বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
গল্পের পাতা
 

ছিরিছাঁদ

তমাল বন্দ্যোপাধ্যায়: সুবোধ স্মৃতি বিদ্যানিকেতন’ নামটা শুনে মনে হতেই পারে এটা কোনও ইশকুল বুঝি। নাহ, আসলে ছোটখাট একটা টিউটোরিয়াল হোম। তবে নাম যাই হোক এই তল্লাটের লোকজন বলে ‘মঞ্জু দিদিমুনির কোচিন’। আজকাল মহিলা টিচারদের ম্যাডাম বলার চল উঠেছে। তবু এই কোচিংয়ের ছাত্রছাত্রীদের মুখে অকৃত্রিম দিদিমণি ডাক শুনে একটা ব্যাপার সহজেই ধরে নেওয়া যায় এটা টাউনের ভিতর দিকের অনভিজাত কোনও এলাকা। আর এখানকার ছাত্রছাত্রীরা বেশিরভাগই খুবই সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত ঘরের ছেলেমেয়ে।
মাধ্যমিকের বেশি পড়ান না মঞ্জুদি। খুব একটা উচ্চশিক্ষিতও নন। বাংলা, ইতিহাস, ভূগোল, জীবনবিজ্ঞান এইসব সাবজেক্ট ভালো পড়ালেও ইংরেজি, অঙ্ক বা ভৌতবিজ্ঞানের দিকগুলোর জ্ঞান কাজ চালিয়ে দেওয়ার মতো। তেমন কঠিন কিছুর মুখোমুখি হলে তাঁকে ভিতরের ঘর থেকে ছাত্রবন্ধু দেখে আসতে হয়। মেধাবী স্টুডেন্টরা পড়েও না এখানে। দিদিমণিকে দেখতে মোটেও আকর্ষণীয় নয়। তবুও একবার যে ওঁর বাড়িতে কোচিং ক্লাসে পড়তে আসে অজান্তেই কেমন করে যেন জুড়ে যায়। তারপর পাশ করে না বেরনো পর্যন্ত আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকে এই মহিলার সঙ্গে!
বছর তিরিশের ন্যালাখ্যাপা ভাই একটা আছে কিন্তু সে থাকাও যা না থাকাও তাই। প্রাক্তন প্রাইমারি শিক্ষক বাবা বছর চারেক আগে গত হওয়ার পর তাই ছাত্রছাত্রীরা ছাড়া তাঁর আর কেউ নেই। দিদিমণি যেমন ছাত্রছাত্রী অন্ত প্রাণ, ওরাও সবাই তেমনই মঞ্জু দিদিমণি বলতে অজ্ঞান। সকাল-সন্ধে হইহই করতে করতে দল বেঁধে সব পড়তে আসে। নিজেরাই দালানের ঘরটা ঝাঁট দিয়ে মেঝেতে মাদুর পেতে বসে পড়ে। পড়া শেষ হলেও মঞ্জুদির সঙ্গে চিপ্‌কে থেকে বাড়ি ফিরতে দেরি করে অনেক মেয়েই। ছেলেরা কেউ কেউ বাজার-দোকানও করে এনে দেয় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে।
ওদের নিয়েই মঞ্জু দিদিমণির দিন কোথা দিয়ে যে কীভাবে কেটে যায়, তিনি নিজেই বুঝে উঠতে পারেন না। বয়স পঞ্চাশ ছুঁতে চলল প্রায়, কিন্তু ওরা আছে বলে কোনওরকম অভাব বোধের অঙ্কুর মাথা তুলতে পারেনি আজ পর্যন্ত। আজকাল অনেক ভেবেচিন্তেই তাই ছাত্রছাত্রীদের বাইরে কারওর সঙ্গে বড় একটা মিশতে চান না দিদিমণি। কারণ মিশতে গেলেই ঘুরেফিরে সেই একই কথা শুনতে হবে, সবই তো ঠিক আছে কিন্তু বিয়েটা করলি না কেন শুনি? শুনলেই হাড়পিত্তি জ্বলে যায়। তবুও পাড়া মহল্লায় কি আর সে প্রশ্ন অত সহজে পিছু ছাড়ে! তাই সোজা কথাকে সোজাভাবে বলায় কোনও লজ্জা নেই যে, বিয়ে হয়নি তাই করিনি, কেউ আমাকে বিয়ে করেনি তাই হয়নি। তবুও কেউ কথা বাড়াতে চাইলে কথা থামানোর মোক্ষম দাবাই নিজেকে নিয়ে ঠাট্টা করে ওঠা, আমার মতো কোল্ডস্টোরের শাঁকালুকে আর কে বিয়ে করবে?
আত্মপরিহাসে এই এক সুবিধা আছে, এতে অস্তিত্বের ভার অনেকটা কমে। হালকা খাটো শরীরটা নিয়ে ভারহীন চলাফেরা করেন মঞ্জু দিদিমণি। এই বয়সেও সেই কিশোরীবেলার মতো ছুটে বেড়ান, মাঝে মাঝে দেখে মনে হয় যেন ধূসর চড়াই পাখিগুলোর মতো উড়ে বেড়াচ্ছেন। সুদর্শনা সমবয়সি বান্ধবীরা যারা দ্রুত সুপাত্রস্থ হওয়ার অহমে একসময় মঞ্জুকে করুণার চোখে দেখত, আজ তারাই সদাব্যস্ত বান্ধবীকে দেখে বলে— তুই-ই ভালো আছিস, আজকাল তোকে দেখে হিংসে হয়। মঞ্জু হাসে। নিজের তো কোনও গল্প নেই, তাই ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যের গল্পের ঝুড়ি নিয়ে বসে ওদের সামনে। কড়িবরগা দেওয়া লম্বা দালান ঘর ভর্তি স্টুডেন্টদের কলকলানির দিকে ওদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলে, ‘ওদের কথা আর বলিস না, ওদের সারা বছরই কোনও না কোনও অনুষ্ঠান লেগেই আছে। পিকনিক, বছরে একবার বাসভাড়া করে ঘুরতে যাওয়া, রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী, টিচার্স ডে আর সরস্বতীপুজো তো আছেই। আমার জন্মদিনটা পর্যন্ত এমন ঘটা করে পালন করবে যে, লজ্জায় মরি আর কী!’
জাঁকিয়ে যেমন শীত পড়েছে এবার, চামড়ায় লাগছে তেমনই টান। জানুয়ারি শেষ হয়ে এল প্রায়। এমন সব সময়ে হাত পা-ফাটার সমস্যা বাড়ে দিদিমণির। গোড়ালিতে পুরু করে ভেসলিনের প্রলেপ লাগাতে লাগাতে উঠোন থেকে উনি দেখতে থাকেন ভেতরের ঘরে ছেলেমেয়েদের নানান ধরনের হাতের কাজের ডিজাইন নিয়ে ব্যস্ততা। সরস্বতীপুজোর আর বেশি দেরি নেই। প্রতিবারের মতো এবারও ওরা মঞ্জু দিদিমণির বাড়ির সামনের জায়গাটা জুড়ে প্যান্ডেল খাটিয়ে ঠাকুর বসাবে মণ্ডপে। নিজেরাই ঠিক করেছে এবার ওরা থিম সাজাবে। ছাত্রছাত্রীদের অনেকেই পিছনের বাগদিপাড়ার ছেলেমেয়ে। সাজ শিল্পের জন্য বিখ্যাত ওই পল্লি। শোলা, থার্মোকল, কাগজ দিয়ে এমন সব কারুকার্য করবে পথচারী দর্শকদের পক্ষে যেন অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায় তাদের পুজোকে এড়িয়ে যাওয়া। 
দুই ছাত্র নীলেশ আর সৌমেন বাগের পড়াশোনায় মাথা নেই, কিন্তু পারিবারিক সূত্রে ওদের হাতের কাজের কোনও তুলনা হয় না। ওদের ঘাড়ে ভর দিয়েই এবার বড় স্বপ্ন দেখে ফেলেছে দিদিমণির ছাত্রছাত্রীরা। তুলো, পাটের-ফেঁসো, শোলা, থার্মোকল নানা রকমের আলো ইত্যাদি দিয়ে এবার থিম করতে চায় ‘বরফের দেশ’। চারদিকে তুষার ছড়ানো পাহাড়ি উপত্যকার মধ্যে একটা মন্দির। সেই মন্দিরের মধ্যে বসবেন ঠাকুর। শুনেই লাফিয়ে ওঠেন মঞ্জুদি, ‘বলিস কী, পাগল হয়েছিস নাকি? না না, ওসব হবে না। এ কি ক্লাবের পুজো নাকি যে তাই ...?’ কিন্তু ছেলেমেয়েরা নাছোড়বান্দা, ‘সাজানোর ব্যাপারটা আমাদের ওপর ছেড়ে দিন দিদিমণি। ওতে মজুরি তো আর লাগছে না। মাল মেটেরিয়াল যা লাগবে সব আমরা নিজেদের মধ্যে চাঁদা তুলেই করব। আপনি শুধু দেখে নেবেন কী জিনিস নামাই।’ দিদিমণি অগত্যা মাথা নাড়েন, ‘সে তোদের উপর আমার ভরসা আছে কিন্তু কোচিং ক্লাসের ছোট্ট পুজোয় কেউ জাঁক করে? লোকে বলবে কী!’ 
‘কে কী বলল বয়েই গেল, আমাদের পুজো আমরা করছি তাতে কার কী বলার আছে?’ ওদের পীড়াপীড়িতে শেষে রণে ভঙ্গ দেন মঞ্জুদি, ‘যা ইচ্ছে কর, কিন্তু দেখিস তেমন বাড়াবাড়ি কিছু করিস না। আর সব ঠিক আছে কিন্তু বাড়াবাড়িটা বড্ড চোখে লাগে।’ বলতে বলতে আপনমনেই বিড়বিড় করতে থাকেন, ‘জীবনে তো আসল বরফ পড়া আর কোনওদিন দেখা হবে না। ছোটবেলায় কত ইচ্ছে ছিল কাশ্মীরে যাওয়ার। স্বপ্ন দেখতাম, চারদিকে লম্বা লম্বা সব গাছ, আকাশ থেকে ঝুরঝুর করে গুঁড়ো গুঁড়ো বরফ পড়ছে আর আমি কানঢাকা লালটুপি আর সোয়েটার গায়ে হাত বাড়িয়ে ধরছি। সে সব তো আর এ জন্মে হবে না।’
দেখতে দেখতে পার হয়ে যায় দিনগুলো। পুজোর আরও মাত্র দু’দিন বাকি আর এর মধ্যেই ওরা বানিয়ে ফেলেছে বরফের দেশ। সন্ধের অন্ধকার নেমে আসার পর ওরা যখন আলো জ্বালায়, টুনিবাল্বের নানান কারসাজি, সারা শরীর রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে দিদিমণির। বরফের দেশ সে যতই নকল হোক, তার ভিতরে দাঁড়িয়ে শিরশিরিয়ে ওঠে আপাদমস্তক, শুষ্ক গালে ফুটে ওঠে কিশোরীবেলার হাসি। চারদিকে ছাত্রছাত্রীদের উদ্দীপনা, নানান তৎপরতা তারমধ্যে আচমকাই বিপন্ন বোধ করেন মঞ্জুদি। স্টুডেন্ট দলের উৎসাহ, বৈদ্যুতিন আলো, উষ্ণতার মধ্যে থেকে নিজেকে সরিয়ে আনেন এককোণে, নিজেকে সহসা মনে হয় এক পূর্ণাবয়ব তুষারমূর্তি যেন যার রক্ত হিমেল, হাড় মজ্জায় হাজার বছরের হিম।  
পুজোর এখনও দেড় দিন বাকি। কিন্তু এর মধ্যেই রাস্তায় সুসজ্জিত ছেলেমেয়েরা বেরিয়ে পড়েছে রঙিন রঙিন সব পোশাক পরে। ঘরে-বাইরে পথেঘাটে উপচে পড়ছে যৌবন। ওরা বলছে আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা তারপরেই শুরু বাঙালির নিজস্ব ভ্যালেনটাইনস ডে। বিদ্যাবুদ্ধি শিল্পসঙ্গীতের চেয়ে অনেক বেশি করে যৌবনের বিপুল উদযাপন। হাওয়ায় হাওয়ায় ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে আশ্চর্য সব স্পন্দন। এর মধ্যে দাঁড়িয়ে নিজেকে ভীষণ বেমানান লাগে দিদিমণির। নিজেকে আরও সরিয়ে আনেন ছাত্রছাত্রীদের ভেতর থেকে। নিজের সারা গা আজ যেন বড্ড খরখর করছে। ছোট ছোট আঁশ গজাচ্ছে যেন সারা দেহে। নিজেকে মনে হচ্ছে পুরনো শ্যাওলা ধরা ভাঙাচোরা পাঁচিলের সঙ্গে মিশে থাকা বিলুপ্তপ্রায় কোনও সরীসৃপ।
পুজোর থেকেও পুজোর আগের দিনের ব্যস্ততা যেন বেশি। ছেলেমেয়েদের তৈরি থিম প্যান্ডেলের ফিনিশ দেখে তো মঞ্জু দিদিমণির চক্ষু চড়কগাছ। নিজের ফ্যাকাশে হলুদ শ্রীহীন বাড়ির সামনে এত সুদৃশ্য সজ্জা দেখে থম মেরে দাঁড়িয়ে পড়েন তিনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ছেলেমেয়েদের পালবাড়ি থেকে ঠাকুর কিনতে যাওয়ার জন্য ব্যগ্রতা বাড়ছে। সব প্যান্ডেলেই প্রায় ঠাকুর চলে এসেছে শুধু তাদেরটা ছাড়া। কিন্তু দিদিমণি শুধু গড়িমসি করছেন। ঘুরে ফিরে বলছেন, ‘অত তাড়াহুড়োর কী আছে, বিকেলের দিকে গেলেই হবে আর কী, যত দেরি করবি দামও কমে পাওয়া যাবে।’ 
এই করতে করতে বিকেল হয়ে সন্ধে গড়াল, দিদিমণি ততক্ষণে রান্না বসিয়ে, ভাতটা নামিয়ে তবে যাবেন বলছেন। তাতে অধৈর্য হয়ে কিছু ছেলেমেয়ে বলে, ‘তাহলে কি আমরা গিয়ে ঠাকুর নিয়ে চলে আসব দিদিমণি? এর পরে গেলে যে, ভালো ঠাকুর আর একটাও থাকবে না। রাস্তায় বেরিয়ে দেখুন কী রকম বানের জলের মতো সব ঠাকুর বেরিয়ে যাচ্ছে।’ 
‘যাচ্ছে যাক, তোরা কি আমায় বাদ দিয়ে ঠাকুর কিনতে যেতে চাইছিস? সে রকম হলে যা, অত তাড়া থাকলে চলে যা। আমি না গেলে এমন কী আর এসে যাবে?’ কপট রাগের ছলে মুখ বাঁকিয়ে বলে মঞ্জুদি। 
‘না না, তাই হয় নাকি? আপনি গিয়ে ঠাকুর পছন্দ না করে নিয়ে এলে হয় নাকি, তেমন কোনওবার হয়েছে?’ সলজ্জ চোখে ছেলেমেয়েরা বলে। সময় যত এগতে থাকে অস্থির হয়ে উঠতে থাকে ওরা। নিজেদের মধ্যে আড়ালে ফিসফিস করে বলে, ‘এবারও দেখবি দিদিমণি ঠিক রাত করবেন। ওই সময় গেলে সব ঝড়তিপড়তি ঠাকুর পড়ে থাকবে। আর তার মধ্যে থেকেই বেছে নিতে হবে। এবার অন্তত ওরকম ভাবে কিনলে হয় নাকি! এবার আমাদের স্পেশাল পুজো, এত সুন্দর করে থিম সাজানো হল, ঠাকুরটাও তো সেই মতো কিনতে হবে নাকি?’
সবাই সম্মতিতে মাথা নাড়ে কিন্তু দিদিমণির উপর কথা বলতে পারে না একজনও। রাত তখন প্রায় সাড়ে ন’টা। ঘরের আটপৌরে কাপড়টা পাল্টে বেরিয়ে আসেন মঞ্জুদি। শেষমেশ বাড়ি থেকে বেরতে বেরতে আরও তিরিশ মিনিট। তারপর পালপাড়ায় পৌঁছতে পৌঁছতে আরও আধঘণ্টা।
দু’একটা পালবাড়ি ঘুরেই হতাশ হয়ে ওঠে। বিরক্তির রেখা ফুটে ওঠে ছাত্রছাত্রীদের চোখেমুখে। যা ভাবা গিয়েছিল তাই। কাল সকালে পুজো তাই যে সব ঠাকুর পড়ে রয়েছে, একটাও পছন্দ হওয়ার মতো না। যে ঠাকুরটার উপরেই চোখ যাচ্ছে কোনও না কোনও খুঁত স্পষ্ট। কোনও ঠাকুরের দু’চোখের কোনও সামঞ্জস্য নেই তো কোনওটার মুখ থ্যাবড়া বা নাক। কোনওটার মাথা বড় তো শরীরটা ছোট বা উল্টোটা। কোনওটার হাত বাঁকা বা পা। এই রকমের খুঁতো ঠাকুরগুলোই অবিক্রিত হয়ে পড়ে আছে এখনও। আর ওই সব নানান খুঁতের জন্য যে ঠাকুরগুলো কেউ কেনেনি, সেগুলো এখন বিক্রি হচ্ছে জলের দরে। 
ক’টা টাকা বাঁচানোর জন্যেই কি মঞ্জুদি এত রাত করে এলেন? নাহ, ওঁকে যারা চেনে তারা নিশ্চয়ই ভুলেও বলবে না! তাহলে ইচ্ছে করে এত দেরি করলেন কেন দিদিমণি! প্রচ্ছন্ন রাগে ছেলেমেয়েদের সবার মুখ থমথমে। কেউ কোনও কথা বলছে না, এগচ্ছেও না। সামনে দেখে সেই ফাঁকে পালমশাইয়ের সঙ্গে বিশেষ দরাদরি না করেই যেমন-তেমন দেখতে একটা বড় দেবীমূর্তি পছন্দ করে ফেলেন দিদিমণি। ঝটপট টাকা মিটিয়ে পালকে বলেন, ওটাকে ট্রলিতে তুলে দিতে। এই দেখে দু’চারজন ছাত্রছাত্রী এগিয়ে আসে। বিমর্ষ মুখে জিজ্ঞাসা করে, ‘দিদিমণি, আর একটু ঘুরে, আরও দু’একটা পালবাড়ি থেকে দেখেশুনে ঠাকুর কিনলে হতো না? চোখ মুখটা আরও একটু সুন্দর দেখে।’ হাসেন দিদিমণি, ‘কেন ঠাকুর তো ঠাকুরই। ঠাকুর আবার সুন্দর কুচ্ছিত হয় নাকি?’
‘তাও এবার এত খেটেখুটে অত সুন্দর প্যান্ডেল করা হল থিমের। ঠাকুরটা তো তার সঙ্গে মানাইসই হতে হবে। ঠাকুর ঠাকুরই... সব মানছি, কিন্তু যেটা আপনি ফাইনাল করলেন, আর একটু ছিরিছাঁদ দেখে কিনলে হতো না?’
‘কেন ছিরিছাঁদ কি থাকতেই হবে? না থাকলে কি পুজো হবে না? চেহারার ছিরিছাঁদ না থাকলে না হয় মেয়েদের বিয়ে হয় না, তাই বলে ঠাকুরদের কপালও কি তোরা সেই একই কারণে পোড়াবি?’
হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে থাকে ছাত্রছাত্রীরা, এর ওর মুখের দিকে চায়। দিদিমণি হাসে, ‘ঠাকুরের চোখ মুখ সুন্দর না হলে বুঝি তোদের ভক্তি আসবে না? কেন তোদের দিদিমণিও যে সুন্দর না, চোখে নাক মুখে কত খুঁত, চেহারায় লালিত্যের ছিটেফোঁটা নেই, তাই বলে তোরা কি আমায় বাতিল করে দিতে পারিস?’ 
লজ্জায় লাল হয়ে আসে সব মুখ। মাথা নিচু করে ওরা, ‘সরস্বতী মাইকি জয়’ বলে ঠাকুরটাকে যারপরনাই যত্নে হাতে হাতে তুলে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে রাস্তার ধারে দাঁড় করানো ট্রলি-রিকশটার দিকে। 

24th     December,   2023
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ