বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

বঞ্চনা নিয়েই মৃত্যু ১২ হাজার রাজ্যবাসীর, পরিবারের পাশে মমতা

প্রীতেশ বসু ও সৌম্যজিৎ সাহা, কলকাতা ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৬ মাসের বঞ্চনা, খেটে খাওয়া মানুষের অসহায়তা, আর গেরুয়া রাজনীতি। এই জ্বলন্ত ইস্যু নিয়েই লোকসভা ভোটে যাচ্ছে বাংলা। কিন্তু এই আগুনের আঁচ বাড়িয়ে দিচ্ছে আরও একটি তথ্য—কেন্দ্রের বকেয়া টাকা অ্যাকাউন্টে ঢোকার অপেক্ষার মাঝেই জীবনযুদ্ধ থেকে অবসর নিয়েছেন ১২ হাজার জব কার্ড হোল্ডার। তাঁরা আজ আর বেঁচে নেই। ১০০ দিনের কাজে মোদি সরকারের বকেয়া মেটাতে নামার পরই এই তথ্য জানতে পেরেছে নবান্ন। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি টাকা দেওয়া শুরু হবে। তার আগে তালিকা ধরে জব কার্ড হোল্ডারদের খুঁটিনাটি মেলাতে গিয়েই হতবাক রাজ্য সরকার। জানা গিয়েছে, এই ১২ হাজার জব কার্ড হোল্ডার মারা গিয়েছেন গত দু’বছরেই। 
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতিটি জেলা থেকে গ্রাম পঞ্চায়েত ধরে ধরে ন্যায্য প্রাপকদের তালিকা পাঠানো হয়েছে পঞ্চায়েত দপ্তরে। যাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে, তাঁদের নাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য ওই দপ্তরের নির্দিষ্ট পোর্টালে তুলছে জেলা প্রশাসন। আর এই তালিকাতেই দেখা যাচ্ছে, কোনও গ্রাম পঞ্চায়েতে ন’জন, আবার কোনওটিতে ছ’জন জব কার্ড হোল্ডার আর জীবিত নেই। তাঁদের নামের পাশে লেখা হচ্ছে ‘ডেড’। একজন ন্যায্য প্রাপকও মারা যাননি, রাজ্যের ৩ হাজার ৩৩৯টির মধ্যে এমন গ্রাম পঞ্চায়েত হাতেগোনা। সমস্ত তালিকা যাচাইয়ের পর প্রশাসনিক কর্তারা প্রায় ১২ হাজার এরকম নাম পেয়েছেন। তাই এবার মৃতদের পৃথক একটি তালিকা তৈরি হচ্ছে। তাতেই দেখা যাচ্ছে, সুন্দরবনের একটি ব্লকে মৃত জব কার্ড হোল্ডারের সংখ্যা ৩০০! ক্যানিংয়ের একটি ব্লকে মারা গিয়েছেন ১৬৫ জন। আলিপুর সদরের একটি ব্লকে প্রায় ১০০ জন মারা গিয়েছেন। তবে এই তথ্যের ব্যাপারে আরও নিশ্চিত হতে চাইছে নবান্ন। ফলে বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে প্রত্যেক বিডিওকে মৃত জব কার্ড হোল্ডারদের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে। 
এবিষয় জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্রের উদাসীন মনোভাবের কারণেই আজ নিজের হাতে মজুরির টাকা পেলেন না ওঁরা। এটা বাংলার মানুষকে ভাতে মারা ছাড়া আর কী? রাজ্যের দু’বছরের লড়াইয়ের কথা মানুষ জানে। ওরা দেয়নি বলেই শেষমেশ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানবিকতার খাতিরে বকেয়া মজুরি মিটিয়ে দিচ্ছেন। যারা মারা গিয়েছেন তাঁদেরও পাশে আছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের পরিবারকে টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ 
তবে সূত্রের খবর, কিছু ক্ষেত্রে মৃত জব কার্ড হোল্ডারের ন্যায্য উত্তরাধিকারী কে, সেই প্রশ্নেও দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে পরিবারের মধ্যে। এই সব ক্ষেত্রে পরিবারের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) পেলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে টাকা ছাড়া হবে। আবার অনেক গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে, যেখানে প্রাপকদের ঘর তালা বন্ধ। এঁদের মধ্যে অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিক। ফলে এখনই তাঁদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে না।

23rd     February,   2024
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ