বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

শুধু ‘বন্ড’ই নয়, ইউপিএর চালু নির্বাচনী ট্রাস্টে ফায়দা বিজেপির

নয়াদিল্লি: সুপ্রিম কোর্টে সদ্য বাতিল হয়েছে নির্বাচনী বন্ড। তার আগেই অবশ্য এই খাতে ৬,৫০০ কোটি টাকা ঢুকে গিয়েছে বিজেপির অ্যাকাউন্টে। কিন্তু শুধু বন্ড নয়, ইউপিএ আমলে চালু হওয়া নির্বাচনী ট্রাস্ট থেকেও সমান ফায়দা লুটেছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দল। গত ১০ বছরে এই খাতে তাদের প্রাপ্তির অঙ্কটা ১,৮৯৩ কোটি। শুক্রবার অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউজ মিনিট’ ও ‘নিউজলন্ড্রি’র যৌথ তদন্তে উঠে এল এই তথ্য। তাদের দাবি, মনমোহন সিং সরকারের মস্তিষ্কপ্রসূত হলেও প্রকল্পটি থেকে নামমাত্র লাভবান হয়েছে খোদ কংগ্রেস। গত এক দশকে ট্রাস্ট থেকে তাদের কোষাগারে এসেছে মাত্র ২২১ কোটি টাকা। বিজেপির পাওয়া অর্থের মাত্র ১১.৭ শতাংশ। সেখানে স্রেফ ২০২২-২৩ অর্থবর্ষেই গেরুয়া শিবির ২৫৭ কোটি পেয়েছে নির্বাচনী ট্রাস্ট থেকে।
২০১৩ সালে কার্যকর হয় প্রকল্পটি। এটির অধীনে কর্পোরেট সংস্থাগুলিকে একটি করে নির্বাচনী ট্রাস্ট গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সেখানে অনুদান দিতে পারে বিভিন্ন ব্যক্তি ও কোম্পানি। সংগৃহীত অর্থ বছর শেষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে চাঁদা হিসেবে প্রদান করা যায়। কারা কত টাকা ওই ট্রাস্টে জমা দিয়েছে, সেই পরিসংখ্যান প্রতি বছর জমা দিতে হয় নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু কোন পার্টি কার কাছ থেকে কত পেল, তা জানা যায় না। প্রথম বছরে অবশ্য প্রায় সমান টাকা পেয়েছিল কংগ্রেস ও বিজেপি। ২০১৪-১৫ অর্থবর্ষে মোদি সরকার গঠনের পর নির্বাচনী ট্রাস্ট থেকে গেরুয়া শিবির পায় ১১০ কোটি। কংগ্রেসের ভাগ্যে জোটে মাত্র ১৮ কোটি। ২০১৬-১৭ অর্থবর্ষে এই খাতে বিজেপির অনুদান বেড়ে হয় ২৮১ কোটি। কংগ্রেস পেয়েছিল ৯.৪ কোটি এবং তৃণমূল মাত্র ৫০ লক্ষ । সেই বছর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে মোদির দলের প্রাপ্ত ভোটের হার ১০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়। আর্থিক বছর শেষের আগে ভোট হয়েছিল পাঞ্জাব, গোয়া, উত্তরাখণ্ড, উত্তরপ্রদেশ এবং মণিপুরে। চারটিতেই জয়ী হয় এনডিএ। সেবছর নির্বাচনী ট্রাস্টে সবথেকে বেশি, ৪৫ কোটি টাকা দিয়েছিল ডিএলএফ গোষ্ঠী।
২০১৭-১৮ আর্থিক বছরে এই খাতে বিজেপির আয় ছিল ১৭০ কোটি। কংগ্রেস পায় মাত্র ১০ কোটি। সে বছর হিমাচল, গুজরাত, ত্রিপুরা, মেঘালয় এবং নাগাল্যান্ডে বিধানসভা ভোট ছিল। সর্বত্র জয়ী হয় গেরুয়া শিবির। সেবারও বৃহত্তম অনুদানদাতা ডিএলএফ গোষ্ঠী (৫২ কোটি)। পরবর্তী অর্থবর্ষেই রাজনৈতিক দলগুলির কর্পোরেট অনুদানে নিয়ন্ত্রণ জারি করে মোদি সরকার। বিজ্ঞপ্তি জারি হয় নির্বাচনী বন্ডেরও। তবু ট্রাস্ট থেকে বিজেপির টাকা পাওয়া কমেনি। ২০১৮-১৯ আর্থিক বছরে তাদের প্রাপ্তি হয় ১১০ কোটি। রাহুল গান্ধীর দল পায় ৪৩ কোটি। গত লোকসভা নির্বাচনের বছরে ট্রাস্ট থেকে ৩১৫ কোটি আয় করে মোদির পার্টি।
২০২০ সালের পর থেকে কেবলমাত্র একটি নির্বাচনী ট্রাস্ট সচল রয়েছে। পরবর্তী অর্থবর্ষগুলিতে সেটি থেকে যথাক্রমে ২০৯ কোটি, ৩৩৭ কোটি এবং ২৫৬ কোটি টাকা পেয়েছে গেরুয়া শিবির। শেষ বছর কংগ্রেস এক টাকাও পায়নি। ২০২২-২৩ অর্থবর্ষে ওই ট্রাস্টে সবথেকে বেশি অনুদান দিয়েছে দু’টি সংস্থা মেঘা ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড (৮৭ কোটি) এবং কোভিড টিকার অন্যতম নির্মাতা সংস্থা সিরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (৫০ কোটি)। অর্থাৎ পরিসংখ্যানেই পরিষ্কার, ভোটের সঙ্গে অনুদানের যোগাযোগ অত্যন্ত নিবিড়। শাসকের পক্ষে অনুদান যে বেশি হয়, সে ব্যাপারে কোনওকালেই সন্দেহ ছিল না। কিন্তু মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর অন্য কোনও দলই আর ধারেকাছে আসতে পারছে না। কারণ এই সরকারে শাসনের সঙ্গে আরও একটি সমীকরণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে—পাইয়ে দেওয়ার মার্কেটিং।

24th     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ