বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

গোষ্ঠী সংঘর্ষের ভয়াবহ স্মৃতি ভুলতে চায় মুজফফরনগর

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, কাওয়াল গাঁও: ১১ বছর আগের কথা। গোষ্ঠী সংঘর্ষে রক্তাক্ত হয়েছিল মুজফফরনগর। সেদিনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও প্রতিদিন ভুলতে চেষ্টা করেন সেখানকার মানুষজন। আর ভোট এলেই দলমত নির্বিশেষে প্রার্থীদের কাছে সকলের একটাই অনুরোধ—এমন ঘটনা আর যেন না ঘটে। নির্বাচনী আবহ থাকুক বা না থাকুক, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যত প্রাণপাত করেন সুরেশ, বসিররা। প্রতিদিন। নিয়মিতভাবে। 
২০১৩ সালের আগস্ট মাস। আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুজফফরনগরের অন্তর্গত একটি ছোট্ট গ্রাম। কাওয়াল গাঁও। উত্তেজনার ইস্যু অবশ্য আজও হাতড়ে বেড়ান এলাকার বাসিন্দারা। কেউ বলেন, একটি সড়ক দুর্ঘটনাই এর মূল কারণ। কারও কারও দাবি, একজন নাবালিকার ইভ-টিজিং এবং তৎপরবর্তী ঘটনাক্রমেই সামগ্রিক অগ্ন্যুৎপাত। কার্য-কারণ যাই হোক না কেন, ৬২টি তরতাজা প্রাণের শোকে ১১ বছর পরেও গুমরে মরে মুজফফরনগর। বেসরকারি সূত্রে নিহতের হিসেব এটাই।
আর সেই কারণেই লোকসভা, বিধানসভা নির্বাচন হোক বা স্থানীয় ভোট—সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর এজেন্ডায় অবশ্যই থাকে এই ইস্যু, এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা। মুজফফরনগর কোর্ট রোডের বাসিন্দা সুরজের এক বন্ধু বলি হয়েছিলেন ওই গোষ্ঠী সংঘর্ষের। সুরজের কথায়, ‘এখন শোক আর আতঙ্ক সবটাই মিলেমিশে এক হয়ে গিয়েছে। একটা ভোঁতা অনুভূতি। বন্ধুকে তো আর ফেরত পাওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু কোনও পরিস্থিতিতেই যেন এমন ঘটনা আর না ঘটে, তা সরকার এবং প্রশাসনকেই নিশ্চিত করতে হবে। প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের কাছে আমরা গত ১১ বছর ধরে এই দাবিই জানিয়ে আসছি।’ বৃহস্পতিবার ছিল ঈদের ছুটি। কার্যত শুনশান মুজফফরনগরে ওইদিন নিজের নিজের এলাকায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে জনসংযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে ছোট, বড়, মাঝারি—সব রাজনৈতিক দলই। একসঙ্গে বসে খাওয়াদাওয়ার মধ্যেই আলোচনা হয়েছে পার্টির কর্মসূচি নিয়েও। এবং প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই উঠে এসেছে ২০১৩ সালের সেই ঘটনার স্মৃতি।
বিজেপির সঞ্জীব বালিয়ান, ইন্ডিয়া মহাজোটের হরেন্দ্র মালিক, বসপার দারা সিং প্রজাপতি বা অন্যান্য কয়েকটি প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থী, প্রত্যেকেরই আশ্বাস—ক্ষমতায় এলে আরও কঠোর করা হবে এই সংক্রান্ত আইন ব্যবস্থা। বিজেপির পোস্টারে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ, ‘বদলাচ্ছে মুজফফরনগর’, বা ‘আতঙ্কমুক্ত মুজফফরনগর।’ আর এক দশক আগের ভয়াবহ স্মৃতি আঁকড়ে ফের একবার শিউরে উঠছেন বাসিন্দারা। স্মৃতি আরও একটু দগদগে হচ্ছে। ফলে দশক আগের সেই ভয়াবহ স্মৃতি মুছতে মরিয়া হয়ে পড়েন মুজফফরনগরের মানুষ। 
ভোট আসে, ভোট যায়। সমীকরণও সেইমতো পাল্টে যায় আমূল। তাই রাজনৈতিক দলগুলির কাছে মূলত একটিই দাবি করেন এলাকার মানুষ। সম্প্রীতি যেন না ভাঙে। ৬২টি তরতাজা প্রাণের অকালে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা যাতে আর না ঘটে। 
১১ বছর আগে এই রাস্তাই চলে গিয়েছিল আধাসেনার দখলে। 

13th     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ