বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

হৃদরোগে মৃত্যু! প্রতি দু’জনের একজনই ৪০’এর নীচে

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: দুর্গাপুরের হাসপাতালে হার্ট অপারেশন করছিলেন তরুণ চিকিৎসক। হঠাৎ প্রচণ্ড বুকে ব্যথা। বয়স মাত্র ৩৮। এইমস থেকে পড়াশোনা শেষ করে সদ্য কাজ শুরু করেছিলেন। ক’দিন পরই বিয়ে। এই বয়সেই হার্ট অ্যাটাক! পরে কী হবে? হবু শ্বশুরমশাই দোলাচলে, মেয়ের বিয়ে দেবেন কি না। অ্যাঞ্জিওগ্রাম করে দেখা গেল একটি-দুটি ন’য়, চারটি ধমনীতে ব্লক। অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে কোনওক্রমে সামাল দেওয়া গেল পরিস্থিতি। 
শওকত আলির বাড়ি বীরভূমে। হায়দরাবাদে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। বাড়ি ফিরেছেন ক’দিনের জন্য। বয়স ৩৬। হঠাৎ বুকে তুমুল ব্যথা। ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক। আর জি কর মেডিক্যাল কলেজের ইমার্জেন্সিতে নিয়ে যাওয়া হল। স্টেন্ট বসিয়ে শওকতের প্রাণ বাঁচালেন চিকিৎসকরা। 
বরাতজোরে সময়ে চিকিৎসা পেয়েছিলেন তাঁরা। তাই প্রাণে বেঁচেছেন যুব সম্প্রদায়ের এই প্রতিনিধিরা। কিন্তু বাস্তবটা হল, পরিযায়ী শ্রমিক বা তথ্য-প্রযুক্তি কর্মী, চিকিৎসক বা সেলিব্রিটি—হার্ট অ্যাটাক এখন আঁকড়ে ধরেছে যুবক-যুবতীদের। চিকিৎসকরা বলছেন, করোনার আগে হার্ট অ্যাটাকের শিকার যাঁরা হতেন, তাঁদের ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ছিলেন অল্পবয়সিরা। বিশ্বব্যাপী মহামারীর পর পরিস্থিতি আমূল বদলেছে। কার্ডিওলজিস্টরা‌ই বলছেন, এখন প্রতি তিনটি হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে একটি পয়তাল্লিশের নীচে। আর যদি সাড্‌ন কার্ডিয়াক ডেথ বা হৃদরোগে আকস্মিক মৃত্যুর হিসেব নেওয়া যায়, তাহলে এমন প্রত্যেক দু’টি মৃত্যুর একটির শিকার যুব সম্প্রদায়। বয়স? ৪০’এর নীচে। চিকিৎসকরা উদ্বিগ্ন। কারণ, সিংহভাগ সাড্‌ন কার্ডিয়াক ডেথ-এর ক্ষেত্রেই তাঁরা চিকিৎসার সুযোগ পাচ্ছেন না। ইমার্জেন্সিতে আনা হচ্ছে মৃত অবস্থায়। করোনা পরবর্তী সময়ে কেন হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত অল্পবয়সিদের মৃত্যু এভাবে বেড়ে গেল? সেই রহস্যের কিনারা এখনও করে উঠতে পারেননি বিজ্ঞানীরা। 
আর জি কর-এর হৃদরোগ বিভাগের প্রধান ডাঃ বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, ‘আজও শুনলাম, হার্ট অ্যাটাকের পর এক অল্পবয়সি যুবককে হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলেন পরিবারের লোকজন। ডাক্তার দেখানোর পর তাঁরা আর রোগীকে ভর্তি করাতে চাননি। বাড়ি নিয়ে যান। আর সেটাই অঘটন ঘটাল। ভর্তি করানোর আর সুযোগ পাওয়া গেল না। আধ ঘণ্টার মধ্যে মারা যান সেই যুবক। হার্টে রক্ত সরবরাহকারী ধমনিতে জমা রক্তের ডেলা, বা থ্রম্বাস এর নেপথ্য কারণ। অল্পবয়সিদের ক্ষেত্রে সেই থ্রম্বাস আচমকা এতটাই বড় হয়ে যায় যে, সেটি রক্ত সরবরাহ পুরোপুরি ব্লক করে দেয়। অন্যান্য ধমনি দিয়ে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পরিস্থিতিই থাকে না। বয়স্কদের ক্ষেত্রে হার্ট অ্যাটাক হয় ধীরে ধীরে। অন্যান্য ধমনিগুলি খুলে যাওয়ার সুযোগ থাকে।’ বিশিষ্ট কার্ডিয়াক সার্জেন ডাঃ সত্যজিৎ বসু বলেন, ‘প্রতি ১০০টি হার্ট অ্যাটাকের মধ্যে ৪০টির ক্ষেত্রেই এখন শিকার হচ্ছেন কম বয়সিরা। সাড্‌ন কার্ডিয়াক ডেথও হু হু করে বাড়ছে।’ তিনি বলেন, ‘অল্পবয়সিদের হার্ট অ্যাটাক বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল, জিন বা পারিবারিক ইতিহাস, ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ডায়াবেটিস এবং অবশ্যই খাদ্য বা পানীয়ে চিনি দিয়ে খাওয়াদাওয়া।’ 

29th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ