বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
বিকিকিনি
 

রং খেলুন সাবধানে

‘আজ সবার রঙে রং মিশাতে হবে’। তবে এই মেলামেশা রাঙা নেশায় সতর্ক থাকুন। রং বা আবির যেন ত্বক, চোখ ও চুলের ক্ষতি করতে না পারে।  উপায় জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। লিখেছেন মনীষা মুখোপাধ্যায়।

খেলব হোলি, রং দেব না তাই কখনও হয়?
না হয় না। বিশেষ করে ‘একান্ত আপন’ ছবিতে এই গানের সঙ্গে অপর্ণা সেন ও ভিক্টর বন্দ্যোপাধ্যায়ের রসায়ন চাক্ষুষ করলে তো আরওই হয় না! তবে রং খেলার সময়ে কিছু সাবধানতা অবলম্বন না করলে দোল খেলাটাই মাটি হয়ে যেতে পারে। রং হোক বা আবির, তাতে বিভিন্ন ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে থাকে। দোলের রঙে মূলত ব্যবহার করা হয় শিল্পের কাজে প্রয়োজনীয় রং। আরও ভেঙে বললে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল কালার’। আবিরে মেশে মার্কারি সালফাইড। বিভিন্ন রকমের মেটাল অক্সাইডও। তাই রং খেলার আগে ভেষজ রং, ভেষজ আবির জোগাড় করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ।

‘ভেষজ’ লেখা মানেই কি ভালো?
বিপদ রয়েছে এখানেও। ইদানীং বাজার ছেয়ে গিয়েছে ভেষজ রং ও আবিরে। সেখানেও কে নকল, কে আসল, চেনা বড় বালাই! তার মধ্যেই জহুরির চোখে চিনে নিতে হবে খাঁটি ভেষজকে। খেয়াল করবেন, রাসায়নিক রং মানেই তার উজ্জ্বলতা বেশি। খুব চকচকে ও গা‌ঢ় দেখতে রং ও আবিরকে তাই প্রথমেই বাদ দিন। ফুলের পাপড়ি, গাছের পাতা ও বিভিন্ন শস্যদানা থেকে যে জৈব রং হয়, তা অনেকটা ম্যাট রঙের মতো। তাতে আলগা চটক বা চকচকে ভাব নেই। গন্ধও উগ্র নয়। হাতে নিলে মিহি পাউডারের মতো হয় না, খানিক রুক্ষভাব থাকে। তাই ‘ভেষজ’ লেখা থাকলেই তা ‘ভেষজ’ নয়। 

সাধারণ রঙে ভয় কেন?
দোল খেলবেন, হাতের কাছে হয়তো ভেষজ রং বা আবির নেই। তাহলে উপায়? প্রথমেই মেনে নেওয়া ভালো, ক্ষতি তাতে অল্পবিস্তর হবেই। তবে কিছু কিছু রঙে ক্ষতির মাত্রা বেশি। সেক্ষেত্রে সেসব রং এড়িয়ে চলুন। ত্বকবিশেষজ্ঞ ডাঃ বাসুদেব সরকারের মতে, সেই অর্থে দেখতে গেলে, ভেষজ বাদে কোনও রংই ভালো নয়। এমনকী, সাদা রং, যাকে অনেকে নিরাপদ বলে মনে করেন, সেই সাদা রঙেও কিন্তু রয়েছে অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড। এটি ত্বকের নানা অ্যালার্জি, টোপিক ডার্মাটাইটিস এবং এগজিমার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। লাল রংও ত্বকের জন্য খুব ক্ষতিকর। মারকিউরিক সালফাইড, যা ত্বকের ক্যান্সার তৈরি করতে পারে, তা মিশে থাকে লাল রঙের মধ্যে। লেড অক্সাইডের মতো কিডনির শত্রু ঘাপটি মেরে থাকে কালো রঙে। প্রুসিয়ান ব্লুয়ের মতো বিষ দিয়ে তৈরি হয় নীল বা আকাশি রং। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর রং বাঁদুরে ও উজ্জ্বল হলুদ রং। সীসা ছাড়া এই দুই রং তৈরি হতে পারে না। সীসার অতিরিক্ত ব্যবহারে শিশুর শ্বাসযন্ত্রে যেমন ক্ষতি হয়, তেমনই শিশু বিকলাঙ্গ হতে পারে। বেগুনি ও সবুজ রঙে থাকে সিলিকা, টোলুইন জাতীয় ক্ষতিকর উপাদান। এছাড়া সব রঙেই ক্রোমিয়াম, নিকেল, জাইলিন, মিথেলিন, ক্যাডমিয়াম, জিঙ্ক ইত্যাদি মিশে থাকে। এর  প্রভাবে ফুসফুস মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

দোলের রঙে চোখের ক্ষতি
বেলুনে রং ভরে ছোড়া দোলের বাড়তি আমোদ। বিশেষ করে শিশুরা এই খেলায় বেশি মজা পায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, এই রং ভরা বেলুন যেন কারও চোখে গিয়ে আঘাত না করে। সাধারণ রং হোক বা ভেষজ রং, আচমকা কোনও রং ভর্তি বেলুন কারও চোখে পড়লে কর্নিয়া সরে যেতে পারে। চিকিৎসা পরিভাষায় যাকে বলে ‘কর্নিয়া ডিসলোকেশন’  চক্ষুবিশেষজ্ঞ হিমাদ্রি দত্তর মতে, ‘রঙে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক থেকে কেরাটিসিস, কনজাংটিভাইটিস যেমন হয়, তেমনই চোখের স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অন্ধত্বও নেমে আসতে পারে। তাই চোখ বাঁচাতেও সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে বইকি!’ তাঁর কথায় রং ও আবির চোখে ঢুকে গেলে পিঙ্ক আই, কেমিক্যাল বার্ন, কর্নিয়াল অ্যাবারেসন, ব্লান্ট আই ইনজুরিও দেখা যায়। 

রঙে ত্বকের ক্ষতি
রং ও আবিরের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ত্বক। যেহেতু হাত, পা ও ত্বকের খোলা জায়গা রং ও আবিরের সরাসরি সংস্পর্শে আসে, তাই ক্ষতিও তাদের বেশি হয়। ত্বকের র‌্যাশ, চুলকানি, এগজিমা, সোরিয়াসিস সহ নানা রোগের প্রভাব রঙের সংস্পর্শে এলে বাড়ে। এছাড়া কনট্যাক্ট ডার্মাটাইটিস হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। যাঁদের এগজিমা ও সোরিয়াসিস রয়েছে,তাঁদের ভেষজ রঙেও খেলা উচিত নয়। সাধারণ রঙের রাসায়নিক ব্রণর সমস্যা বাড়ায়। আবির চকচকে করতে অনেক সময় অভ্র ও কাচগুঁড়ো মেশানো হয়। এর প্রভাবও পড়ে ত্বকে। রং ও আবির তোলার সময়ে অতিরিক্ত সাবানের ব্যবহারও ত্বকের নানা ক্ষতি করে। 

রঙে চুলের ক্ষতি
মাথা ঢেকে রং না খেললে রং ও আবিরে থাকা রাসায়নিক চুলের ত্বকেও পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ পায়। চুল পড়া থেকে শুরু করে পেকে যাওয়া, মাথার ত্বকে নানা চর্মরোগ হওয়া এমনকী, রাসায়নিকের প্রভাবে অ্যালোপেশিয়া অবধি হতে পারে।

তাহলে উপায়?
দোলের দিন রং না খেলা কোনও সমাধান হতে পারে না। বাড়ির খুদেটিও এসব ক্ষতির ইতিবৃত্ত শুনেই যে রং খেলা থেকে নিরস্ত হবে এমনটা মোটেই নয়। তাই রং খেলুন তবে কিছু সাবধানতা নিতেই হবে।
• কোনওভাবেই ভেষজ রং বা আবির ছাড়া অন্য কিছু ব্যবহার করবেন না। আপনার শিশু যাদের সঙ্গে রং খেলছে, তারা যদি হার্বাল বা ভেষজ রং ব্যবহার না করে, তাহলে কিন্তু কোনও লাভ নেই। তাই এমন সঙ্গীদের সঙ্গে বাচ্চাকে রং খেলতে দিন যেখানে সকলেই ভেষজ রং ব্যবহার করছে। তেমন দল না পেলেও নিজেই সঙ্গ দিন শিশুকে।
• আট থেকে আশি, নারী-পুরুষ নির্বিশেষ রং খেলার সময় সানগ্লাস, টুপি ও মাস্ক পরুন। এতে চোখ, মুখগহ্বর ও চুল রঙের হাত থেকে অনেকটা বাঁচবে।
• বাঁদুরে রং কোনওভাবেই ব্যবহার করবেন না। কোনও ভেষজ পদ্ধতিতে এই রং তৈরি করাও যায় না। 
• রং খেলার আগে ভালো করে খাঁটি নারকেল তেল বা গায়ে মাখার অলিভ অয়েল মেখে নিন শরীরের খোলা অংশে। চুলে কন্ডিশনার মেখে নিন। এতে রং ত্বকের সঙ্গে আটকে থাকবে না। একবার ধুলেই সহজে পরিষ্কার হবে।
• পুরো হাতা সুতির পোশাক পরে রং খেলুন। এতে গরমের মধ্যে রং খেলতেও সুবিধা হবে।  সারা শরীরে রঙের আধিক্যও হবে না।
• কোনওভাবে চোখে রং গেলে খুব দ্রুত ঠান্ডা জলের ঝাপটা দিয়ে তা ধুয়ে ফেলতে হবে। কনট্যাক্ট লেন্স যাঁরা পরেন, তাঁরা আরও সতর্ক হোন।
• শিশু যেন রং বা আবিরের হাতে কোনও খাবার না খায় বা মুখে হাত না দেয়, সেদিকে খেয়াল রাখুন। 
• রং তুলতে ত্বক বেশি ঘষবেন না। অল্প ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। 

4th     March,   2023
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ