বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

পঞ্চায়েত ভোটের আগে অশান্ত হওয়া রতনপুর আপাতত শান্ত

সংবাদদাতা, কান্দি: গত পঞ্চায়েত ভোটের আগে তপ্ত হয়ে উঠেছিল খড়গ্রাম থানার রতনপুর। জমি বিবাদের জেরে খুন পাল্টা খুনের আবহে মৃতের পরিবারে দেখা করতে আসেন রাজ্যপাল। সেই রতনপুরই লোকসভা ভোটের আগে একেবারে শান্ত। সন্ত্রাস ভুলে সব দল সমানে প্রচার চালাচ্ছে গ্রামে।
প্রসঙ্গত, স্থানীয় মাড়গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত গ্রামটিতে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। পঞ্চায়েত সদস্য চারজন। একসময় গ্রামে সিপিএম, কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত হলেও বর্তমানে গ্রামের বাসিন্দারা কংগ্রেস কিংবা তৃণমূলের মধ্যে এক দলকে বেছে নিচ্ছেন। এমন অবস্থায় এবারের পঞ্চায়েত ভোটের মনোনয়ন দাখিলের আগের দিন, ১০ জুন গুলিবিদ্ধ হয়ে খুন হন ফুলচাঁদ শেখ (২৯)। ওইদিন সন্ধ্যায় গ্রামের দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে মাথায় গুলি লাগে ফুলচাঁদের। খুনের মাসখানেক আগে এক মহিলাকে উত্যক্ত করার অভিযোগে মৃত যুবকের দুই আত্মীয় জেল হেফাজত থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর ওইদিন মৃত যুবক তাঁর ভাইঝির জন্য আলুর চপ কিনতে গিয়ে দুইপক্ষের ঝামেলায় প্রাণ হারান।
এই ঘটনার পর ৭ জুলাই মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে আসেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। রাজ্যপাল আসার পরের দিনই খুন হন অপরপক্ষের সত্তরউদ্দিন শেখ (৬০)। তাঁর গলার নলি কেটে পুকুরে ফেলা দেওয়া হয় বলে দাবি। এই ঘটনার পর গ্রামে পুলিস পিকেট বসানো হলেও ফের সেখানে গুলি ও বোমাবাজির অভিযোগ উঠে। জোড়া খুনের পরবর্তীতে পুলিস দু’ পক্ষের কয়েকজন করে গ্রেপ্তার করে। ১৪ জন এখনও জেলে। খুনের পিছনে পুরনো জমি সংক্রান্ত বিবাদ রয়েছে বলে বাসিন্দারা মনে করেন। অবশ্য এবারের লোকসভা ভোটের আগে পরিবেশ শান্ত। গ্রামের পাঁচটি পাড়াতেই দেখা গিয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক আঁকা দেওয়াল লিখন। ফ্লেক্সও ঝুলছে। বিজেপির পক্ষ থেকেও দেওয়াল লিখন হয়েছে। গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় ভোট রাজনীতির আলোচনা করছেন বাসিন্দারা। নলদ্বীপপাড়ার বাঁশের মাচার উপর কয়েকজন যুবক বসেছিলেন। তাঁদের একজন স্বপন শেখ বলেন, পঞ্চায়েত ভোটের আগে গ্রামের যা পরিস্থিতি ছিল এখন আর সেসব কিছু নেই। যারা ঝামেলা করার লোক তারা জেলে। তাছাড়া পুলিস এখন বেশ শক্ত হয়েছে। ওই পাড়ার একটি বিদ্যুৎ ট্রান্সফর্মারের নীচে কলাই শুকোচ্ছিলেন সারজিনা বিবি। তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে ভোট নিয়ে ঝামেলা করলে আমাদেরই ক্ষতি। তাই ভোট নিয়ে কেউ আর বেশি মাতামাতি করছে না। সকলেই খুশি মনে ভোট দেবে। তবে জমি সংক্রান্ত বিবাদ কোনওদিন মিটবে না। কংগ্রেসের খড়গ্রাম ব্লক সভাপতি আবুল কাশেম বলেন, পঞ্চায়েতের ভোটের সময় যে জোড়া খুনের ঘটনা ঘটেছিল তার রেশ আর নাই। অভিযুক্তরা জেলে থাকায় গ্রামের মানুষ ভয়হীন হয়ে ভোট দেবেন। আমাদের প্রচারেও কোনও সমস্যা হচ্ছে না। তৃণমূল কংগ্রেসের খড়গ্রাম দক্ষিণ ব্লক সভাপতি শাশ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, গ্রামের মানুষ এখন খুনের আতঙ্ক কাটিয়ে ভোটের আনন্দে মজে উঠেছেন। বাসিন্দাদের সঙ্গে পাড়া বৈঠক করে জানা গিয়েছে সকলেই শান্তিতে রয়েছেন। 

22nd     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ