বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
হ য ব র ল
 

রং যদি খেলতেই হয়
সাবধানে খেলো ইন্দ্রজা

আগামী পরশু দোলযাত্রা। তোমরা প্রায় সক্কলে ঠিক করে নিয়েছ চুটিয়ে রং খেলবে। তবে, বিশেষ সাবধানতা মেনেই রং খেলা উচিত। তাই বসন্ত উৎসবের আগে তোমাদের পরামর্শ দিলেন ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য।

এবার দোলে আর ইন্দ্রজাকে রং খেলা থেকে আটকানো যাবে না। গত দু’বছর করোনার জুজু দেখিয়ে ফ্ল্যাট বন্দি করে রাখা গিয়েছিল। এবার তো করোনা প্রায় ভ্যানিশ। অ্যাডিনো ভাইরাস ঝামেলা পাকাচ্ছে বটে, তবে করোনার মতো অত ভয়ঙ্কর তো নয়! দিন সাতেক সর্দি কাশি অল্প জ্বরে ভুগতে হচ্ছে।
বছরের মাত্র একটা দিন, বলা ভালো একবেলায় ঘণ্টা দুয়েক, একটু-আধটু রং খেলা তো যেতেই পারে। তবে সেটা খেলতে হবে খুব সাবধানে। তাহলে ইন্দ্রজা, জেনে নাও কোন ধরনের রং দিয়ে তুমি দোল খেলবে। এছাড়াও রং থেকে কী কী বিপত্তি হতে পারে, সেটাও জানা প্রয়োজন।
দোল যেমন একাধারে রঙের উৎসব, তেমনই কিছুটা নিয়ম ভাঙার উৎসবও বটে। কিন্তু বেহিসেবি রং খেললে ক্ষতি হতে পারে চোখের, ত্বকের এবং নাক ও কানের। যারা হাঁচি-কাশি এবং অল্পবিস্তর শ্বাসকষ্টে ভোগে, রং থেকে তাদের বাড়াবাড়ি রকমের অ্যালার্জি হতে পারে।
কী থাকে হোলির রঙে? বাজারে যেসব রং পাওয়া যায় তার সবগুলোতেই কোনও না কোনও রাসায়নিক পদার্থ থাকে। যেমন সোনালি রঙে থাকে পিতল বা ব্রোঞ্জ, রুপোলি রঙে অ্যালুমিনিয়ামের যৌগ। কালো রঙে থাকে স্রেফ ভুসোকালি বা টার। এগুলি প্রত্যেকটিই ত্বকের পক্ষে ক্ষতিকর। রংয়ের সংস্পর্শে এলে অনেকেরই হাঁচি-কাশি শুরু হয়। বিশেষ করে যাদের ওই বিশেষ রংটির প্রতি অ্যালার্জি আছে। একটানা হাঁচি, নাক দিয়ে জল ঝরা ইত্যাদি উপসর্গ দেখা দিলে অ্যান্টি অ্যালার্জিক ট্যাবলেট বা সিরাপ খেতে হবে। বাড়াবাড়ি হলে আন্টি অ্যালার্জিক ন্যাজাল স্প্রে নিতে হতে পারে।
রং খেলতে গিয়ে কানেও নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। আমাদের কানের সুড়ঙ্গের দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ইঞ্চি। ছোটদের ক্ষেত্রে এটি সোজা হলেও বড়দের বেলায় অনেকটা ‘এস’ আকৃতির। এর ফলে কানের সুড়ঙ্গে কিছু একবার ঢুকে গেলে বার করা কঠিন। কানে রং ঢুকে গেলে পরিষ্কার বাডস দিয়ে কানের  সুড়ঙ্গে বুলিয়ে চেষ্টা করবে রংটা যতটা সম্ভব বার করার। কোন ড্রপ, জল বা তেল দেবে না। চুলকানি শুরু হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ বা সিরাপ খেতে হয়। ব্যথা হলে খেতে হয় প্যারাসিটামল। রং খেলতে গিয়ে এই ধরনের সমস্যায় পড়লে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একজন ইএনটি ডাক্তারকে দেখাবে। তিনি কান ওয়াশ করে সব রং বার করে দেবেন। যাদের কান দিয়ে মাঝে মাঝে জল বা পুঁজ পড়ে, তাদের কিন্তু কানে রং ঢুকে গেলে বিপত্তি হতে পারে। কারণ কানের পর্দার ফুটো দিয়ে সেই রং মধ্যকর্ণে চলে যেতে পারে। কানে ময়লা জমে থাকলে তরল রং কানে ঢুকে সেই ময়লায় আটকে গিয়ে কান বন্ধ করে দিতে পারে, কান ভোঁ ভোঁ করতে পারে, শুনতে অসুবিধা হতে পারে। ছুটতে হবে ডাক্তারের কাছেই।
সমস্যা দেখা দিতে পারে চোখেও। চোখের বাইরের আবরণকে বলে কনজাংটিভা। এতে রং লেগে চোখ জ্বালা করতে থাকে, জল গড়াতে থাকে। এরকম পরিস্থিতিতে কখনওই চোখ রগড়াবে না। এর ফলে রং চোখের আরও ভিতরে ঢুকে যেতে পারে। বারেবারে ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিতে থেকো। ট্যাপকলের জলের ধারায় চোখ খুলে রাখতে হবে। যতক্ষণ রাখা যায় ততক্ষণই ভালো। মনে রাখবে, শুধু জল দিয়ে চোখ ধুলেই অধিকাংশ রং ধুয়ে বের হয়ে যায়। তাই বলে চোখের ডাক্তারকে দেখাতে কখনও ভুলো না যেন। ঘরে পড়ে থাকা কোনও পুরনো আই ড্রপ কক্ষনো চোখে দেবে না বা আই প্যাড লাগাবে না। কারণ প্যাডের চাপে চোখ জুড়ে যেতে পারে। বাইরের আলো এড়াতে চোখকে অন্ধকারে বিশ্রাম দেবে বা রোদ চশমা পড়বে। নানা ধরনের অ্যাসিড ও অ্যালকালি আজকাল রঙে ব্যবহার হচ্ছে, যা থেকে চোখের কর্নিয়ায় ঘা হতে পারে। কর্নিয়া পুড়েও যেতে পারে। তাড়াতাড়ি চিকিৎসা শুরু না করলে অন্ধত্ব অনিবার্য। রোদ চশমা পরে রং খেললে চোখকে বাঁচানো সম্ভব।
সমস্যা দেখা দিতে পারে ত্বকেও। জামা-প্যান্টে গোটা শরীর ঢাকা থাকলেও মুখ ঢেকে তো আর রং খেলা যায় না। রঙে যাদের অ্যালার্জি, বিশেষ করে যাদের ত্বক বেশ স্পর্শকাতর, রং খেলার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাদের ত্বকে নানা সমস্যা দেখা দেয়। চুলকায়, ফুসকুড়ি বের হয়, অনেক সময় লাল হয়ে রস গড়ায়। একে বলে কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস।
এটা কার হবে কি হবে না, সেটা নির্ভর করে ত্বকের সহ্য ক্ষমতার উপর। এছাড়া কোন ধরনের রং অর্থাৎ রাসায়নিক পদার্থ কতক্ষণ ধরে ত্বকে লেগে থাকছে, সেটাও ফ্যাক্টর। অ্যান্টি অ্যালার্জিক ওষুধ খেলে সাময়িক উপশম পাওয়া যায়। যদি বাড়াবাড়ি হয়, তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেবে। তবে সবার আগে যেটা করতে হবে সেটা হল, সাবান জল দিয়ে রংগুলো ঘষে ঘষে পরিষ্কার করে ফেলতে হবে। একবার ধুলে পুরো রং উঠতে নাও পারে। ঘণ্টা খানেক পর আবার ধোবে, প্রয়োজনে আর একবার।
আজেবাজে রং দিয়ে হোলি না খেলে অনেকে শুধু আবির দিয়েই হোলি উদযাপন করেন। কিন্তু আবিরও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। আবির তৈরি হয় স্টোন ডাস্ট অর্থাৎ এক বিশেষ ধরনের পাথরের গুঁড়ো থেকে। যেমন লাইম স্টোন, সাবস স্টোন ইত্যাদি। এদের সঙ্গে মেশানো হয় নানা রকম রং। লাল রংয়ের জন্য কঙ্গো রেড, রোডামাইন, ক্রোসিন স্কারলেট, হলুদ রঙের জন্য মেটানিল ইয়েলো বা কেশরি রং। এরপর এতে জেসমিন, রোজ-সহ নানা ধরনের সুগন্ধি মেশানো হয়ে থাকে। এছাড়া আবিরে সামান্য পারদ এবং পাথরের গুঁড়ো থেকে পাওয়া ক্যালসিয়াম যৌগও থাকে। এই উপাদানগুলোর জন্য নাক-কান ও শ্বাসপথে অ্যালার্জির কারণ হতে পারে। কাজেই আবিরও সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়।
বরং বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান থেকে তৈরি রং ব্যবহারে ক্ষতির সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। কাঁচা হলুদ, পলাশ বা গাঁদা ফুলকে জলে গুলে মিশিয়ে নিয়ে আগুনে ফোটালে পাবে হলুদ রং। লাল রং বাড়িতে তৈরি করতে পারো গিরিমাটি গুলে। এর মধ্যে ফটকিরি বা লেবুর রস মিশিয়ে দিলে রংটা পাকা হবে। স্টার্চ বা অ্যারারুট বা ট্যালকম পাউডারের সঙ্গে রং মিশিয়ে আবির বানিয়ে নাও। রক্ত চন্দনে আলতা মেশালে পাবে লাল রং। ভুসো কালিতে তেল মাখিয়ে তৈরি করে নাও কালো রং।
রঙের সাতকাহন তো শুনলে ইন্দ্রজা। এবার ঠিক করো কী করবে! তবে যদি রং খেলতেই হয়, পা ঢাকা জুতো, জামা-প্যান্ট মাথায় প্লাস্টিকের টুপি, চোখে সানগ্লাস পরে দোল খেলতে নেমো। তবে তা যেন হয় অল্প সময়ের জন্য। বরং সন্ধেবেলায় নাচ-গান মিষ্টি মুখ সহ যে বসন্ত উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে তোমাদের আবাসনে, সেটাই চুটিয়ে এনজয় কোরো।
অঙ্কন: সুব্রত মাজী

5th     March,   2023
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ