বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

নাগরিকত্বের আড়ালেই এনআরসি! পশ্চিমবঙ্গকে সতর্ক করছেন অসমের ঘরপোড়া বাঙালিরা

দেবাঞ্জন দাস, শিলচর: নাঃ, তাঁরা মুসলিম নন। তাহলে পড়তে হতো ‘বিভাজনে’র আইনের গেরোয়। সিটিজেন্স অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট বা সিএএ’র ছাতার তলায় জায়গা হতো না তাঁদের। তাঁরা হিন্দু। কিন্তু যে রাজ্যের ভিটেমাটি আঁকড়ে তাঁদের দিন গুজরান, তা হল অসম। তাই এতদিন ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্সের (এনআরসি) জন্য নিজেদের ‘ভারতীয়’ প্রমাণ করার লড়াই করেছেন তাঁরা। এবার দেশে থাকার জন্য ‘বিদেশি’ হিসেবে নিজেদের তুলে ধরাটাই চ্যালেঞ্জ তাঁদের। আজ বড় বিপাকে অসমের বরাক উপত্যকার বাঙালিরা। ভারতীয় হওয়ার যাবতীয় প্রমাণপত্র জমা দিয়েও এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে যে বা যাঁরা বাদ পড়েছেন, সিএএর জন্য এখন তাঁরা খুঁজছেন বাংলাদেশি নথি। একটা কলমের খোঁচায় বরাক উপত্যকার প্রায় ৯৬ হাজার হিন্দু বাঙালিকে নিজভূমে পরদেশি হয়ে যেতে হয়েছিল! ২০১৪ সালে শিলচরের জনসভা থেকে সমস্যা সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। তাতে আস্থা রেখেছিল বরাক তথা গোটা অসমের বাঙালি। কিন্তু প্রাপ্তি? ২০১৯’এর আগস্ট মাসে প্রকাশিত এনআরসির চূড়ান্ত তালিকা থেকে ১৯ লক্ষের বেশি বাঙালির নাম বাদ। ২৩ লক্ষেরও বেশ মানুষের আধার কার্ড ‘ফ্রিজ’। নাম বাদ গিয়েছে ভোটার তালিকা থেকে, বন্ধ অরুণোদয় প্রকল্পের (অসমের রেশন) বরাদ্দও। আর তাই দুঃসহ এক যন্ত্রণা বুকে নিয়েও প্রতিবেশী পশ্চিমবঙ্গকে সতর্ক করছেন বরাকের আমড়াঘাটের অজিত দাস, শিলচরের কাটিগোড়ার বৃদ্ধা অঞ্জলি রায়, শিলং বস্তির পিণাকী দাস আর উধারবন্দের দুলুবি বিবির মতো আরও অনেকে। বাংলার বাসিন্দাদের জন্য তাঁদের সতর্কবার্তা—সিএএ’র ফাঁদে পা দেবেন না! আইনের তফসিল ১এ অনুযায়ী যে নথিপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে, তার একটিও কি কারও পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব? ভুক্তভোগী এই বাঙালিদের কথায়, সিএএর লেজুড় তো এনআরসি। আজ না হোক কাল সেটাও আসবে বাংলায়। পশ্চিমবঙ্গের মতুয়া বাঙালিরা তো নিজেদের শুধু বিদেশি ঘোষণা করলেই মিলবে নাগরিকত্ব! কিন্তু বাকিরা? স্পষ্ট কটাক্ষ অজিত দাসের গলায়।
তাঁর কথায়, ‘১৯৫৬ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান থেকে দাদু-বাবা পালিয়ে এসেছিলেন। হাইলাকান্দির মনচরা উদ্বাস্তু ক্যাম্পে ঠাঁই হয়েছিল তাঁদের। এক কাপড়ে পালিয়ে আসা লোকজনের এদেশের প্রমাণ বলতে ছিল উদ্বাস্তু সার্টিফিকেট। ২০১৪ সালে সন্দেহজনক ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হই। তিন মাস ছিলাম শিলচরের ডিটেনশন ক্যাম্পে। পৈতৃক সূত্রে পাওয়া উদ্বাস্তু সার্টিফিকেট জমা দিয়েছিলাম। ফরেনার্স ট্রাইব্যুনাল মানল না। ২০২১ সালে বিদেশি নাগরিক বলে চিহ্নিত করা হল আমাকে। এবার বলা হচ্ছে, হিন্দুরা সব সিএএতে আবেদন করলেই হবে! মানে ভারতীয় প্রমাণের লড়াই থেকে সরে এসে এবার বিদেশি মানতে হবে নিজেকে?’ সিএএ কার্যকর করার দাবিতে আন্দোলন করেছিল অল অসম বেঙ্গলি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন। সভাপতি বাসুদেব শর্মার কথায়, ‘এভাবে সিএএ চালু হবে বুঝিনি। প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে আমরা বলেছি, পালিয়ে আসা লোকজন এতসব নথি পাবে কোথায়? আবেদনকারীর সেল্ফ ডিক্লেয়ারেশনের ভিত্তিতেই দেওয়া হোক নাগরিকত্ব।’

17th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ