বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
শরীর ও স্বাস্থ্য
 

প্রসূতি মৃত্যুর পূর্বাভাস
দিতে পারে তাঁর চোখ
ন্যাশনালে সাড়া জাগানো গবেষণা,দেশে এই প্রথম

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: খিঁচুনি বা একলামশিয়ার মতো প্রাণঘাতী সমস্যা হতে পারে। হতে পারে প্রসূতিমৃত্যুও। এই পূর্বাভাস দিতে পারে ভাবী মায়ের চোখের অপটিক নার্ভই। আর এই ইঙ্গিত বোঝা সম্ভব তাঁর চোখে একবার ইউএসজি করলেই। এমনই সাড়া জাগানো গবেষণা করে আশার আলো দেখালেন ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসক শিক্ষকরা। টার্কিস-জার্মান গাইনেকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর জার্নালে এমন একটি সময়ে প্রকাশিত হয়েছে এই গবেষণাপত্র, যখন রাজ্য স্বাস্থ্যদপ্তরের কাছে অন্যতম মাথাব্যথার কারণ বাংলার প্রসূতি মৃত্যুহার। যা কি না, প্রতি লাখে একশোরও বেশি। গবেষক চিকিৎসকদের দাবি, শুধু বাংলা নয়, সারা দেশে এই প্রথম এই বিষয়ে কোনও গবেষণা হল।  
২০১৯-২১—এই ২ বছর ধরে ন্যাশনাল মেডিক্যালের ৯০ জন প্রসূতিকে নিয়ে চলে এই গবেষণা। তাঁদের তিনটি গোষ্ঠীকে ভাগ করা হয়। একটি ভাগে ছিলেন সিভিয়ার প্রি একলামশিয়া প্রসূতিরা (একলামশিয়ার পূর্বাবস্থার প্রসূতিরা, যাঁদের বিপদের আশঙ্কা রয়েছে), অন্যভাগে ছিলেন নন সিভিয়ার প্রি একলামশিয়া প্রসূতিরা (একলামশিয়ার পূর্বাবস্থার প্রসূতি, বিপদের আশঙ্কা কম), তৃতীয়ভাগে রাখা হয় তাঁদের, যাঁদের কোনও সমস্যাই নেই।  
৯০ জনের প্রত্যেকের চোখের ইউএসজি করা হয়। দেখা যায়, যাঁদের সিভিয়ার প্রি একলামশিয়া আছে, সেইসব প্রসূতিদের প্রত্যেকের অপটিক নার্ভের আস্তরণ পুরু হয়ে গিয়েছে। সাধারণভাবে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়ায় মস্তিষ্কের রক্তচাপও বেড়েছে। ফলস্বরূপ স্নায়ুবৈকল্য ও খিঁচুনি বা একলামশিয়া হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে অপটিক নার্ভ। নন সিভিয়ার ও সাধারণ প্রসূতিদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়নি। 
গবেষকদলের অন্যতম, ন্যাশনালের উপাধ্যক্ষ ও স্ত্রীরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডাঃ অর্ঘ মৈত্র বলেন, ‘গর্ভাবস্থায় বহু প্রসূতির রক্তচাপ বাড়ে। একে প্রেগনেন্সি ইনডিউজড হা‌ইপারটেশন বলে। এঁদের মধ্যে যাঁরা স্থূলকায়া, চোখে ঝাপসা দেখেন, ইউরিন কম হয়, পেটে ব্যথা হয়, পায়ে জল জমে, প্লেটলেট কমে যায় ইত্যাদি সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের বিপদও বেশি। এই গ্রুপকে বলা হয়, সিভিয়ার প্রি-একলামশিয়া গ্রুপ। গর্ভাবস্থার ২০ সপ্তাহ পর থেকে এই সমস্যাগুলি দেখা যেতে পারে। 
আমাদের গবেষণাপত্রে দেখানো হয়েছে, সাধারণ একটি ইউএসজি করলেই এই গ্রুপের প্রসূতিদের খিঁচুনি হওয়ার এবং বড়সড় বিপদে পড়ার আশঙ্কা বোঝা সম্ভব। আমরা চাইছি, এই গবেষণাপত্রের ফলাফলের উপর ভিত্তি করে সারা দেশে আশঙ্কাজনক প্রসূতিদের চিকিৎসায় এই অপটিক নার্ভ টেস্টটি যুক্ত হোক। এর রিপোর্ট পজিটিভ হলে, সেই প্রসূতির প্রাণ বাঁচাতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে পারব। গবেষকদলের আর এক সদস্য, ন্যাশনালের স্ত্রীরোগ প্রসূতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ ঝুমা বিশ্বাস বলেন, ‘এই গবেষণা স্ত্রীরোগ বিভাগের সমগ্র ইউনিট ৬-এর উদ্যোগের ফসল। এর ফলে ভবিষ্যতে যদি আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের একজন প্রসূতিরও প্রাণ বাঁচে, সেটাই বড় পাওয়া হবে’। 

26th     March,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ