বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

ত্রিপুরার ভোট সন্ত্রাস নিয়ে জোর টক্কর ‘প্রাক্তন’ আর ‘বর্তমান’এর
 

রাহুল চক্রবর্তী, আগরতলা: ভোটে আমাদের এখানে গণ্ডগোল কিছু কম হয়নি। আমি নিজেই ভুক্তভোগী।’ কেন, কী হয়েছিল?
পেশায় টোটোচালক অজিত দেবনাথ এবার নাগাড়ে বলে চললেন, ভোট সন্ত্রাস পর্বে পালিয়ে বাঁচার কাহিনী। জানালেন, গত বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পরে বিজেপি যেদিন উল্লাস করছিল, ঠিক সেদিনই আক্রমণ চালায় লেঠেল বাহিনী। নিজের সামান্য রোজগারে কিনেছি ফ্রিজ, কালার টিভি। যেদিন দেখলাম আমার পাড়ায় বাড়ি ভাঙচুর শুরু হয়েছে, ঠিক তারপর দিনই ফ্রিজ আর টিভিটা একজনের বাড়ির নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে এলাম। টাকা জমিয়ে এখনও পর্যন্ত ওটুকুই কিনতে পেরেছি। তাই সেটা ভাঙা পড়লে, আর তো হবে না! মাস দুয়েক পর পরিস্থিতি শান্ত হলে তারপর সেগুলি ঘরে নিয়ে আসি। ভিআইপি রোড ধরে যাওয়ার সময় অজিতবাবু এটাও জানিয়ে দিলেন, গতবারের পুরভোটে বুথে গিয়ে জানতে পেরেছিলেন, তাঁর ভোটটা পড়ে গিয়েছে। 
আমজনতার এইসব তিক্ত অভিজ্ঞতার সূত্র ধরেই ত্রিপুরার নানা জায়গায় একটাই চর্চা, এবারের লোকসভার ভোটটা যেন শান্তিপূর্ণ হয়!
আর এই সন্ত্রাসের অভিযোগকে কেন্দ্র করেই দুই মানিকের মধ্যে বেঁধেছে জোর টক্কর। প্রাক্তন এবং বর্তমান’এর মধ্যে। 
নামটা কমন। পদবিটা শুধু আলাদা। একজন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকার। অন্যজন বর্তমানে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান মানিক সাহা। প্রথমজনের ঝুলিতে মুখ্যমন্ত্রী পদের ২০ বছরের অভিজ্ঞতা। আর দ্বিতীয়জন পদে থেকে সবে ৬৯৮ দিন পার করেছেন। আগরতলার ভোট বাজারে সন্ত্রাসের অভিযোগ নিয়ে দুই মানিক এখন সন্মুখ সমরে! 
আগরতলার মেলার মাঠের পাশে সিপিএমের রাজ্য সদর দপ্তর। সেখানে বসেই বিজেপির বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের বিস্তর অভিযোগ করে গেলেন মানিক সরকার। তাঁর অভিযোগ, ২০১৮ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভোট সন্ত্রাস শুরু। মানুষ স্বাধীনভাবে মত প্রকাশ করতে পারছেন না। পঞ্চায়েতের ৯৬ শতাংশ আসনে বিরোধীদের প্রার্থী দিতে দেয়নি বিজেপি। পুরসভা হোক বা ’২৩ সালের বিধানসভা, সন্ত্রাস, ভোট লুঠ, রিগিং কিন্তু অব্যাহত। উপনির্বাচনেও সন্ত্রাস করেছে বিজেপি। আবার গত লোকসভা ভোটের ১০০টি বুথে রি-পোল হয়েছে। সেদিনও রিগিং করেছে ওরা। এরপরেও মানুষের আশঙ্কা তো থেকেই যাচ্ছে, এবার শান্তিপূর্ণ ভোট হবে কী করে! এছাড়াও মানিকবাবুর সংযোজন, বিজেপির যদি এতই উন্নয়নের মডেল থাকে, তাহলে ভোটে সন্ত্রাস করে জিততে হচ্ছে কেন? বুথে এজেন্ট পর্যন্ত বসতে দেয় না। এবারের লোকসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন কতদূর শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে পারবে, ত্রিপুরাবাসীর সেটাই বড় প্রশ্ন। 
‘লালপার্টি’র মানিক যখন বিজেপির শাসনকাল নিয়ে এত অভিযোগ আনলেন, তখন তার পাল্টা জবাব দিলেন পদ্মপার্টির মনোনীত মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা। আগরতলা পুর নিগমের ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের একটি প্রচার সভার প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে বললেন, ৩৫ বছরের রাজত্বে গণতন্ত্রকে যাঁরা বুকের বাতাস বলতেন, সেই সিপিএম কী সব ভুলে গিয়েছে? কী করেছিলেন তারা, সেই সময় খুন- সন্ত্রাসের ঘটনা প্রতিদিন খবরের শিরোনামে থাকত। হাতের রক্ত এখনও শুকোয়নি, বাম-কংগ্রেসের নেতারা হাত মিলিয়ে অশুভ জোট গড়েছেন। তাঁরা কী সব ভুলেই গেলেন! বিজেপি ক্ষমতায় আসার পর কোনও অশান্তি সন্ত্রাস-বরদাস্ত করিনি। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দিয়েছি। এবারও তাই হবে। 

13th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ