বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
অমৃতকথা
 

মন

প্রশ্ন—ধ্যান জপ করতে বসলে এক এক দিন মন বেশ স্থির হয়, আবার এক এক দিন শত চেষ্টা করেও স্থির করতে পারি না, কেবল এদিক ওদিক ছুটাছুটি করে বেড়ায়।
উত্তর—ওরে, গঙ্গায় জোয়ার-ভাঁটা আছে জানিস তো? সে রকম সব জিনিসেরই জোয়ার-ভাঁটা আছে জানবি। সাধন ভজনেরও জোয়ার-ভাঁটা আছে, তবে সেটা প্রথম প্রথম। ওর জন্য কিছু ভাবিসনি। লেগে পড়ে থাকতে হবে। কিছুকাল নিয়মিতরূপে সাধনভজন করতে পারলে, তখন আর জোয়ার-ভাঁটা খেলবে না, তখন একটানা গঙ্গা হয়ে যাবে। আসনে বসেই অমনি ধ্যান জপ আরম্ভ করতে নেই। প্রথম বিচার করে মনকে বাইরে থেকে গুটিয়ে এনে, তারপর ধ্যান জপ আরম্ভ করতে হয়। কিছুদিন এইরূপ অভ্যাস করতে করতে মন ক্রমশঃ স্থির হয়ে আসবে। যে সময়টা মন একটু স্থির হচ্ছে বুঝবি, তখন সব কাজ ফেলে দিয়ে ধ্যান জপ করবি। আর যখন ভাল লাগছে না, মন স্থির হচ্ছে না তখন নিয়মিত সময়ে আসনে বসে বিচারাদি সহায়ে মনকে স্থির করবার চেষ্টা করবি। একবারেই কি মন স্থির হয়? Struggle, struggle, struggle (চেষ্টা, চেষ্টা, চেষ্টা)—প্রতি মুহূর্তে struggle করতে হবে। মন বলো, বুদ্ধি বলো, ইন্দ্রিয় বলো, struggle থাকলে সব control-এ (বশে) এসে যায়।
প্রশ্ন—মহারাজ, ঠাকুর এখনো আছেন?
উত্তর—তোর দেখছি মাথা-ফাথা খারাপ হয়ে গেছে। আমরা বাড়ি-ঘর-দোর ছেড়ে দিয়ে আজীবন এই ভাবে পড়ে রয়েছি কিসের জন্য? তিনি সব সময়েই আছেন। তাঁকে জানবার জন্য দিন রাত তাঁর নিকট প্রার্থনা কর। তিনি সব সংশয় দূর করে দিবেন, তাঁর স্বরূপ বুঝিয়ে দিবেন।
প্রশ্ন—আপনারা এখন ঠাকুরকে দেখতে পান?
উত্তর—তিনি যখন দয়া করে দেখা দেন তখন দেখতে পাই তাঁর দয়া হলে সবাই তাঁকে দেখতে পাবে। তবে তাঁকে দেখবার সে অনুরাগ সে আকাঙ্ক্ষা কয়জনের আছে?
প্রশ্ন—একই পরিবারে, একইরূপে শিক্ষিত হয়ে একজন সাধু আর একজন দুষ্ট লোক হয় কেন? ইহা কি সংস্কার নয়?
মহারাজ—সবই free will-এ (স্বাধীন ইচ্ছায়) চলছে। সে ইচ্ছা করল আমি সাধু হবো। সেই ইচ্ছা ক্রমে ক্রমে দৃঢ় করতে লাগল, তবে সাধু হলো। আবার একজন অন্য রকম free will করলে, কাজে কাজেই সে সেইরূপ হলো।
প্রশ্ন—আচ্ছা, মুরগীর বাচ্চা জলে নামে না, বাজপাখি দেখলেই ভয়ে পালায়, আর হাঁসের বাচ্চারা জলে নেমে সাঁতার দেয়। একি পূর্ব জন্মের সংস্কারে করছে না?
মহারাজ—তা কেমন করে বলব? যখন ডিম্বাকারে ছিল তখন কেন জলে পড়তে যায় না? ছোট ছোট বাচ্চারা সর্বপ্রথম তো বাজপাখিকে ভয় পায় না। যখন তাদের ইচ্ছাশক্তির বিকাশ হয়, তখন ভয় করতে থাকে। ছোট ছোট ছেলেরা আগুনে হাত দিতে যায়, পরে ইচ্ছাশক্তির বিকাশ হলে যখন ভালমন্দ বিচার করবার শক্তি আসে তখন আর তা করে না। দৈনন্দিন জীবনেই দেখুন না। আপনার অসুখ করল—শরীর প্রলয়ের দিকে যাচ্ছে; আপনার ইচ্ছা বললে, ঔষুধ দিয়ে রক্ষা কর। ফলে কিছুকাল শরীরের স্থিতি হলো। এইরূপ free will-এর দ্বারাই সৃষ্টি, স্থিতি, প্রলয় চলছে, বুঝেছেন কি না। সাধনভজন আর কি? এই স্বাধীন ইচ্ছাকে বাড়ান। যার যত ইচ্ছাশক্তি বাড়বে, সে তত ভগবানের দিকে এগুবে। ঠাকুর বলতেন, “নিজের ভেতর শক্তি জাগিয়ে তুলবি।” ম্যাদাটে বৈরাগ্য, মর্কট বৈরাগ্যের কর্ম নয়। যার মন যত শুদ্ধ হতে থাকে তার স্বাধীন ইচ্ছা ততই বাড়ে। দেখুন না, বুদ্ধদেব এক গাছতলায় বসে ইচ্ছা করলেন, এখানে হয় আমার শরীর শুকিয়ে যাক, নয় তো ভগবান লাভ হোক। ইচ্ছাশক্তি খুব প্রবল ছিল বলেই ভগবান লাভ হলো। এই রকম সর্বত্র। ব্রহ্মচারী প্রভৃতি সকলকারই নিজের ইচ্ছাশক্তিকে বাড়াবার চেষ্টা করা উচিত। আমার এই জন্মেই ভগবান লাভ হবে। দেরি-টেরি, বা হচ্ছে হবে, ও সব নয়। আপনার ইচ্ছাশক্তিই তো আপনাকে চালাচ্ছে। 
স্বামী ব্রহ্মানন্দের ‘ধর্মপ্রসঙ্গে স্বামী ব্রহ্মানন্দ’ থেকে

9th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ