Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে। সেই বাতাবরণ যে এখনও কিছুমাত্র বদলায়নি তা গত কয়েকদিনের ঘটনাবলিই প্রমাণ করেছে। এবং সত্যি বলতে কী, এখন তো মনে হচ্ছে হিংসার সেই বাতাবরণ রাজ্যে ক্রমশ তার পরিধি বাড়াচ্ছে, আর তার অনিবার্য ফলশ্রুতি হিসেবে সাধারণ জনমনে বাড়ছে শঙ্কা আশঙ্কা দুশ্চিন্তার মেঘ! এমনকী বিজেপির চমকপ্রদ ফলে যাঁরা যথেষ্ট আনন্দ বোধ করেছিলেন তাঁদের মধ্যেও এইসব মারামারি, খুনোখুনি ভাঙচুরের ঘটনা একটা বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করছে। তাঁদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে অন্তত আমাদের তেমনটাই মনে হয়েছে। শীর্ষ থেকে তৃণমূল স্তর অবধি বিজেপির সংগঠন যে এখনও তেমন দড় নয়— এটা সকলেই জানেন। কিন্তু, বিজেপির মতো একটা রেজিমেন্টেড পার্টি সেই দুর্বলতা সত্ত্বেও পার্টির নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হবে—এমন বিশ্বাস তাঁদের ছিল এবং এখনও আছে। জয়ের আনন্দে বেসামাল নেতাকর্মীরা, বিশেষত যারা অন্য দল থেকে পদ্মশিবিরে এসেছে, বিজয় মিছিলের নামে যাতে অনর্থ ঘটিয়ে না ফেলে সেদিকে বিজেপি আরএসএসের কর্মকর্তাদের কড়া নজর থাকবে এমনটাই যে তাঁদের কাছে প্রত্যাশিত ছিল সেটাও তাঁরা স্বীকার করছেন। কিন্তু, নৈহাটি ভাটপাড়া কাঁচরাপাড়ার সন্ত্রাস পরিবেশ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবমাননা ইত্যাদি তাঁদের সেই বিশ্বাসকে প্রথম ধাক্কা দিয়েছে এবং পরবর্তীতে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় সংঘর্ষ, খুনোখুনি, বাড়িঘর ভাঙচুরে গেরুয়া বাহিনীর নাম জড়ানো সেই বিশ্বাসকে যে খানিকটা দুর্বল করেছে তাতেও সন্দেহ নেই।
এই তো দেখুন না, উত্তরবঙ্গের দিনহাটা ও দক্ষিণবঙ্গের নিমতায় খুন হয়ে গেলেন দুই তৃণমূল নেতা। কেবল সন্দেহের বশে, হ্যাঁ কেবল চোর সন্দেহে খোদ কলকাতার বুকে মানিকতলায় একটি ক্লাবঘরের ভিতরে নির্মমভাবে পিটিয়ে মারা হল এক যুবককে! শুধু কি তাই? ভোট পরবর্তী হিংসায় কোচবিহার, বালুরঘাট থেকে বীরভূম, মেদিনীপুর থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং অবশ্যই উত্তর ২৪ পরগনার ভাটপাড়া নৈহাটি কাঁচরাপাড়ার মতো রাজ্যের নানান এলাকা এখনও রক্তাক্ত হচ্ছে, ঘরবাড়ি ভাঙছে, লাঞ্ছিত হচ্ছেন রাজ্যে প্রধান বিবদমান দুই দল বিজেপি তৃণমূলের নেতাকর্মী সমর্থকেরা! বুধবার রাতে বালুরঘাটে বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ভাঙচুর চালাল দুষ্কৃতীরা। তার বদলায় তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে হামলা হল। বাড়ির মহিলাদের শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল হামলাকারীদের বিরুদ্ধে! এরই পাশাপাশি সাঁইথিয়ায় বিজেপির বিজয় মিছিল ঘিরে তৃণমূলের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধল, আহত হল পাঁচজন। স্থানীয় তৃণমূলের কারও পোলট্রি ফার্মে বোমাবাজির অভিযোগ উঠল বিজেপির বিরুদ্ধে! এর আগে মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মীকে হেনস্তা মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে! আবার মথুরাপুরে বিজেপি কর্মীকে আক্রমণ এবং মারধরে অভিযুক্ত হয়েছে তৃণমূল! এমন একের পর এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেই চলেছে! কবে যে এই মারামারি শেষ হবে, আদৌ হবে কি না বোঝা যাচ্ছে না! সাধারণ মানুষজনের সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যাচ্ছে—পুলিসের একাংশের ভূমিকায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো তাঁরাও অসন্তুষ্ট। কেউ কেউ তো রীতিমতো ক্ষুব্ধ! স্বাভাবিক। পুলিসের কাজ পুলিস ঠিকমতো করলে তো সমাজবিরোধী দুষ্কৃতীরা এমন অনর্থ ঘটাতে পারে না, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনাও অনেকটা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে।
তবে, তথ্যভিজ্ঞরা বলছেন, এইসব ঝামেলার ঘটনা চলতে থাকলে বিজেপির ক্ষতি শাসকের লাভ। শাসক বলতে পারবে বিজেপি রাজ্যে কটা বাড়তি আসন পেয়েই তাণ্ডবে মেতেছে, রাজ্যের ক্ষমতা পেলে কিনা জানি করবে! আর এমন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে চললে এবং তার বেশিরভাগে পদ্মশিবিরের লোকজনের নাম জড়ালে, যে মানুষজনেরা বিজেপি সমর্থক না হয়েও এবার বিজেপিকে নির্বাচনী সমর্থন জানিয়েছেন, তাঁদের সামনেও আগামী বিধানসভা ভোট অব্দি একটা ভালো জনদরদি ভাবমূর্তি ধরে রাখা বিজেপির পক্ষে কঠিনতর হবে।
বিজেপি শাসক হিসেবে এ রাজ্যে অপরীক্ষিত দল বলেই মানুষ তাদের বিচার করবে বাস্তব পরিস্থিতিতে তাদের কাজকর্ম ও রাজনৈতিক ভূমিকা দেখে। সেখানে যদি তাঁরা দেখেন, গেরুয়াদলের কর্মী নেতাদের একাংশও আর পাঁচদলের মতো বুদ্ধিবলের চেয়ে বাহুবলকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, ক্ষমতার গন্ধটুকু পেয়েই আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন—তবে আমজনতার প্রসন্ন মুখে চিন্তা ও শঙ্কার ছায়া তো নামবেই। আর সেই ছায়া যদি গাঢ় হতে শুরু করে তবে বিজেপির ২০২১ সালের বিধানসভা অভিযানের পথ যে অপেক্ষাকৃত দুর্গম হয়ে উঠবে তা বলাই বাহুল্য। কারণ, বিধানসভা অভিযানে সাফল্য পেতে হলে বিজেপিকে নিজস্ব ১৭ শতাংশ ভোটারের সঙ্গে বাইরের ২২ শতাংশ মানুষকেও পাশে পেতে হবে। বাইরের মানুষ বিরূপ হলে প্রত্যাশিত ফল লাভ যে হবে না সেটা রাজ্য বিজেপি বা আরএসএসের শীর্ষ নেতৃত্ব ভালোই জানেন। আর জানেন বলেই দলে বেনো জলের ঢুকে পড়াতে রাশ টানতে চাইছেন তাঁরা। কিন্তু, বীরভূমের মনিরুলকে চাপা দিতে দিতেই বেদের মেয়ে চরিত্রাভিনেত্রীর গেরুয়া শিবিরে যোগদান নিয়ে নতুন করে ‘নাগরিকত্ব’ বিতর্ক ছড়িয়ে গেল! তথ্যপ্রমাণ দাখিল করে তার অবশ্য একটা জুতসই জবাব বিজেপি দিয়েছে। কিন্তু, বিতর্ক তাতেও পুরোপুরি থামেনি!
কেবল সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ নয়, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘উন্নয়ন’ও কিন্তু রাজ্য বিধানসভা জয়ের পথে বিজেপির সামনে একটা বড় বাধা। গত সাত সাড়ে সাত বছরে পশ্চিমবঙ্গের গ্রাম শহরে মমতা উন্নয়নের যে বিপুল উদ্যোগ নিয়েছেন, পানীয় জল রাস্তাঘাট হাসপাতাল স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় সমেত যাবতীয় অত্যাবশ্যক পরিষেবার যে বিস্তার ঘটিয়েছেন, স্বাস্থ্যসাথী, কন্যাশ্রীর মতো গরিব সাধারণের অভাব অনটনের সমাধানে আর্থিক অনুদানের যেসব প্রকল্প রূপায়িত করেছেন—তার একটা জোরালো প্রভাব রাজ্যের, বিশেষত গ্রামবাংলার লক্ষ লক্ষ মানুষের মধ্যে এখনও সক্রিয়। একটু ভালোভাবে নজর করলেই তাই বোঝা যায়—বর্তমান শাসকের কাজ নিয়ে মানুষের অভিযোগ তেমন নেই। মুখ্যমন্ত্রী মমতা এখনও পাহাড় থেকে সাগর লক্ষ লক্ষ মানুষের নয়নের মণি, তাঁর মা-মাটি-মানুষের প্রতি ভালোবাসায় দায়বদ্ধ উজ্জ্বল ভাবমূর্তি এখনও রাজ্যবাসী অধিকাংশের মনে অম্লান। মানুষের যা কিছু ক্ষোভ রাগ অসন্তোষ স্থানীয় তৃণমূলের কিছু অসংযমী, ধান্দাবাজ, দায়িত্বজ্ঞানহীন, তোলাবাজ সিন্ডিকেটি ফড়ে ফেরেব্বাজের ওপর। দলনেত্রী নানা সভাসমিতি থেকে নানা সময় এদের সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন, দল থেকে বহিষ্কার করার হুমকিও দিয়েছেন। তাদের কারও কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপও নিয়েছেন। তাতে কিছু কাজ নিশ্চয়ই হয়েছে। সল্টলেক নিউটাউন রাজারহাটে সিন্ডিকেট রাজের বজ্জাতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। রাজ্যের অন্যত্রও এই শ্রেণীর তৃণমূলীদের দৌরাত্ম্য কিছু কমেছে। সবটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তৃণমূলী ওইসব নেতাকর্মী সকলে সাধু হয়ে গেছে এমন বলছি না। তবে, ভোটফল বেরনোর পর তারাও একটা অশনি সংকেত পেয়েছে। কিন্তু, কয়লা বলে কথা। শত ধুলেও ময়লা কি যায়! এদের অনেকে এখন নতুন গুড়ের লোভে রং পাল্টানোর চেষ্টায় নেমেছে বলে খবর।
এদের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভটাই প্রতিফলিত হয়েছে ভোটবাক্সে—এমনটাই অভিমত তথ্যভিজ্ঞজনেদের অনেকেরই। কিন্তু, বিজেপিতে এদের মুখ দেখলে মানুষের কী প্রতিক্রিয়া হবে তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং এদের আটকানোও এখন গেরুয়া শিবিরের একটা বড় এবং কঠিন কাজ। দ্বিতীয়ত, মমতার উন্নয়নপন্থী ভাবমূর্তির তো কেবল বঙ্গে নয়, দেশ তথা বিশ্বের দরবারেও স্বীকৃতি পেয়েছে। তার একটা আলাদা প্রভাবও আছে বাংলার মানুষজনের মধ্যে। সেখান থেকে মমতাকে সরানোও সহজ কাজ নয়। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব সেটা ভালোই জানে। এমন পরিস্থিতিতে বঙ্গবাসীর মনে বিজেপি সম্পর্কে নতুন ভাবনা জাগাতে হলে যে একটা ন্যায়পরায়ণ শান্ত-সংযত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং অবশ্যই সহিষ্ণু ভাবমূর্তি গণদরবারে পেশ
করতে হবে—তাও তাঁদের অজানা নয়। কিন্তু,
নৈহাটি ভাটপাড়া সমেত রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় চোখ রাঙানো সন্ত্রাসের যে আবহ কায়েম হয়েছে
তা সেই ভাবমূর্তি নির্মাণের পথে পদে পদে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে।
তার ওপর মমতার মতো নেত্রীর সঙ্গে চোখে চোখ রেখে লড়তে পারেন—এমন মুখ এখনও রাজ্য বিজেপি খুঁজে উঠতে পারেনি। লোকসভার লড়াইটা মোদিজির মুখ দেখিয়ে তাঁর কথা শুনিয়ে তাঁকে ১৮ জনসভায় পেশ করে উতরে যাওয়া গেছে। হয়তো, আগামীতেও রাজ্য বিধানসভার প্রচার সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে গেরুয়া ব্রিগেডের হয়ে মঞ্চে দেখা যাবে। কিন্তু, মূল রণক্ষেত্রে মমতার মোকাবিলা তো তিনি করবেন না। করতে হবে অন্য কাউকে। তিনি কে? এখনও জানে না পশ্চিমবঙ্গ। এই সামগ্রিক পরিপ্রেক্ষিত ও প্রতিকূলতার বিচারেই হয়তো বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্ব এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে। এখন এই চ্যালেঞ্জের মোকাবিলা বিজেপি শেষ অব্দি কীভাবে কতটা করতে পারে সেটাই দেখার—তাই না?
09th  June, 2019
বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা।
বিশদ

ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
বাংলায় রামবোকামির মরশুম
হারাধন চৌধুরী 

আমার মামার বাড়ি ভারত-বাংলাদেশের একটি সীমান্ত গ্রামে। বলা বাহুল্য, আমার মায়ের জন্ম দেশভাগের অনেক আগে। স্বভাবতই তাঁর স্মৃতির অনেকখানি জুড়ে ছিল অখণ্ড ভারতীয় গ্রামদেশ ও তার সংস্কৃতি। ১৯৪৭-এ মায়ের শৈশবের গ্রামের উপর দিয়েই ভাগ হয়ে গিয়ে ভারতের ভূগোল এবং ইতিহাস খুলেছিল এক নতুন অধ্যায়। 
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, কালনা: কালনা ফেরিঘাটের এবার নিলাম হতে অনলাইনে। ইতিমধ্যে কালনা পুরসভার তরফে অনলাইনে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ১১ জুলাই নিলামের দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে নিলাম দর রাখা হয়েছে বাৎসরিক ৫০ লক্ষ টাকা।  ...

  মুম্বই, ১৭ জুন (পিটিআই): ৬৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিড়লা সূর্য সংস্থার ডিরেক্টর যশোবর্ধন বিড়লাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা করল ইউকো ব্যাঙ্ক। রবিবার এ বিষয়ে জনস্বার্থে নোটিস জারি করেছে তারা। ...

 রিও ডি জেনেইরো, ১৭ জুন: কোপা আমেরিকার প্রথম ম্যাচে বলিভিয়ার চ্যালেঞ্জ সহজেই অতিক্রম করেছে ব্রাজিল। বুধবার সকালে (ভারতীয় সময়) গ্রুপ-এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের মুখোমুখি ...

 সৌম্যজিৎ সাহা  কলকাতা: রাজ্যে ক্রমশ কমছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসন। গতবার যেখানে ৩১ হাজারের বেশি আসন ছিল, এবার তা আরও কমে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৫৯টি আসন। প্রাথমিক হিসেবে এই তথ্য মিলেছে। যদিও এখনও দু’টি কলেজ এবং কয়েকটি বিষয়ের আসন যুক্ত হওয়ার ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 
এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ১৫০ রানে হারাল ইংল্যান্ড

10:48:34 PM

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চালু কলকাতা পুলিসের হেল্প লাইন 
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত সমস্যার ...বিশদ

09:48:24 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৮৬/২ (২০ ওভার) 

08:17:00 PM

দার্জিলিং পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার 

08:08:39 PM

জাপানে বড়সড় ভূমিকম্প, মাত্রা ৬.৫, জারি সুনামি সতর্কতা 

07:34:58 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৪৮/১ (১০ ওভার) 

07:05:00 PM