শরীর ও স্বাস্থ্য

গরমের তুমুল চরিত্র পরিবর্তন, কারণ কী

কোথায় হারিয়ে গেল বাংলার সেই কালবৈশাখী সিক্ত গ্রীষ্ম? শুকনো গরম যেন শুষে নিচ্ছে প্রকৃতির কোমল রূপ, রস! দহনকাল গেলে বাঁচি— পরিত্রাহি আর্তি সাধারণ মানুষের। কেন এমন হচ্ছে? একান্ত সাক্ষাৎকারে জানালেন আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা  হবিবুর রহমান বিশ্বাস।

গরমের প্রকৃতি কি পাল্টেছে?
গরমের প্রকৃতির অবশ্যই আগের তুলনায় পরিবর্তন হয়েছে। চরম বা অধিক তাপমাত্রার প্রবণতা বাড়ছে। আগে খুব বেশি বা চরম গরমের (এক্সট্রিম) দিনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতো। এখন এই ধরনের গরমের দিন আগের তুলনায় বেড়েছে।  এইবারের মতো এপ্রিল মাসে কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছোঁয়ার নজির অতীতে আছে। অবশ্য তা হয়েছিল ৭০ বছর আগে! ১৯৫৪ সালের এপ্রিলে। এইবারেরও বেশি গরম সে বছর এপ্রিলে একদিন পড়েছিল। 
আর একটি ফারাক হল, কলকাতায় টানা কয়েকদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি থেকে তাপপ্রবাহ চলার পরিস্থিতি ছিল এইবার। মাসে ৮ দিন টানা তাপপ্রবাহ চলার যে সাম্প্রতিক নজির ছিল, তা এইবারের এপ্রিলে ভেঙে গিয়েছে। ২০০৯ ও ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে টানা ৮ দিন তাপপ্রবাহ পরিস্থিতি ছিল কলকাতায়। এইবারে তা ৯ দিন হয়েছে। 

বেশি তাপমাত্রার প্রবণতা বাড়ছে কেন? 
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তো পড়ছেই। তাপমাত্রার বৃদ্ধি বিশ্বজুড়ে দেখা যাচ্ছে। ২০২৩ সাল বিশ্বের গড় তাপমাত্রা বেশি থাকার নিরিখে সর্বকালীন রেকর্ড করেছে। এমনই জানিয়েছে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা। স্বাভাবিকভাবেই কলকাতা সহ গোটা দেশ এই প্রবণতার বাইরে থাকতে পারে না। গাছপালা, জলাশয় কমে যাওয়া, চারিদিকে নির্মাণ কাজ হওয়া প্রভৃতি বিষয়ের কারণে তাপমাত্রা বাড়ছে। 

তাপমাত্রা বৃদ্ধি কি উদ্বেগজনক? 
অবশ্যই। পরিবেশকে রক্ষা করতে উদ্যোগী হতে হবে আমাদের সবাইকে। তাতে তাপমাত্রার চরম বৃদ্ধির প্রবণতা আটকানো যাবে। 

গরম বৃদ্ধির জন্য কি এল নিনো পরিস্থিতি দায়ী? ২০১৬ সালে এল নিনো পরিস্থিতি থাকার সময় গরম বেশি ছিল। এবারও আগের তুলনায় দুর্বল হলেও এখনও কি এল নিনো পরিস্থিতি আছে? 
নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। অতীতে দেখা গিয়েছে, এল নিনো পরিস্থিতি থাকার সময় তাপমাত্রা যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনই আবার তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে কমও থেকেছে কখনওসখনও।  সাধারণত দেখা যায়, এল নিনো পরিস্থিতি থাকলে বৃষ্টিপাত কমে যায়। তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণ এল নিনো—এটা তাই নিশ্চিত করে বলা যায় না। প্রশান্ত মহাসাগরে জলের উষ্ণতা বেশি থাকার প্রভাবে এল নিনো পরিস্থিতি ভারতের বৃষ্টিপাতের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে—এমনই আবহাওয়া দপ্তর বলে থাকে। কিন্তু তাপমাত্রা বৃদ্ধির উপর এর প্রভাব নিয়ে সেরকম কিছু বলা হয়নি।

এবারে দেখা গেল, কোনও কোনও এলাকা যেমন কলাইকুণ্ডা, পানাগড়, বাঁকুড়া প্রভৃতি জায়গায় তাপমাত্রা তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। এবার কয়েকদিন আগে কলাইকুণ্ডায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৭ ডিগ্রি ছাড়িয়েছিল। এটা পশ্চিমবঙ্গের সবর্কালীন বেশি তাপমাত্রা। 
আসলে ভূ প্রাকৃতিক কারণের জন্য কিছু জায়গায় তাপমাত্রা বেশি থাকে। সেখানকার মাটির চরিত্র তাপমাত্রার উপর প্রভাব ফেলে। কর্কটক্রান্তি রেখার অবস্থানের প্রভাব থাকে তাপমাত্রার উপর।
লিখেছেন : কৌশিক ঘোষ 
1Month ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

উচ্চশিক্ষায় নামী স্বদেশি/ বিদেশি প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পেতে পারেন। স্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ে চিন্তা। কর্মে অগ্রগতি।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার ৮২.৫৬ টাকা৮৪.৩০ টাকা
পাউন্ড১০৪.৩৩ টাকা১০৭.৮১ টাকা
ইউরো৮৮.০৪ টাকা৯১.১৭ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
দিন পঞ্জিকা