Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

সমাধান হয়তো শেষপর্যন্ত একটা মিলবে। কবে মিলবে তা অবশ্য এখনও পরিষ্কার নয়। তবে মিলবে। হয়তো এই লেখা আপনাদের হাতে যাওয়ার আগেই মিলবে। মিলতেই হবে। কারণ, এভাবে তো চলতে পারে না! এভাবে সরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্য-পরিষেবার মতো অত্যাবশ্যক ক্ষেত্র কেবল আন্দোলনের জেরে তো দিনের পর দিন অকেজো হয়ে থাকতে পারে না! দূরদূরান্ত থেকে আসা অসহায় গরিবগুর্বো হাজার হাজার রোগী তো এভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে লাগাতার বঞ্চিত হতে পারেন না। সরকারি হাসপাতালে রোগ সারাতে এসে কার্যত চিকিৎসা-বন্‌঩ধের মুখে পড়ে শিশু বৃদ্ধ থেকে সাধারণ মানুষ চূড়ান্ত নাজেহাল হবে, এমনকী প্রাণ হারাবে— তাও কি নাগাড়ে চলতে পারে! অসম্ভব। ছবির পর ছবি বেরচ্ছে কাগজে মিডিয়ায়। দুধের শিশু থেকে ক্যান্সার রোগী—কী অবর্ণনীয় কষ্ট পাচ্ছে। মারাও যাচ্ছে! মৃত শিশু কোলে হতভাগ্য বাবা-মা— অভিযোগ জানাবার ভাষাটুকুও হারিয়ে ফেলেছেন!
তাছাড়া কার কাছেই বা জানাবেন? ডাক্তারবাবুদের আন্দোলনের জোয়ারে যে সব ভেসে গেছে। গোটা রাজ্য। গোটা দেশেও ছড়িয়ে পড়েছে সেই ঢেউ। কথায় কথায় ডাক্তার নিগ্রহের প্রতিকার চাই। নিরাপত্তা চাই। এনআরএস কাণ্ডে জড়িতদের সকলের উপযুক্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। দাবি কোনওটাই অমূলক বা অন্যায্য নয়। আর তাই, দাবি আদায়ে জুনিয়র ডাক্তারদের পাশে দাঁড়িয়েছেন সিনিয়ররা, পথে নেমেছেন বিদ্বজ্জন শিল্পী কলাকুশলী থেকে সাধারণ প্রতিবাদী মানুষজন। তাঁদের লম্বা মিছিল শুক্রবার শহরের একাংশ স্তব্ধ করে হেঁটে গেল এনআরএস থেকে ন্যাশনাল মেডিক্যাল। দিল্লির এইমস থেকে জয়পুর রায়পুর হায়দরাবাদ মুম্বই—হাসপাতালে হাসপাতালে বাংলায় আন্দোলনরত জুনিয়র ডাক্তারদের সমর্থনে দেখা গেল মাথায় ব্যান্ডেজ বেঁধে বা হেলমেট পরে বিচিত্র ভঙ্গির প্রতিবাদ, কোথাও কোথাও স্তব্ধ হল আউটডোর পরিষেবা, হয়রান হলেন লক্ষ রোগী ও তাঁদের অসহায় আত্মীয়-পরিজন। তাঁদের অনেকে হয়তো জানলেনই না কেন এই লাঞ্ছনা, কেন এই চিকিৎসা সংকট।
দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা শনিবার থেকেই স্বাভাবিক হয়েছে আশা করি, কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে কবে? শনিবার সকালেও জানা বোঝা যাচ্ছে না। সাধারণ স্বাস্থ্য পরিষেবা বা সংকটাপন্ন রোগীর চিকিৎসার ক্ষেত্রে এই অচলাবস্থা তো দিনের পর দিন চলতে পারে না। সুতরাং, সমাধান আজ হোক, কাল হোক হবেই। কীভাবে হবে, কে করবেন, মুখ্যমন্ত্রীর আবেগ সদিচ্ছা নাকি আন্দোলনরত ডাক্তারবাবুদের মানবিকতা দায়বদ্ধতা—সমাধান আসবে কোন পথে আমরা জানি না। অন্তত, শনিবার সকালে এই লেখা যখন লিখছি তখনও সেইসব পথের গোটাটাই ঘন কুয়াশার অন্ধকারে ঢাকা। শুক্রবার শেষবিকেলে নবান্নে কয়েকজন প্রবীণ চিকিৎসকের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে সামান্য একটু আলোকরেখা দেখা গেলেও তা কতদূর স্থায়ী হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় আছে। তার কারণ, জুনিয়র ডাক্তারেরা শুক্রবার শেষরাত অবধি নিজেদের দাবিতে অনড়, তাঁদের দাবি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিকিৎসক নিগ্রহের মূল কেন্দ্র এনআরএস হাসপাতালে আসতে হবে এবং আন্দোলন নিয়ে তাঁর বক্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে!
একথা অনস্বীকার্য, ক’দিন আগে এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ‘পেসেন্ট পার্টি’র নামে শদুয়েক লোক এনআরএস হাসপাতালে যে কাণ্ড ঘটিয়েছে, যেভাবে কর্মরত জুনিয়র ডাক্তারদের ওপর হামলা চালিয়েছে তা কেবল ভয়াবহই নয়, রীতিমতো ন্যক্কারজনক এবং ক্ষমার অযোগ্য। পুলিসের ভূমিকাও সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। যতদূর জানা গেছে, পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়েই দুষ্কৃতীরা হামলা চালিয়েছে। তাঁদের আক্রমণে তরুণ চিকিৎসক পরিবহ মুখোপাধ্যায় সমেত বেশ কয়েকজন জুনিয়র ডাক্তার গুরুতর আহত হয়েছেন। কপালের ওপরের খুলি ফেটে পরিবহর তো প্রায় প্রাণসংশয় হয়েছিল। তবে শুনেছি, ভগবানের আশীর্বাদে ইনস্টিটিউট অফ নিউরো সায়েন্সের ডাক্তারদের দক্ষতায় আপাতত তিনি নিরাপদ। কিন্তু, এই হামলার ঘটনার প্রতিবাদে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তাতে হাজার হাজার সাধারণ গরিব মধ্যবিত্ত রোগী ও তাঁদের আত্মীয়জনেরা যে গভীর সংকটে তা আজ আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এবং এই সংকটকে সাংঘাতিক ঘনীভূত করে তুলেছে রাজ্য জুড়ে হাসপাতালে হাসপাতালে কর্মরত সিনিয়র ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা! এনআরএস তো বটেই, তার সঙ্গে আরজিকর, ন্যাশনাল, সাগর দত্ত, পিজি, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যালের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের ডাক্তারবাবুদের একটা বড় অংশ শুক্রবার গণ-ইস্তফা দিয়ে চলে গেলেন! আর তাঁদের যাওয়ার পথের দিকে আকুল চোখে অসহায় চেয়ে রইলেন দূরদূরান্ত থেকে চিকিৎসা করাতে আসা হাজারো মানুষ শিশু বৃদ্ধ অশক্ত মরণাপন্ন! আক্রান্ত জুনিয়র ডাক্তারদের প্রতি পূর্ণ সহানুভূতি রেখেই বলতে হচ্ছে, এমন নির্দয় আন্দোলন সত্যি বলতে কী এই পশ্চিমবঙ্গে অভূতপূর্ব!
শোনা যাচ্ছে, হাসপাতালগুলোতে আউটডোর বন্ধ থাকলেও ডাক্তারবাবুদের একাংশ বাইরে বসে আউটডোরে রোগী দেখছেন, জরুরি পরিষেবা ইমার্জেন্সিতেও কাজ করছেন। কিন্তু, প্রয়োজনের তুলনায় এই সহৃদয়তা যে যথেষ্ট নয় তা স্বীকার করছেন সকলেই। বিশেষত, শত শত সিনিয়রের গণ-ইস্তফার পর পরিস্থিতি যে রীতিমতো ঘোরালো হয়ে উঠেছে এবং রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যবস্থা যে প্রায় ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে তাতেই বা সন্দেহ কি? সিনিয়র ডাক্তারবাবুরা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে দিতে হাত ছুঁড়তে ছুঁড়তে দল বেঁধে বেরিয়ে আসছেন আর তা দেখে আন্দোলনরত জুনিয়রদের জমায়েত উল্লাসে ফেটে পড়ছে— এমন দৃশ্য টিভিতে অনেকবার দেখা গেছে। পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিসরে এমন দৃশ্য নিঃসন্দেহে নজিরবিহীন। ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফাও নজিরবিহীন। কিন্তু, প্রশ্ন হল— তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে? হাসপাতালের পরিকাঠামোগত অভাব ঘুচবে? পরিবহর মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঠেকানো যাবে? পুলিসের হুঁশ ফিরবে? ঈশ্বরের দূত হিসেবে ডাক্তারবাবুরা মানুষের শ্রদ্ধাভক্তি ভালোবাসা ফিরে পাবেন?
আমি বলছি না এই আন্দোলন অর্থহীন। প্রতিবাদ আন্দোলন নিশ্চয়ই চাই। কেন কারণে অকারণে লোক চিকিৎসকের গায়ে হাত তুলবে? অমন খুনে মার মারবে? চিকিৎসক ছাড়া আমাদের চলবে? বিভিন্ন সময় তো আমরা দেখেছি চিকিৎসায় গাফিলতি হোক কি অন্য কোনও একটা অজুহাত—রাজনৈতিক নেতামন্ত্রী থেকে সাধারণ লোক কি লুম্পেন, মহিলা পুরুষ নির্বিশেষে ডাক্তারদের মারধর করছে, হাসপাতালে নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালাচ্ছে—আর পুলিস নিরাপত্তাকর্মীরা হাঁ করে দাঁড়িয়ে দেখছে। শুধু বাংলা বলে নয়, গোটা দেশেই এমন কাণ্ড ঘটেছে এবং ঘটেই চলেছে। সাম্প্রতিক এনআরএস কাণ্ড তারই এক ন্যক্কারজনক উদাহরণ। টিভিতে দেখলাম একজন বলছে, ডাক্তারবাবু এল, ইনজেকশন দিল আর পেসেন্ট মরে গেল! এই কথা বলা যায়, বলা উচিত? আরে, তুমি ডাক্তার? কী ইনজেকশন কেন দিল তখন পেসেন্টের অবস্থা কেমন ছিল কিছুই জান না— বলে দিলে আর এত বড় কাণ্ড বেধে গেল! প্রিয়জন
হারানো রোগী পরিবারের সহমর্মী হয়েই বলছি, ডাক্তারবাবুরা সবসময়ই চান তাঁর রোগী বাঁচুক। তার জন্য শেষপর্যন্ত চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু, তাঁদের আমরা যতই ভগবানের দূত বলি, তাঁরা মানুষ। তাঁদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। মৃত্যুকে তাই সবসময় তাঁরা হার মানাতে পারেন না। এই কঠিন সত্যটা মানতেই হবে। এবং তা মেনে অমন অবিবেচক মন্তব্য করা যতদিন না বন্ধ হবে, হাসপাতালে শান্তি ও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত হওয়া মুশকিল।
দ্বিতীয়ত, জুনিয়রদের আন্দোলনের যাথার্থ্য স্বীকার করেও বলতে হচ্ছে, গরিব সাধারণের স্বার্থে এবার তাঁরা একটু নরম হবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন আমাদের মতো অসহায় রাজ্যবাসী। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হয়তো সেদিন একটু কটু কথা বলেছেন। কিন্তু, এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? শুক্রবার রাতেও জুনিয়র ডাক্তাররা বৈঠক করে পূর্ব সিদ্ধান্তেই অটল ছিলেন, তাঁদের দাবি— মুখ্যমন্ত্রীকে এনআরএসে আসতে হবে, মন্তব্যের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে হবে ইত্যাদি ইত্যাদি। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতাও কিন্তু চাইছেন আন্দোলনরত ডাক্তারদের প্রতিনিধিরা শনিবার বিকেলে নবান্নে তাঁর সমাধান বৈঠকে যোগ দিন। এই দুইয়ের টানাপোড়েনে শেষ পর্যন্ত কোথাকার জল কোথায় গড়াবে, কে কার কাছে আসবেন বসবেন জানা নেই— তবে দিনের শেষে যে যাবতীয় দুর্ভোগ দুর্যোগ জ্বালাযন্ত্রণার সিংহভাগ বয়ে চিকিৎসা করাতে আসা মানুষকেই বাড়ি ফিরতে হবে তা নিশ্চিত। এবং অচল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য মাথাকুটে আরও কোনও প্রাণ হারিয়ে গেলেও আশ্চর্যের কিছু নেই।
কারণ, শনিবার সকাল অব্দি তো বরফ গলার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না! কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী বা রাজ্যপালের উদ্বেগ আশঙ্কা, মুখ্যমন্ত্রীর সদিচ্ছা সমাধান বৈঠক—কিছুই কি কাজে আসবে যদি না আন্দোলনকারী জুনিয়রেরা একটু ভাবেন? সিনিয়রদের গণ-ইস্তফায় চমক থাকতে পারে কিন্তু চলতি সমস্যার সমাধান যে নেই—সেটা কি ডাক্তারবাবুরা জানেন না? আলবাত জানেন। তাহলে? এই প্রশ্নটা কিন্তু মানুষের মনে উঠতে শুরু করেছে। এই প্রশ্নের যথাযথ উত্তর না পেলে শেষপর্যন্ত ডাক্তারদের এই আন্দোলনের প্রতি সহমর্মী জনতার সহানুভূতিতে টান পড়বে না তো? একটু ভাবুন।
16th  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
বাংলায় রামবোকামির মরশুম
হারাধন চৌধুরী 

আমার মামার বাড়ি ভারত-বাংলাদেশের একটি সীমান্ত গ্রামে। বলা বাহুল্য, আমার মায়ের জন্ম দেশভাগের অনেক আগে। স্বভাবতই তাঁর স্মৃতির অনেকখানি জুড়ে ছিল অখণ্ড ভারতীয় গ্রামদেশ ও তার সংস্কৃতি। ১৯৪৭-এ মায়ের শৈশবের গ্রামের উপর দিয়েই ভাগ হয়ে গিয়ে ভারতের ভূগোল এবং ইতিহাস খুলেছিল এক নতুন অধ্যায়। 
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
 সৌম্যজিৎ সাহা  কলকাতা: রাজ্যে ক্রমশ কমছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসন। গতবার যেখানে ৩১ হাজারের বেশি আসন ছিল, এবার তা আরও কমে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৫৯টি আসন। প্রাথমিক হিসেবে এই তথ্য মিলেছে। যদিও এখনও দু’টি কলেজ এবং কয়েকটি বিষয়ের আসন যুক্ত হওয়ার ...

 রিও ডি জেনেইরো, ১৭ জুন: কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচে বলিভিয়ার চ্যালেঞ্জ সহজেই অতিক্রম করেছে ব্রাজিল। বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) গ্রুপ-এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি ...

  ফিলাডেলফিয়া ও লোয়া, ১৭ জুন (এপি): মার্কিন মুলুকে ফের বন্দুকবাজের হামলা। পার্টি চলাকালীন ফিলাডেলফিয়ায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যু হল এক পড়ুয়ার। জখম হয়েছে আরও ৮ জন। রবিবার রাত সাড়ে ১০টার কিছুটা আগে সাউথ সেভেনটি স্ট্রিট এবং রিড বার্ড স্ট্রিটের কাছে ...

  চেন্নাই, ১৭ জুন: তামিলনাড়ু পুলিসের এক সাব-ইন্সপেক্টরের বিশেষ রিপোর্টের ভিত্তিতে তিন আইএস সমর্থনকারীকে গ্রেপ্তার করল বিশেষ তদন্তকারী শাখা (এনআইএ)। ওই তিনজন কোয়েম্বাটোরের বিভিন্ন ধর্মীয়স্থানে আত্মঘাতী হামলার ছক করেছিল বলে পুলিসের দাবি। ধৃতদের নাম মহম্মদ হুসেন, শাহজাহান এবং শেখ সইফুল্লা। ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 
এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ১৫০ রানে হারাল ইংল্যান্ড

10:48:34 PM

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চালু কলকাতা পুলিসের হেল্প লাইন 
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত সমস্যার ...বিশদ

09:48:24 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৮৬/২ (২০ ওভার) 

08:17:00 PM

দার্জিলিং পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার 

08:08:39 PM

জাপানে বড়সড় ভূমিকম্প, মাত্রা ৬.৫, জারি সুনামি সতর্কতা 

07:34:58 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৪৮/১ (১০ ওভার) 

07:05:00 PM