দেশ

‘বারাণসীর ধারক ত্রিশূল নড়িয়ে দিয়েছেন মোদি’, কর্মফল ভুগতে হবে, ভবিষ্যদ্বাণী শিবের সাধকের

সমৃদ্ধ দত্ত, বারাণসী: মছলি বাবা এসেছিলেন প্রয়াগ থেকে সাঁতরে। সিদ্ধানন্দ মহারাজ এসেছেন হরিদ্বার থেকে ট্রেনে। মছলি বাবা দশাশ্বমেধ ঘাটে উঠেছিলেন। সিদ্ধানন্দ মহারাজ কয়েকদিনের জন্য ছিলেন হরিশ্চন্দ্র ঘাটের কাছে এক মন্দিরে। প্রথমজন ধাপ্পাবাজ। দ্বিতীয়জন সাধক। তাহলে তো কোনও মিলই নেই! তাহলে এই ২০২৪ সালে কেন মছলিবাবাকে আবার টেনে আনা? কারণ একটাই—মছলিবাবাকে নিয়ে যেমন সাড়া পড়েছিল, অতটা না হলেও কয়েকদিনের জন্য আসা সিদ্ধানন্দ মহারাজকে নিয়ে বারাণসীর কেদার ঘাটের সান্ধ্য আড্ডা, অথবা সোনারপুরার গলির লস্যির দোকানের জল্পনাও দেখা যাচ্ছে বেশ তুঙ্গে। কে সিদ্ধানন্দ মহারাজ? সঙ্গে এক শিষ্য ছিল। সে দাবি করেছিল, বাবা সিদ্ধপুরুষ। কেদার থেকে কাশী। কাশী থেকে ত্র্যম্বকেশ্বর যাওয়ার পথে দু঩’-একদিনের বিশ্রামের মাঝে তিনি নাকি বলে গিয়েছেন, ‘ভোটে বড় চমক আসছে।’ এরকম নানারকম পূর্বাভাস দিয়ে চমক সৃষ্টি করা বাবা বহু দেখেছে বিশ্বনাথের কাশী। অতএব ঢেউ ওঠার কথা নয়। তাও উঠছে। কারণ, সাধুবাবা যা বলে গিয়েছেন, সেটা বিশ্বনাথ গলি, কালভৈরব গলি, গোধূলিয়া, লঙ্কা, কবীর চৌরাহার মতো বারাণসীর প্রাণকেন্দ্রগুলির ‘মন কী বাত’। কী সেই কথা? নতুন কাশী গড়ে তোলার উৎসাহ, আর নেশায় পুরনো কাশীকে যেভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে, সেটা নাকি মহাকাল মেনে নেবেন না! কাশীকে ধরে রেখেছে মহাদেবের ত্রিশূল। এই যে এত মন্দির ভাঙা হল, এত শিবলিঙ্গ গুঁড়িয়ে দেওয়া হল, করিডর নির্মাণের জন্য পুরনো কাশীর মাহাত্ম্য চলে গেল... এত ভাঙচুরের জন্য পাতালের সেই ত্রিশূল নড়ে যায়নি তো? তাহলে মহাকালের শাপ নেমে আসবে। সিদ্ধানন্দ মহারাজ বলে গিয়েছেন, ‘লোকসভা ভোটে এবার চমকপ্রদ ফলাফল হবে। যা কেউ ভাবেনি। যাকে তোরা বলিস মিরাকল। আমি আবার আসব ত্র্যম্বকেশ্বর থেকে ফেরার পথে।’ ব্যস! সেই ভবিষ্যদ্বাণী নিয়েই আপাতত চর্চা। তাহলে কি ‘কর্মফল’ ভুগতে হবে মোদিকে? দেশের জনমত হতচকিত করবে তাঁকে? সিদ্ধানন্দ মহারাজ যেমন এসেছিলেন, তেমনই ভ্যানিশ হয়ে গিয়েছেন। তবে কারও থেকে টাকা নিতেন না। দুধ নিতেন। কেন? সিদ্ধানন্দ মহারাজ দুধ খেয়ে থাকেন। আজও যত রহস্য বারাণসী঩তেই। 
মহাকাল তো উজ্জয়িনীতে? এখানে আবার মহাকাল কোথা থেকে এলেন? কালভৈরব মন্দিরের পিছনের পাড়ার বেনারসী শাড়ির মহল্লার কৈলাস যাদব বললেন, ‘উজ্জয়িনীর মতো কাশীতে কেউ অনাহারে থাকে না... জানেন না? সে যে যত গরিবই হোক। খাবার জুটবেই। এই দুই শহরে কেউ একদম ভুখা পেটে রাতে শুতে যায় না। এটা মহাকাল আর বিশ্বনাথের কৃপা। 
আর কাশী তো মহাকালের কাছেও প্রিয় স্থান। যে কর্মযজ্ঞ কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরকে ঘিরে শুরু হয়েছে, তার সুফল কী? যতটা প্রচার হচ্ছে, অতটা হয়েছে? শুধুই ভাঙাগড়া।’ ঘিঞ্জি কাশীকে ঝকঝকে রূপ দেওয়ার জন্য পরিকাঠমো তো উন্নত করতেই হবে! এতে দোষের কী আছে? কৈলাস যাদব ফুঁসে উঠলেন—‘উন্নয়ন? কাকে বলে উন্নয়ন? রাস্তা তৈরি হয়েছে, চওড়া হয়েছে, মন্দিরের জন্য প্রচুর ট্যুরিস্ট আসছে, আমাদের ব্যবসা হচ্ছে। সব ঠিক কথা। কিন্তু সবই মন্দিরের এক কিলোমিটারের মধ্যে। সিতাইপুর, গঙ্গাপুর, মারুয়াডিহি, সুন্দরপুর যান। বারাণসীর অন্য দিকগুলো। অসি ঘাট ক্রসিং পেরিয়ে আরও এগিয়ে যান বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে। দেখবেন বানারস যেখানে ছিল, ১০ বছর পরও সেখানে আছে। গ্রামে যান। ৫ কিলো ফ্রি রেশনে সংসার চলে? বাঁচতে গেলে আর কিছু চাই না? রোজগার কোথায়?’ 
পাল্টে যাচ্ছে কাশী। দশাশ্বমেধ ঘাটের পাশে বাণিজ্য কমপ্লেক্স হয়েছে। সারাদিন সারারাত যে চিত্তরঞ্জন পার্কে সাধু থেকে গাঁজাখোর, পর্যটক থেকে তীর্থযাত্রীরা সংসার পাততেন, আজ তাঁদের স্থানাভাব। পাঁড়ে ধর্মশালার লাগোয়া ক্যালকাটা হোটেল ভাঙা পড়েছে। বাঙালি হোটেল অদৃশ্য। বাজার ছেয়ে ফেলেছে সুরাতের নকল বেনারসী। প্রয়াগ ঘাটের পুরোহিত ওঙ্কারনাথ তিওয়ারি বললেন, ‘কাশীর প্রতিটি নুড়ি পাথরে বিশ্বনাথ আছেন। আর সেই মহাদেবকে নিয়ে এখন চলছে স্রেফ ব্যবসা! তাকিয়ে দেখুন বদলে যাওয়া কাশীকে। সবথেকে বেশি চোখে পড়বে, ব্যবসা চলছে ধর্ম নিয়ে। ধর্মে সইবে তো?’ 
26d ago
কলকাতা
রাজ্য
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

মাতুলের থেকে বিত্তলাভ হতে পারে। কোনও বিষয়ের মানসিক উদ্বেগ কমবে। বিদ্যাচর্চায় বিশেষ শুভ।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮২.৭৭ টাকা৮৪.৫১ টাকা
পাউন্ড১০৪.১৬ টাকা১০৭.৬৩ টাকা
ইউরো৮৮.০৭ টাকা৯১.১৯ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
22nd     June,   2024
দিন পঞ্জিকা