বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
গল্পের পাতা
 

ভোগ
শুচিস্মিতা  দেব

পুতুলকে সদ্যই নিমতিতা থেকে ‘রায়চৌধুরী ভিলা’তে এনেছে তার পিসি সবিতা। সবিতা এই পরিবারের বহু দিনের থাকা-খাওয়ার মাসি। টিভি সিরিয়ালের মতো প্রকাণ্ড বাড়িখানা দেখে পেরথমেই ভেবলেছে পুতুল। ফুটবল মাঠের মতো বৈঠকখানা। বাহারি আসবাবের চোখধাঁধানো জৌলুস। আর মানুষগুলান? গোরাপানা ঢলঢলে ববকাট গিন্নিমা। ইয়া লম্বা-চওড়া দাড়িওয়ালা বাবু... বাপরে! দেখলে বুক ঢিপঢিপ করে পুতুলের। ওদের একমাত্তর মেয়ের বিয়ে। মেয়ের নামটা বড্ড খটমট। সায়ন্তনী। ডাকনামটাই বেশ। সানা। দিদিমণিটিও মটমটে— মেজাজি। বেচাল দেখলেই ইঞ্জিরিতে পটপট গাল পাড়ে। বাড়ির বেড়ালটা পয্যন্ত ভয় খায় তাকে। পিসির ধারণা, দিদিমণিটি আদরে বাঁদর হয়েছে। ‘আদর’ কথাটা বোঝে না যদিও পুতুল। কারণ চার মেয়ের পর পঞ্চম কন্যে পুতুলের জীবনে এটির একান্তই অভাব। বরং তার প্রতি সংসারের দুচ্ছাই ভাবটা সে ধরে ফেলেছে অবুঝ বয়সেই। পুতুলের তাই বাড়ির প্রতিও টান নেই একরত্তি। সানা দিদিমণির বিয়েতে খাটাখাটনির জন্য পিসি তাকে গেরাম থেকে আনাতে সে বেজায় খুশি। পিসির পায়ে বাত, ছোটাছুটি কত্তে পারে না আজকাল। পুতুল প্রাণপণে ফাইফরমাশ খাটবে, ক’টা দিন ভালো-মন্দ খাওয়া জুটবে, আহা! ভাবতেই জিভে জল আসে সপসপিয়ে। কাপড়ও তো পাবে নতুন! এক মাসের মাইনের উপর খুচখাচ বকশিস উপরি। গিন্নিমায়ের খোলা হাত। আসতেই পুতুলকে দিদিমণির পুরনো সালোয়ার-কামিজ, নাইটি দিয়েছে। সব আস্ত, ছেঁড়াখোড়া নয় মোটে। দিদিমণির গড়ন তো পুতুলেরই মতো। রোগা-লম্বা। ছোট থেকে ‘খাই’ ‘খাই’ করা পুতুলের ভরপেট খাবার কবে জুটল যে হাড়ে তার মাস লাগবে? তবে রগড়ের কথা দিদিমণির কেস কিন্তু উল্টো। মোটা হবার ভয়ে নাকি খায়ই না দিদিমণি— সিরিয়ালের নায়িকাদের মতো! শোনা ইস্তক অবাক পুতুল! সাধ করে আধপেটা খাওয়া? তা-ও হয়? কেমন মানুষ রে এরা? এমন সব সুখাদ্য পেয়েও পেটে তালা মারা কি চাট্টিখানি কথা? ভগবানের অসাধ্যি কাজ মনে হয় পুতুলের।
সানার বিয়ে যত এগচ্ছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে পুতুলের। সারাদিন ছুটে ছুটে সবার হাতে দরকারের বস্তুটি জুটিয়ে দিচ্ছে সে। দিনের শুরু ভোর পাঁচটায় আর শেষ রাত্তির এগারোটায়। তবে কাজটা কত্তে তার বড় ভালো লাগছে গো। জীবনে পেরথমবার কেউ তাকে এমন গুরুত্ব দিচ্ছে, যেন পুতুল ছাড়া বাড়ি অচল। তার পনেরো বছরের হিলহিলে শরীর ছুটছে যেন রেলগাড়ি। সবিতা তাকে ক্ষণে ক্ষণে মনে করায় ‘খুব সাবধানে কাজ করবি পুতলি! কিচ্ছুটি ভাঙবিনে। কিছু এধার-ওধার করবিনে। আমি হলেম এদের বিশ্বেসী লোক। সোনাদানা সামনে ফেলে রাখলেও ফিরে তাকাব না। এরা জানে। তাই তো আমার ফেমিলি থেকেই লোক আনা। এখন তুই যেন বেচাল কিছু করিসনে বাপু।’ ওমা! পিসি যেন কেমনপানা কথা কয়! পুতুল কেন বেচাল কত্তে যাবে? সে কি লোভী নাকি? কথার কথা... এই যে বাড়িময় থই থই কচ্ছে জিনিসপত্তর... গিন্নিমা থোড়াই সেসবে নজর দিচ্ছেন। সব সামলাচ্ছে তো পুতুলই। এখন যেমন চলছে তত্ত্ব সাজানো। হেই মা! দেখে পুতুলের তো চক্ষু ছানাবড়া! পষ্ণাশটা টেরে। পঞ্চাশ! ভাবা যায়? আর সাজানোর কী কেতা! ভাড়া করা আর্টিস কাপড়-জামা, গয়না, সেন্ট আরও কত দ্রব্য দিয়ে ইস্টাইল করে টেরেগুলো সাজাচ্ছে। পুতুল আর্টিসকে চা-কফি জোগাচ্ছে ক্ষণে ক্ষণে আর দেখছে আশ মিটিয়ে। তার মধ্যে আবার মুহুর্মুহু আসছে মোটরবাইকওয়ালারা। সে আর এক রঙ্গ! যা লাগছে, সব দোকান থেকে এনে দিচ্ছে তারা। বাজারে যাবার ঝক্কিই নেই! শাড়ি-জামা, ঝুটোগয়না মায় নকল চুল আর খোঁপা পয্যন্ত আনছে মোটরবাইকওয়ালারা! বিয়ের দিন গিন্নিমায়ের চুলকে নকল চুল লাগিয়ে লম্বা করে দেওয়া হবে! এসব দেখেশুনে এমনিতেই নেশাগ্রস্তের মতো কেমন বুঁদ হয়ে আছে পুতুল, তার মধ্যে পিসির যত আলাতুনে উল্টোপাল্টা কথা! সে কেন অবিশ্বাসের কম্মো করতে যাবে? ধুৎ! পিসিটার মাথায় ক্যাড়া আছে।
দুই
আজ বিয়ে। ভোর-ভোর দধিমঙ্গলের আয়োজনে লেগেছে সবিতা। অ্যাসিস্ট্যান্ট পুতুলের চোখ গোল-গোল। কনের জন্য ইয়া বড় কাতলামাছের মুড়ো আর ল্যাজা ভাজা হয়েছে। যা দেখে সানা ঘুমচোখে মুখ ঝামটা দিয়ে উঠল।
‘আর ইউ কিডিং মা! আমি এসব খাব? আর সারাদিন উপোস-টুপোস কিন্তু করতে পারব না। ছবিতে আমাকে হ্যাগার্ড দেখাবে।’
না জানি কেমন খেতে লাগে এমন কটকটে পুরুষ্টু ভাজামাছ— ভাবতে ভাবতে আচ্ছন্ন পুতুল ‘হ্যাগার্ড’ কথাটাতে হোঁচট খেয়ে হুঁশে ফেরে। দিদিমণি উপোস করবে না। দিনকাল গেরামে তত না পাল্টালেও শহরে বিলক্ষণ পাল্টেছে। কথার কথা... দিদিমণির বে হচ্ছে গিয়ে ভরা ভাদ্দরে। এমনটা কে কবে শুনেছে? কিন্তু বর থাকে আমেরিকায়। সে কি পাঁজি দেখে ছুটি-ছাটা পাবে নাকি? তাই বিদেশে যেমনটা, তেমন বিদেশিদের জন্যও বুঝি নিয়ম নাস্তি। এটা পুতুল লেখাপড়া না শিখলেও বুঝেছে।
‘হুঃ! বিয়ের থেকে মেয়ের ছবি তোলাটাই বড়’— আত্মীয়স্বজনদের সামনে আদুরে কন্যাটিকে সামলাতে হিমশিম গিন্নিমায়ের চাপা ফোঁসফোঁসানি কানে আসে পুতুলের। গিন্নি জানেন আত্মীয়রা এখন স্পঞ্জের মতো শুষে নিচ্ছেন ঘটনাবলি, পরে দফায় দফায় চলবে মুখরোচক চর্বিতচর্বণ।
এরপর জলসওয়া মঙ্গলাচরণটির উপর ঠান্ডাজল ঢেলে সানার আরেক দফা দাপাদাপি, ‘প্লিজ় মা, হ্যাভ সাম সেন্স! ইট’স রেইনিং! এর মধ্যে ঝিল থেকে জল আনার মানেই হয় না।’
ঝিলটি কাছেই তবু সানার যদি মনে হয় ‘মানে হয় না’, তাহলে স্বয়ং ভগবানেরও সাধ্য নেই মানে হওয়ানো, তায় গিন্নি তো কোন ছাড়! কিন্তু বড় আশাহত হল পুতুল। দূর! পুরো রঙ্গ মাটি! কোথায় ভরাট টইটুম্বুর ঝিল আর কোথায় বাড়ির গ্যারেজের বাইরের ট্যাপকল!  
সানা ডিক্লেয়ার করেছে সকালে নান্দীমুখের পুজোটা সংক্ষেপে সারতে হবে। তাকে সময়মতো সাজতে যেতে হবে। সাজতে যাবার ব্যাপারখানা পেরথমে বোঝেনি পুতুল। পরে বুঝল। বাড়ির মেয়ে-ঝিয়েরা কনে সাজাবে না। কনে সাজতে যাবে পার্লারে। সেটা কেমন জায়গা বোঝেনি পুতুল। শুনেছে তিরিশ হাজার টাকা লাগবে। শুনে সানার জেঠিমা ঠাসঠাস শোনালেন, ‘ছিঃ। টাকার শ্রাদ্ধ! সাজতে তিরিশ হাজার!’
‘চাকুরে মেয়ে নিজে খরচ করছে, আমরা বলার কে?’ সানার মাসি বোনঝির হয়ে ব্যাটিং করলে জেঠিমা মুখ বাঁকালেন, ‘তা বটে! আমাদের আমলের কচিখুকি তো নয়, এরা হল সোমত্ত মেয়ে।’
 বড় চাকুরে সানা বহুদিন বিয়ের পিঁড়িকে ডজ করে পৌঁছেছে তিরিশের কোঠায়। জেঠিমা বয়স প্রসঙ্গে ঠেস মারার লোপ্পা ক্যাচটি পরিপাটি দক্ষতায় লুফে নিলেন। যদিও তিনি নিজকন্যাকে একুশে পার করলে, তিরিশে সে ফিরে এসেছে পিত্রালয়ে। পড়াশোনাটাও হল না। এখন চলছে অ্যালিমানি নিয়ে চুলোচুলি। সানার স্বাধীনতা, লোভনীয় চাকরি কোনওদিনই জেঠিমাটি হজম করতে পারেননি।   এইবার পুরোহিতের সাড়ম্বর প্রবেশ। পুরুতমশাইকে পুতুল পেরথমে ঠাহর কত্তে পারেনি। পুরুতমশাই মানে ওদের গাঁয়ের উদলা গা, ময়লা পইতে, কুঁজো ধনা পণ্ডিত। এঁর স্মার্ট কথাবার্তা— ফিটফাট। বরের বিদেশি বান্ধবদের ইংরেজি তর্জমায় বিয়েটা বুঝিয়ে দিতে হবে, তাই রেটও হাই। পঁচিশ হাজারে রফা হয়েছে। সেটা শুনে শহর সম্পর্কে পুতুলের ধারণা আরেকটা ধাপ এগিয়েছে। 
পুরোহিতের হাতে হাতে সামগ্রী জোগানো আর শঙ্খ বাজানোর গুরুদায়িত্ব পুতুলের। নান্দীমুখ পুজোটিতে পূর্বপুরুষদের কাছে কন্যার জন্য আশীর্বাদ প্রার্থনা করা হচ্ছে। গিন্নিমা-বাবুর বাপমায়েদের হাস্যমুখ ছবি মালা-চন্দনে চমৎকার সেজেছে। সবিতা দু’টি মাটির থালায় ছবির সামনে ভোগ সাজিয়ে দিল। আরিব্বাস! বড় বড় ফুলকো লুচি, ডাঁটুশ গোল গোল বেগুনভাজা, ছানার ডালনা, ছোট আলুর দম, নতুনগুড়ের পায়েস। পুতুলের চোখ আটকে গেল প্লেটে। আহা! ময়দার সাদা ধবধবে লুচি গো! এমন লুচি খাওয়ার বাসনা পুতুলের আশৈশব, কিন্তু জুটল কই? তার মা কত্তেই চায় না, অনেক নাকি তেল লাগে। তাই বলে একটা দিনও কি করা যেত না? আসলে পুতুলের চাওয়ার দামই তো নেই বাড়িতে। ভাবতেই অভিমানে চোখ দু’টিতে জ্বালা ধরে। ছোট্ট বুকটি মুচড়ে ওঠে। পাতলা ঠোঁটে সামান্য কাঁপন জাগে। হঠাৎই এই প্রাসাদোপম ঘরবাড়ি, ঝাড়লন্ঠন, ঘরজোড়া পুজোপচার, ধূপ-ধুনো-প্রদীপের জ্বলন্ত শিখা সব... সব কেমন আচ্ছন্নতায় অবশ করে ফেলে পুতুলকে। দিদিমণির মতো সে কেন জন্মাল না এমন একটা বাড়িতে? কষ্টে ভাঙতে থাকে মন। কেউ ধমকায়, ‘এই মেয়ে! শঙ্খটা বাজা!’ তাড়াতাড়ি শাঁখে ফুঁ দেয় অপ্রস্তুত পুতুল।
তিন
পুজো শেষ। ঠাকুরমশাইয়ের নির্দেশ শুনে পুতুল থ’... অনড়। গিন্নিমা তাড়া দিচ্ছেন, ‘কী রে পুতলি, যা! ঠাকুরমশাই কী বললেন? প্লেট দুটো ছাদে রেখে আয়।’ পুতুল এগয়। দু’হাতে প্লেট। পায়ে পায়ে উঠছে ছাদে। আঃ! নাকে লুচি-বেগুনভাজা, ছানার ডালনা, পায়েসের মিশ্রিত ঝিমধরানো সুবাস ভাসে জিভে জল আসে চুঁইয়ে, পেটে খিদে মোচড় মারে। এই খাদ্য তাকে ছাদে রেখে আসতে হবে— কাকরূপী পূর্বপুরুষদের রসনাতৃপ্তির জন্য। পা দু’টি টেনে টেনে ছাদে পৌঁছয় পুতুল। ধুলোমাটিতে নামায় আহার্য। লুচির গন্ধ বড্ড টানছে... তীব্র টান... বড্ড লোভ জাগছে গো। তার শরীরে এত লোভ বাসা বেঁধে আছে জানত না পুতুল। সে ভাবে খেলে কী হয়? এত সব সুস্বাদু খাবার... কাকের পেটে যাবে?
 তখনই পিসির কথাগুলান মনে পড়ে— তারা বিশ্বেসী লোক। লোভী নয়, চোর নয়। চুরি করে ভোগ খাওয়া তো পাপই! দোনামনায় দোলে ছোট মেয়েটির লুব্ধতা। এমন ফুলকো লুচি জীবনে আর কি জুটবে তার? নিশপিশ মন কেবলই আগুপিছু করে। কেবলই পাপবোধ শাসন করে তার আগ্রাসী লোভকে। সে টালুস-মালুস করে চারপাশে চোখ বোলায়। দাদু-ঠাম্মা-দিদার আত্মারা নিশ্চয়ই চারপাশেই ঘুরছে। ভয় করে। যদিও দুপুরবেলায় ভূতেদের উপদ্রবের আশঙ্কা তেমন থাকে না বলেই জানে পুতুল। তবে বলা কি যায়? প্রিয় নাতনির বিয়ে বলে কথা! কত আড়ম্বরে পুজো করে তেনাদের ডাকাডাকি করা হল। ছবির সামনে নিমন্ত্রণপত্র পর্যন্ত দিতে ভুল হয়নি। এমন ভাবে ডাকলে কি না এসে পারেন তাঁরা? তবে খাঁ-খাঁ ছাদে কোনও কাকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। তবু গায়ে কাঁটা দেয় পুতুলের। অলক্ষ্য চারজোড়া চোখের বায়বীয় উপস্থিতি কাঁপন ধরায় বুকে। নাঃ... দরকার নেই! উপোসি প্রেতাত্মারা চটে গিয়ে ঘাড় মটকে দেয় যদি? খিদে-লোভ বড় খতরনাক চিজ। তবে শরীরই তো নেই ভূতেদের— খিদে পায় কেমনে? তবু ভূতেদের সঙ্গে পাঙ্গা নেওয়া? থাক গে... পুতুল এবার শেষবারের মতো কাতরভাবে তাকায় থালা দু’টির দিকে।  
পায়ে পায়ে ফিরতে গিয়েও আবার থমকায় পুতুল। একটা কাক কোথা থেকে সাঁ করে নেমে এল আচমকা! কা-কা করে এক পাক ঘুরে বসল থালার পাশে। পুতুলের শরীরের লোমকূপ খাড়া হয়ে উঠছে। তবে কি এসে গেলেন তেনারা? কে ইনি? কোন জন? চেনার তো উপায় নেই। কাকটা একটা খুড়িতে ঠোক্কর মেরে পায়েসটা উল্টে দিল। ই-শ! সঙ্গে সঙ্গে পুতুল ছিটকে উঠল— দেখ কাণ্ড! খানিকটা পায়েস ফেলে ছড়িয়ে দিল হারামজাদা কাকটা? বুকটা কষ্টে চিনচিনিয়ে উঠতেই দুম করে ছুটে গিয়ে কাকটাকে তাড়া করে পুতুল। কাকটা ডানা ঝাপ্টিয়ে সরে যায়। আরে? কাকটা ভয় পাচ্ছে যে! এই কাক তবে প্রেতাত্মা হতেই পারে না। ভূত-প্রেত ভয় পায় নাকি? বুকে বল এসে গিয়েছে পুতুলের। দূর! নিকুচি করেছে প্রেতাত্মার। ঝাঁপিয়ে পড়ে সোৎসাহে মাটিতে উবু হয়ে বসে, থালা থেকে লুচি আর তরকারি তুলে গোগ্রাসে নিজের মুখে গুঁজতে থাকে পুতুল... এক মুহূর্তে থালা সাফ করে ফেলবে এমন ক্ষিপ্রতায় মুখে খাবার ঠুসে চলে। একটা আলু ছুড়ে দেয় কাকটার দিকে। আরও কয়েকটা কাক ভেসে আসে। তাদের দিকে টুকরো লুচি ছুড়ে দিতে দিতে পুতুল সন্তোষের হাসিতে ভাঙে। তার কষ বেয়ে গড়িয়ে নামে ঝোল, পায়েস আর লালায় মাখামাখি পরিতৃপ্তি।  
পুতুল নীচে নেমে দেখে পুরোহিত শান্তির জল ছিটাচ্ছেন বাড়িতে। ভয়ে ভয়ে সে তাকায় দাদু-দিদাদের ফোটোর দিকে। তাঁরা দিব্যি হাস্যমুখে চেয়ে আছেন পুতুলের দিকে। 
অঙ্কন: সুব্রত মাজী

3rd     March,   2024
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ