আমরা মেয়েরা

যুগের হাওয়া লিভ ইন হলেও বিয়েই ভালো

এই পাতায় শুরু হয়েছে নতুন বিভাগ ‘তর্ক বিতর্ক’। লিভ ইন না বিয়ে— এই মতের পক্ষে ও বিপক্ষে পাঠকদের মতামত বেছে নিয়েছি আমরা। পরের পর্বে আপনিও জানাতে পারেন আপনার মতামত।
 

পক্ষে
সৌম্যজিৎ পাল, কলেজ পড়ুয়া  
‘লিভ ইন’— একসঙ্গে থাকা, পরিবার-পরিজনের ঝামেলা এড়িয়ে দু’টি মনের মানুষের পাশাপাশি পথ চলা। যুগের হাওয়ায় সম্পর্কের ভঙ্গুরতা কিন্তু অনেক বেশি। মনের মিল না হলে সহজেই লিভ-ইন থেকে বেরিয়ে আসা যায়, ‘মানিয়ে নেওয়া’ শব্দটা সেখানে আত্মসম্মান বিসর্জনস্বরূপ। ‘যদিদং হৃদয়ং মম, তদস্তু হৃদয়ং তব’—বিয়ের অর্থ যেখানে শুধু দু’টি মানুষ নয়, দুটো পরিবারের মিলন। সেখানে একসঙ্গে পথ চলায় আসে দায়িত্ববোধ, ঝগড়া-বিবাদ মেটানো যায় সহজেই, বাড়ে ভালোবাসা, থাকে সম্পর্কের স্থিরতা। তাই যুগের হাওয়া যেদিকেই যাক বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানটির কোনও বিকল্প হবে না।

গার্গী চট্টোপাধ্যায়, ছাত্রী, ক্যালকাটা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ 
বিয়ে মানে শুধুই দুটো মানুষ নয়, দুটো পরিবারের সম্পর্ক স্থাপন, সুখে-দুঃখে‌ পাশে থাকার সামজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার। বিয়ের স্বীকৃতিতে থাকে সম্পর্কের দৃঢ়তা, সহজে হাত না ছাড়ার আশ্বাস। আড়ম্বর না চাইলে নিভৃতে বিয়ে করাও যায়। অন্যদিকে, লিভ ইন-এ ভালোবাসা হয়তো‌ থাকে কিন্তু ভবিষ্যতের অঙ্গীকার থাকে না। ভালোবাসলে তাকে সামাজিক মর্যাদা দিয়ে‌ বিয়ে করতে সমস্যা কোথায়? নাকি এটা পরোক্ষে সহজে ছেড়ে যাওয়া, দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা‌? যুগের হাওয়ার অজুহাতে, পাশ্চাত্যের অনুকরণ করতে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি‌ সম্পর্কে জড়ানোর অনীহা থেকেই বাড়ছে একাকিত্ব। কমছে সর্ম্পকের স্থায়িত্ব, দায়িত্ববোধ, মানিয়ে চলার চেষ্টা। 

দীপ্তি রায়, কলেজ পড়ুয়া
লিভ ইন হোক বা বিয়ে, দুটো সম্পর্কেই দরকার দু’জন মানুষের মধ্যে পরস্পরের প্রতি বিশ্বাস, সম্মান, ভালোবাসা। তা না হলে দুটোর একটিও টিকবে না। তবে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি হয়েও আমি বিয়েতেই বিশ্বাসী। দু’জন মানুষের মধ্যে যদি বিশ্বাস-সম্মান- ভালোবাসা সম্পর্কের এই তিনটি ভিত মজবুত থাকে,তাহলে বিয়েতে ক্ষতি কী? এই যে  বিগত ২৫ বছর ধরে মা-বাবাকে দেখছি, তাঁরা বিবাহিত জীবন অতিবাহিত করছেন একে অপরের পরিপূরক হয়ে। তাঁরা একে অপরের প্রতি শুরুর দিন থেকে একইভাবে বিশ্বাস, সম্মান দেখিয়েছেন। যার ফলে তাঁদের ভালোবাসায় এতটুকু মরচে ধরেনি। তাই আমি মনে করি সব ঠিক থাকলে সম্পর্কে সামাজিক স্বীকৃতি দিয়ে বিয়ে করাই যায়।

কোয়েল সরকার, বিএড ছাত্রী, পূর্ব বর্ধমান
এখনকার প্রজন্মের লিভ ইন-এ বিশ্বাস করার একটাই কারণ, স্বাধীনচেতা মনোভাব। তাদের বিশ্বাস, বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার অর্থ পরের ইচ্ছার দখলে চলে যাওয়া। আর একটা কথা ট্রেন্ড, লোকে যা করছে, আমাকেও করতে হবে। সেটা ঠিক কি ভুল, জানার দরকার নেই। সম্পর্ক একটা হিসেবের খাতা বা আইনের বই নয়, সেখানে সংযোগ থাকাটা খুব দরকার। লিভ ইন-এ যে ভালোবাসা নেই তা বলছি না। কিন্তু ভালোবাসার দায়িত্বটা কম। পাশাপাশি বসে থাকা সহজ, কিন্তু হাত ধরে সারাজীবন হাঁটা সহজ নয়। এটাই পার্থক্য। আর এখন সবই সহজলভ্য, তাই গভীরতা কম। 

বিপক্ষে

রতন কুমার দাস, ডিজিটাল ক্রিয়েটার 
লিভ ইন সম্পর্কটাকে অনেকেই যুগের হাওয়া রূপে দেখেন। ‘বিয়ে’ নামক ঝামেলায় না জড়াতে বর্তমানে লিভ-ইন এ থাকা খারাপ কিসের? এতে তো দু’জন মানুষ অনেকটা স্বাধীনতা পায়। একে অপরের কর্মক্ষেত্র, ইচ্ছে, জীবনের চাহিদাগুলোকে কাছ থেকে দেখার, চেনার সুযোগ পায়। এক্ষেত্রে, বিয়ের পর অশান্তি, তা থেকে ডিভোর্স ইত্যাদির বালাই নেই। পরে চাইলে  তারা বিয়ের কথা ভাবতেই পারে। দিনের শেষে, তাদের দু’জনকেই একে অপরের সঙ্গে কাটাতে হবে। তাই সিদ্ধান্তটা তাদেরই হোক। পুরো বিষয়টাকে যুগের হাওয়া বলে দাগিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। জীবনের প্রকৃত বন্ধু খোঁজার নতুন দিগন্ত হিসেবে লিভ-ইন একটা পরিসর হতেই পারে।

 শংকর সাহা,গবেষক ও বাচিকশিল্পী, দঃ দিনাজপুর
একটি সম্পর্কে বিশ্বাস, অনুভব ইত্যাদি শব্দ খুব গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে দু’জন দু’জনকে জানবে বা বুঝবে। সম্পর্কের শেষ সমাধান যে শুধুই বিয়ে তা এই প্রজন্মের কাছে হয়তো সবসময় গ্রহণযোগ্যতা পায় না। বিয়েই যদি সবকিছুর সমাধান হয়, তবে দিনে দিনে বিবাহ-বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে কেন? বিশ্বাস ও ভরসা এই শব্দদুটোর উপরে ভর করে দু’জন মানুষ যদি লিভ ইনে থাকে তবে সেখানে মন্দ কিছু আছে বলে মনে হয় না! সম্পর্ককে সুন্দর করে রাখার দায়িত্ব কিন্তু আমাদেরই। সবটাই আমাদের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির উপরে নির্ভরশীল। দু’জন মানুষ ভালোবেসে লিভ ইন-এ থাকলে সেখানে অপসংস্কৃতির ছায়া খুঁজতে যাওয়া ঠিক নয়।

শ্রাবণী দত্ত, শিক্ষিকা, টেকনো ইন্ডিয়া গ্রুপ পাবলিক স্কুল 
জীবনসঙ্গীকে যথাযথভাবে চেনার, জানার এবং সুসমন্বয় সাধনের মুক্ত পরিবেশ তখনই তৈরি হয় যখন তারা দু’জন একান্তে থাকতে পারেন; সেটা বিবাহ নামক প্রতিষ্ঠানের অন্তর্ভুক্ত থেকে সবসময় সম্ভব হয় না। বিশেষত স্বাধীনচেতা বিবাহিতা মহিলাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়, পুরুষদেরও বহন করতে হয়  পারিবারিক  দায়-দায়িত্বের  নানা  উদ্বেগ, যেগুলি পরোক্ষ প্রভাব বিস্তার করে সম্পর্কের অন্দরে। অপরপক্ষে, লিভ-ইনে সেইরূপ সমস্যার সম্ভাবনা কম। সমাজের অর্থহীন কটাক্ষ উপেক্ষা করে নিজেদের মানসিক শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়ার জন্যই এখন যুগের হাওয়া লিভ ইন। এতে দু’টি মানুষ অনেক বেশি মন দিতে পারেন পরস্পরের প্রতি। সাংসারিক উদ্বেগ বা অন্য সমস্যা সেখানে অনুপ্রবেশ ঘটায় না। প্রসঙ্গত, গুটিকতক লিভ-ইন দম্পতির ক্ষেত্রে কিছু দুর্ঘটনা ঘটলেও সেইসব ব্যতিক্রম অবশ্যই উদাহরণ হতে পারে না।

অলংকৃতা দত্ত, রিসার্চ স্কলার, লাইব্রেরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সায়েন্স, ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি
পুরাণে গান্ধর্বমতে বিবাহের নাম শুনেছেন? যাঁরা ভাবেন, লিভ ইন মানেই যুগের হাওয়া, তাদের একটু পড়াশোনা করা দরকার। অনেকেই ধরে নেন বিয়ে মানেই ভালোবাসার পূর্ণতা, দায়িত্ব নেওয়া ইত্যাদি। তাহলে পরকীয়া, ডিভোর্সের সংখ্যা এত বৃদ্ধি পাচ্ছে কেন? তাছাড়া বিয়ে এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কে কত বেশি প্যাকেজের অনুষ্ঠান করছে, কত বেশি মাইনের পাত্র পাচ্ছে— সবমিলিয়ে গোটা ব্যাপারটাই যেন অসুস্থ প্রতিযোগিতা, প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। বিয়ের পর এদেরই বাইরে অন্য সম্পর্ক তৈরি হচ্ছে। সুতরাং ‘বিয়েই ভালো’ সমীকরণটি বড্ড নড়বড়ে। অনেকেই লিভ-ইন সম্পর্কে যথেষ্ট দায়িত্বশীল এবং বিশ্বাসযোগ্য। সম্পর্ক বিশ্বাস, সম্মান এবং ভালোবাসার একটা যাত্রাপথ, বিয়ে নামের কোনও গন্তব্যস্থল নয়।
4Months ago
কলকাতা
রাজ্য
দেশ
বিদেশ
খেলা
বিনোদন
ব্ল্যাকবোর্ড
শরীর ও স্বাস্থ্য
বিশেষ নিবন্ধ
সিনেমা
প্রচ্ছদ নিবন্ধ
আজকের দিনে
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
mesh

মাতুলের থেকে বিত্তলাভ হতে পারে। কোনও বিষয়ের মানসিক উদ্বেগ কমবে। বিদ্যাচর্চায় বিশেষ শুভ।...

বিশদ...

এখনকার দর
ক্রয়মূল্যবিক্রয়মূল্য
ডলার৮২.৬৬ টাকা৮৪.৪০ টাকা
পাউন্ড১০৩.৮৯ টাকা১০৭.৩৫ টাকা
ইউরো৮৭.৭৬ টাকা৯০.৮৮ টাকা
[ স্টেট ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া থেকে পাওয়া দর ]
*১০ লক্ষ টাকা কম লেনদেনের ক্ষেত্রে
25th     June,   2024
দিন পঞ্জিকা