Bartaman Patrika
বিশেষ নিবন্ধ
 

বিধানসভা ভোট কিন্তু হবে মমতাকে দেখেই
শান্তনু দত্তগুপ্ত 

ইন্দিরা গান্ধীর টার্গেট ছিল একটাই। যেভাবে হোক সিপিএমের কোমর ভেঙে দিতে হবে। তিনি মনে করতেন, সিপিএম আসলে সিআইএ’র মদতপুষ্ট। ঠিকঠাক সুযোগ পেলে পূর্ববঙ্গ এবং পশ্চিমবঙ্গে সশস্ত্র আন্দোলন করিয়ে বৃহত্তর বাংলা গঠন করে ফেলবে। কাজেই বাংলা কংগ্রেস এবং সিপিআই পছন্দের তালিকায় থাকলেও সিপিএমকে মোটে বরদাস্ত করতে পারতেন না ইন্দিরা। তার উপর ১৯৬৭ এবং ’৬৯ সালে কংগ্রেসের গরিমা ধূলিসাৎ করে পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এসে গিয়েছে অজয় মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন যুক্তফ্রন্ট সরকার। বহু শরিকের সমাহার। বাংলার মানুষ ভেবেছিল, এই সরকার উন্নয়নের নয়া দিশা দেখাবে। দিল্লি থেকে অন্তত একে পরিচালিত হতে হবে না। শেষ পর্যন্ত মানুষের ভরসা তারা রাখতে পারেনি। শুধু মানুষ বললে কম বলা হয়, স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী অজয় মুখোপাধ্যায় আস্থা রাখতে পারেননি তাঁর যুক্তফ্রন্টে। যার প্রধান কারণ ছিল অবশ্যই সিপিএম এবং জ্যোতি বসু। ১৯৭০ সালে অজয়বাবুর ইস্তফার পর মোক্ষম চালটা দিয়েছিলেন ইন্দিরা। দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করে পশ্চিমবঙ্গে বসিয়ে দিয়েছিলেন সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়কে। ততদিনে মুক্তিযুদ্ধের দামামা বেজে গিয়েছে। সিদ্ধার্থশঙ্করের কাছে বার্তা পৌঁছে গেল, প্রস্তুত হও। যুদ্ধ শেষ হলেই বাংলায় নির্বাচন করাব। কথা রেখেছিলেন ইন্দিরা। মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় জম্মু-কাশ্মীর, গুজরাত, পাঞ্জাব, রাজস্থান, হিমাচল প্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, মহীশূর, অন্ধ্র ও অসমে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথাই ছিল। তার সঙ্গে ইন্দিরা জুড়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারকে। পাকিস্তানকে সদ্য দুরমুশ করে আসার মহাপরাক্রমে বলীয়ান হয়ে দেশজুড়ে কংগ্রেসের পতাকা উড়িয়ে দিলেন ইন্দিরা গান্ধী। পশ্চিমবঙ্গেও কংগ্রেস ফিরল ২৮০টির মধ্যে ২১৬টি আসন নিয়ে। মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিল অজয় মুখোপাধ্যায় তথা যুক্তফ্রন্টের প্রত্যেক শরিকের থেকে। কেন? সুযোগ পেয়েও বাংলার মানুষের আস্থার মর্যাদা তাঁরা রাখতে পারেননি। আর ’৭৫ সালে সেই আস্থার বিসর্জন দিয়েছিলেন ইন্দিরা গান্ধী। মামলা, দলের নিয়ন্ত্রণ হাতের বাইরে চলে যাওয়া, জরুরি অবস্থা...। এরাজ্যে নকশাল আন্দোলনও তাতে অনুঘটকের কাজ করেছিল। পরবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতায় এসেছিল কমিউনিস্ট পার্টি। যাদের বিদায়ে সময় লেগে গিয়েছিল ৩৪ বছর। সেই জগদ্দল পাথরকে যিনি দীর্ঘ লড়াইয়ের পর সরাতে সক্ষম হয়েছিলেন, তাঁর নাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০১১ ছিল পরিবর্তনের সরকার। সিঙ্গুর, নন্দীগ্রাম, নেতাই... একের পর এক আন্দোলনে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে এই ক্ষমতা তিনি অর্জন করেছিলেন। কেউ প্লেটে সাজিয়ে তাঁর হাতে তুলে দেয়নি। এবং মানুষ তাঁর উপর আস্থা রেখেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটই যার প্রমাণ।
এখন প্রশ্ন উঠতেই পারে, সদ্য শেষ হওয়া লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির ১৮টি আসন নিয়ে আশাতীত উত্থানের পর কোন প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, বাংলার মানুষ মমতার উপর আস্থা রেখেছে? ক্ষমতা দখলের রাজনীতির কিছু ধূসর প্রেক্ষাপট আছে। যা সাদা চোখে দেখা যায় না। আমরা বুঝি শুধু কিছু সমীকরণ। রাজনীতির সোজা-সাপটা অঙ্ক। সেই অঙ্কে মমতার ভরাডুবিটাই আজ সামনে আসছে। ধূসর অংশে ঢাকা পড়ে রয়েছে অগ্নিকন্যা বিশেষণে ভূষিত বাংলার নেত্রীর প্রবল জনপ্রিয়তা। মানুষের মধ্যে কি ক্ষোভ নেই? আছে। থাকাটাই স্বাভাবিক। একটা সরকার যদি আট বছর রাজত্ব করে, তাহলে প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার হাওয়া তার গায়ে লাগতে বাধ্য। একজন কখনও সবার কাছে সমানভাবে প্রিয় হতে পারে না। আমাদের সমাজটাই হল দাঁড়িপাল্লার মতো। একজনের কাছে ভালো হতে গেলে অন্যজনের গোঁসা হবে। তৃণমূল সরকারের ক্ষেত্রেও হয়েছে। কিন্তু ৩৪ থেকে ২২টি আসনে নেমে যাওয়ার পর কয়েকটা বিষয় আমরা বিবেচনায় আনতে ভুলে যাচ্ছি। প্রথমত, গণিতের যে কোনও প্যাটার্নে ২২ সংখ্যাটি ১৮’র থেকে বেশি। তৃণমূল ২২টি আসন পেয়েছে। একটি-দু’টি নয়! দ্বিতীয়ত, তৃণমূল কংগ্রেসের এই জয়ের নেপথ্যে এখনও কিন্তু রয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনপ্রিয়তা। আজ প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার চাদরে ঢাকা পড়ে তৃণমূল দল কিংবা নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ জন্মাতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও রাজ্যের সব প্রান্তে গ্রহণযোগ্য। যে তৃণমূল সমর্থকরা সদ্য সমাপ্ত লোকসভা ভোটে বিজেপির প্রতীকে ভোট দিয়েছেন, তাঁদের অভিমান থাকতে পারে নেত্রীর প্রতি। তা এখনও ক্ষোভের রূপ নেয়নি। তৃতীয়ত, এটা ছিল লোকসভা ভোট। দেশের সরকার গড়ার পরীক্ষা। কোনও একটা রাজ্যের নয়! রাহুল গান্ধী ভোটের বছর খানেক আগে থেকে যতই সিংহবিক্রমে বিজেপির বিরোধিতা করুন না কেন, ভারতবাসী দেখিয়ে দিয়েছে এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদির কোনও বিকল্প নেই। প্রধানমন্ত্রী পদে এখনও কোনও নেতা বা নেত্রী তেমন জায়গা তৈরি করে উঠতে পারেননি। যদি বিরোধী মহাজোট বাস্তব রূপ পেত, তাহলে অবশ্যই একটা বিকল্প ভাবনা আসার সম্ভাবনা ছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রবল প্রচেষ্টা সত্ত্বেও যা সম্ভব হয়নি। প্রত্যেক আঞ্চলিক দলেরই নিজস্ব এজেন্ডা আছে। এ বলেন আমি প্রধানমন্ত্রী হব, তো সেটা শুনে আর একজন মাথা তোলেন... আমিও যোগ্য! পরিস্থিতি এমন হলে আর যাই হোক, জোটের স্বপ্ন সফল হওয়া সম্ভব নয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একের বিরুদ্ধে একের ফর্মুলাও তাই দিনের আলো দেখল না! উত্তরপ্রদেশে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি জোট গড়ল। কংগ্রেসকে নিল না। ফলে কংগ্রেস আলাদা প্রার্থী দিল। ভোট কাটাকাটি করে বিজেপির ঝুলিতে একগাদা আসন তুলে দেওয়ার রাস্তাও প্রশস্ত হয়ে গেল।
মোদি-ঝড়। ২০১৪ সালে যা ছিল স্বতঃপ্রণোদিত। ২০১৯ সালে পৌঁছে যা হয়েছে অনেক বেশি অর্গানাইজড। বছর খানেকের বেশি সময় ধরে বিজেপি তথা নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ জুটি এই ঝড়ের পথ বানিয়েছে। বাস্তবিকই এটা ছিল সোশ্যাল মিডিয়া নির্বাচন। বিজেপি অত্যন্ত কৌশলে সমাজের বিভিন্ন স্তরের এবং আর্থিক সঙ্গতির মানুষের জন্য আলাদা আলাদা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ বানিয়েছে। তাতে চালানো হয়েছে নিঃশব্দ প্রচার। সরাসরি প্রশ্ন করলে অবশ্য বিজেপির পক্ষ থেকে সবটাই অস্বীকার করা হয়েছে। কারণ, গোটাটাই দলের রঙের বাইরে গিয়ে। আলাদা সংস্থা বা সংগঠন বানিয়ে। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলিও সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর দিয়েছিল। কিন্তু তারা বিজেপির সঙ্গে পাল্লা দিতে পারেনি। এবং অবশ্যই, মোদি ছাড়া অন্য কেউ স্থিতিশীল সরকার দেবে বলে দেশবাসীর মনে হয়নি। সেটাই এবারের মোদি-ঝড়ের আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ। তার উপর, ইন্দিরা গান্ধীর মতো মুক্তিযুদ্ধ না থাকলেও মোদির সার্জিকাল স্ট্রাইক এবং বালাকোট রয়েছে। পাকিস্তান বা জাতীয়তাবাদী ইস্যু চিরকাল ভারতের ভোটারদের ভালো খাদ্য। খুড়োর কলে জাতীয়দাবাদ ঝুলিয়ে বিজেপি প্রচার চালিয়ে গিয়েছে। আর এই বিপুল জয়।
নরেন্দ্র মোদি আর যাই হোন, ইন্দিরা গান্ধী নন। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দোহাই দিয়ে বাংলায় জরুরি অবস্থা জারি করা তাঁর পক্ষে একটু মুশকিল। রাজ্যসভার যে সমর্থন এক্ষেত্রে তাঁর প্রয়োজন হবে, তা মোদি পাবেন না। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গে সরকার ভেঙে দিলে ক্ষমতায় আসার মতো আত্মবিশ্বাস এবং বিধায়ক সংখ্যা প্রয়োজন। যার কোনও দিশা এখনও পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। শাসক দলের ১০০ বিধায়ক বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন বলে যত ঢাকের আওয়াজ শোনা যাচ্ছিল, তেমন বাজনাও আর কানে আসছে না। কারণ, সরকার ভেঙে বিধানসভায় অনাস্থা আনতে গেলে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন তৃণমূল বিধায়ককে বিজেপিতে যেতে হবে। সেটা এই মুহূর্তে খুব সম্ভব কি? দু’বছর বাকি বিধানসভা নির্বাচনের। ধরে নেওয়া যাক, পশ্চিমবঙ্গের বহু এমএলএ গেরুয়া শিবিরের দিকে পা বাড়িয়ে রয়েছেন। তাঁরা যদি এখনই দল বদল করেন, তাহলে আগামী দু’বছর করেকম্মে খাওয়ার সুযোগ হারাবেন। আর তাঁদের দ্বিতীয় আশঙ্কার কারণ অবশ্যই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরকারি প্রকল্প থেকে কাটমানি খাওয়া বা তোলাবাজি ঠেকানোর ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছেন তিনি। এভাবে যদি মমতা দলের ক্ষয়ে যাওয়া অংশগুলিকে বাদ দিয়ে দিতে পারেন, মানুষ আবার তাঁকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করবে।
সবচেয়ে বড় কথা, বিধানসভা ভোটটা হবে কিন্তু মমতাকে দেখে। সেখানে নরেন্দ্র মোদি নগণ্য। কেন্দ্রে সরকার নির্বাচনের সময় ভোটারদের মনে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে হয়তো কোনও প্রশ্ন নেই। কিন্তু তিনি তো আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রিত্বের জন্য লড়াই করবেন না! তাহলে বিজেপির মুখ কে? তিনি যেই হোন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের থেকে বেশি শক্তিশালী হবেন না। তাঁর জনপ্রিয়তাও মমতার মতো হবে না। এক বন্ধুর থেকে শোনা... ফাঁসিদেওয়ার একটি ভাতের হোটেলে বসে খাচ্ছিলেন। বাইরে বিজেপির পতাকা দেখে হোটেল মালিককে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনারা এখানে কি সবাই বিজেপি হয়ে গিয়েছেন?’ ভদ্রলোক কিছু না বলে শুধু একটু হাসলেন। ডাকলেন তাঁর বউদিকে... ‘দেখুন, আমার বউদি, তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা। বিজেপির পতাকা যা দেখছেন, সব এই লোকসভা ভোটে। বিধানসভায় আবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসবেন।’
রাজ্যের বাস্তব চিত্র কিন্তু এখনও এটাই। এখন হাতি কাদায় পড়েছে। সময় ভালো যাচ্ছে না... বিরুদ্ধ ইস্যু তৈরি হচ্ছে, যা করতে যাচ্ছেন সেটা ঠিকঠাক হচ্ছে না। আর সেই সুযোগে মাছিও তাকে লাথি মেরে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতি দু’বছর পরও থাকবে তো? একটা সময় লোকসভা নির্বাচনে দলের মাত্র একটি আসন পেয়েও হারিয়ে যাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফিরে এসেছিলেন সসম্মানে। মহা পরাক্রমে। এবারও যদি তিনি ঘুরে দাঁড়ান, তাঁর বিরুদ্ধে খোল-করতাল বাজানেওয়ালাদের খুঁজে পাওয়া যাবে তো? 
ডাক্তারবাবুদের গণ-ইস্তফা নজিরবিহীন,
কিন্তু তাতে কি হাসপাতাল সমস্যা মিটবে?

 এ-কথাও তো সত্যি যে, হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বা ডাক্তারবাবুদের যথাযথ নিরাপত্তা বিধানে তাঁর সদিচ্ছা আছে এবং ইতিমধ্যেই তার যথেষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই অচলাবস্থা কাটাতে প্রবীণদের বৈঠকে ডেকে মুখ্যমন্ত্রী সমাধানসূত্র খুঁজছেন— সেটাও কি ওই সদিচ্ছারই নামান্তর নয়? বিশদ

16th  June, 2019
নরেন্দ্র মোদির মালদ্বীপ সফর এবং ভারত মহাসাগরে ভারতের নতুন রণনীতি
গৌরীশঙ্কর নাগ

 মোদিজির এই দ্বীপপুঞ্জ-সফর কেবলমাত্র হাসি বিনিময় ও করমর্দনের রাজনীতি হবে না, বরং এর প্রধান অ্যাজেন্ডাই হল প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মজবুত করা। তবে সেটা করতে গিয়ে ভারত যেন দ্বীপপুঞ্জের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অযথা হস্তক্ষেপ না করে বসে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ভারত মালদ্বীপকে সন্ত্রাসবাদের নয়া ‘আঁতুড়ঘর’ হতে দেবে। কারণ ইতিমধ্যেই আমরা দেখেছি পাকিস্তান, আফগানিস্তান এমনকী মধ্যপ্রাচ্য থেকেও জেহাদি নেটওয়ার্কের কারবার মালদ্বীপেও পৌঁছে গিয়েছে। এই র‌্যাডিক্যালিজমের একমাত্র দাওয়াই হল অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও তার সহায়ক শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক স্থিরতা।
বিশদ

15th  June, 2019
সতর্কতার সময়
সমৃদ্ধ দত্ত

 ভারতীয় সংস্কৃতির সনাতন ধারাটি হল দিবে আর নিবে, মিলিবে মেলাবে। কিন্তু সেই সংস্কৃতি থেকে আমাদের সরিয়ে এনেছে অসহিষ্ণুতা আর স্বল্পবিদ্যা। আর সবথেকে বেশি জায়গা করে নিয়েছে বিদ্বেষ। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি বিদ্বেষ।
বিশদ

14th  June, 2019
ক্ষমতার ‘হিন্দি’ মিডিয়াম
শান্তনু দত্তগুপ্ত

 উত্তর ভারতের সঙ্গে দক্ষিণের সীমারেখা। আর তার কারিগর আমরাই। আমাদের কাছে সাউথ ইন্ডিয়ান মানে মাদ্রাজি। দক্ষিণ ভারতের লোকজন নারকেল তেল খায়, অদ্ভুত ওদের উচ্চারণ, লুঙ্গি পরে বিয়েবাড়ি যায়... হাজারো আলোচনা। উত্তর ভারত মানে বিষম একটা নাক উঁচু ব্যাপার। আর দক্ষিণ মানেই রসিকতার খোরাক। তাই ওদের একটু ‘মানুষ’ করা দরকার। কীভাবে সেটা সম্ভব? হিন্দি শেখাতে হবে। বিশদ

13th  June, 2019
বারুদের স্তূপের উপর পশ্চিমবঙ্গ
হিমাংশু সিংহ

সংসদীয় রাজনীতিতে কিছুই চিরস্থায়ী নয়। কারও মৌরসিপাট্টাই গণতন্ত্রে বেশিদিন টেকে না। সব সাজানো বাগানই একদিন শুকিয়ে যায় কালের নিয়মে। ইতিহাস কয়েক বছর অন্তর ফিরে ফিরে আসে আর ধুরন্ধর শাসককে চরম শিক্ষা দিয়ে তাঁকে, তাঁর ক্ষমতাকে ধুলোয় লুটিয়ে দিয়ে আবার ফকির করে দিয়ে যায়। সব ক্ষমতা এক ভোটে বিলীন। ধূলিসাৎ। আর এখানেই মহান গণতন্ত্রের জিত আর চমৎকারিত্ব। আর সেই দিক দিয়ে ২৩ মে-র ফল এই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিকেও আবার এক মহান সন্ধিক্ষণের দিকেই যেন ঠেলে দিয়েছে। ‘বিয়াল্লিশে বিয়াল্লিশ’ হয়নি, ‘২০১৯ বিজেপি ফিনিশ’—তাও হয়নি। উল্টে সারাদেশে বিজেপি থ্রি-নট-থ্রি (অর্থাৎ ৩০৩টি) আসন জিতে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভোট-পণ্ডিতদের।
বিশদ

11th  June, 2019
মোদিজি কি ‘সবকা বিশ্বাস’ অর্জন করতে পারবেন?
পি চিদম্বরম

 নরেন্দ্র মোদি এবার যে জনাদেশ পেয়েছেন তা অনস্বীকার্যভাবে বিপুল। যদিও, অতীতে লোকসভা নির্বাচনে একটি পার্টি ৩০৩-এর বেশি আসন জেতার একাধিক দৃষ্টান্ত আছে। যেমন ১৯৮০ সালে ইন্দিরা গান্ধী ৩৫৩ এবং ১৯৮৪ সালে রাজীব গান্ধী ৪১৫ পেয়েছিলেন।
বিশদ

10th  June, 2019
 বিজেপি এ রাজ্যের বিধানসভা ভোটকে
কঠিন চ্যালেঞ্জ মনে করছে কেন?
শুভা দত্ত

 কয়েকদিনের মধ্যে বেশ কয়েকটি মর্মান্তিক খুনের ঘটনা ঘটে গেল রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণে। তাই আজও একই প্রসঙ্গ দিয়ে এই নিবন্ধ শুরু করতে হচ্ছে। গত সপ্তাহেই লিখেছিলাম, ভোটফল প্রকাশের পর রাজ্যের বেশ কিছু এলাকায় যেন একটা হিংসার বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিশদ

09th  June, 2019
ইচ্ছে-ডানায় নাচের তালে
অতনু বিশ্বাস

এ বছরের সিবিএসই পরীক্ষার ফল বেরতে দেখা গেল, প্রথম হয়েছে দু’টি মেয়ে। একসঙ্গে। ৫০০-র মধ্যে তারা পেয়েছে ৪৯৯ করে। দু’জনেই আবার আর্টসের ছাত্রী। না, পরীক্ষায় আজকাল এত এত নম্বর উঠছে, কিংবা আর্টস বিষয় নিয়েও প্রচুর নম্বর তুলে বোর্ডের পরীক্ষায় র‍্যাঙ্ক করা যায় আজকাল—এগুলোর কোনওটাই আমার আলোচনার বিষয়বস্তু নয়।
বিশদ

08th  June, 2019
ভারতের রাজনীতিতে ‘গেম মেকার’
মৃণালকান্তি দাস

মেধাবী হলেই যে পড়ুয়ার জন্য মোটা বেতনের চাকরি নিশ্চিত, তার কোনও গ্যারান্টি নেই। শুধু প্রতিভা থাকলে আর পরিশ্রমী হলেই হবে না, উপযুক্ত প্রশিক্ষণ এবং ঠিকঠাক ‘গাইড’ না পাওয়ায় পড়ুয়ারা আজ আর সরকারি চাকরির লক্ষ্যভেদ করতে পারেন না।
বিশদ

07th  June, 2019
অবিজেপি ভোটে বাজিমাত
বিজেপির, এবং তারপর...
মেরুনীল দাশগুপ্ত

আলোড়ন! নিঃসন্দেহে একটা জবরদস্ত আলোড়ন উঠেছে। লোকসভা ভোটফল প্রকাশ হওয়া ইস্তক সেই আলোড়নের দাপটে রাজ্য-রাজনীতি থেকে সাধারণের অন্দরমহল জল্পনা-কল্পনা, বিবাদ-বিতর্ক, আশা-আশঙ্কায় যাকে বলে রীতিমতো সরগরম! পথেঘাটে আকাশে বাতাসে যেখানে সেখানে ছিটকে উঠছে উৎকণ্ঠা নানান জিজ্ঞাসা।
বিশদ

06th  June, 2019
কর্ণাটক পুরনির্বাচন: আবার উল্টালো ভোটফল
শুভময় মৈত্র 

নির্বাচনে ভোটফল নিয়ে কখন যে কী ঘটছে তার ব্যাখ্যা পাওয়া যাচ্ছে না মোটেই। মানুষ অবশ্যই মত বদলাবেন। সে স্বাধীনতা তাঁদের আছে। সে জন্যেই তো ভোটফল বদলায়। নাহলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কোনও অর্থই থাকে না।  
বিশদ

04th  June, 2019
বাংলায় রামবোকামির মরশুম
হারাধন চৌধুরী 

আমার মামার বাড়ি ভারত-বাংলাদেশের একটি সীমান্ত গ্রামে। বলা বাহুল্য, আমার মায়ের জন্ম দেশভাগের অনেক আগে। স্বভাবতই তাঁর স্মৃতির অনেকখানি জুড়ে ছিল অখণ্ড ভারতীয় গ্রামদেশ ও তার সংস্কৃতি। ১৯৪৭-এ মায়ের শৈশবের গ্রামের উপর দিয়েই ভাগ হয়ে গিয়ে ভারতের ভূগোল এবং ইতিহাস খুলেছিল এক নতুন অধ্যায়। 
বিশদ

04th  June, 2019
একনজরে
সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বিধানসভা ভোটের দিকে লক্ষ্য রেখে আলিপুরদুয়ারে জেলা জুড়ে ফের সদস্য সংগ্রহ অভিযানে নামছে বিজেপি। কিভাবে এই সদস্য সংগ্রহ হবে তার জন্য প্রশিক্ষণ নিতে দলের জেলা ও মণ্ডল কমিটির চার নেতার নাম কলকাতায় পাঠানো হয়েছে।   ...

  মুম্বই, ১৭ জুন (পিটিআই): ৬৭ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ায় বিড়লা সূর্য সংস্থার ডিরেক্টর যশোবর্ধন বিড়লাকে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি ঘোষণা করল ইউকো ব্যাঙ্ক। রবিবার এ বিষয়ে জনস্বার্থে নোটিস জারি করেছে তারা। ...

 সৌম্যজিৎ সাহা  কলকাতা: রাজ্যে ক্রমশ কমছে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আসন। গতবার যেখানে ৩১ হাজারের বেশি আসন ছিল, এবার তা আরও কমে হয়েছে ২৯ হাজার ৬৫৯টি আসন। প্রাথমিক হিসেবে এই তথ্য মিলেছে। যদিও এখনও দু’টি কলেজ এবং কয়েকটি বিষয়ের আসন যুক্ত হওয়ার ...

সংবাদদাতা, কালনা: কালনা ফেরিঘাটের এবার নিলাম হতে অনলাইনে। ইতিমধ্যে কালনা পুরসভার তরফে অনলাইনে নিলামের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ১১ জুলাই নিলামের দিন ধার্য করা হয়েছে। পুরসভার পক্ষ থেকে নিলাম দর রাখা হয়েছে বাৎসরিক ৫০ লক্ষ টাকা।  ...




আজকের দিনটি কিংবদন্তি গৌতম
৯১৬৩৪৯২৬২৫ / ৯৮৩০৭৬৩৮৭৩

ভাগ্য+চেষ্টা= ফল
  • aries
  • taurus
  • gemini
  • cancer
  • leo
  • virgo
  • libra
  • scorpio
  • sagittorius
  • capricorn
  • aquarius
  • pisces
aries

উচ্চতর বিদ্যায় সাফল্য আসবে। প্রেম-ভালোবাসায় আগ্রহ বাড়বে। পুরনো বন্ধুর সঙ্গে সাক্ষাতে আনন্দলাভ হবে। সম্ভাব্য ক্ষেত্রে ... বিশদ


ইতিহাসে আজকের দিন

১৯৩৬- রুশ সাহিত্যিক ম্যাক্সিম গোর্কির মৃত্যু
১৯৮৭- পরিচালক হীরেন বসুর মৃত্যু
২০০৫- ক্রিকেটার মুস্তাক আলির মৃত্যু
২০০৯- প্রখ্যাত সরোদ শিল্পী আলি আকবর খানের মৃত্যু  





ক্রয়মূল্য বিক্রয়মূল্য
ডলার ৬৮.৯৯ টাকা ৭০.৬৮ টাকা
পাউন্ড ৮৬.৩৪ টাকা ৮৯.৫৫ টাকা
ইউরো ৭৬.৭৯ টাকা ৭৯.৭৬ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
পাকা সোনা (১০ গ্রাম) ৩৩,৩২৫ টাকা
গহনা সোনা (১০ (গ্রাম) ৩১,৬১৫ টাকা
হলমার্ক গহনা (২২ ক্যারেট ১০ গ্রাম) ৩২,০৯০ টাকা
রূপার বাট (প্রতি কেজি) ৩৭,১০০ টাকা
রূপা খুচরো (প্রতি কেজি) ৩৭,২০০ টাকা
[ মূল্যযুক্ত ৩% জি. এস. টি আলাদা ]

দিন পঞ্জিকা

৩ আষা‌ঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২৩/৫৮ দিবা ২/৩১। মূলা ১৭/১৬ দিবা ১১/৫০। সূ উ ৪/৫৬/০, অ ৬/১৮/৫৪, অমৃতযোগ দিবা ৭/৩৬ মধ্যে পুনঃ ৯/২৩ গতে ১২/৩ মধ্যে পুনঃ ৩/৩৮ গতে ৪/৩১ মধ্যে। রাত্রি ৭/১ মধ্যে পুনঃ ১১/৫৮ গতে ২/৬ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৭ গতে ৮/১৭ মধ্যে পুনঃ ১/১৮ গতে ২/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৩৯ গতে ৮/৫৮ মধ্যে। 
২ আষাঢ় ১৪২৬, ১৮ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার, প্রতিপদ ২২/২২/৩৮ দিবা ১/৫২/৩৩। মূলানক্ষত্র ১৭/২৭/২৯ দিবা ১১/৫৪/৩০, সূ উ ৪/৫৫/৩০, অ ৬/২১/২৮, অমৃতযোগ দিবা ৭/৪০ মধ্যে ও ৯/২৭ গতে ১২/৮ মধ্যে ও ৩/৪২ গতে ৪/৩৫ মধ্যে এবং রাত্রি ৭/৫ মধ্যে ও ১২/২ গতে ২/৯ মধ্যে, বারবেলা ৬/৩৬/১৫ গতে ৮/১৬/৫৯ মধ্যে, কালবেলা ১/১৯/১৩ গতে ২/৫৯/৫৮ মধ্যে, কালরাত্রি ৭/৪০/৪৩ গতে ২/৫৯/৫৯ মধ্যে। 
মোসলেম: ১৪ শওয়াল 
এই মুহূর্তে
বিশ্বকাপ: আফগানিস্তানকে ১৫০ রানে হারাল ইংল্যান্ড

10:48:34 PM

স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, চালু কলকাতা পুলিসের হেল্প লাইন 
গতকাল মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে নিরাপত্তা জনিত সমস্যার ...বিশদ

09:48:24 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৮৬/২ (২০ ওভার) 

08:17:00 PM

দার্জিলিং পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করল রাজ্য সরকার 

08:08:39 PM

জাপানে বড়সড় ভূমিকম্প, মাত্রা ৬.৫, জারি সুনামি সতর্কতা 

07:34:58 PM

বিশ্বকাপ: আফগানিস্তান ৪৮/১ (১০ ওভার) 

07:05:00 PM