বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দেশ
 

দিল্লির কালীবাড়ির পুজোগুলিতে সাবেকিয়ানার
ছোঁয়া, দু’বছর বাদে ফিরছে সিঁদুর খেলার রীতি

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: ১৯১৯ সাল। সরকারি ছাপাখানা তিমারপুরে স্থানান্তরিত হয়েছে বছর ছয় হল। সেইসঙ্গে স্থান পরিবর্তন করতে হয়েছে ছাপাখানার সঙ্গে যুক্ত সরকারি কর্মীদের একটি বড় অংশকেও। কার্যত দু’জন বাঙালি একত্র হলেই নাকি আস্ত একটি দুর্গাপুজো হয়ে যায়। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম হল না। তিমারপুরেই শুরু হল দুর্গাপুজো। তৎকালীন ব্রিটিশ জমানায় বাড়ি থেকে বহু দূরে শারদোৎসবে মেতে উঠল তদানীন্তন বাঙালি সমাজের একটি বড় অংশ। কিছু স্থানগত সমস্যা হচ্ছিল কয়েক বছর ধরেই। সামান্য সুযোগেই তিমারপুরের সেই পুজোর আয়োজন স্থানান্তরিত হয়ে গেল দিল্লির মিন্টো রোড সংলগ্ন এলাকায়। বর্তমান উদ্যোক্তাদের দাবি, সেটা ১৯৪০ সাল। রাজধানী দিল্লির অন্যতম প্রাচীন পুজোগুলির মধ্যে একটি এই পুজোকেই ধরা হয়।
মিন্টো রোড কালীবাড়ির মিন্টো রোড পুজো সমিতির এবার ৮৩ বছর। স্বাভাবিক কারণেই এতগুলো বছর ধরে পুজোর আয়োজন করতে গিয়ে চিরাচরিত প্রথার সঙ্গে কোনওরকম আপস করেননি উদ্যোক্তারা। বরাবরের মতো এবারও পুজোর আয়োজন হচ্ছে সাবেকি পদ্ধতিতেই। সদস্যদের দাবি, কালীবাড়ির পুজোয় জাঁকজমক নয়। বরং প্রথা মেনে পুজোর আয়োজনই আসল কথা। ভোগপ্রসাদ, পুষ্পাঞ্জলি—সবেরই ব্যবস্থা শাস্ত্র মেনেই। সাবেকিয়ানার সঙ্গে আপস করেননি দক্ষিণ দিল্লি কালীবাড়ির পুজোর উদ্যোক্তারাও। তবে ১৯৮৪ সাল থেকে তাঁদের পুজোর ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছে একটি বাঙালি নাম। প্রণব মুখোপাধ্যায়। পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুব্রত দাসের দাবি, ‘১৯৮৪ সাল থেকেই প্রণববাবু এই পুজোর চেয়ারম্যান ছিলেন। রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর অবশ্য তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যান। রাষ্ট্রপতি পদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর প্রণববাবুকে এই সমিতির প্যাট্রন-ইন-চিফ করা হয়। মারা যাওয়ার পরেও এখনও তিনিই দক্ষিণ দিল্লি কালীবাড়ির প্যাট্রন-ইন-চিফ। চেয়ারম্যান হয়েছেন প্রণববাবুর ছেলে অভিজিৎ মুখোপাধ্যায়।’
লাইন দিয়ে ভোগ নেওয়া, অষ্টমীতে পুষ্পাঞ্জলি—এবছর দক্ষিণ দিল্লি কালীবাড়িতে কোনওকিছুর কমতি নেই। পাশাপাশি, দুঃস্থ মানুষকে জামাকাপড় বিতরণ কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের একটিই বক্তব্য, অযথা আড়ম্বরের প্রয়োজন নেই। পুজোর এবার ৫৫ বছর। সাবেকিয়ানায় পিছিয়ে নেই মাতৃমন্দিরও। প্রতিমা ডাকের সাজের। থিমভিত্তিক না-হলেও মাতৃমন্দিরের এবছরের পুজোমণ্ডপ গড়ে উঠছে বেলুড় মঠের আদলে। কোভিড সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কিছু না-থাকলেও পুজোয় মেনে চলা হবে এই সংক্রান্ত যাবতীয় প্রোটোকল। জানিয়েছেন পুজো কমিটির সাধারণ সম্পাদক গীতশ্রী মৈত্র। প্রথারক্ষার ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই নিউ দিল্লি কালীবাড়িও। সাবেকি প্রতিমা এবং সাবেকি পুজোর আয়োজনই অন্যান্য কালীবাড়ির মতো এরও ইউএসপি। পুজো এবং পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দিরচত্বরে মেলার স্বাদ নিতেই দিল্লি তথা সংলগ্ন এনসিআরের মানুষ অন্তত একবেলার জন্য হলেও ছুটে আসেন এখানে। কালীবাড়ি প্রাঙ্গণেই হয় প্রতিমার বিসর্জন। প্রধানত দিল্লির কালীবাড়ির পুজোগুলির মধ্যে সাবেকিয়ানা ছাড়াও আরও একটি বিষয় ‘কমন’—সিদুঁর খেলা। করোনার কারণে দু’বছর সিঁদুর খেলার আয়োজন করা যায়নি। ২০২২ সালের নতুন পর্বে উঠে যাচ্ছে সেই ‘দূরত্ব’ বজায় রাখার অভ্যাসটাই। ফলে এবছর সিঁদুর খেলা ফিরছে কালীবাড়িগুলিতে। দেশের রাজধানী শহরের একটি বড় অংশ যখন মেতে উঠছে থিমের পুজোয়, তখন পুজোর সাবেকিয়ানাকে অক্ষুণ্ণ রেখে তথাকথিত প্রাচীনত্বেই ভরসা রাখছে কালীবাড়ির পুজো সমিতিগুলি। থিমের পুজোয় গা ভাসিয়েও ভিন্ন স্বাদের সন্ধান পেতে তাই কোমর বাঁধছে দিল্লির আম বাঙালিও। 
 সেজে উঠছে দিল্লির মাতৃমন্দির। -নিজস্ব চিত্র

1st     October,   2022
 
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ