বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

কেন্দ্র ঠিক সময়ে টাকা দিলে ছেলের পড়া বন্ধ হতো না, আক্ষেপ গণেশের

সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: কেন্দ্র আটকে রেখেছে ১০০ দিনের কাজের শ্রমিকদের পরিশ্রমের হকের টাকা। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে রাজ্যজুড়েই বকেয়া মেটানোর কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রায় তিন বছর অপেক্ষার পর ১০০ দিনের কাজের টাকা পেয়ে খুশি ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের ধানঘোরি পঞ্চায়েতের বাসিন্দা গণেশ দাসের পরিবার। তাঁর পড়শিদের মধ্যেও অনেকেই টাকা পেয়ে আপ্লুত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সকলেই। 
নানা কারণে একশো দিনের কাজের টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। তার জেরে গ্রামীণ অর্থনীতি একেবারে মুখ থুবড় পড়ে। চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েন গ্রামের গরিব মানুষ। গণেশের সংসারেও চরম অনটন নেমে আসে। বাধ্য হয়ে তাঁর বড় ছেলে ভিন রাজ্যে শ্রমিকদের কাছে চলে যান। ছোট ছেলে পবিত্র সপ্তম শ্রেণি পাশ করে স্কুলছুট। পেটের টানে সে এখন বাবার সঙ্গে দিনমজুরের কাজ করে। গণেশের সংসারে চারজন সদস্য। পারিবারিক জমি বলতে মাত্র দেড় বিঘা। উৎপাদিত ফসলে সংসার চলে না। এবার একশো দিনের কাজের বকেয়া পেয়ে গণেশ খানিক স্বস্তি পেয়েছেন। সংসারের হাল কিছুটা ফিরবে। তবে, গণেশ চান আগের মতো একশো দিনের কাজ শুরু হোক গ্রামে।  
গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ঝাড়গ্রামে প্রশাসনিক সভা থেকে ধানঘোরি পঞ্চায়েতের কুবদা গ্রামের খালের উপর ৭৩ লক্ষ টাকা খরচ করে কজওয়ে নির্মাণের শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী। এই গ্রামেই বাড়ি গণেশের। শিলান্যাসের একদিন পরই জোরকদমে কাজ শুরু হয়েছে। শ্রমিকের কাজ করছিলেন গণেশ দাস ও তাঁর ছেলে পবিত্র। গণেশ বলছিলেন, ‘গত ২৯ ফেব্রুয়ারি ও ১ মার্চ আমার অ্যাকাউন্টে ৩০ দিনের কাজের টাকা ঢুকেছে। আরও কয়েকদিনের কাজের টাকা আমি পাব। আমার ছোট ছেলের অ্যাকাউন্টেও ১৩ দিনের কাজের টাকা ঢুকেছে। প্রায় তিন বছর পর এই টাকা পেলাম। আমরা যে কাজের টাকা পাব, সেই আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। কেন্দ্র সরকার ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে দিয়েছে। তবে,  দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাঁকে প্রণাম ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’
গণেশ আক্ষেপ করে বলছিলেন, ‘টাকা নিয়ে কেন্দ্র গড়িমসি না করলে আমার বড় ছেলেকে ভিনরাজ্যে যেতে হতো না। আমার ছোট ছেলেটার পড়াশোনা বন্ধ হতো না। ছেলেটা পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল। সংসারে অভাবের তাড়নায় ও এখন আমার সঙ্গে দিনমজুরের কাজ করে।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘দিদি আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে খুবব উপকার করলেন।’ গণেশের মতো কুবদা গ্রামে আরও অনেকের অ্যাকাউন্টে একশো দিনের কাজের টাকা ঢুকেছে। 
এদিকে, আবাস যোজনারও টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। তা নিয়ে গ্রামীণ ঝড়গ্রামে বিজেপি-বিরোধী ক্ষোভের চোরাস্রোত বইছে। গণেশেরও নাম ছিল তালিকায়। আজও তাঁর বাড়ি জোটেনি।দাস পরিবারের দিন কাটছে ছাউনি দেওয়া বাড়িতে।

3rd     March,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ