বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

‘বাবার চোখে জল দেখে আমিও কেঁদে ফেলি’ উদ্ধার পেয়ে বললেন মনজিৎ

লখনউ: ‘বাবাকে বলছিলাম, কেঁদো না। কিন্তু কিছুতেই শুনছিল না। বাবার চোখে জল দেখে আমিও কান্না চাপতে পারলাম না।’ ১৭ দিন পর উত্তরকাশীর সিল্কিয়ারা সুড়ঙ্গ থেকে মুক্তি পেয়ে এমনটাই বললেন মনজিৎ চৌহান। বছর পঁচিশের এই যুবক উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার ভৈরমপুর গ্রামে বাসিন্দা। বছর খানেক আগেই এক দুর্ঘটনায় দাদাকে হারিয়েছেন মনজিৎ। একটা সময় দাদা বলতেন, ‘বাবা-মাকে আমরা দুই ভাই না দেখলে, কে দেখবে বল!’ টানা ১৭ দিন সুড়ঙ্গের মধ্যে দাদার এই একটা কথাটাই বার বার মনে পড়ত মনজিতের। তাই বৃদ্ধ বাবা-মায়ের জন্য তাঁকে বেঁচে ফিরতেই হবে বলে কঠিন দিনগুলিতে নিজের মনকেই বারংবার আস্থা জুগিয়েছেন এই যুবক।
সুড়ঙ্গে আটকে পড়ার প্রথম দিনটা আজও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করছে ভৈরমপুরের এই যুবককে। বলছিলেন, ‘যেখানে ধস নেমেছিল, তার থেকে মিটার পনেরো দূরে আমি কাজ করছিলাম। আমরা মোট ৪১ জন আটকে পড়েছিলাম। আটকে পড়ার পর প্রথম ২৪ ঘণ্টা সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। বিভিন্ন ধরনের আশঙ্কা মাথায় ঘুরছিল। কেউ ভাবছিল, শ্বাসকষ্ট শুরু হবে। কেউ কেউ বলছিল, খাবার আর জল শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু একটা চার ইঞ্চির পাইপ গোটা পরিস্থিতি বদলে দেয়। আমাদের ভরসা বাড়িয়ে দেয় যে, বাইরে থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’ উদ্ধার হওয়া এই শ্রমিক ফোনে সংবাদ সংস্থাকে আরও বলেন, ‘যেদিন সুড়ঙ্গের মধ্যে থেকে বাবার সঙ্গে কথা বলার প্রথম সুযোগ হয়েছিল, সেদিন বলেছিলাম, আমি ঠিক ফিরবই। তুমি মাকে সাবধানে রেখ।’
৬ ইঞ্চির পাইপের মাধ্যমে আটকে পড়া শ্রমিকদের বাইরে থেকে খাবার পাঠানো হতো। সেই প্রসঙ্গে মনজিৎ বললেন, ‘ওদের পাঠানো গরম ডালটা খেতে খুব ভালো লাগত। সুড়ঙ্গের মধ্যে দু’কিলোমিটার ফাঁকা জায়গায় রোজ হাঁটাহাঁটি করতাম। যোগাসনের চর্চাও করতাম। কেউ কেউ মোবাইলে গেমও খেলতেন।’
সুড়ঙ্গে আটকে থাকা ৪১ জন বুঝতে পারছিলেন, তাঁরা প্রবল সমস্যায় রয়েছেন, কিন্তু কেউ মনোবল হারাননি। কীভাবে কাটল ১৭ দিন? অরি নামে এক শ্রমিক জানিয়েছেন, ওই অভিশপ্ত টানেলে তাঁরা কেউ কেউ ক্রিকেটও খেলাতেন। অবশ্যই, সেখানে ব্যাট-বল পাওয়া সম্ভব ছিল না। তাই ছেলেবেলার মতো মোজার মধ্যে কাপড় ঢুকিয়ে বল তৈরি হতো। আর পরে থাকা কাঠ হতো ব্যাট। এমনকী, সময় কাটাতে চোর-পুলিসও খেলতেন কেউ কেউ। দৈনন্দিন কাজের মধ্যে কেউ জল আনতেন, কেউ কম্বল পেতে শোয়ার ব্যবস্থা করতেন।

30th     November,   2023
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ