বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

বিড়াল ঘাঁটলেই কি ডিপথেরিয়া?

বিড়াল বাড়ি। পাড়ার লোক এই নামেই খগেনবাবুর বাড়িটিকে চেনে। আসলে খগেনবাবুর যে খুব একটা পশুপ্রীতি আছে তা কিন্তু নয়। কিন্তু বউ প্রীতি ভয়ংকর। ভয়ে বা ভক্তিতে বউ রমাদেবীর তালে তাল মিলিয়ে চলেন তিনি। আর তাই নিঃসন্তান খগেনবাবুর বাড়িতে ডজন খানেক মা ষষ্ঠীর বাহনের নিত্য দাপাদাপি। রমাদেবীর সপ্তাহখানেক ধরে গলায় তীব্র ব্যথা, সঙ্গে অল্প জ্বর, ভালো করে খাবার গিলতেই পারছেন না। নিজেরা ডাক্তারি করেও যখন কমল না, বেশ ভয় পেয়েই গেলেন তিনি। সারাদিন বিড়াল নিয়ে থাকেন, সেই বিড়াল থেকেই গলায় ডিপথেরিয়া হল না তো? ছুটলেন গলার ডাক্তারের কাছে।
সাধারণ মানুষ, যাঁদের মধ্যে বহু শিক্ষিতও আছেন, এখনও মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, বিড়াল থেকেই ডিপথেরিয়া ছড়ায়! অথচ এই ধারণার কোনও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। এই রোগের নেপথ্যে রয়েছে এক ধরনের জীবাণু, যার নাম করিনিব্যাকটেরিয়াম ডিপথেরি ব্যাসিলাই। এরা আক্রমণ করে প্রধানত নাক এবং গলাকে। কখনও চোখ, ত্বক এবং দেহের অন্যান্য স্থানেও এই রোগ দেখা দেয়। গলার টনসিল ফ্যারিংস এবং ল্যারিংস সব থেকে বেশি আক্রান্ত হয়। এই জীবাণু থেকে এক ধরনের বিষাক্ত রস  বা টক্সিন বার হয়, যা রক্তে মিশে গিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঘটায় হার্ট এবং নার্ভের উপর। রোগীর দেহে প্রকাশ পায় নানা উপসর্গ।   
ডিপথেরিয়া রোগের প্রাথমিক উপসর্গ অনেকটা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো। সর্দি, জ্বর, নাক দিয়ে জল ঝরা, চোখ ছলছল, গলা ব্যথা, কথা বলতে ও গিলতে কষ্ট, গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়া ইত্যাদি। তবে গলার কষ্টের খুব বাড়াবাড়ি থাকে। রোগীর জল গিলতেও কষ্ট হয়। শিশুদের অনেক সময় মুখ দিয়ে লালা ঝরে, শ্বাসকষ্ট হয়, গলা জুড়ে ঘা দেখা দেয়।
গলা পরীক্ষা করলে দেখা যায় টনসিল এবং ফ্যারিংসের  উপরে এক ধূসর পর্দার মতো পড়ে আছে। টেনে তুলতে গেলেই রক্তপাত ঘটে। গলার ভিতরটা ফুলে থাকে। নাড়ির গতি অনিয়মিত হতে পারে। সময়মতো রোগ ধরা না পড়লে নানা বিপত্তিও ঘটতে পারে। শ্বাসপথ আক্রান্ত হয়ে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। ফুসফুসে রোগ ছড়াতে পারে। শ্বাস বন্ধ হয়ে মৃত্যুও হতে পারে। স্নায়ুপ্রদাহ বা পলি নিউরাইটিস হতে পারে। হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
গলার আক্রান্ত অংশ থেকে রস নিয়ে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করলেই ডিপথেরিয়া রোগের জীবাণু ধরা পড়ে। রোগীকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কোনও হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে পাঠানো উচিত। সেখানে অ্যান্টিটক্সিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ফ্লুইড ইত্যাদির সাহায্যে চিকিৎসা শুরু হয়। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর রোগীকে বাড়িতে কিছুদিন পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হয়। প্যারালাইসিস বা অন্য কোনও জটিলতা দেখা দিলে দীর্ঘদিন বিশ্রামের প্রয়োজন হয়।
রোগটা খুব ছোঁয়াচে। কাজেই রোগীকে সবসময় আলাদা রাখতে হবে। এই রোগ শিশুদের বেশি হয়। এই রোগের প্রতিষেধক অনেকদিন আগেই বেরিয়েছে। কাজেই এখন ডিপথেরিয়া হলেও জীবন সংশয়ের আশঙ্কা অনেক কমে গেছে। শিশু জন্মাবার পর তিন থেকে নয় মাস বয়সের মধ্যে চার সপ্তাহ ব্যবধান রেখে পরপর তিনটি ট্রিপল অ্যান্টিজেন ইঞ্জেকশন নিতে হয়। এতে ডিপথেরিয়া, টিটেনাস এবং হুপিং কাশির প্রতিষেধক থাকে। পরবর্তী এক বছর এবং পাঁচ বছর বয়সে বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়।
শিশুর জ্বর, গিলতে কষ্ট, গলা ফোলা এবং মুখ দিয়ে লালা ঝরা– এই চার উপসর্গ থাকলে তৎক্ষণাৎ ডাক্তার ডাকবেন। এবার বিড়াল ঘাটাঘাঁটির প্রসঙ্গে আসি। এর সঙ্গে ডিপথেরিয়ার কোনও সম্পর্ক নেই। তবে বিড়ালের লোম এবং লালা থেকে অনেকের অ্যালার্জি হতে পারে। তাই যেসব শিশু সারা বছর সর্দি-কাশিতে ভোগে, তাদের বিড়াল কুকুর সহ যে কোনও কোনো পশু এবং পাখি থেকে দূরে রাখাই ভালো।
লিখেছেন ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য

9th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ