বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

চার্জ মাথাপিছু ৫০০ থেকে ৭০০, মোহন বাগান ছেড়ে ভেলোরে ‘রোগীবন্ধু’ টিপার

সৌম্য নিয়োগী, ভেলোর: ‘টিপার’দের কথা জানেন? প্রশ্ন শুনে চোখ কুঁচকে তাকালেন শ্রীপান্থ লজের মহেশ বন্দ্যোপাধ্যায় (নাম পরিবর্তিত)। নিরুপায় হয়ে বাঙালির অতিপ্রিয় শব্দটিরই আশ্রয় নিতে হল, ‘ওই দালাল... মানে যাঁরা রোগীদের নিয়ে এসে সব ব্যবস্থা করে দেন আর কী!’ উল্টোদিকের চোখে তখনও সন্দেহ। অগত্যা ব্যক্তিগত কারণের উল্লেখ করতেই একটু খাটো গলায় উত্তর এল, ‘আলাপ করবেন নাকি?’ চমক লাগার মতো উত্তর বটে। তখনও বোঝা যায়নি, সেই ব্যক্তি তখন রিসেপশনেই হাজির। মহেশবাবু আলাপ করাতেই হো হো করে হেসে বললেন, ‘এতে লজ্জার কী আছে মশাই! কাজ করে খাই। খেটেখুটে সব ব্যবস্থা করে দিই, টাকা নেব না? কেউ কেউ তো না চাইতে বেশিও দিয়ে যান।’ দালাল নয়, এই পেশারই ডাক্তারি ‘কোডনেম’ টিপার। আর গোটা সিস্টেমটাই চলে মাউথ পাবলিসিটি বা লোকমুখে প্রচারে।
ভদ্রলোকের নাম শিবশঙ্কর মান্না। একসময় দারুণ ফুটবল খেলতেন। মোহন বাগান জুনিয়র দলেও সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু বাবার অসুখ শেষ করে দিল ফুটবলার হওয়ার স্বপ্ন। সেই যে প্রথমবার এসে তিনমাস থাকলেন ভেলোরে, ব্যস তাতেই জীবনটা পুরো ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গেল। ফুটবলার  থেকে হয়ে গেলেন ‘টিপার’, রোগী ধরার। দল বেঁধে রোগীদের নিয়ে আসেন ভেলোরে। আউটডোরে রেজিস্ট্রেশন থেকে ডাক্তারের প্রাইভেট অ্যাপয়েন্টমেন্ট বা হোটেল, সব বন্দোবস্ত করে, সব শেষে বাড়ির ট্রেনে তুলে দেন। তখন দায়িত্ব শেষ। এই অনলাইনের যুগে কাজটা অবশ্য খুবই সহজ। বিনিময়ে কখনও রোগী পিছু ৫০০-৭০০ টাকা, আবার কখনও দিনের হিসেবে একসঙ্গে মোটা অঙ্কের ‘দাঁও’ বা পারিশ্রমিক। সেটা চার-পাঁচ হাজারও হতে পারে, কিংবা তারও বেশি। ফলে মাসের আয় ভাবলে অনেক চাকরিজীবীর হিংসা হতে বাধ্য।
দক্ষিণ ভারতের এই খ্রিস্টান (ওদের উচ্চারণে ক্রিশ্চান) মেডিক্যাল কলেজ বাঙালির কাছে চিকিৎসা জগতের তীর্থক্ষেত্রই বলা চলে। কলকাতার বেসরকারি হাসপাতালে যে অসুখে অনায়াসে ৫-৭ লাখ বিল হয়, ভেলোরে লাখখানেক-লাখদেড়েকে তার নিরাময় সম্ভব। দেশের প্রথম হার্ট সার্জারি, কিডনি প্রতিস্থাপনের সাফল্য সবই এখানে। সেই কারণে ঘিঞ্জি এলাকার নোংরা হোটেল, ঘরে চাঙড় খসে পড়া ছাদ, দেওয়ালে আরশোলা, অপরিষ্কার বাথরুম দেখেও দাঁতে দাঁত চেপে পড়ে থাকেন রোগীরা। কিন্তু ঝক্কিও কম নেই। ইদানীং লাইন আরও দীর্ঘ হয়, সময়ও লাগে বেশি। তার থেকেও বড় কথা এই বিদেশ বিভুঁইয়ে গ্রাম বাংলার মানুষ আসার কথা চিন্তা করতেও ভয় পান। টাকার বিনিময়ে তাঁদেরই মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়ান শিবশঙ্করবাবুরা। এ এক অদ্ভুত পেশা! দশকের পর দশক ধরে চলে আসছে। অনেকে গাড়ি-বাড়ি করে নিয়েছেন বলেও দাবি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা এক টিপারের।
শিবশঙ্করবাবু অবশ্য এসব বিষয়ে অকপট। সাফ জানালেন, ‘আমার বাড়ি বাঁকুড়ার ওন্দায়। বাবা-মা মারা গিয়েছেন। আমি একা মানুষ। কে আর কী করবে! আয় যা করি, দিব্যি চলে যায়। চার বছর ধরে তো ভেলোরেই থাকছি। তাছাড়া পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ থেকে লোকেরাই আমায় ফোন করে। স্বাস্থ্যসাথীর অফিসারও আমার চেনা ছিল।’ পুলিসের ভয় পান না? আবার হেসে উঠলেন তিনি। বললেন, ‘শ্যামবাজারের শ্রীশচন্দ্র কলেজে (নাইট কলেজ) ভর্তি হওয়ার আগেই পুলিস টিমে লিগ খেলতাম। চাকরির প্রস্তাবও দেন সিপি দীনেশ বাজপেয়ি। সঙ্গে সঙ্গে না করেছি। পুলিসকে ভয় পাই না।’ তাহলে একটা ছবি? উত্তর এল, ‘নাঃ, ওটা থাক।’ 

13th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ