গল্পের পাতা

আজও রহস্য: মৃত্যুর রাস্তা
সমুদ্র বসু

বৈচিত্র্যময় ভারতবর্ষের বিচিত্র সব জায়গা। যাদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব  কিংবদন্তি। সত্যি মিথ্যার বিতর্ক সরিয়ে রাখলে এই কিংবদন্তি যে জায়গার আকর্ষণ বৃদ্ধি করে তা নিয়ে সন্দেহ নেই। আর সেই সব কিংবদন্তি যদি রহস্য ও অলৌকিক সম্পর্কিত হয় তাহলে কৌতূহলীর অভাব হয় না। অশরীরীদের আনাগোনা যত্রতত্র। অজপাড়াগাঁয়ের থেকে জনবহুল শহর। শৈলশহরও তার ব্যতিক্রম নয়। তেমনই এক শৈলশহর— ‘ল্যান্ড অব অর্কিডস’। অর্থাৎ এরাজ্যেরই কার্শিয়াংয়ের ডাউ হিল। ভ্রমণপ্রেমী মানুষদের তালিকায় এই হিল স্টেশন পছন্দের প্রথম সারিতে থাকে। অবশ্যই কারণ এর নৈসর্গিক সৌন্দর্য। ডাউ হিলও তেমনই শান্তির ঠিকানা। দার্জিলিং থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই শহর। অর্কিডের সমাহার, জঙ্গলে ঘেরা পাহাড়, পাহাড়ি রাস্তা, চা-বাগান, কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি ইত্যাদি মিলে ছবির মতো সাজানো দৃশ্য।
তবে ‘ল্যান্ড অব অর্কিডস’ শুধু সৌন্দর্যের জন্যই আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু তা কিন্তু নয়। এখানকার বাতাসে ভেসে বেড়ায় অশরীরীর আতঙ্কের গল্প। সবমিলিয়ে ভয়ঙ্কর সুন্দর। তেমনই এক প্রচলিত গল্প হল রহস্যময় এক কিশোরের। আর আতঙ্ক ছোঁয়াচে তাই শুধু স্থানীয়রাই নয় এই কাহিনি ফেরে পর্যটকদের মুখে মুখে। এই প্রসঙ্গে ‘ডেথ রোড’ এর কথা না বললেই নয়। ডাউ হিল রোড এবং বনদপ্তরের অফিসের মধ্যে অবস্থিত এই রাস্তা পরিচিত ‘মৃত্যুর রাস্তা’ নামে। এই রাস্তায় নাকি অনেকেই জনৈক কিশোরের মুণ্ডহীন শরীরের দেখা পেয়েছেন। তাঁদের দাবি, মুণ্ডহীন অশরীরীর আচমকা দেখা পেয়েছেন তাঁরা। কিন্তু ক্ষণিকের মধ্যেই সেই দেহ মিলিয়ে গিয়েছে কুয়াশায়।
তবে রহস্যের শেষ এখানেই নয়, কুয়াশার চাদরের মতো রহস্যের আস্তরণ ঘিরে রেখেছে এই ডাউ হিলকে। তেমনই আরও এক জায়গা ডাউ হিলের জঙ্গল। জঙ্গল বরাবরই আলো আঁধারি ঘেরা রহস্যময় এক ঠিকানা আর তার সঙ্গে অলৌকিক কাহিনি যোগ হলে যে তা অন্যমাত্রা পায় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য ডাউ হিলের পাহাড়ি জঙ্গল অবশ্যই গন্তব্য। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই জঙ্গলে অশরীরীদের বাস। তাই জঙ্গলে গেলেই সবসময় একটা অস্বস্তি কাজ করে। মনে হয় অদৃশ্য কেউ সব সময় আগন্তুকদের উপর নজর রাখছে। আবার কেউ হঠাৎ হঠাৎ নাকি রক্তচক্ষুও দেখেছে। যেন শিকার ও শিকারির লুকোচুরি খেলা। সঙ্গে বিদেহী নারী আত্মার আনাগোনা। তাই  অনেকেই এড়িয়ে চলেন এই চত্বর। আবার অনেকেই এই জঙ্গল সংলগ্ন ‘ডেথ রোড’-এ দেখেছেন অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধাকে। যিনি মুহূর্তের মধ্যে মিলিয়ে গিয়েছেন কুয়াশায়। যেন তিনি এখানে 
ছিলেনই না।
এই পাহাড়ি এলাকার রহস্যময় স্থানের তালিকায় আছে ভিক্টোরিয়া বয়েজ হাই স্কুল আর ডাউ হিল গার্লস হাই স্কুল। অনেকের মতে, এই দুই ঠিকানায় তেনাদের বাস। ঠিক কী কারণে এই দুই জায়গা নিয়ে মানুষের সন্দেহ তা স্পষ্ট না হলেও একাংশের মতে, এখানে অতিপ্রাকৃত কার্যকলাপ ঘটে। যেমন শীতের সময় মাস চারেক স্কুল বন্ধ থাকলেও রাতের বেলায় চঞ্চল পায়ের শব্দে স্কুল চত্বর যেন জেগে ওঠে। স্থানীয়দের অনেকেই নাকি অশরীরী এমন কাণ্ডকারখানার সাক্ষী। স্বাভাবিকভাবেই এধরনের ঘটনা নিয়ে বিতর্ক থেকেই যায়।
তবে, সত্যি-মিথ্যা যাই হোক এধরনের কাহিনি যে একশ্রেণির মানুষকে সেই জায়গা সম্পর্কে বিশেষ আগ্রহী করে তোলে সে নিয়ে সন্দেহ নেই। তবে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের ডাউ হিল হতাশ করবে না। অশরীরী চাক্ষুষ করার ভাগ্য শিকেয় ছিঁড়ুক না ছিঁড়ুক, এখানকার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য মন জয় করবেই। 
1Month ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

বিকল্প উপার্জনের নতুন পথের সন্ধান লাভ। কর্মে উন্নতি ও আয় বৃদ্ধি। মনে অস্থিরতা।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮৩.২৩ টাকা৮৪.৩২ টাকা
পাউন্ড১০৬.৮৮ টাকা১০৯.৫৬ টাকা
ইউরো৯০.০২ টাকা৯২.৪৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
21st     July,   2024
দিন পঞ্জিকা