্রা শরীরে বেড়ে গেলে দ্রুত মেদ ঝরে। তাই ওজন কমাতেও কান্নার কিছুটা হাতযশ আছে। 
তবে জীবনে দুঃখ-কষ্ট কে-ই বা চায়! তাই কান্নার উপকারিতা জেনে নিয়েও কান্না ভুলে জীবন মুড়ে রাখুন হাসি-ঠাট্টা দিয়েই। 
লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়

16th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ