বর্তমান পত্রিকা : Bartaman Patrika | West Bengal's frontliner Newspaper | Latest Bengali News, এই মুহূর্তে বাংলা খবর
দক্ষিণবঙ্গ
 

মনসা পুজোয় মাতল হলদিয়ার কিসমত শিবরামনগর

সংবাদদাতা, হলদিয়া: শারদোৎসবের পর লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে ওঠে হলদিয়ার কিসমত শিবরামনগর ও চাউলখোলা দুই গ্রাম। তেমনই বৈশাখ মাসের শুরুতেই মনসা পুজোয় মেতে ওঠে কিসমত শিবরামনগর গ্রামের বাসিন্দারা। শিল্পাঞ্চল লাগোয়া দুই গ্রাম। শিল্প প্রসারের সঙ্গে গ্রামে এসেছে সমৃদ্ধি। তাই গ্রামের দুই পড়শি পাড়ায় লক্ষ্মী ও মনসা পুজো কার্যত উৎসবে পরিণত হয়েছে। স্থানীয়রা বলেন, স্বাধীনতার প্রায় বছর কুড়ি পর বন্দর শহর হলদিয়া লাগোয়া কিসমত শিবরামনগর গ্রামে মনসা পুজো শুরু হয়। নিচু এলাকা হওয়ায় প্রতি বছর বর্ষাকালে গ্রামের বেশিরভাগ অংশ জলে ডুবে যেত। সাপের কামড় থেকে রক্ষা পেতে পাড়ায় পাড়ায় মনসা পুজো শুরু হয়। বর্তমানে ৬-৭টি ক্লাব প্রতি বছর বৈশাখ মাসে ধুমধাম করে মনসা পুজোর আয়োজন করে। তাদের মধ্যে অন্যতম কল্যাণ সঙ্ঘ অ্যান্ড পাঠাগার। এবছর কল্যাণ সঙ্ঘের পুজো ৪৭ বছরে পড়েছে। ডাল, বড়ি, সুজি, শুকনো চিপস সহ নানা উপকরণ দিয়ে বড় থিমের প্রতিমা তৈরি হয়েছে। ৫০ফুট উঁচু কাল্পনিক মন্দিরের আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। পুজোর পাশাপাশি তিনদিনের বৈশাখী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পাশাপাশি রবিবার দুপুরে গ্রামের প্রায় সাড়ে তিন হাজার মানুষকে অন্নভোগ খাওয়ানো হয়। ক্লাবের সম্পাদক তন্ময় সামন্ত বলেন, এবছর পুজোর বাজেট প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ টাকা। পুজোর খরচ বাঁচিয়ে নতুন করে পাঠাগার সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বছরভর বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কাজের উদ্যোগ নেয় আমাদের ক্লাব। এলাকার দুঃস্থ পড়ুয়াদের বইখাতা বিতরণ, শীতে কম্বল বিতরণ, দূষণ রোধে বৃক্ষরোপণ, বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এলাকা পরিষ্কার ও ব্লিচিং ছড়ানোয় শামিল হয় ক্লাবের সদস্যরা। ক্লাবের সদস্য ভবতোষ প্রামাণিক বলেন, এলাকার ১০-১২ জন যুবক মিলে রবীন্দ্র জয়ন্তীকে কেন্দ্র করে বৈশাখী উৎসবের মধ্য দিয়ে কল্যাণ সঙ্ঘ অ্যান্ড পল্লিমঙ্গল পাঠাগার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
এখন ক্লাবের নাম বদলে কল্যাণ সঙ্ঘ অ্যান্ড পাঠাগার হয়েছে। প্রায় চার দশক ধরে মনসা পুজো হচ্ছে। একসময় ফুটবল, কাবাডি, ভলিবল সহ বিভিন্ন খেলায় পাঠাগারের নাম ছিল। ক্লাবে একাধিক শিল্ড ও ট্রফি রয়েছে। এখন মাঠ না থাকায় খেলাধুলো হারিয়ে যেতে বসেছে। ২০২৭সালে অর্ধ-শতবর্ষ উপলক্ষে এলাকার বাসিন্দা অসীম সামন্তের দান করা জায়গায় স্থায়ী মন্দির গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ। গ্রামের দুঃস্থ পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়াতে ফ্রি কোচিং সেন্টার চালু করার পরিকল্পনাও রয়েছে। হলদিয়ায় কল-কারখানা তৈরির জন্য ক্লাবের বেশিরভাগ সদস্য জমি দান করেছিলেন। সেজন্য এলাকাটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা হিসেবে পরিচিত। ২০১৬সালে তৎকালীন মহিষাদলের বিধায়ক সুদর্শন ঘোষ দস্তিদারের সহযোগিতায় যুবকল্যাণ দপ্তর থেকে নতুন ক্লাবগৃহ নির্মাণের জন্য অর্থ সহায়তা পেয়েছিল। হলদিয়ার বিভিন্ন শিল্প সংস্থার সহযোগিতা পেলে ভবিষ্যতে ফুটবল কোচিং সেন্টার ও কচিকাঁচাদের জন্য বিনোদন পার্ক করা হবে।  
 নিজস্ব চিত্র

22nd     April,   2024
 
 
অক্ষয় তৃতীয়া ১৪৩১
 
কলকাতা
 
রাজ্য
 
দেশ
 
বিদেশ
 
খেলা
 
বিনোদন
 
আজকের দিনে
 
রাশিফল ও প্রতিকার
ভাস্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
এখনকার দর
দিন পঞ্জিকা
 
শরীর ও স্বাস্থ্য
 
বিশেষ নিবন্ধ
 
সিনেমা
 
প্রচ্ছদ নিবন্ধ